Tuesday, August 26, 2008

“ওরা মানুষ নয়- পুরুষ”

Title of this post: They are male not human being by Jainub Khanam


আমি পুরুষকে শ্রদ্ধা করি। আবার ঘৃনাও করি। কারণ, সমাজে যেমন আছে ভাল পুরুষ, তেমনি আছে নোংরা, বিকৃত মস্তিস্কের পুরুষ। পথে ঘাটে, যেখানে সেখানে নারীরা লাঞ্চিত হচ্ছে এই পুরুষদের হাতে। কয়েকদিন আগে আসছিলাম আমাদের কলোনির রাস্তা ধরে। সাথে ছিল আমার ১৩ বছর বয়সের ভাগ্নী। সময়টা ছিল শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, বাইরে কোন লোকজনের চলাচল ছিল না। আমাদের সামনে একটি ছেলে জিন্স প্যান্ট শার্ট পড়া ভদ্র বেশী। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেল। সে খারাপ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আমার ভাগ্নির দিকে তাকিয়ে ছিল আর সামনে এগিয়ে আসছিল। আমার শরীর কেপেঁ উঠল। আমি আমাকে নিয়ে ভাবিনি, ভেবেছি ভাগ্নিকে নিয়ে। ছেলেটির যে উন্মাদ, নোংরা ইমোশন কাজ করছিল তা দেখে আমার মনে হচ্ছিল, সে যে কাউকে ধরে বসে পারত। দ্রুত পায়ে বাসায় চলে এলাম এবং পরদিন থেকে কম বয়সী মেয়েটিকে বোরখা পড়তে বাধ্য করলাম। কারণ এই বোরখা তাকে অনেক খারাপ কিছু থেকে নিরাপত্তা দেবে এবং তাকে রক্ষা করবে খারাপ পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে।

এত নোংরা আচরন খোলা রাস্তায় শুধুমাত্র পুরুষকেই মানায়। এই বিশ্রি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমি “ওরা মানুষ নয়- পুরুষ” কবিতাটি লিখার প্রয়াস পেলাম...

পথে ঘাটে হরহামেশা
নারীদের হয়রানি করছে যারা
তারা কি মানুষ?
না, না ওরা পুরুষ।
রাস্তা দিয়ে চলার পথে
ভিড়ের মাঝে হাত চালায়
নারীদের হেতায় সেথায়
তারা কি মানুষ?
কভুও না ওরা পুরুষ।
চলার পথে পাশ দিয়ে যাক
পাগলা কুকুর তবুও না যাক
একটি পুরুষ।
কুকুর তো শুধু কামড়ে দেবে
চিকিৎসাতেই সুস্থ হব।
কিন্তু হলে পুরুষের লালসার স্বীকার
উপায় যে থাকবে না বেচেঁ থাকার।
একটি নারী যখন হয় ঘরের বাহির
মায়ের মন তখন হয়ে যায় অস্থির।
প্রার্থনা করে খোদার কাছে
বাইরে যেন মেয়ের সম্ভ্রব বাচেঁ।
মা তত ভয় পায়না
ঘাতক ট্রাকের আঘাতকে
যতখানি ভয়পায়
পুরুষের লোভের চাহিদাকে।
আমি জানি না ওরা কি ভাবে
লাঞ্চিত নারীগুলো ওদেরই তো
মা বোন ভাগ্নি কিংবা মেয়ে।
বাংলার অলিতে গলিতে
এ কোন হায়েনার দল
মেতে উঠেছে এ কেমন পাপের নেশায়
তিন বছরের মেয়ে শিশু
যুবতী কিংবা গৃহ বধূ
পবিত্র সম্মান হারাচ্ছে সবাই।
যতক্ষন ঘরে থাকি ভাবি নিরাপদ
বাইরে গেলেই বিকৃত মনের পুরুষ
যেখানে সেখানে ঘটায় বিপদ।
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত করে উৎপাত
হে খোদা! তুমি এদের কর নিপাত।
কি ভাবে নারী রাস্তায় যাবে?
কিভাবে নারী শিক্ষিত হবে?
নির্যাতিত নারী দেহের রক্তাক্ত লাশ
নয় টুকরো হয়ে পড়ে থাকে রাস্তার পাশ।
যারা নারীকে ভোগের পন্য ভাবে
এইতো মোদের বাংলার রূপ
করব কি আর পেশ
এই আমাদের হরেক রকম
আইনে ঘেরা সোনার বাংলাদেশ।

