Thursday, November 8, 2007

ব্লগার প্রোফাইল- (শিক্ষার্থী)

Title of this post: Bloggers profile (students)

মাহফুজা পারুল











"আমার নাম মাহফুজা পারুল এবং
আমার ডাক নাম তানিয়া। আমি ২৪ জুলাই ঢাকায় জন্ম গ্রহন করিআমির ছোট বেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়েছিএক ভাই এবং এক বোনকে নিয়ে আমাদের সংসারআমার বাবা একজন চাকুরীজীবি এবং মা গৃহিনীবর্তমানে আমি বি.এস.এস এ অধ্যায়নরত। আমি এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেছি ইস্পাহানী বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে ভবিষ্যতে আমি একজন শিক্ষিকা হতে চাই কারন আমি মনে করি এটা কুব সম্মানজনক একটা পেশা।

আমার পছন্দের স্থান কক্সবাজার ,বান্দরবন এবং সেন্টমার্টিনআমার প্রিয় ইংরেজী সিনেমা ম্যাট্রিকস । আমার শখ বাগান করা বিশেষ করে ফুলের বাগানকারন ফুল আমার খুব প্রিয়অবসর সময়ে আমি গল্পের বই পড়ি, গান শুনি এবং মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সাথে গল্প করিপূর্ণিমা রাত আমার খুব পছন্দপূর্ণিমা রাতে পৃথিবীটাকে খুব স্বগীয় মনেহয়

আমি নারী জীবনের একজন ছাত্রীএখানে আমি স্পোকেন ইংলিশ এবং কম্পিউটার কোর্স করছিনারী জীবনই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য সাইবার ক্যাফে রয়েছেনারী জীবনের ব্লগ সাইটেরে সাথে পরিচিত হতে পেরে আমি খুবই খুশি হয়েছিকারন ব্লগ সাইটের মাধ্যমে আমি আমার দেশের সবকিছু অন্য দেশের সাথে শেয়ার করতে পারছি। একজন নতুন লেখিকা হিসেবে আমি আমার লেখার মান ভাল করার চেস্টা করছি এবং করব। "


রোজি আলম রিংকি










"আমার নাম রোজি আলম রিংকি। আমি ৩১ মার্চ ফরিদপুরে জন্মগ্রহন করি। পাঁচ বোন ও এক ভাইকে নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি একরামুন্নেসা ডিগ্রি কলেজ থেকে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পাশ করেছি। আমার ছোট ভাই এবার দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ছে। ছোট দুই বোন পড়ছে অষ্টম শ্রেনীতে এবং সবচেয়ে ছোট দুই বোন পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেনীতে। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী আমার মা একজন গৃহিনী। আমি ছবি দেখতে পছন্দ করি এবং আমার পছন্দের ছবি কিত্ত্বন খোলা। আমার শখ সুন্দর সুন্দর জায়গা পরিদর্শন করা। ভবিষ্যতে লেখাপড়া শেষ করে আমি কোন একটা ব্যংকে একাউন্ট অফিসার হিসাবে কাজ করতে চাই।

নারী জীবন নারীদের জন্য একটি আর্দশ প্রতিষ্ঠান। আমি আমার নিকটতম বান্ধবীর কাছ থেকে জানতে পেরে প্রথমে ইংলিশ-১ এ ভর্তি হই এবং পরবর্তীতে উর্ত্তীন হয়ে আমি ইংলিশ-২ ক্লাসে পড়ছি এবং পাশাপাশি কম্পিউটার কোর্স করছি। এখানে এসে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমি মনে করি নারী জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ হর নারী সাইবার ক্যাফে । আমি এবং অনান্য মেয়েরা নারী জীবনের নারী সাইবার ক্যাফে স্বাধীনভাবে কম্পিউটার অনুশীলন করতে পারছি।

আমার কাছে নারী জীবন ব্লগ সাইট আরেকটি গুরুত্বপূর্ন দিক। কারন ব্লগের মাধ্যমে আমি এবং নারী জীবনের চাত্রীরা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ সর্ম্পকে লেখা পাঠাতে পারছি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ আমাদের দেশ সম্পর্কে জানতে পারছে। সুতরাং আমি এটাকে খুবই উপভোগ করছি ।"

