Showing posts with label নারী. Show all posts
Showing posts with label নারী. Show all posts

Thursday, December 4, 2008

নারী নির্যাতন বন্ধ করুন

Title of this post: Stop Violence Against Women by Fabliha Tasnim Hridi

আমরা সবাই খুব বড় গলায় বলি আমাদের দেশে নারী-পুরুষের অধিকার সমান। আসলে কি তাই? যৌতুক, এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ ইত্যাদি তো আছেই। কিন্তু সমাজের ছোট ছোট ধাপে নারীদের যে কিভাবে বঞ্চিত করা হয় সেটা কে দেখবে? দেখে সবাই কিন্তু কেউ কিছু বলে না। ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো যায় কিন্তু যারা জেগে জেগে ঘুমায় তাদের কখনোই জাগানো যাবে না। নারীদের প্রতি অবহেলা হয়তবা কোনদিনই দুর হবে না। কারন কিছু সংখ্যক মানুষ সুন্দর সমাজ চায়, সবাইতো চায় না। আমি আমার পরিচিত কয়েকটি পরিবারের কথা জানাতে চাচ্ছি আর প্রশ্ন করছি সবার কাছে আমাদের সাথে বা আমাদের চারপাশে কি এগুলো হয় না ? তখন আমরা কি করি নীরবে সহ্য করা ছাড়া ?

মা বাবার সখের সন্তান অনিদ্রা । বিয়ের ১২ বছর পর তাদের প্রথম সন্তান অনিদ্রা। অনিদ্রা তার মা-বাবার আশা অনুযায়ী পড়াশুনা করে একদিন একটা ভাল চাকুরি পেল। যখন ওর বাবা জানলো অফিস ছুটি রাত ৮টায় তখন আর কিছু জিজ্ঞেস না করেই চাকরি করতে মানা করে দিল। সে বলল,‍‍‌‌‌‌‌‍ ‍‌‌‌‌‌‌‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌যে চাকরি করলে রাতে বাড়ি ফিরতে হয় সে চাকরির দরকার নেই।‌‌‌‌‍‍ অনিদ্রা স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। কয়েকটা অফিস আছে সন্ধার আগে ছুটি দেয়। আর এ যুগে এত ভাল চাকরি ও আর কোথায় পাবে। তাহলে কি লাভ হলো পড়ালেখা করে? সকল পরিশ্রম কি বৃথা?

মিথলা অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। বাসে করে যেতে হয় ভার্সিটিতে। বাসে এত মানুষের ভিড়েও কিছু ছেলে ধাক্কা দিতে একদম ভুলে না। মহিলাদেরও রেহাই নেই এসব থেকে। মন্দিরে ঘন্টা যেমন একে একে সবাই এসে বাজিয়ে যায়, তেমনি মিথিলাকেও সবাই ধাক্কা দিয়ে যায়। রাস্তা ঘাটে মানুষ যেভাবে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে মনে হয় মেয়েটা যেন চিড়িয়াখানার একটা জীব আর ওরা জীবটাকে দেখতে এসেছে।

নীলার বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু নীলা বিয়েতে রাজি না। কারণ ও কেবল ইন্টার মিডিয়েটে পড়ে। ও আরও পড়তে চায়। ছেলেকে ও এখনো পর্যন্ত দেখেনি, কিন্তু বাড়ির সবাই রাজি। ওকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও বোধ করলনা। ও আর কাউকে কিছু বলতে পারল না। বললে সবাই বলবে ও অন্য কাউকে পছন্দ করে, তাই নিজের মাথায় কলঙ্ক নেয়ার চেয়ে বিয়ে করে নেয়াই অনেক ভাল। এটা মেনে নিয়েই নীলা বিয়েতে রাজি হয়ে গেল। যেদিন বিয়ে হল সেদিন ওর পড়াশুনার মৃত্যু হল।

রুপা, রুপার স্বামী অপু, রুপার রাতুল রাতুলের স্ত্রী অনন্যা আর ওদের এক বন্ধু তমাল সিলেট যাচ্ছিল। হঠাৎ এক্সিডেন্ট অপু, অনন্য আর তমাল মারা গেল, আজ পাঁচ বছর রাতুলের বিয়ে অমিয়া সাথে। রাতুল তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারল কিন্তু রুপা পারল না। রুপার কি দোষ? রুপার দোষ ও একটি মেয়ে। তাই ও অলুক্ষণে। গোটা সমাজটা ওকে হেও চোখে দেখে, তাহলে ও কিভাবে বদলাবে। মেয়েদের মন নরম বিধায় ওরা অনেকেই পরবর্তিতে আর বিয়ে করতে পারে না। কিন্তু ও সমাজ কি পারতনা ওর মুখের সেই হাসিটা ফিরিয়ে দিতে?

শুধুই কি এগুলো! আজও মহিলারা মার্কেটে গেলে দাম বেশী আর পুরুষেরা মার্কেটে গেলে দাম কম চায়। স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে বাবা না গেলে মূল্য না দেয়া। স্বামীর চেয়ে স্ত্রী বেশী শিক্ষিত হতে পারবে না ইত্যাদি আরও কত কিছু সহ্য করতে হয় মেয়েদের। আজ কত নারী উন্নয়ন সংস্থা গড়ে উঠেছে। তারা নারীদের উন্নতি করছে, কর্মজীবি করছে। অনেক অশিক্ষিত শিক্ষিত হচ্ছে। তারা নারীদের অধিকারের জন্য কত মিছিল, মিটিং করছে। কিন্তু এসব ছোট ছোট বিষয়ও বলে দেখাও কি সম্ভব? কিন্তু জানেন, এসব বিষয় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও হবে না। কারণ তারা বুঝতো চায় না। যদি বুঝতে চাইত তাহলে অনেক আগেই বুঝত। আসুন না আমরা সবাই মিলে নারীদের উপর থেকে এই নির্যাতন বন্ধ করি।....

“আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস”- ২৫শে নভেম্বর ২০০৮

Tile of this post: “International Day Against Violence Against Women” 25th November,2008 by Farzana Akter Tuli

নারী এই শব্দটি প্রাচীন কাল থেকে প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ নানাভাবে নির্যাতিত ও শোষিত হচ্ছে। অথচ এই নারীর কারণেই একটি সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পায়, একটি সুন্দর জীবনের শুভ সুচনা হয়। অথচ নারীদের জীবন আমাদের এই সমাজে শুধুই একজন সামান্য নারী হিসাবে চিহ্নিত, যার কোন অস্তিত্ব নেই। আমাদের সমাজে নারী পুরুষ উভয় সমান অধিকারী। কিন্তু এই অধিকার নারীরা কতটুকু পায়। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারীদের কোন কর্মকান্ডই গ্রহণ যোগ্যতা পায় না। অথচ আমাদের দেশে বিগত কয়েক বছর যাবৎ নারীরা দেশ পরিচালনা করে আসছে।

অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের মুলহোতা থাকে আরেকজন নারী। উদাহরন স্বরুপ বলা যেতে পারে যে, একজন মেয়ের বিয়ের পর সাধারণত সর্বপ্রথম শাশুরী-ননদ বা জা যৌতুকের চাপ প্রয়োগ করে। এতে করে মেয়েটি অসহায় হয়ে পড়ে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে আমাদের দেশের নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর ফলে তারা নানা রকম সমস্যায় পড়ছে। যেমনঃ

সম্প্রতি দৌলতপুরে এক গৃহ বধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। গত রোববার রাতে উপজেলার চৌহদ্দিঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার রাত ১২টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নায়েব আলী তার স্ত্রী নাজেরা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এলাকাবাসী লাশ ঝুলিয়ে রাখতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এলাকাবাসী জানায় নায়েব আলীর ৮ স্ত্রীর মধ্যে হাজেরা খাতুন চতুর্থ স্ত্রী এবং তার অধিকাংশ স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এর পর থেকে হাজেরার সাথে তার স্বামীর কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরেই এই হত্যাকান্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। (মানব জমিন২৫শে নভেম্বর-০৮-মঙ্গলবার)

অতএব এ থেকে বোঝা যায় আমাদের নারীরা কত অসহায়। একজন লোক বহু বিবাহে লিপ্ত হয় আর তার বলি চরাতে হয় একজন নারীকে।

অপর দিকে গোলাপগঞ্জের কোটালি পাড়ায় একজন স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে তাকে অপহরণ করে ৭দিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আর ৫জন ধর্ষণকারীকে পুলিশ খুঁজছে। (মানব জমিন২৫শে নভেম্বর-০৮-মঙ্গলবার)

এগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি নারীরা কতখানি অনিরাপদ। তাদের প্রতিটি পদেই বিপদের সম্মুখিন হতে হয়। অপরাধীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে আশার কথা এই যে, বাংলাদেশে এ নারী নির্যাতন রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর সুত্র ধরে অপরাধীদের অপরাধ প্রমানে ডি,এন,এ প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে অবস্থিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডি, এন, এ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী কর্তৃক নিম্ন লিখিত সেবা প্রদান করা হয়ঃ

  • ধর্ষণ, হত্যা প্রভৃতি জঘন্যতম অপরাধের অপরাধী সনাক্ত করণ।
  • পিতৃত্ব, মাতৃত্ব নির্ণয়।
  • বিচ্ছিন্ন অথবা বিকৃত মৃতদেহ সনাক্তকরণ।

সর্বশেষে আমরা এটাই বলতে পারি এর সবকিছুর উর্ধ্বে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে আমাদের সকলকে একাত্ম হয়ে এর প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

Saturday, October 11, 2008

বিধবা নারী

Title of this post: A Widow Joynab khanam

যার স্বামী মারা গেছে
তারই নাম বিধবা
দুনিয়াতে তার আর
আপন রইল কেবা?
বিধবা নারী বুক ভাসায়
চোখের জলে
শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা তাকে
উপহাস করে চলে।
বলে—স্বমীকে তো খেয়েছো
এই বয়সে
টগবগে যৌবন—দুঃখ কিসের
নতুন নাগর জুটে যাবে- অনায়াসে।

স্বামী তাকে বড় ভাল বাসত বলে
মেয়েটি এসব কভু ভাবেও না ভুলে।
স্বামীর শত স্মৃতি সে
রাত জেগে ভাবে
সিদ্ধান্ত তার
স্বামীর স্মৃতি নিয়েই জীবন কাটাবে।
বাবার বাড়ি যায় না সে ভয়ে
তারা যদি জোড় করে
দিয়ে দেয় বিয়ে!