স্মৃতি

Title of this post: Memory by Surma Akter


আম কাঠালের বিনাশ হল
ভাবছে খোকা খুকু
উদাস চোখে তাকিয়ে থেকে
দেখছে মরুর ধুধু।

চোখের তারায় ভাসছে শুধু
দাদা বাড়ির স্মৃতি
মেঘনা যে সব কেড়ে নিল
কয়েক বছর আগে ।
নানা বাড়ির বাগানটা যে
দালান কোঠা ভরা
খালার বাড়ির বাগানটা যে
অযত্নে মরা ।

বন্ধুরা সব বসে আছে
হতাস হয়ে ঘরে ।
তাইতো আজ সবাই মিলে
গাইছি শুধু
স্মৃতির ভরা গান ।

কোথায় গেলে পাবো আবার
আম কাঠালের ঘ্রান ।

একটি অসম্পূর্ন জীবনের গল্প

Title of this post: Tale of an incomplete life by Salma Akter.

রবিউল হোসেন নামের একটি ছেলে, সবাই তাকে রবু বলে জানত। বয়স ২৮ হবে। জন্মগত ভাবে তারা ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা। বাড়ি মুগদা পাড়া। তারা দুই ভাই, তিন বোন। সংসারের বড় ছেলে সে। সংসারে দারিদ্রতা সবসময় বিরাজ করত। তাই লেখাপড়া শেখা হয় নাই। কোন কাজও শিখে নাই। অবশ্য এজন্য তার পরিবারই দায়ী। লেখাপড়া করেনা, কাজকর্ম করেনা এমন ছেলেতো আর ভাল হতে পারেনা। কথায় বলে না, অলস মতিষ্ক শয়তানের কারখানা। তার বেলাতেও এমনটি হয়েছে। অসৎ ছেলেদের সাথে মিশে সেও একদিন অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। প্রথমে গাঁজা খেয়ে শুরু হয় তার পথচলা। তার পর ধীরে ধীরে মরণ নেশায় জড়িয়ে যায়। শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনজেকশন নেওয়া। সে টি.টি.জেসিক,ফ্যানার গ্যান, এভিল, ইজিয়াম ইত্যাদি ইনজাকশন নিত। হাতে পায়ে ক্রমাগত ইনজাকশন নিতে নিতে হাত পা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। জীবনীশক্তি ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে গেছে। নেশা করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হতো তা যোগার করার জন্য সে প্রথমে রিক্সা চালাত। পরবর্তী সময়ে যখন তার দেহের শক্তি শেষ হয়ে গেছে তখন সে চুরি করতে শুরু করে।

প্রথম প্রথম সে নিজের ঘরে চুরি করত, পরবর্তী সময়ে সে মানুষের বাড়িতে চুরি করতে শুরু করে। চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে প্রচুর মার খেতে হতো তাকে, আবার অনেক সময় পুলিশের কাছেও অনেক বার ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু জেলখানাতেও বেশিদিন আটকে রাখত না তাকে। কারন তার জামিনের জন্য কেউ কখনও টাকা নিয়ে যেত না। এমন কি কেউ দেখতেও যেত না। পুলিশেরাও তাকে বেশি দিন আটকে রাখত না, কিছুদিন পর এমনিতেই ছেড়ে দিত। একদিন সে তার বড় চাচার বাড়িতে যায়, তখন সন্ধ্যা। তার চাচাত বোন ওজু করার জন্য হাত থেকে ঘড়ি খুলে রাখে। সে সময় ঘড়ে রবু ছাড়া আর কেউ ছিলনা, নামায শেষে ঘড়ি পরতে যেয়ে, সে আর খুঁজে পায়না। তার বোনটি ছিল একটু অন্য রকম, সে জানত যে, সবাই তাকে খুব ভালবাসে, এমনকি তার চাচাত ভাইরাও। তাই সে কখনও ভাবতে পারেনি যে, তার ঘড়িটি রবুভাই চুরি করবে। সেদিন ঘড়ি চুরির সাথে সাথে সে তার বিশ্বাসটাও চুরি করেছিল।