Monday, November 5, 2007

মূত্যুর পথে

Title of this post: On the way to death by Laily Jahan Meghla

আমি বড় একা, আমি বড় অসহায়
আমার পাশে কেউ
এসে দাড়াঁও
জীবনের আর কয়েকটা
দিন মাত্র আছে।
আমাকে একা থাকতে তোমরা দিও না।
আমার সময় ফুরিয়ে আসছে।
আমি চলে যাব
, সেখানে কেউ থাকবে না।
কেউ আসবেনা, কেউ অভিমান করবে না।
করবেনা কেউ বিরক্ত
, আমি চলে যাব সেখানে
জীবনের শেষ সময়
, তোমরা আমাকে দুঃখ দিও না
তোমরা আমার পাশে এসে দাঁড়াও।

স্মৃতি কথা

Title of this post: From Memory by Zannat Ara Amzad Liva

আজি মনে পরে শুধু তাহারে
মনে পরে সেই দিনগুলি
,
মনে পরে তাহার সাথে
হাতে হাত রেখে
,
চোখে চোখ রেখে
অস্ফুট সেই দিনগুলি
মনেপরে তাঁর হৃদয় নিংরানো
প্রগাঢ় ভালোবাসার কথা
মনে পরে খেয়া বনে দুজনের

হাত ধরে পথ চলা

Saturday, November 3, 2007

একজন রাস্তার ভিক্ষুক

Title of this post: A street beggar by Zannat Ara Amzad

"পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান,
পা-ই দিয়া যান....................।"

এটা কোন কবিতা নয়। এই পা-ই শব্দের অর্থ হলো কয়েন বা পয়সা। এটা একজন ভিক্ষুকের ডায়ালগ। সে একজন ধবল কুষ্ঠ ও অন্ধ লোক। তার চুল সাদা। সে ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধ। আমি এই লোক সম্বন্ধে ১৫ বছর পূর্বে থেকে জানি। কিন্তু তার কোন পরিবর্তন নেই। সে সবসময় একটি সাদা টি-শার্ঠ ও সাদা- নীল গ্রামীন চেক লুঙ্গী পরিধান করে। সে হাতে ধরে রাখে এ্যালুমিনিয়ামের একটি বোল এবং ভর করে দাড়াঁবার জন্য একটি লাঠি। আর সব সময় সে তার ডায়ালগ বলতে থাকে- পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান.......।

একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেসা করলাম এই পা-ই দিয়া যান এর মানে কি? সে কোন উত্তর দিল না বরং সে পুনরায় বলল- পা-ই দিয়া যান। সব সময় তাকে ভিক্ষা করতে দেখা যেত গোঁড়ান মোড়, বাসাবো মোড়, শান্তিবাগ মোড়। কিন্তু তার পা-ই দিয়া যান শব্দের পা-ই ব্যবসা জমজমাট হত সদরঘাটের ফেরি ঘাটে। এই কারন সে বলে, সেখানে ও আমার মত পা-ই লেনা-দেনা হয়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি আপনার পরিবারে কয়জন সদস্য আছে? সে বলে আমার কোন পরিবার নেই। আমি একা। আমি তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করি আপনি যেহেতু একা সেহেতু ভিক্ষের টাকা আপনি কিভাবে খরচ করেন? সে তার প্রতিউত্তরে বলে আমি সকালে দুমুঠো পান্তা খেয়ে ভিক্ষে করতে বেড় হই, দুপুরে বনরুটি কিনে খাই আর রাতে গরম ভাত। বেশ কিছু পয়সা জমা হলে তিনি মাঝে মাঝে ঘুরে আসেন নির্জন, কোলাহলমুক্ত নীল আকাশ ও সবুজের সমারোহে। কেন এই নির্জনতা সবুজের মাঝে হারিয়ে যান? সে বলল- আমিতো চোখে দেখতে পাই না। তাই আমি নির্জন খোলা আকাশ, মুক্ত বাতাস ও সবুজের গন্ধ উপভোগ করতে আসি। আমার মনে হয় এই ছোট্ট নির্জনভুবনটা বিধাতা আমার জন্যই গড়েছেন। কেননা যারা চোখে দেখতে পায় তারা এই নির্জনতা, মুক্তবাতাস, সবুজের গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে না। তারা চায় হ-য-ব-র-ল পৃথিবীটাকে আরও হ-য-ব-র-ল করে ঝাক্কাস আর জোস করে তুলতে।

