Thursday, September 11, 2008

অসীম ইচ্ছা

Title of this post: Unlimited wills by Afiya Akter

জানিনা কি চাও তুমি
তবে মনে মনে ভাবি আমি
তুমি কাছে আসলে
আমার পাশে বসলে
আমার পৃথিবী থমকে যায়
নিজেকে সে প্রকাশ করতে পারে না
আমার পৃথিবীর স্বপ্নরা স্বপ্ন
দেখতে ভীষম ভয় পায়।
অনুভবে অভিমানে সে
নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চায়
আপন অক্ষমতায় সে নিরবে
নিরব হয়ে থাকে।

গ্রামের নারী ও শহরের নারী

Title of this post: Women from rural and urban area by Jainub Khanam

নারী-গ্রামের হোক
, শহরের হোক, আধুনিক কিংবা সাধারন হোক, চালাক হোক কিংবা আনাড়ী- তার পরিচয় কিন্তু একটাই, সে নারীকিন্তু আমি যা নিয়ে ভাবছি তা হলো - নারীতে নারীতে কত তফাৎ? আমার জন্ম গ্রামেতাই খুব কাছ থেকে গ্রামের মেয়েদের জীবন যাত্রা আমি দেখেছিবিয়ের পরে আমার স্বামী আমাকে ঢাকা নিয়ে আসে। আমি এখন ঢাকা শহরে থাকিতাই শহরের মেয়েদের জীবন যাত্রা ও আমি কাছ থেকে দেখেছিশহর আর গ্রামের নারীদের জীবনে কত পার্থক্য ? গ্রামে বেশির ভাগ নারী লেখপড়ায় খুব একটা জোর দেয় নাকোন রকম এস.এস.সি পাশ করতে পারলেই অনেক কিছুকয়েক জন ব্যতীক্রম অবশ্যই আছেআমি আমাদে এলাকার কথাই বলছি৯ম বা ১০ম শ্রেণীতে পড়লেই বাবা মায়েরা বিয়ের কথা ভাবেনএরপর কোন একটা পাত্র বিদেশী হলে ভাল হয়বয়স বাবার বয়সের হোক, সমস্যা নেই, প্রচুর টাকা আছেলেখা পড়া কম, সমস্যা নেই, মোহরানা দেবে ৫লাখআমার মনে হয়, বাবা-মার জ্ঞানহীন ধ্যান ধারণার জন্যই মেয়েদের এই অবস্থামায়েরা ছোটবেলা থেকেই মেয়ের মনে একটা ধারণা তৈরী করে দেন যে, তোমরা নারীমক্তবে কোরান শরীফ শেষ করবে, বাংলা শিখে চিঠি পত্র লিখতে পারলেই হবে, তার পর বিয়ে দেব, বাচ্চা পালন, সংসার গুছানো ব্যাস তোমার দায়িত্ব শেষ