ঘড়ি চুরির জন্য তাকে অনেক মার খেতে হয়েছিল, তারপরও সে ঘড়িটি ফেরত দেয়নি। এমন অনেক ঘটনাই তার জীবনের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কখনও কারও বাড়ি থেকে কাপড়-চোপড় নিয়ে যেত, কখনও গ্যাসের চুলা খুলে নিয়ে যেত, কখনও টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল খুলে নিয়ে যেত, আবার কখনও করত জুতা চুরি। আর ধরা পড়লে বেদম মার খেত। এভাবেই চলছিল তার জীবন।

২০০৭ সালের প্রথম দিকে তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়েতে তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে তার আর কোন সন্ধান নেই। কেউ বলতে পারেনা যে, সে বেঁচে আছে না মরে গেছে। তার পরিবারের কেউ তার খোঁজ নেয়ার চেষ্টাও করে নাই। সবাই ভেবেছে সে মারা গেছে, তা না হলে এত দিনে সে ফিরে আসত। কে জানে হয়তবা কারও বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে মার খেয়ে মরে গিয়েছে। তা না হলে হয়তো জেলখানাতে পঁচে মরছে। কেউ তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনা। কারণ তার মতো রবুরা সমাজে উপেক্ষিত। আমাদের সমাজে তাদের কোন স্থান নেই। কারন তারা দেশ ও জাতির কোন উপকারে আসেনা। তারা নিজে ধ্বংস হয় এবং সমাজকে ধ্বংস করে। কিন্তু রবুরা কেন এ সমাজে উপেক্ষিত হবে, কেন তারা সমাজের বোঝা হবে? তার পরিবার কি পারতনা তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে? তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সুন্দর সাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে?

আমার মনে হয় তার প্রতি একটু বেশি অবহেলা হয়ে গেছে। যারা মাদকাসক্তির শিকার তাদেরকে অবহেলা বা ঘৃনা না করে বরং ভালবাসা দিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। রবুর মতো অকাল মৃত্যু কারও কাম্য নয়। আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে মাদকাশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Tuesday, August 5, 2008

শ্রাবণের বৃষ্টি

Title of this post: The Rain of Shrabon by Asia Afrin Anni


শ্রাবণ আসেনা একাকী
আকাশ করে মেঘলা,
আসে নিয়ে বৃষ্টি-বর্ষণ
করে মন কারো উতলা।
টিনের উপর বাঁজতে থাকে
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ,
বাতাসে ছাতা উড়তে চাইলে
করা যায় না তাকে জব্দ।

শ্রাবণের হাওয়ায় ঘুরপাক খায়
রাস্তার সকল ধুলো,
বৃষ্টি আসলে হয়ে উঠে সতেজ
বর্ষার কোমল ফুলগুলো।

পূর্ণ করে খালি নর্দমা
উঠায় হাঁটুপানি,
খেলে যখন মেঘ লুকোচুরি
সবাই করে কাণাকাণি।

এলোমেলো করে দেয় সব
শ্রাবণের ঝড়ো বৃষ্টি,
তখন মাথায় প্রশ্ন জাগে
একি অনাসৃষ্টি!