প্রায় দুবছর যাবৎ আমি সেই ভিক্ষুককে দেখি না আমি জানি না সে আজও বেঁচে আছেন কিনা। হয়তো আবারও কোন একদিন গলির ধারে কোন এক মোড়ে ধ্বনিত হবে।

"পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান,
পা-ই দিয়া যান....................।

Wednesday, October 31, 2007

ব্লগার প্রোফাইল- সালমা আক্তার

Title of this post: Blogger profile - Salma Akter (Tailoring Section)

সালমা আক্তার




"আমি সালমা আকতার কাজল। মধ্যবৃত্ত পরিবারে আমার জন্ম। আমরা বোন ২ ভাই। আমার বাবা একজন গরীব কৃষক এবং আমার মা একজন গৃহিনী। আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার আগরপুর ইউনিয়ন এর দক্ষিন ব্রম্মনদিয়া গ্রামে। আমার বাবা-মা দুজন অনেক কষ্ট করে আমাদের ছয় ভাই বোনকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। আমি এস.এস.সি পাশ করি আমাদের গ্রামের স্কুল থেকে। পরে ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হলাম এবং পাশাপাশি ৪ জন বাচ্চাকে পড়াতাম।

ছোটবেলায় আমার স্বপ্ন ছিলো একজন সেবিকা হব। তাই এইচ.এস.সি পরীক্ষার পরপরই একটি জেনারেল হাসপাতালে জুনিয়ার ট্রেনিং নার্স হিসাবে কাজ নিই। কিন্তু দুর্ভাগ্য হল সেখানে ৪ মাস কাজ করার পর মালিক হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে আমেরিকা চলে যায়। এর পরে আমি একটি গামের্ন্ট ফ্যাক্টরিতে কোয়ালিটি ইন্সপেকটর হিসাবে কাজ নেই। কিন্তু সেখানে কাজ করার কোন স্বধীনতা ছিল না এবং আমার সহকর্মীরা কারনে অকারনে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করত। তাই অবশেষে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে একটি ক্রেডিট প্রগ্রামে ঋন প্রকল্পে কাজ নিলাম। সেখানেও বেশিদিন কাজ করতে পারিনি কারন মালিক অফিস বন্ধ করে দেয়। পরে আবার বাচ্চা পড়াতে শুরু করি। তারপর ২০০৪ সালে আমি বিয়ে করি। আমার স্বামী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকে। বিয়ের পরে আমি আবার নাসিং ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয়েছি।

একদিন আমার প্রতিবেশীর কাছ থেকে নারী জীবনের কথা জানতে পারি। নারী জীবনে এসে এর কার্যক্রম দেখে আমার খুব ভাল লাগে। আমি নারী জীবনের ইংরেজী এবং টেইলরিং সেকশনে ভর্তি হই। নারী জীবনের ব্লগিং কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করছি ব্লগিং এর মাধ্যমে আমি আমার চিন্তা চেতনাগুলো অন্যদেরকে জানাতে পারব।"

Saturday, October 20, 2007

সেই মেয়ে

Title of this post: That Girl (A short story) written by Zannat Ara Amzad (English & computer student)
Content of this post: In this short story, author has written a story about a family from her imagination.