অথচ সংসার সুন্দর করে গুছানোর জন্য
, সংসার কে সুখী করার জন্য, স্বামীর সঠিক মূল্যায়ন, বাচ্চার সঠিক যত্ন, পরিবারের অন্যদের সাথে ভালব্যবহার, সবার প্রতি দায়িত্ববোধ, সচেতনতা এসব গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোর জন্য উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক অর্থাৎ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে, সব কাজে পারর্দশী হতে হবেগ্রামের মায়েরা এসব কখনোই ভাবেন নাএতো গেলো অবিবাহিতা মেয়েদের কথা, এবার বউদের কথায় আসিতারাতো স্বামীর বাড়ীতে এসে রাজরানীসংসারের চাবী তার শাড়ীর আঁচলে, স্বামীর টাকা তার ড্রয়ারেইচ্ছে মত, খেয়াল মত সংসারে কর্তৃত্ব খাটায় তারাআমাদের বাড়ির বউরা এত সুখিসকালে উঠে নাস্তা খেয়ে উঠানে বসে সবাই আড্ডা দেয়১০ টায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়১১টায় বা ১২ টায় রান্না করে হিটার বা সিলিন্ডার গ্যাসে দুপুরে খেয়ে ঘুম দেয়, বিকালে নাস্তা খেয়ে আবার আড্ডা দেয়সন্ধ্যায় ঘরে যায়বাচ্চাদের পড়ালে পড়ায় না পড়ালে নাই৮টা বাজলে টিভি ছাড়ে ১০/১১ টা পর্যন্ত দেখা হয়এরপর ঘুমবউদের চিন্তা বা কোন টেনসন নেই বাজারেরস্বামীরা সবকিছু এনে হাজির করেতাদের গল্প, হাসি তামাশায় কেটে যায়ঘড়ির দিকে তাকানোর প্রয়োজন যেন নেইঅথচ শহরের নারীর জীবন গ্রামের নারীর জীবন থেকে সম্পূর্ন ভিন্নশহরের নারীরা একরকম সংগ্রামী জীবন কাটায়তাদের সময় চলে ঘড়ির সাথে পাল্লা দিয়েবাচ্চাদে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, আনা, ঘর গুছানো, বাজার করা, রান্না করা, বাচ্চাকে কোচিং এ নেওয়া, গান, ড্রয়িং শিখাতে নেওয়া, সময় মত ঘুম পাড়ানো, রাত্রে রান্না সেরে আবার বাচ্চাকে পড়ানো, নিজের পড়া, ব্যক্তিগত কাজ, সবই তারা করছে দক্ষতার সাথেআমি দেখেছি আমার চতুর্পাশের বেশির ভাগ মেয়ে অনেক পরিশ্রমীঅবিবাহিতা মেয়েরা ও অলস সময় কাটায় নাতারা উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই, অত্যাধুনিক রান্না সহ আরো বিভিন্ন কোর্স শিখে নিজেকে দক্ষ, কর্মঠ ও সাবলম্বী করছেসারাদিন তারা কাজের মধ্যেই সময় কাটায়অবশ্য গ্রামে সুযোগ সুবিধা ও কমচাইলেই তারা কম্পিউটারে বসতে পারে নাইন্টারনেটে বিচরন করতে পারে না

Saturday, September 6, 2008

সড়ক কন্যা

Title of this post: Road Girl by Surma Akter

বা
স্তবটা যে বড় কঠিন তা বুঝা যায় নাতা বুঝা যায় শুধু এই গৃহহারা শিশুদের দিকে তাকালেইতাদের নিদিষ্ট কোন গৃহ নেই তারা পথের ধারে ফুটপাতে জীবন কাটায়পান্থপথ মোড়ের ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামলে একদল ছেলেমেয়ে পপকার্নের প্যাকেট হাতে দৌঁড়ে আসেএদের একজন স্মৃতিনয়-দশ বছর বয়সী স্মৃতি প্রায় এক বছর ধরে পপকর্ন বিক্রি করছেসোনারগাঁ হোটেলের পেছনের স্তিতে ওদে বাস ছিলসেই বস্তি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওরা এখন থাকে তেজগাঁওয়েস্মৃতির বাবা নেইবাবার নাম সে জানেও নামাও নেই মা স্মৃতিকে ছোট রেখে মারা যায় সে মায়ের কথা একটু একটু বলতে পারেসে জানে তার মা মারা গেছে কিন্তু বাবার কথা সে জানে নাএক ভাই আর ছোট বোন এই নিয়ে তাদে সংসার সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ভাই কাওরানবাজারে কুলির কাজ করেস্মৃতি দিনে প্রায় ৩০-৩৫প্যাকেট পপকর্ন বিক্রি করতে পারেপ্যাকেট প্রতি ২-৩ টাকা লাভ হয় তারসে কোনদিন স্কুলে যায়নিতার স্কুলে যাওয়ার বড় শখ ছিলকিন্তু কে দিবে তার লেখাপড়ার খরচতিন বেলা তিন মুঠো ভাত জোগাড় করতে তারা হাঁপিয়ে উঠেতাও তারা জোগাড় করতে পারে না কোন রকমে দিন কাটে রাত হয়এই ভাবে তাদে জীবন অতিবাহিত হয়তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায় সে চরম ভাবে অপুষ্টির শিকারসে বলে অনেক কিছু খাইতে ইচ্ছা করে কিন্তু টাকা পাইনাবেডিরা কত রকম জামা পরেআমার ও পড়তে ইচ্ছা করেকিন্তু কে কিনে দেবে? মা বাবা তো নাদুই ভাই বোন অনেক কষ্টে বাঁইচা আছি।