Saturday, August 2, 2008

অতিরিক্ততা ভাল নয়

Title of this post: Excess is not fair by Jainub Khanam

অতিরিক্ত খাবার খেলে
পেটের পীড়া হয়,
অতিরিক্ত পানাহারে
বমি ভাব হয়।
অতিরিক্ত ঘুম যেমন
শরীর অলস করে,
বেশী কথা বলে যে
বাচাল বলে তারে।
কম কথা বললে সবাই
নিরাপদে থাকে,
অধিক কথার জন্যে সবাই
পড়ে বিপদের ঘূর্ণিপাকে।
অতি লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু
সবার জানা আছে,
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
এ কথা নয় মিছে।
অতি রাগী বীর পুরুষ নয়
সংযমেই সুপুরুষ হয়।
অতি হাসি-অতি কান্না
গবেষণায় প্রমাণ,
মরতে হবে ধূকে ধূকে
করলে অতি ধূমপান।
অতিরিক্ত পড়লে মানুষ
পাগল হবার থাকে ভয়
অতিরিক্ত টি.ভি দেখলে
জ্ঞান-দৃষ্টি-মস্তিষ্কের ক্ষয়।
এক নারীতে আছে সুখ
২য় নারীতে ক্ষয় যৌবন,
৩য় নারীতে হয় এইডস
পরিণতিতে বরণ কর
অল্প বয়সে মরন।
অতিরিক্ত কাজের সাথে
বিশ্রাম আছে গাঁথা,
অনেক জ্ঞান দিয়ে আজ
শেষ করছি কথা,
পরিশেষে বলে যাই
অতিরিক্ত ভাল নয়,
অল্পতে সন্তুষ্ট যে
তার জীবনই সুখের হয়।

ভাসমান নারী

Title of this post: Floating Women by Jainub Khanam


ব
র্ষাকাল সুসময় তাদের
যারা মাতাল নারীলোভী
বৃষ্টি ভেজা রাতের আঁধারে
রাস্তার নারী হারায় সবি।
রাতের বেলায় কেউ শুনেনা
তাদের করুণ চিৎকার
পরবর্তীতে এই নারীরাই
হয় এইডস এর স্বীকার।
যদি কেউ ভাসমান নারীর কথা
ভাবেনা কভু আর
অনেক পরে চরম মূল্য
দিতেই হবে সবার।
নারী যারা ভাসমান
হচ্ছে না তাদের পূনর্বাসন।
আশ্রয়হীনার কথা কেন ভাবেনা
যারা বিবেকবান,
এরা নোংরা রোগ ছড়ালে
দেশ হারাবে সম্মান।

Friday, July 18, 2008

জন্মেছিলাম

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা


আমি যখন জন্মেছিলাম ভবে
কেহ আমায় দেখিতে পারিত নহে
আমি যখন বড় হয়েছিলাম ভবে
কেহ আমায় দেখিতে পারিত নহে।

এতো কষ্ট করিয়া আমি বেঁচে আছি
বুকে শক্ত পাথরে মতো, অনেক কষ্ট
এত কষ্ট জীবনে?

জীবনে আসেনা কেন একটি সুখের দিন
অপেক্ষায় রয়েছি আমি
আসবে কবে সে দিন ।

Wednesday, July 16, 2008

হারিয়ে যাওয়া

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা

আমি যখন হারিয়ে যাব
তখন তোমরা আমার কথা

স্বরণ করিও

তোমাদের মাঝে হয়
তোবা
আর কখনো দেখা হবে না

আমি যখন হারিয়ে যাব

তখন তোমরা আকাশের

যে কোন তারার একটি তারা

আমাকে মনে করে
,
স্বরণ করি ও
।

আমি আছি, আমি থাকবো
তোমাদের মাঝে
হয়তো বা এই জগতে নয়
তোমাদের মাঝে পরজগতে
দেখা হবে ।

বিজয়ের দিনের অপেক্ষায়

লিখেছেন: লাইলি জাহান মেঘলা


কবিতা যখন পড়ি আমি, তখন মনে হয় কল্পনা
তখন আবেগ চারদিকে, ছড়িয়ে পড়ে কল্পনায়
কবিতা যখন পড়ি আমি
তুমি করো উপহাস
গান গায় বলে, অবহেলা করো তুমি
যেন হয়ে যাবে রুনা লায়লা
অভিনয় করতে গেলে, মুখ বাঁকা করে বলো
যেন হয়ে যাবে শাবনুর
যাই হতে চায় আমি, দাও কেন বাঁধা
উপহাস করো না তুমি,আর্শীবাদ দাও তুমি
আমার একটা মিনতি
আমার একটা অনুরোধ
আমার বিজয়ের দিনে
দেবে তুমি হাত তালি।