প্রথম অংশের পর

মা বললেন, ‘কিন্তু যত যাই থাকুক ছেলে হতে হবে সুন্দর বেশভুষা স্মার্ট, যেন রাজপুত্র। আমাদের বিথীওতো আল্লাহর রহমতে দেখতে শুনতে সুন্দর স্মাট। যে কেউ আমাদের মেয়েকে দেখলে পছন্দ করবে।’
বাবা বললেন, ‘হ্যাঁ বিথির মা, আমাদের দুটো মেয়েই মাশা-আল্লাহ্ রুপে গুনে সবদিক থেকেই সুন্দর। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছ বিথির মা, দেখতে দেখতে আমাদের সন্তানেরা কত বড় হয়েগেছে। আজ বাদে কাল বিয়ে দিতে হবে বিথিকে তারপর তিথিকে। এমনি করে দুটো মেয়েই চলে যাবে পরের বাড়িতে। ভাবতে ভিষন খারাপ লাগে। বাকি থাকবে শুধু আমাদের একমাত্র পুত্র অভি। ওতো সবে মাত্র পরছে ক্লাস থ্রিতে, দেখতে চোখের পাতা পলকেই আমাদের আজকের এই ছোট্ট কেদিন পর বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার করবে। তখন শুধু তুমি আর আমি দুই বুড়ো-বুড়ি কি নিয়ে থাকবো?

মা বললেন, আপনার তসব বাজে চিন্তা, আমি যাই বিথিকে খবরটা দিয়ে আসি।
আমি বললাম, ‘
বাবা, এই নাও তোমার চা।
বাবা বললেন,
আয় মা আয়, আমার পাশে একটু বস।
ভয়ে আমার গা সিউরে উঠল। ধীরে ধীরে বাবার পাশের চেয়ারটাতে বসলাম। বাবা
একের পর এক কথা বলতে শুরু করলো
আমি বাবাকে বললাম
, বাবা এখন আমি উঠবো।
বাবা বলল,
উঠবি ঠিক আছে।
পেছন থেকে বাবা আবার ডেকে উঠল। আবারও ভয়ে আমার গা সিউরে উঠল।
বাবা বলল,
তিথি তোর আপাকে আজ দেখতে আসবে। আর বিথির পছন্দ হলেই এই ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিব। এর পর তোর পালা।

আমি লজ্জা পেয়ে বাবাকে কিছু না বলেই চলে এলাম। আমাদের বাড়িতে কিছু মেহমান এসেছে আপাকে দেখতে
অভি আপার রুমে গিয়ে আপার কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
আপা তোমার ব এসেছে।

আপা কষে একটা চর দিল অভিকে। অভি সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে শুরু করল। আমি আপাকে নিয়ে বসার ঘরে গেলাম। আপা আর আমি দুজনে সবাইকে একসঙ্গে সালাম দিলাম
হঠাৎ একটা মোটা মহিলা তার মোটা কন্ঠে বলল,
তা মেয়ে কোনটা?
বাবা আপাকে দেখিয়ে বলল
, এটা আমার বড় মেয়ে বিথি। আর এটা ছোট মেয়ে তিথি।
কি
ন্তু বাবার জায়গায় আমি হলে বলতাম আমার আপাও একটা মেয়ে আমিও একটা মেয়ে। আমার একটাই ভাই। ওর নাম অভি। আমার মেজাজ হঠাৎ চটে গেল। কি করব বুঝতে পারছি না। কারণ ওঘ থেকে অভির বিচ্ছির কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মোটা মহিলাটা বিথিকে বলল,
এসো মা তুমি আমার পাশে বসো।

আমি ভাবছি উনি যেই সোফাটায় বসেছেন তার এক তৃতীয়াংশ অংশতো তিনিই দখল করে আছেন। বিথি আপা ওখানে কেমন করে বসবে। বিথি আর চোখে আমার দিকে খানিক তাকিয়ে রইল। আমি কিছু বলার আগেই ও বসে পল। হঠাৎ আমার দৃষ্টি গেল একটা মধ্য বয়সী লোকের দিকে। লোকটার চাহনি একটু রহস্যময়। একটু অন্যরকম ভাবে আপার দিকে তাকাচ্ছে। আর মিট মিট করে হাসছে। মা, মেহমানদের জন্য নাস্তা এনেছে। মার পেছন পেছন অভিও এল। কিছুক্ষন আগে যে মিট মিট করে হাসছিল সে আমাকে ডেকে ভলল,এখানে বসো। আমার সঙ্গে বস। তার ভাব দেখে আমি বুঝলাম ইনিই আপার হবু ব