স্মৃতির মতো অসংখ্য শিশুরা এই কঠিন বাস্তবতার শিকার হচ্ছেতবে তাদে নিদিষ্ট কোন ঠিকানা নেইঢাকায় এবং অন্যান্য শহরে কাজের মেয়েপিচ্চি ইত্যাদি নামে অনেক মেয়ে শিশু কর্মরত আছেতারা নানা রকম নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেপথ শিশু হিসেবে যে মেয়েরা চকলেট, ফুল, পপকর্ন, পানি ইত্যাদি বিক্রি করে তারা ও নানা ধরনে হয়রানি নির্যাতনের শিকার হয়বাসাবাড়িতে যে মেয়ে শিশুরা শ্রম দিচ্ছে তাদের অবস্থাও অতি শোচিনীয়মেয়ে পথ শিশুদের অনেকেরই মা নেই যাদে মা আছে তারাও শিশুকে নিরাপত্তা দিতে অক্ষ অনেক শিশু নারী পাচার কারীর খপ্পরে পরে বিক্রি হচ্ছে।এই শিশুরা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন অধিকার থেকে চরম ভাবে বঞ্চিয়েকটি সরকারী ও বেসরকারী সংগঠন পথ শিশুদের নিয়ে এবং শ্রমজীবি শিশুদে আশ্রয়, শিক্ষা ও পূর্ণবাসনের ক্ষে কাজে করছেকিন্তু তা প্রয়োজনে তুলনায় অনেক কম পথশিশু ও শিশুশ্রমিকদের মধ্যে মেয়ে শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার আমি মনে করি সরকারি বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই সড়ক কন্যাদে প্রতি সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

Tuesday, August 26, 2008

“ওরা মানুষ নয়- পুরুষ”

Title of this post: They are male not human being by Jainub Khanam


আমি পুরুষকে শ্রদ্ধা করিআবার ঘৃনাও করিকারণ, সমাজে যেমন আছে ভাল পুরু, তেমনি আছে নোংরা, বিকৃত মস্তিস্কের পুরুপথে ঘাটে, যেখানে সেখানে নারীরা লাঞ্চিত হচ্ছে এই পুরুষদের হাতেকয়েকদিন আগে আসছিলাম আমাদের কলোনির রাস্তা ধরেসাথে ছিল আমার ১৩ বছর বয়সের ভাগ্নীসময়টা ছিল শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, বাইরে কোন লোকজনের চলাচল ছিল নাআমাদে সামনে একটি ছেলে জিন্স প্যান্ট শার্ট পড়া ভদ্র বেশীকিন্তু মুহুর্তে মধ্যে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেলসে খারাপ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আমার ভাগ্নির দিকে তাকিয়ে ছিল আর সামনে এগিয়ে আসছিলআমার শরীর কেপেঁ উঠলআমি আমাকে নিয়ে ভাবিনি, ভেবেছি ভাগ্নিকে নিয়েছেলেটির যে উন্মাদ, নোংরা ইমোশন কাজ করছিল তা দেখে আমার মনে হচ্ছিল, সে যে কাউকে ধরে বসে পারতদ্রুত পায়ে বাসায় চলে এলাম এবং পরদিন থেকে কম বয়সী মেয়েটিকে বোরখা পড়তে বাধ্য করলামকারণ এই বোরখা তাকে অনেক খারাপ কিছু থেকে নিরাপত্তা দেবে এবং তাকে রক্ষা করবে খারাপ পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে

এত নোংরা আচরন খোলা রাস্তায় শুধুমাত্র পুরুষকেই মানায়এই বিশ্রি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমি ওরা মানুষ নয়- পুরুকবিতাটি লিখার প্রয়াস পেলাম...