বর্ষা এলে

লিখেছেন: জয়নাব খানম

বৃষ্টি যখন টিনের চালায়
ঝুপঝুপিয়ে পড়ে,
ছোট-খাট উঠাণ খানা
পানিতে যায় ভরে
।
বাচ্চা গুলো খাটের উপর
সারাটি দিন লাফায়
বৃষ্টি তখন তাল মিলায়,
করুণ সুরের মূর্ছণায়
অবিরাম ঝরে ধূলির ধরায়
।
বর্ষা এলে ফর্সা হয়
গাছের পাতারা,
কষ্ট আশ্রয়হীন
-
ফুটপাতিয়ারা।
কাজ পায়না সারাটি দিন
মেহনতি মানুষ,
অলস হয়ে ঘরে বসে

কাটে তাদের উপোস
।

মশার বিজয়

লিখেছেন: জয়নাব খানম

মশা সব করে রব
সারা রাত ধরে,
মশারি ছাড়া হয়না শোয়া
দিন-দুপুরে
।
ড্রেনের পাশে যাদের বাস
তাদেরই হয় সর্বনাশ।
ঘরে ঢুকলে মনে হয়
এতো আমার ঘর নয়,
মশা করছে রাজত্ব
মশারই ঘর বোধহয়
।
পড়ার টেবিল,খাট,
সোফা,
বাথরুম কি পাকের ঘর
ভুলেনাতো প্রতিদিন সে
নিতে সবার খোঁজ-খবর
।
ডেঙ্গু,
ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড
দেয় সে উপহার
কয়েল-
স্প্রে-সিটি মেয়র,
মশা নিধনে সবাই
মেনে নিল হার
।
তাই মোরাও মেনে নিলাম
মশাদের সব উৎপাত,
সন্ধি হল মশার সাথে
মোরা বাস করব

আজীবন একসাথ
।

Monday, June 30, 2008

বাঙালী

লিখেছেন: সুফিয়া খাতুন

মাথা উঁচু করে বলছি মোরা আজ বাঙালী
স্বাধীনভাবে রাজপথে দেখ চলছি

হৃ
দয় খুলে কোন বাঁধা নেই মুখে
গানে গানে আহা এই দেশকে

বলছি ভালোবাসি
।
এ দেশের বাঙালীদের

দেহটা যদিও ভিন্ন

মনটা তাদের একই মরন

ছাড়া হবেনা ছিন্ন
,
একই খাবার ভাত আর মাছ

একই পোশাক একই বসবাস

সুখ তাদের রাশি রাশি
।
আমরা বাংলাদেশী আমরা বাঙালী
,
এ দেশের চারিপাশে

সবুজে শ্যামলে ঘেরা

ভ্রমনবাসিরা এ দেশে এসে

হয়ে যায় আ
ত্মহারা
বাঙালীদের রক্ত দিয়ে

সোনার বাংলা আজ তৈরি করে

ফু
টিঁয়েছি মুখে হাসি ।
আমরা বাংলাদেশী আমরা বাঙালী
.......

Monday, June 23, 2008

শৈশবের ভালোবাসা

লিখেছেন: লাইলী জাহান মেঘলা

আজ শৈশবের ভালোবাসার কথা মনে পড়ছে
দি
ন আসে দিন যায়
কত
স্মৃতি এসে জীবনের পাতায় জমা হয়
কোন ভাবে ভুলা যায় না
।
শৈশবের ভালোবাসার সেই দিনগুলো ছিল
দুষ্টুমির এক ধারে রঙ্গীন স্বপ্ন
দুর
ন্তপনার এবং মায়া মমতার
ভালোবাসার সেই দিনগুলো মনে প
ড়লে
এখনই যা ভাবলে মন পুলকে ভরে উঠে।
ভালোবাসার কত রঙ্গীন ঘটনা
, কত উচ্ছাস
কত উ
ল্লাস মনের পর্দায় ভেসে উঠে
সব বাঁধা
বিপত্তি অতিক্রম করে,
সেই ভালোবাসার মানুষের কাছে যেতাম ছুটে
ভালোবাসার কারনে মায়ের বকুনি
, বাবার শাসন
বোনের শাসনকে মুখ বুঝে
সয়ে
ছুঁটে যেতাম অবুঝ ভালোবাসার বন্ধুর আছে
।
যখন শৈশবের সোনার খাঁচায় দিনগুলি ছিল
সময় চলে যেত,
সকাল বিকেল আর রাত্রি স্বপ্নেরমত দ্রুত
কি
ন্তু আজ আমি একটা বিশেষ বয়সে অবস্থান করছি।
সেই দিনগুলোর কথা চিন্তা করলে
এখনো সুখ হয়ে ধরা দেয় মনের পর্দায়।
সুরভি আর আনন্দে ভরা ছিল সেই দিনগুলো