সে তার পরিচয় দিয়ে বলল, আমি আরিফ, আমেরিকায় থাকি।
একা একা নিজেই সব বলে
যাচ্ছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি করেন ?
সে বয়সে কম করে হলেও আমার চাইতে পাচঁ,
ছয় বছরের বড় হবে। তবুও আমাকে আপনি করে বলছে। আমার ভাল লাগছে না। কেউ আমাকে আপনি করে বললে আমার প্রচন্ড রাগ হয়।
তার প্রশ্নের উত্তরেআমি বললাম, খাই-দাই,
ঘুরি-ফিরি, ঘুমাই
তিনি মাথাটা একটু নিচে নামিয়ে বলল,
না মানে আমি বলছিলাম আপনি কিসে পড়েন?
আমি বললাম,
আমি এবার অনার্স সেকেন্ড-ইয়ারে ছি।

বড়রা সবাই কথা বলছে আমি আর অভি চুপচাপ আরিফ সাহেবের পাশে বসে আছি। ওর হাতে একটা কাগজ দেখা যাচ্ছে। অভি কাগজটা আরিফ সাহেবের হাতে দিল। আমি সেই দৃশ্য দেখে অভি আর আরিফ সাহেবের কথার মাঝে কান পেতে রেখেছি।
আরিফ,
অভিকে জিজ্ঞেস করছে, এটা কে দিয়েছে।
অভি ফিসফিস করে বলল
, বড় আপা আপনাকে এটা দিতে বলেছে।আরিফ একটু লাজুক হাসল
অভি ওনাকে বলল,
এটা এখনই পড়ার জন্য আর আপা বলেছে আপনাকেও কিছু লিখে দেবার জন্য।
সবার চোখের আরালে তিনি কি যেন লিখছে, এবং কাগজটা অভিকে দিয়ে বলল,
এটা তোমার আপাকে দিও।
আমি অভিকে পাশের ঘরে ইশারা দিয়ে নিয়ে এলাম
এবং জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ কাগজে কি লেখা ছিল?

অভি হাসতে হাসতে বলল, বিথি আপা আমাকে মেরেছে, তাই শোধ নিলাম। ঐ কাগজে আমি মিথ্যে কথা বানিয়ে বানিয়ে লিখে আপার নাম বলে ওনাকে দিয়েছি। আমি লিখেছি- আমার সোনার বাংলা এর পরের লাইনটা যেন উনি আপাকে লিখে দেয়, আমি তোমাকে ভালবাসি। আর সেই সঙ্গে নার ফোন নাম্বারও চেয়েছি ওনাকে ফোন করে বলব, আপা বলেছে, আপনার সঙ্গে আপা সরাসরি কথা বলবে, তারপর আপার কাছে উনি যেন আমার মত চর খায়।
আমি একটু হেসে বললাম তার আগে আমার হাতে একটা চর খেয়ে
নে। দিলাম কষে একটা চর। এতটুকু ছেলে এখনই পেকে গেছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম
, সোনার বাংলার এই কথাটা কে শিখিয়েছে?
অভি
বলল, কেন! আমাদের স্কুলের শরীর চর্চা বিভাগের শিক্ষক। উনি কাল আমাদের জিজ্ঞেস করল, আমার সোনার বাংলার পরের লাইন কি?
আমি বললাম, ‘
হ্যাঁ আর ওখান থেকে এই পাকামো না?
আমি ওর হাত থেকে আরিফ সাহেবের দেয়া কাগজটা নিয়ে রেখে দেই। আরিফ সাহেবরা চলে গেছেন, আপা ওর
ঘরে ঢুকতেই অভি আপাকে গিয়ে বলল, আপা কত টাকা দিয়েছে?
অভি একথা বলতেই আমি ছো মেরে আপার হাত থেকে টাকাটা নিয়ে বললাম ,
কত টাকা দিয়েছে তা জেনে তোর কি দরকার?
এই বলে টাকা ভাগ করতে লাগলাম। ওরা আপাকে ১০০১ টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে অভিকে দিলাম ১০০ টাকা, আমি নিলাম ৪০০ টাকা আর বাকি ৫০১ টাকা আপাকে ফেরৎ দিলাম।
আমি
অভিকে বললাম, যা তুই তোর ঘরে যা।

অভির কাছ থেকে একটু আগে আরিফ সাহেবের দেয়া সেই কাগজটা আমার কাছে রেখেছি সেই কাগজটা আমি এখন আপাকে দেব। অভি বিথির সঙ্গে যেই কাজটি করতে চেয়েছিল, সেই কাজটি এখন আমিই করব। আপা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে নিজেকে দেখছে। বোধ হয় ভাবছে,ছেলে পক্ষরা ওকে কেমন দেখল

চলবে............