পথে ঘাটে হরহামেশা
নারীদের হয়রানি করছে যারা
তারা কি মানুষ?
না, না ওরা পুরু
রাস্তা দিয়ে চলার পথে
ভিড়ের মাঝে হাত চালায়
নারীদের হেতায় সেথায়
তারা কি মানুষ?
কভুও না ওরা পুরু
চলার পথে পাশ দিয়ে যাক
পাগলা কুকুর তবুও না যাক
একটি পুরু
কুকুর তো শুধু কামড়ে দেবে
চিকিৎসাতেই সুস্থ হব
কিন্তু হলে পুরুষের লালসার স্বীকার
উপায় যে থাকবে না বেচেঁ থাকার
একটি নারী যখন হয় ঘরের বাহির
মায়ের মন তখন হয়ে যায় অস্থি
প্রার্থনা করে খোদার কাছে
বাইরে যেন মেয়ের সম্ভ্রব বাচেঁ
মা তত ভয় পায়না
ঘাতক ট্রাকের আঘাতকে
যতখানি ভয়পায়
পুরুষের লোভের চাহিদাকে
আমি জানি না ওরা কি ভাবে
লাঞ্চিত নারীগুলো ওদেরই তো
মা বোন ভাগ্নি কিংবা মেয়ে
বাংলার অলিতে গলিতে
এ কোন হায়েনার দল
মেতে উঠেছে এ কেমন পাপের নেশায়
তিন বছরের মেয়ে শিশু
যুবতী কিংবা গৃহ বধূ
পবিত্র সম্মান হারাচ্ছে সবাই
যতক্ষন ঘরে থাকি ভাবি নিরাপদ
বাইরে গেলেই বিকৃত মনের পুরু
যেখানে সেখানে ঘটায় বিপদ
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত করে উৎপাত
হে খোদা! তুমি এদের কর নিপাত
কি ভাবে নারী রাস্তায় যাবে?
কিভাবে নারী শিক্ষিত হবে?
নির্যাতিত নারী দেহের রক্তাক্ত লাশ
নয় টুকরো হয়ে পড়ে থাকে রাস্তার পাশ
যারা নারীকে ভোগের পন্য ভাবে
এইতো মোদে বাংলার রূপ
করব কি আর পেশ
এই আমাদে হরেক রকম
আইনে ঘেরা সোনার বাংলাদেশ

স্মৃতি

Title of this post: Memory by Surma Akter


আম কাঠালের বিনাশ হল
ভাবছে খোকা খুকু
উদাস চোখে তাকিয়ে থেকে
দেখছে মরুর ধুধু।

চোখের তারায় ভাসছে শুধু
দাদা বাড়ির স্মৃতি
মেঘনা যে সব কেড়ে নিল
কয়েক বছর আগে ।
নানা বাড়ির বাগানটা যে
দালান কোঠা ভরা
খালার বাড়ির বাগানটা যে
অযত্নে মরা ।

বন্ধুরা সব বসে আছে
হতাস হয়ে ঘরে ।
তাইতো আজ সবাই মিলে
গাইছি শুধু
স্মৃতির ভরা গান ।

কোথায় গেলে পাবো আবার
আম কাঠালের ঘ্রান ।

একটি অসম্পূর্ন জীবনের গল্প

Title of this post: Tale of an incomplete life by Salma Akter.

রবিউল হোসেন নামের একটি ছেলে, সবাই তাকে রবু বলে জানতবয়স ২৮ হবেজন্মগত ভাবে তারা ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দাবাড়ি মুগদা পাড়াতারা দুই ভাই, তিন বোনসংসারের বড় ছেলে সে সংসারে দারিদ্রতা সবসময় বিরাজ করততাই লেখাপড়া শেখা হয় নাইকোন কাজও শিখে নাইঅবশ্য এজন্য তার পরিবারই দায়ীলেখাপড়া করেনা, কাজকর্ম করেনা এমন ছেলেতো আর ভাল হতে পারেনা কথায় বলে না, অলস মতিষ্ক শয়তানের কারখানাতার বেলাতেও এমনটি হয়েছেঅসৎ ছেলেদের সাথে মিশে সেও একদিন অন্ধকার পথে পা বাড়াপ্রথমে গাঁজা খেয়ে শুরু হয় তার পথচলাতার পর ধীরে ধীরে মরণ নেশায় জড়িয়ে যায়শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনজেকশন নেওয়াসে টি.টি.জেসিক,ফ্যানার গ্যান, এভিল, ইজিয়াম ইত্যাদি ইনজাকশন নিতহাতে পায়ে ক্রমাগত ইনজাকশন নিতে নিতে হাত পা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছেজীবনীশক্তি ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে গেছেনেশা করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হতো তা যোগার করার জন্য সে প্রথমে রিক্সা চালাতপরবর্তী সময়ে যখন তার দেহের শক্তি শেষ হয়ে গেছে তখন সে চুরি করতে শুরু করে