স্বামীর বাড়ীতে পড়ে আছে
বিধবা নারী
শ্বাশুড়ী তাকে পরিচয় দেয়
কাজের মাথারি।
সারা বাড়ির সব কাজ
করছে নিজ হাতে
কথায় কথায় ধমক আর
গালি আছে সাথে।
পরিবারের সবার সবই জোটে
বিধবার জন্য কারো টাকা নেই মোটে।
পরনে ছেঁড়া শাড়ি, ছেঁড়া ব্লাউজ
সেদিকে কারো যেন নেই কোন হুশ।
খাবার খাবে সে সবার শেষে
বুয়ার ঘরে পরে থাকে
ভিখারীর বেশে।
রাত হলে ভয় পায়
কেউ নেই সাথে
ভাবে সে-একা থাকার সিদ্ধান্ত
ভুল আছে কি তাতে?
এই দুর্বিষহ জীবনের যন্ত্রণা
আর যে সওয়া যায়না।

ঈদ এলে বিধবাকে
করা হয় মূল্যবান,
যাকাতের নতুন কাপড়ে
দেয়া হয় সম্মান।
বিধবার মুখ দেখে
বাইরে যায়না কেউ
কারো নতুন বাচ্চার মুখ
সে দেখেনা কভু।
কারণ সে অপয়া, অলক্ষী তাই
সবাই তাকে এড়িয়ে চলে
নির্মম অবহেলায়।

স্বামীকে খেয়েছে সে
এই তার অপরাধ,
বিধবার বাঁচার আর জাগেনা স্বাদ।
গ্রামের মাতবর একদিন মাতাল হয়ে
ঢুকে পড়ে রাতের বেলায়
বিধবার ঘরে।
বিধবা বটি নিয়ে আসল তেড়ে
মাতবর কলঙ্ক রটাল বিধবাকে ঘিরে।
চরিত্র হীনা উপাধি
সহ্য হলনা তার
নদী জলে ডুবে মরে
মেনে নিল হার।

নিঃসন্তান নারী

Title of this post: Childless woman by Joynab khanam

কেউ মা হয় বছর বছর
কেউ হয়না কোন বছর
যার হয় সে অনেক সুখী
হয়না যার সে পোড়া মূখী।
শ্বাশুড়ী তাকে ডাকে অপয়া
স্বামী তাকে ডাকে বেহায়া ।।
প্রতিবেশীর কাছে সে
অলুক্ষণে-ভাগ্যহীনা
নিঃসন্তান নারীর সাথে
কেউ আর মিশেনা।
সবাই যেন করে তাকে করুণা
ভাবে সে-মরণ কেন আসেনা?
স্বামীর সংসারের স্বপ্ন ছাড়ি
একদিন ফিরে সে বাপের বাড়ি।
মা হওয়ার জন্য সে-
পায়নি কোন চিকি‌‌ৎসা
পেয়েছিল তাবিজ আর পীরের পানিপড়া।
দোষ কার-স্বামীর নাকি তার?
হয়নি প্রমাণ
ফিরে আসতে হল চিরতরে
মুখ বুজে সয়ে সব অপমান।
নিঃসন্তান হওয়া যেন
নারীর জন্মগত পাপ,
নিঃসন্তান নারী
যেন সমাজেও অভিশাপ।

Thursday, October 9, 2008

একজন নারীর আত্মকথা

Title of this post: A tale of a woman by Ayesha Sanjida Synthia.


পারভিন হচ্ছে আমাদের মতই একজন অতি সাধারণ মেয়ে। কৃষক পরিবারের এই অতি সাধারণ মেয়েটি তার ভাই-বোনদের মধ্যে বড়। বাবা-মা আর ভাই বোনদের নিয়ে তার পরিবার। শহরে পারভিনের জন্ম হলেও সে গ্রামেই বড় হয়েছে।

পারভিন পড়ালেখায় ভাল ছিল। গ্রামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে পড়ত। কিন্তু গ্রাম বাংলায় আজও বাল্য বিবাহের একটি প্রথা প্রচলিত আছে। মেয়ে বড় হয়েছে ওকে তাড়াতাড়ি বিবাহ না দিলে পরে আর বিবাহ হবে না। তাই ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়ন অবস্থায় পারভিনের বাবা পারভিনকে বিবাহ দেয়।

প্রতিটি মেয়েরই স্বপ্ন থাকে ভাল স্বামী সুন্দর সংসার। কিন্তু পারভিনের সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল। বিবাহের কিছুদিন পর স্বামীর অত্যাচার শুরু হয়ে যায়। পারভিনের মতে তার স্বামী বউ মারায় পৈশাচিক আনন্দ পেত। সে কারণে-অকারণে শুধু মারত। ওকে খেতে দিত, কাপড় দিত না।

বিবাহের কয়েক মাস পর পারভিন গর্ভবতী হল। গর্ভকালীণ অবস্থায় স্বামীর অত্যাচারের হাত থেকে মেয়েকে ও নবজাতকটিকে রক্ষা করতে, পারভিনের বাবা পারভিনকে নিতে আসে। মেয়ের বাড়িতে তার কোনো আদর-সমাদোর কিছুই হল না। তিনি কষ্ট ভরা মনে মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন।

অবশেষে পারভিনের আধাঁর ঘর আলোকিত করে ফুটফুটে সুন্দর একটি পুত্র সন্তান এল। শিশু জন্মের খবরটি পেয়েও পারভিনের স্বামী তার সন্তান ও স্ত্রীকে একটিবারের জন্যে দেখতে আসেনি। বরং, সে তার সন্তানকে অস্বীকার করে।

বাঙালি নারী শত অত্যাচার সহ্য করেও স্বামীর চরনে পড়ে থাকে। পারভিনও তার ব্যতিক্রম করল না। এবার পারভিনের উপর তার স্বামীর অত্যাচার আরো বেড়ে গেল। তার স্বামীর অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং অসহনীয় মারধোর পারভিনকে একদিন প্রতিবাদী করে তোলে। অবশেষে পারভিন বাধ্য হয় তার স্বামীকে তালাক দিতে।