আজ সেই ভালোবাসার অবসান হয়ে আছে
“স্মৃতিময় মনিকোঠায়”

নিঃসঙ্গ একাকী মা

লিখেছেন: শাহিদা ইয়াসমিন মনি

বড় একা নিঃসঙ্গ একাকী মনে হচ্ছে নিজেকে।
কেন যে এমন হয় বুঝে উঠতে পারিনা
জীবনটা বড় বিচিত্রময়
।
রঙ্গীন আবার রঙ্গবিহীন
।
কেন এমন লাগে
?
পৃথিবীর মানুষগুলো এত সুন্দর,
এত পবিত্র তারপরও কোথায়
যেন লুকিয়ে আছে অপবিত্রতা
, নোংরামি
নিজ স
ন্তানকে নিজের মা ধরে
রাখতে পারে না
।
স
ন্তান পারেনা মার বুকে মাথা রেখে
দু
-ফোঁটা জোখের জল ফেলতে।
এ কেমন লীলা বিধাতার
কে জানে
?

এই ধৃষ্টতা এই দুদর্শা কবে কেমন করে
বন্ধ হবে বলতে পারো
?
কেন মা হয়েছি বলেই কি আমাদের এই ব্যর্থতা?
নেই সন্তানকে জোর করে ধরে
রাখবার
ক্ষমতা।
আইন! দেশে নাকি আইন ও
মার বিপক্ষে কথা বলে।
একটা বয়স হবার পর নাকি
মার কাছে থাকবার কোন
অধিকার নাই স
ন্তানের।
কি দূর্বিষহ! কি হাস্যকর
এই পৃথিবীর কান্ডকলাপ
।
যে মা আ
ইনের কথা জানে না
যে মা বিদ্রোহী হতে পারে না
সে মাও তো তার স
ন্তানকে হারায়।
তাহলে হারিয়ে যাক সব মায়ের স
ন্তানেরা।
হাহাকারে ভরে উঠুক সব মায়ের বুক।
কি লাভ লড়াই করে
কি লাভ তোমার ভাসিয়ে বুক
কান্নায় জর্জরিত করে
।

যে চলে যাবার সে এমনি চলে যাবে,
যে ফিরে আসার সে হয়তো আসবে ফিরে আবার।
কি
ন্তু মায়ের আর্তনাদ বুক ফাঁটা কান্না শুধু একলা মা জাতির জন্য।
এই নিঃসঙ্গ একাকী কান্না
শুধু মায়ের জন্য নীরবে নিথরে

এ আর কারো জন্য নয়।

মমতাময়ী নারী

লিখেছেন: জান্নাতুল ফেরদৌস নার্গিস

নারী, তুমি মমতাময়ী
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ দান।
ভুবনে আসিয়া তুমি সবার জীবন করিয়াছ যে মহান ।
নারী তোমার মমতা ছাড়া, এ পৃথিবী শূন্য
অঝোরধারায় স্নেহ দিয়ে, মোদের করেছ ধন্য।

তুমি হীনা যে জীবন হত
ধূ-ধূ বালু চর
।
কে রাখিত সাজায়ে ধরা
কে বাঁ
ধিত ঘর।

নারীর ছোয়ায় সুখের প্রদিপ
দিপ্ত আলোয় জ্বলে
।
আবার এই ধরাতে
ধ্বংস নামে
নারীর চোখের জলে
।

নারী সবার জন্মদাত্রী
দূ
র্গার শত রূপ
নারী আয়নার প্রতিচ্ছবি
সুখ স্বর্গ স্বরূপ
।

নারীর সাথে নারীর স্পন্দন
বাঁ
ধা সবার প্রাণ
এই নারীদের বল ক
-জন
করে সম্মান
।

তাই এস আজ নারী দিবস
৮ই মার্চ পালন করি
।
নারীদের প্রতি সম্মান রেখে
সুন্দর সমাজ গড়ি
।