প্রথম প্রথম সে নিজের ঘরে চুরি করত, পরবর্তী সময়ে সে মানুষের বাড়িতে চুরি করতে শুরু করেচুরি করতে গিয়ে ধরা পরে প্রচুর মার খেতে হতো তাকে, আবার অনেক সময় পুলিশের কাছেও অনেক বার ধরিয়ে দিয়েছেকিন্তু জেলখানাতেও বেশিদিন আটকে রাখত না তাকেকারন তার জামিনের জন্য কেউ কখনও টাকা নিয়ে যেত নাএমন কি কেউ দেখতেও যেত নাপুলিশেরাও তাকে বেশি দিন আটকে রাখত না, কিছুদিন পর এমনিতেই ছেড়ে দিতএকদিন সে তার বড় চাচার বাড়িতে যায়, তখন সন্ধ্যাতার চাচাত বোন ওজু করার জন্য হাত থেকে ঘড়ি খুলে রাখেসে সময় ঘড়ে রবু ছাড়া আর কেউ ছিলনা, নামায শেষে ঘড়ি পরতে যেয়ে, সে আর খুঁজে পায়নাতার বোনটি ছিল একটু অন্য রকম, সে জানত যে, সবাই তাকে খুব ভালবাসে, এমনকি তার চাচাত ভাইরাওতাই সে কখনও ভাবতে পারেনি যে, তার ঘড়িটি রবুভাই চুরি করবেসেদিন ঘড়ি চুরির সাথে সাথে সে তার বিশ্বাসটাও চুরি করেছিল

ঘড়ি চুরির জন্য তাকে অনেক মার খেতে হয়েছিল, তারপরও সে ঘড়িটি ফেরত দেয়নিএমন অনেক ঘটনাই তার জীবনের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলকখনও কারও বাড়ি থেকে কাপড়-চোপড় নিয়ে যেত, কখনও গ্যাসের চুলা খুলে নিয়ে যেত, কখনও টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল খুলে নিয়ে যেত, আবার কখনও করত জুতা চুরিআর ধরা পড়লে বেদম মার খেতএভাবেই চলছিল তার জীবন

২০০৭ সালের প্রথম দিকে তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিলসেই বিয়েতে তাকে শেষ দেখা গিয়েছিলতারপর থেকে তার আর কোন সন্ধান নেইকেউ বলতে পারেনা যে, সে বেঁচে আছে না মরে গেছেতার পরিবারের কেউ তার খোঁজ নেয়ার চেষ্টাও করে নাইসবাই ভেবেছে সে মারা গেছে, তা না হলে এত দিনে সে ফিরে আসতকে জানে হয়বা কারও বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে মার খেয়ে মরে গিয়েছেতা না হলে হয়তো জেলখানাতে পঁচে মরছেকেউ তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনাকারণ তার মতো রবুরা সমাজে উপেক্ষিআমাদের সমাজে তাদের কোন স্থান নেইকারন তারা দেশ ও জাতির কোন উপকারে আসেনাতারা নিজে ধ্বংস হয় এবং সমাজকে ধ্বংস করেকিন্তু রবুরা কেন এ সমাজে উপেক্ষিত হবে, কেন তারা সমাজের বোঝা হবে? তার পরিবার কি পারতনা তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে? তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সুন্দর সাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে?