পারভিন ও তার ছেলে বাবু সেই পৈচাশিক লোকটির হাত থেকে মুক্তি পেলেও, মুক্তি পায়নি অভাব-অনটন, দারিদ্রতা ও সমাজের কটুকথার হাত থেকে। বাবু এখন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর একজন ছাত্র। বাবু তার নানার বাড়িতে থাকে। পারভিন তার পরিবারের দারিদ্রতা মোচনের জন্য শহরে মানুষের বাসায় কাজ করে। তবুও আছে তাদের অভাব অনটন। কখনো হয়তো তারা পেটপুড়ে দু‌‌‌‌‍‍‍‍'বেলা খেতে পায় কখনো বা পায় না। এটাই হচ্ছে আমাদের দেশে নারী জাতির অবস্থান।

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এমন আরও অনেক পারভিন আছে যারা প্রতিনিয়ত এধরনের অত্যাচারের সম্মুক্ষীন হচ্ছে। নারী জাতির এ অবস্থানের অবসানও একদিন নারীকেই করতে হবে। আসুন আমরা সবাই আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই।

Thursday, September 11, 2008

গ্রামের নারী ও শহরের নারী

Title of this post: Women from rural and urban area by Jainub Khanam

নারী-গ্রামের হোক
, শহরের হোক, আধুনিক কিংবা সাধারন হোক, চালাক হোক কিংবা আনাড়ী- তার পরিচয় কিন্তু একটাই, সে নারীকিন্তু আমি যা নিয়ে ভাবছি তা হলো - নারীতে নারীতে কত তফাৎ? আমার জন্ম গ্রামেতাই খুব কাছ থেকে গ্রামের মেয়েদের জীবন যাত্রা আমি দেখেছিবিয়ের পরে আমার স্বামী আমাকে ঢাকা নিয়ে আসে। আমি এখন ঢাকা শহরে থাকিতাই শহরের মেয়েদের জীবন যাত্রা ও আমি কাছ থেকে দেখেছিশহর আর গ্রামের নারীদের জীবনে কত পার্থক্য ? গ্রামে বেশির ভাগ নারী লেখপড়ায় খুব একটা জোর দেয় নাকোন রকম এস.এস.সি পাশ করতে পারলেই অনেক কিছুকয়েক জন ব্যতীক্রম অবশ্যই আছেআমি আমাদে এলাকার কথাই বলছি৯ম বা ১০ম শ্রেণীতে পড়লেই বাবা মায়েরা বিয়ের কথা ভাবেনএরপর কোন একটা পাত্র বিদেশী হলে ভাল হয়বয়স বাবার বয়সের হোক, সমস্যা নেই, প্রচুর টাকা আছেলেখা পড়া কম, সমস্যা নেই, মোহরানা দেবে ৫লাখআমার মনে হয়, বাবা-মার জ্ঞানহীন ধ্যান ধারণার জন্যই মেয়েদের এই অবস্থামায়েরা ছোটবেলা থেকেই মেয়ের মনে একটা ধারণা তৈরী করে দেন যে, তোমরা নারীমক্তবে কোরান শরীফ শেষ করবে, বাংলা শিখে চিঠি পত্র লিখতে পারলেই হবে, তার পর বিয়ে দেব, বাচ্চা পালন, সংসার গুছানো ব্যাস তোমার দায়িত্ব শেষ

অথচ সংসার সুন্দর করে গুছানোর জন্য
, সংসার কে সুখী করার জন্য, স্বামীর সঠিক মূল্যায়ন, বাচ্চার সঠিক যত্ন, পরিবারের অন্যদের সাথে ভালব্যবহার, সবার প্রতি দায়িত্ববোধ, সচেতনতা এসব গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোর জন্য উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক অর্থাৎ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে, সব কাজে পারর্দশী হতে হবেগ্রামের মায়েরা এসব কখনোই ভাবেন নাএতো গেলো অবিবাহিতা মেয়েদের কথা, এবার বউদের কথায় আসিতারাতো স্বামীর বাড়ীতে এসে রাজরানীসংসারের চাবী তার শাড়ীর আঁচলে, স্বামীর টাকা তার ড্রয়ারেইচ্ছে মত, খেয়াল মত সংসারে কর্তৃত্ব খাটায় তারাআমাদের বাড়ির বউরা এত সুখিসকালে উঠে নাস্তা খেয়ে উঠানে বসে সবাই আড্ডা দেয়১০ টায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়১১টায় বা ১২ টায় রান্না করে হিটার বা সিলিন্ডার গ্যাসে দুপুরে খেয়ে ঘুম দেয়, বিকালে নাস্তা খেয়ে আবার আড্ডা দেয়সন্ধ্যায় ঘরে যায়বাচ্চাদের পড়ালে পড়ায় না পড়ালে নাই৮টা বাজলে টিভি ছাড়ে ১০/১১ টা পর্যন্ত দেখা হয়এরপর ঘুমবউদের চিন্তা বা কোন টেনসন নেই বাজারেরস্বামীরা সবকিছু এনে হাজির করেতাদের গল্প, হাসি তামাশায় কেটে যায়ঘড়ির দিকে তাকানোর প্রয়োজন যেন নেইঅথচ শহরের নারীর জীবন গ্রামের নারীর জীবন থেকে সম্পূর্ন ভিন্নশহরের নারীরা একরকম সংগ্রামী জীবন কাটায়তাদের সময় চলে ঘড়ির সাথে পাল্লা দিয়েবাচ্চাদে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, আনা, ঘর গুছানো, বাজার করা, রান্না করা, বাচ্চাকে কোচিং এ নেওয়া, গান, ড্রয়িং শিখাতে নেওয়া, সময় মত ঘুম পাড়ানো, রাত্রে রান্না সেরে আবার বাচ্চাকে পড়ানো, নিজের পড়া, ব্যক্তিগত কাজ, সবই তারা করছে দক্ষতার সাথেআমি দেখেছি আমার চতুর্পাশের বেশির ভাগ মেয়ে অনেক পরিশ্রমীঅবিবাহিতা মেয়েরা ও অলস সময় কাটায় নাতারা উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই, অত্যাধুনিক রান্না সহ আরো বিভিন্ন কোর্স শিখে নিজেকে দক্ষ, কর্মঠ ও সাবলম্বী করছেসারাদিন তারা কাজের মধ্যেই সময় কাটায়অবশ্য গ্রামে সুযোগ সুবিধা ও কমচাইলেই তারা কম্পিউটারে বসতে পারে নাইন্টারনেটে বিচরন করতে পারে না

Saturday, August 2, 2008

ভাসমান নারী

Title of this post: Floating Women by Jainub Khanam


র্ষাকাল সুসময় তাদের
যারা মাতাল নারীলোভী
বৃষ্টি ভেজা রাতের আঁধারে
রাস্তার নারী হারায় সবি
রাতের বেলায় কেউ শুনেনা
তাদের করুণ চিকার
পরবর্তীতে এই নারীরাই
হয় এইডস এর স্বীকার
যদি কেউ ভাসমান নারীর কথা
ভাবেনা কভু আর
অনেক পরে চরম মূল্য
দিতেই হবে সবার
নারী যারা ভাসমান
হচ্ছে না তাদের পূনর্বাসন
আশ্রয়হীনার কথা কেন ভাবেনা
যারা বিবেকবান,
এরা নোংরা রোগ ছড়ালে
দেশ হারাবে সম্মান

Monday, June 23, 2008

মমতাময়ী নারী

লিখেছেন: জান্নাতুল ফেরদৌস নার্গিস

নারী, তুমি মমতাময়ী
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ দান
ভুবনে আসিয়া তুমি সবার জীবন করিয়াছ যে মহান
নারী তোমার মমতা ছাড়া, এ পৃথিবী শূন্য
অঝোরধারায় স্নেহ দিয়ে, মোদের করেছ ধন্য।

তুমি হীনা যে জীবন হত
ধূ-ধূ বালু চর

কে রাখিত সাজায়ে ধরা
কে বাঁ
ধিত ঘর

নারীর ছোয়ায় সুখের প্রদিপ
দিপ্ত আলোয় জ্বলে

আবার এই ধরাতে
ধ্বংস নামে
নারীর চোখের জলে

নারী সবার জন্মদাত্রী
দূ
র্গার শত রূপ
নারী আয়নার প্রতিচ্ছবি
সুখ স্বর্গ স্বরূপ

নারীর সাথে নারীর স্পন্দন
বাঁ
ধা সবার প্রাণ
এই নারীদের বল ক
-জন
করে সম্মান

তাই এস আজ নারী দিবস
৮ই মার্চ পালন করি

নারীদের প্রতি সম্মান রেখে
সুন্দর সমাজ গড়ি


Friday, February 8, 2008

একটি মেয়ের নীরব কান্না

Title of this post: "Silence tears of a woman" by Taufika Farzana

একবিংশ শতাব্দির যুগেও বাংলাদেশ এখনও দারিদ্র এবং অশিক্ষার কড়াল গ্রাশে নিমজ্জীতএখানে নিম্নবিত্ত পরিবারে স্কুল বয়সী ছেলে মেয়েরা স্কুল যাওয়ার পরিবর্তে কাজে বে হয়তাদের পরিবার তাদের উপর নির্ভরশীল হয়মাদের চারপাশে এখনও অনেক দুঃখী মেয়ে রয়েছেযাদে জীবন অনেক কষ্টে কেটেছেআমি এখন একজন মেয়ের কথা বলব যার জীবনে নেমে এসে ছিল দুঃখের কালো ছায়ামেয়েটির নাম ঝর্ণা

তার জীবনের প্রতিটা ঘটনাই কান্নারসুখের কোন ছায়া নেই সেখানেপাহা তার কষ্টের কথা অন্যকে বুঝানোর জন্য কান্না দ্বারা প্রকাশ করে কিন্তু এই কান্নাকে আমরা ঝর্ণা বলে থাকিঠিক তেমনি ঝর্ণা মেয়েটির প্রতিটা ঘটনার সাথে তার নামের মিল খুঁজে পাওয়া যায়পাহা তার কষ্টের কথা প্রকাশ করলেও ঝর্ণা তার কষ্ট এবং কান্নার কথা কারও কাছে প্রকাশ করতে পারেনি সে তার কষ্টগুলো তার বুকে পাথর দিয়ে চেপে রেখেছেসে তার সংগ্রামী জীবনে ধৈর্য্যের সাথে এগিয়েছে