আমার মনে হয় তার প্রতি একটু বেশি অবহেলা হয়ে গেছেযারা মাদকাসক্তির শিকার তাদেরকে অবহেলা বা ঘৃনা না করে বরং ভালবাসা দিয়ে সুন্দ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবেরবুর মতো অকাল মৃত্যু কারও কাম্য নয়আমাদে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে মাদকাশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

Tuesday, August 5, 2008

শ্রাবণের বৃষ্টি

Title of this post: The Rain of Shrabon by Asia Afrin Anni


শ্রাবণ আসেনা একাকী
আকাশ করে মেঘলা,
আসে নিয়ে বৃষ্টি-বর্ষণ
করে মন কারো উতলা
টিনের উপর বাঁজতে থাকে
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ,
বাতাসে ছাতা উড়তে চাইলে
করা যায় না তাকে জব্দ

শ্রাবণের হাওয়ায় ঘুরপাক খায়
রাস্তার সকল ধুলো,
বৃষ্টি আসলে হয়ে উঠে সতেজ
বর্ষার কোমল ফুলগুলো

পূর্ণ করে খালি নর্দমা
উঠায় হাঁটুপানি,
খেলে যখন মেঘ লুকোচুরি
সবাই করে কাণাকাণি

এলোমেলো করে দেয় সব
শ্রাবণের ঝড়ো বৃষ্টি,
তখন মাথায় প্রশ্ন জাগে
একি অনাসৃষ্টি!

Saturday, August 2, 2008

অতিরিক্ততা ভাল নয়

Title of this post: Excess is not fair by Jainub Khanam

অতিরিক্ত খাবার খেলে
পেটের পীড়া হয়,
অতিরিক্ত পানাহারে
বমি ভাব হয়
অতিরিক্ত ঘুম যেমন
শরীর অলস করে,
বেশী কথা বলে যে
বাচাল বলে তারে
কম কথা বললে সবাই
নিরাপদে থাকে,
অধিক কথার জন্যে সবাই
পড়ে বিপদের ঘূর্ণিপাকে
অতি লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু
সবার জানা আছে,
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
এ কথা নয় মিছে
অতি রাগী বীর পুরুষ নয়
সংযমেই সুপুরুষ হয়
অতি হাসি-অতি কান্না
গবেষণায় প্রমাণ,
মরতে হবে ধূকে ধূকে
করলে অতি ধূমপান
অতিরিক্ত পড়লে মানুষ
পাগল হবার থাকে ভয়
অতিরিক্ত টি.ভি দেখলে
জ্ঞান-দৃষ্টি-মস্তিষ্কের ক্ষয়
এক নারীতে আছে সুখ
২য় নারীতে ক্ষয় যৌবন,
৩য় নারীতে হয় এইডস
পরিণতিতে বরণ কর
অল্প বয়সে মরন
অতিরিক্ত কাজের সাথে
বিশ্রাম আছে গাঁথা,
অনেক জ্ঞান দিয়ে আজ
শেষ করছি কথা,
পরিশেষে বলে যাই
অতিরিক্ত ভাল নয়,
অল্পতে সন্তুষ্ট যে
তার জীবনই সুখের হয়

ভাসমান নারী

Title of this post: Floating Women by Jainub Khanam


র্ষাকাল সুসময় তাদের
যারা মাতাল নারীলোভী
বৃষ্টি ভেজা রাতের আঁধারে
রাস্তার নারী হারায় সবি
রাতের বেলায় কেউ শুনেনা
তাদের করুণ চিকার
পরবর্তীতে এই নারীরাই
হয় এইডস এর স্বীকার
যদি কেউ ভাসমান নারীর কথা
ভাবেনা কভু আর
অনেক পরে চরম মূল্য
দিতেই হবে সবার
নারী যারা ভাসমান
হচ্ছে না তাদের পূনর্বাসন
আশ্রয়হীনার কথা কেন ভাবেনা
যারা বিবেকবান,
এরা নোংরা রোগ ছড়ালে
দেশ হারাবে সম্মান

Friday, July 18, 2008

জন্মেছিলাম

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা


আমি যখন জন্মেছিলাম বে
কেহ আমায় দেখিতে পারিত নহে
আমি যখন বড় হয়েছিলাম ভবে
কেহ আমায় দেখিতে পারিত নহে

এতো কষ্ট করিয়া আমি বেঁচে আছি
বুকে শক্ত পাথরে মতো, অনেক কষ্ট
এত কষ্ট জীবনে?