ঝর্ণার জন্মস্থান ফরিদপুরেসেখানে সে মা এবং ভাই বোনের সাথে বসবাস করেতারা ৬ বোন ১ ভাইভাই বোনের মধ্যে ঝর্ণা অবস্থান ৩য়ঝর্ণা তার বাবাকে হারিয়েছে তিন বছর বয়সে তাই তাদের সংসারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়ঝর্ণার অন্যান্য ভাই বোনেরা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত তাদের সংসারে ব্যয় বহন করতকিন্তু বিয়ের পর তারা নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাই বাধ্য হয়ে ঝর্ণাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়এই কষ্টের মাঝে ঝর্ণা ভালবেসেছে একজনকে এবং তাকে বিয়েও করেছেসে তার দুটি মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে সুখী জীবন যাপন করতঝর্ণা ভেবেছিল তার কষ্টের জীবন শেষ হয়েছেকিন্তু সংসার জীবনে ও ঝর্ণা সুখী হতে পারে নিকারন স্বামী তাদের ফেলে চলে যায়ঝর্ণার কষ্টের পরিমান বেরে যেতে থাকেসে তার মা এবং মেয়েদের মুখে খাবার দেয়ার জন্য বের হয় কাজের সন্ধানেসে বাসা বাড়িতে প্রথমে কাজ নেয়এবং সে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়কিন্তু সে যে কাজ করে তাতে তার সংসার চলে নাতাই সে আরেকটা কাজের খুঁজ করেএবং সে একটা কাজ পেয়ে যায়সে আমাদের কলেজের ক্যান্টিনে কাজ করেসে সব সময় হাসি মুখ করে থাকেএত কষ্টের মাঝেও সে হাসতে পারেএখানে সে ছয় মাস ধরে কাজ করছেসে এই কাজের টাকা দিয়ে বাসা বাড়িতে থাকে এবং মেয়ে দুটকে লেখাপড়া শিখায়সে বুঝতে পেরেছে জীবনে, লেখাপড়া ছাড়া কোন মূল্য নেইসে তার এই ছোট জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছেজীবনে কারও কাছে মাথা নত করেনিসে জীবনের কাছে সংগ্রাম করে টিকে আছেতার মেয়েদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেতাই সে তার মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেয়তার বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে ক্লাশ ওয়ান পড়েতার মনে অনেক আশা মেয়েদের সে লেখাপড়া শিখাবে মানুষের মত মানুষ করবেতার জীবনের মতো যেন না হয় তাদের জীবন

আমার মনে হয় জীবনে ভালবাসাই সব নাজীবনে বেচেঁ থাকার জন্য চাই প্রতিষ্ঠাআমাদের সমাজে নারীরা ‌মনিতেই অবহেলিত ও বঞ্চিতনানা ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তারাতাই আমাদের সবার উচিৎ আমাদের পায়ের নিচের মাটিকে শক্ত করে তোলাআমাদের এগিয়ে চলা উচিৎ নতুন এক আলোর পথে.............

Monday, December 10, 2007

একজন নির্যাতিত নারীর জীবনের গল্প

Title of this post : "A Story of a Tortured Girl" By Mayanur Akter Maya
Content of this post: It is a story of a girl who was being tortured by her husband. Her name is Mitali. Her parents influenced her to marry only for money. So her husband treats her as a servant, not as a wife. She is so helpless that she doesn’t have any shelter in her parent’s house.


আমাদের সমাজ চায়, মেয়েরা তাদের সব আনন্দ ত্যাগ করে খুশি থাকবে সরাইকে নিয়েআর তা না করলে বলা হয় সে ভাল মেয়ে নাঅন্য দিকে হাসি মুখে মেয়েরা সব কাজ করে গেলেও সে তার কাজের স্বীকৃতি চায়যখন নিত্য দিনের ছোট খাটো কোন ত্যাগের স্বীকৃতি সে পায় না, তখনি শুরু হয় হতাশাচাইলেও এই হতাশা খুব বেশি দিন চেপে রাখা যায় নাতা কোন না কোন দিন বিস্ফোরিত হবেইএতে একদিকে যেমন সম্পর্কের ফাটল শুরু হয়, অন্য দিকে ধুকে ধুকে কষ্ট পায় মেয়ে নিজেই

আমি এমন একজন মেয়ের কথা বলছিমিতালী আমার ছোটবেলার বান্ধবীও দেখতে খুব সুন্দরীও যখন ৯ম শ্রেনীতে পড়ে তখন রানা নামের ধর্নাঢ্য এক ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে হয়সে মিতালীর চেয়ে ১৭ বৎসরের বড়বিয়ে কি সে কথাটি বুঝে উঠার আগেই বাবা, আর বড় ভাই দুজন মিলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় রানার সাথে

ঘরই যদি নিরাপদ না হয় তবে কোথায় যাবে নারী? ঘরের বাইরে এক পা, একটি দিন মানেই অসংখ্য অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় নারীকেযখনি সে বিয়ে করবেনা বলে আপত্তি করল তখনই শুরু হল মিতালীর উপর বাবা ভাইয়ের অমানবিক নির্যাতনতার ঘর থেকে বের হওয়া, স্কুলে যাওয়া সব বন্ধ করে দেয়া হলএমনকি স্কুলের সব বান্ধবীদের সাথেও দেখা করা বন্ধ করে দিল মানুষ কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে তার একমাত্র আশ্রয় বা স্থান হয় ঘর, তার পরিবার-- বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্নীয়-স্বজনআর সেখানেই যদি হয় নির্যাতনের কেন্দ্র তখন নারীরা কোথায় যাবে বলতে পারেন?

মিতালীকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে দেয়া হলশুরু হল মিতালীর নতুন জীবননির্যাতনের এক ধাপ পার হয়ে অন্য ধাপ শুরু হল! ভাই ও বাবা দুজন মিলে সেই রানার কাছ থেকে মিতালীর বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেরানা কম বয়সি ও দেখতে সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে পেরেছে, সে জন্য সে সব কিছু করতে রাজিকিন্তু বিয়ের পর শুরু হল মিতালীর উপর অমানবিক নির্যাতনমিতালীকে কখনও তার স্ত্রী মনে করতেন নাসব সময় তাকে মনে করা হত কেনা দাসী

আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে যেভাবে নারীদের ক্রীত দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হতমিতালীর সাথেও রানা সে রকম আচরণই করতআর সব সময় বলত, আমি তোকে তোর ভাই আর বাবার কাছ থেকে টাকা দিয়ে কিনেছিআমি তো আর তোকে বউ করে আমার ঘরে আনিনি, যে তোর সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবেতোকে সব সময় আমার কথা মত চলতে হবেআমি যা করতে বলি তাই করতে হবে মিতালী সব কষ্ট মুখ বন্ধ করে সহ্য করেতাছাড়া কি বা করার আছে তারসে কাকে বলবে তার এই কষ্টের কথা? বাবাকে? ভাইকে? না, তারাই তো তার অসল শত্রু সে ভাবে আমি কি করব? বাবার বাড়িতে যাবে তারাই তো তার সর্বনাশ করেছেভাবতে ভাবতে ভাবনার রাজ্যে ডুবে যায় ,কিন্তু কোন কুল সে খুঁজে পায় না

কলি থেকে ফুল হয়, আর সে ফুল থেকে মালাকিন্তু ফুল ফোটার আগেই যদি সেই কলি কোন বিষাক্ত কোন ক্রীট দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে সেই কলি থেকে কিভাবে সুস্থ ফুলের আশা করা যায়তার স্বামী সব সময় তাকে অবিশ্বাস করতসে সব সময় বলে মেয়েদের প্রশয় দিতে নেইমেয়েরা শুধূই মেয়েতারা পুরুষের হুকুম মেনে চলবে, সংসার গোছাবে শশুর শাশুরী স্বামী সন্তান দেখাশুনা করবেতাদের আবার চাওয়া পাওয়ার কি আছে? কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মিতালী একদিন সিদ্ধান্ত নিল আত্মহত্যা করবেএত বড় পৃথীবিতে তার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার একটও জায়গা নেই কোথাও

মরিতে চাহিনা এই সুন্দর ভুবনে!মিতালীর অনেক ইচ্ছা হয় বেঁচে থাকতে এই পৃথিবীতেকিন্তু যখনি মনে অসংখ্য প্রশ্ন জাগে কেন বেঁচে থাকব? কিসের আশায় বেঁচে থাকব? কার জন্য বেঁচে থাকব? সে কোন উত্তর খুঁজে পায় না, শুধু তার চোখের সামনে ভেসে উঠে তার মার সেই অসহায় মুখখানা! মনে পরে মায়ের কথাযখনি দেখত মা নিজের জন্য কিছুই করছে নাছেলে পছন্দ করে-- তাই বাড়িতে ভাল রান্না হচ্ছে , মেয়ে শুনতে ভালভাসে-- তাই এই গানটা প্রায়ই শোনা হয়স্বামী ঘুরতে পছন্দ করেন-- তাই বেড়ানো হয় অনেককিন্তু শুধুই নিজের ভালো লাগার প্রাধান্য দেয়নিমাকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করা হলে মা বলতেন, মেয়েদের অবার পছন্দ! সবাইকে খুশি করতে পারলেই খুশি তারা সবার খুশিতেই নিজের খুশি !এসব কথা ভাবতে ভাবতে দুচোখের পাতা এক করতে পারেনা মিতালী

একদিন সকালে মিতালী পাশের দোকান থেকে ঘুমের ঔষদ কিনে আনে, আত্মহত্যা করার জন্যযখন রাত গড়িয়ে সন্ধ্যা হল, সবাই যখন ঘুমে বিভোর, তখন মিতালী ঘুমের ঔষধ খেয়ে শুয়ে পরেহঠাৎ কিভাবে যেন রানা বুঝতে পারল মিতালী কিছু একটা ঘটিয়েছেমিতালী মারা যাচ্ছে সেই জন্য না -- নিজেকে বাঁচানোর জন্য মিতালীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলআর তার বাবা, ভাইয়ের কাছ থেকে লিখিত ডকুমেন্ট রাখল-- যদি কোন দিন কোন কারণে মিতালী মারা যায় এর জন্য রানা কোন রকম দায়ী থাকবেনা!

রানা এতদিন মিতালীকে মানসিক নির্যাতন করতএখন সে শারীরিক নির্যাতন করতে শুরু করলঘরের বাহিরে বের হওয়া বন্ধ করে দিলরানা সিদ্ধান্ত নিল মিতালীকে আর এভাবে রাখবেনা, সে সন্তানের বাবা হতে চায়আর মিতালীর বয়স তখন ১৫ বছর চলছেএই পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের কোন মূল্যই নেইসেখানে সন্তান নেওয়া , না নেওয়ার সব সিদ্ধান্ত পুরুষেরইনারীরা হচ্ছে তাদের খেলার পুতুল; যেভাবে নাচাবে, সেভাবেই নাচতে হবে
মিতালী সন্তানের মা হতে চলেছেএত যন্ত্রনার নির্যাতনের মাঝেও কি মিতালী পারবে একজন সুস্থ সন্তানের মা হতে? নানা প্রতিকুলতা পার হয়ে মিতালী মা হলেনতার যমজ সন্তান হলসে তাদের নাম রাখল সবুজ ও সাথী

এখন রানা মিতালীর উপর নির্যাতন করে অভিনব পদ্ধতিতেমিতালী মা হয়ে গেছে এখন সে আবার বিয়ে করবেমিতালী দুসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করে নিচ্ছেতাহলে মেয়েরা কি পাচ্ছে এই পৃথিবীতে এসে? প্রতিটি পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে নারীরা