জীবনে আসেনা কেন একটি সুখের দিন
পেক্ষায় রয়েছি আমি
আসবে কবে সে দিন

Wednesday, July 16, 2008

হারিয়ে যাওয়া

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা

আমি যখন হারিয়ে যাব
তখন তোমরা আমার কথা

স্বরণ করিও

তোমাদের মাঝে হয়
তোবা
আর কখনো দেখা হবে না

আমি যখন হারিয়ে যাব

তখন তোমরা আকাশের

যে কোন তারার একটি তারা

আমাকে মনে করে
,
স্বরণ করি ও

আমি আছি, আমি থাকবো
তোমাদের মাঝে
তো বা এই জগতে নয়
তোমাদের মাঝে পরজগতে
দেখা হবে

বিজয়ের দিনের অপেক্ষায়

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা


কবিতা যখন পড়ি আমি, তখন মনে হয় কল্পনা
তখন আবেগ চারদিকে, ছড়িয়ে পড়ে কল্পনায়
কবিতা যখন পড়ি আমি
তুমি করো উপহাস
গান গায় বলে, অবহেলা করো তুমি
যেন হয়ে যাবে রুনা লায়লা
অভিনয় করতে গেলে, মুখ বাঁকা করে বলো
যেন হয়ে যাবে শাবনুর
যাই হতে চায় আমি, দাও কেন বাঁধা
উপহাস করো না তুমি,আর্শীবাদ দাও তুমি
আমার একটা মিনতি
আমার একটা অনুরোধ
আমার বিজয়ের দিনে
দেবে তুমি হাত তালি

বর্ষা এলে

লিখেছেন: জয়নাব খানম

বৃষ্টি যন টিনের চালায়
ঝুপঝুপিয়ে পড়ে,
ছোট-খাট উঠাণ খানা
পানিতে যায় ভরে

বাচ্চা গুলো খাটের উপর
সারাটি দিন লাফায়
বৃষ্টি তখন তাল মিলায়,
করুণ সুরের মূর্ছণায়
অবিরাম ঝরে ধূলির ধরায়

বর্ষা এলে ফর্সা হয়
গাছের পাতারা,
কষ্ট আশ্রয়হীন
-
ফুটপাতিয়ারা
কাজ পায়না সারাটি দিন
মেহনতি মানুষ,
অলস হয়ে ঘরে বসে

কাটে তাদের উপোস

মশার বিজয়

লিখেছেন: জয়নাব খানম

মশা সব করে রব
সারা রাত ধরে,
মশারি ছাড়া হয়না শোয়া
দিন-দুপুরে

ড্রেনের পাশে যাদের বাস
তাদেরই হয় সর্বনাশ।
ঘরে ঢুকলে মনে হয়
এতো আমার ঘর নয়,
মশা করছে রাজত্ব
মশারই ঘর বোধহয়

পড়ার টেবিল,খাট,
সোফা,
বাথরুম কি পাকের ঘর
ভুলেনাতো প্রতিদিন সে
নিতে সবার খোঁজ-খবর

ডেঙ্গু,
ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড
দেয় সে উপহার
কয়েল-
স্প্রে-সিটি মেয়র,
মশা নিধনে সবাই
মেনে নিল হার

তাই মোরাও মেনে নিলাম
মশাদের সব উৎপাত,
সন্ধি হল মশার সাথে
মোরা বাস করব

আজীবন একসাথ

Monday, June 30, 2008

বাঙালী

লিখেছেন: সুফিয়া খাতুন

মাথা উঁচু করে বলছি মোরা আজ বাঙালী
স্বাধীনভাবে রাজপথে দেখ চলছি

হৃ
দয় খুলে কোন বাঁধা নেই মুখে
গানে গানে আহা এই দেশকে

বলছি ভালোবাসি

এ দেশের বাঙালীদের

দেহটা যদিও ভিন্ন

মনটা তাদের একই মরন

ছাড়া হবেনা ছিন্ন
,
একই খাবার ভাত আর মাছ

একই পোশাক একই বসবাস

সুখ তাদের রাশি রাশি

আমরা বাংলাদেশী আমরা বাঙালী
,
এ দেশের চারিপাশে

সবুজে শ্যামলে ঘেরা

ভ্রমনবাসিরা এ দেশে এসে

হয়ে যায় আ
ত্মহারা
বাঙালীদের রক্ত দিয়ে

সোনার বাংলা আজ তৈরি করে

ফু
টিঁয়েছি মুখে হাসি
আমরা বাংলাদেশী আমরা বাঙালী
.......