দেখা যায়, পরকীয়া আর যৌতুকের জন্য স্বামী ও তার আপনজনদের সহযোগিতায় স্ত্রীকে হত্যা করা হয়কলঙ্কিত হয়ে সংসার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপায় না পেয়ে মিতালীর মত অনেক মেয়েরাই ধুকে ধুকে মরে, কেউ বা আবার লাশ হয়ে বের হয়তাই এগুলো থেকে বঞ্চিত হলে কতগুলো জীবন ধ্বংসের পথে চলে যায়যেখানে অভিভাবকরা নিজেদের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের সঠিক পথে রাখার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে এই আভিভাবক অনন্দ-ফুর্তি করার জন্য সন্তানদের দুনিয়াতে এনে তাদেরকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে

মিতালীর মত কত নারীরা আমাদের দেশে ঘরে বাহিরে প্রকাশ্যে গোপনে নির্যাতিত হচ্ছেএই নির্যাতন থেকে নারীদেরকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবার মানসিকতার পর্রিবতন করতে হবেমেয়েদেরকে মানুষ ভাবতে হবেকারণ মেয়েরাও মানুষ

Thursday, December 6, 2007

আমরা নারী

Title of this post: Amra Nari (We are woman) by Sharmin Chowdhury Shikha

জেগে উঠ আজ, জেগে উঠ
বসে থেকো নাকো
সময় হয়েছে গো
, সামনে যাবার
কেন বসে থাকো?
কেন ভিরু লাজ?
সামনে অনেক কাজ,
কেন বসে আছো, আধাঁরের ঘরে?
কেন কাটিয়ে দিচ্ছ জীবন, ধুঁকে ধুঁকে মরে?
বিশ্ব আজ আলোকিত
, চারদিক উচ্ছাসিত।
তুমি কেন আধাঁরে, হয়ে আছো নিপতিত?
বেরিয়ে আস ঐ ঘর থেকে
তাকিয়ে দেখ নারী বিশ্বের দিকে।
বসে নেই তারা হাত পা গুটিয়ে
বাহিরে আসছে আধাঁর কাটিয়ে।
উন্নত দেশ, উন্নত বিশ্বে
নারীরা আজ অনেক শীর্ষে।
জ্ঞান চক্ষে তারা করছে অনেক ভালো
পালিয়ে যাচ্ছে সকল আধাঁর কালো।
হে মহীয়ান নারী
গর্জে উঠে একবার বল
আমরা পারি
, সবই পারি
আমরা নারী।

Saturday, September 15, 2007

নারীর জাগরণ

Title of this post: Awareness of women by Afroza Akter Kajol
Content of this post: In this poem author expressed that, in our society women always lost their rights. She is requesting women to wake up from dark life and to aware about their rights.



জাগো নারী জাগো তুমি

রাগো নারী রাগো তুমি

জাগলেই তুমি দেখবে সব

রাগলেই তুমি পাবে সব

নরম হয়ে থেকনা তুমি আর

হতে হবে শক্ত তোমাকে এবার

বলে গেছেন কিছু মানুষ সারাংশ একটি

শক্তের ভক্ত নরমের জম

কিন্তু তোমরা ভেবে নাও হবে না তা আর এখন

তাই তোমাদের জাগতে হবে

লড়াই করেই বাঁচতে হবে

তাহলেই পাবে সম্মান পুরুষদের এ পৃথিবীতে

জানো কি হে নারী তুমিও একটি রক্তে মাংসে গড়া মানুষ

তবে কেন হয়ে আছো তুমি কাঠের পুতুলের মত

তোমাকেও বাঁচতে হবে চলতে হবে মন খুলে হাসতে হবে

ভেবনা নিজেকে কোন দিনও ছোট

ভেব তুমিও পার করতে সব কিছু

তাহলেই পারবে নিজের জীবনটাকে ভালো ভাবে গড়তে

Tuesday, August 28, 2007

নারী

Title of this poem: “Women” by Tahmina Akter
Content of this poem: “In Bangladesh women are always despised and deprived from their rights in the male dominated society. However women have increased their self estimate and stepping ahead. Women always make confidence to acquire accomplishment for men but men don’t evaluate it” author exemplify her thought from beginning to end in her poem.


নারীই মাতা, নারীই দাতা, নারীই সুখের ধারা,
নারীর কারণে হয়েছে সৃষ্টি, ধরনীর তরুলতা
যুগে যুগে নারী রয়েছে যত অবহেলা অনাদরে,
তবুও নারী হারায় নিকো তার বিশ্বাসকে চিরতরে
নরশাসিত সমাজে নারী তুচ্ছ, বঞ্চিত,
নারী বিনা নর থাকিতো পশ্চাতে সে কথা যদি সে বুঝিত
নারীর কারণে করেছে নর এই বিশ্ব জয়,
নারী বিনা নর নাহি পৌঁছিত উন্নতির দরজায়
নারীই তার আপন মহিমায় গড়েছে এই ভূবন,
নারী বিনা কভু না পাইতাম আমাদের এ জীবন
নারীর কারণে পেয়েছি মোরা সম্মান মর্যাদা
নারীই আজীবন রাখিয়াছে ধরি বিশ্ববাসীর মান
নারীর কারণে হয়েছে ধরনী চির কল্যানকর
নারীকে মোরা বলিতে পারি কল্যানময়ী মাতা
নারীই কল্যানী, নারীই বিশ্বাসী, নারীই প্রেরনাময়ী,
তাই আজীবন মোরা করিবো স্মরন নারীকে শ্রদ্ধাভরে