ক্ষুদে মাছ বিক্রেতা

Title of this post: A child fish seller by Shamima Akter
Content of this post: Author expressed hard life of a working girl in her writing.


আমার নাম আসমা, বয়স ১১ আমরা ৫ বোন ৩ ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে আমি ৭ম। আমার ৩ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা চার ভাইবোন বাবামার সাথে থাকি। আমার বাবা মাছ বিক্রি করে। আমার বাবার আয় খুব অল্প, এ দিয়ে আমাদের সংসার অনেক কষ্ট করে চালাতে হয়। আমার বড় ভাই গার্মেন্টেসে কাজ করে কিন্তু সে আমাদের কোন খরচ দেয় না। আমার এক ভাই তরকারি বিক্রি করেমাঝে মাঝে ঐ ভাইকে তরকারি বিক্রি করতে সাহায্যে করি আমিও আমাদের সংসারে কিছু সাহায্য করার জন্য ফুটপাতে মাছ বিক্রি করি। মাঝে মইধ্যে একা আবার কখনো আমার বাবার সাথে মাছ বিক্রি করি। ফুটপাতে বসে মাছ বিক্রি করতে খুব কষ্ট হয় তারপরও সংসারের প্রয়োজন মিটানোর জন্য কাজ করতে হয়।

আসমা ফুটপাতে মাছ বিক্রি করছে - ছবি: শামীমা আক্তার

কাজ করার পাশাপাশি আমি একটা কর্মজীবী শিশুদের স্কুলে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ি। ভোর বেলা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করে ২টা থেকে স্কুলে পড়তে যাই। লেখাপড়া করতে খুব ভাল লাগে। স্কুলের পড়া শেষে ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করতে হয়। তাই মাঝে মধ্যে ইচ্ছে থাকলেও বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে পারি না।

এই আসমার মত নাম না জানা অনেক শিশুই আছে যাদেরকে সংসারের প্রয়োজনে কর্মসংস্থান বেছে নিতে হয়। তাদেরকে শৈশবের হাসি আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে জীবিকার তাগিদে অনেক ঝুকিঁপূর্ন কাজ করতে হয়।

Friday, October 12, 2007

ঈদ মোবারক


ঈদ আরবী শব্দ। এর অর্থ খুশি, আনন্দ-উৎসব। রমজান মাসে একমাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনই হচ্ছে মুসলমানদের এই খুশীর দিন যা সারা মুসলিম উম্মাহ্‌দের কাছে ঈদ-উল-ফিত্‌র নামে পরিচিত রমজান মাসে দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর সকল মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সরূপ সকলের মাঝে আনন্দ বিলিয়ে দিতে আসে ঈদরোজা আরম্ভ হয় সুবহে সাদিক থেকে এবং শেষ হয় সূর্যাস্তের সময়েরমজান আরবী বৎসরের অষ্টম মাসরোজা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে হীন, দরিদ্রের কষ্ট উপলদ্ধি করা এবং একটি গুরত্বপূর্ণ জীবন গঠনের প্রতিজ্ঞা করা

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। অনন্য এক ভাবধারা ও পৃথক জৌলুস নিয়ে আসে মুসলমানদের এক আনন্দময় দিবস। পরিপূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম উম্মাহর ঈদ। তাই অপরিসীম খুশির মাহাত্ম্য রয়েছে এই ঈদুল ফিতরে। ঈদ মহাখুশি ও চরম আনন্দের একটি মহিমান্বিত দিন। নিঃসন্দেহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আল্লহ রাব্বুল আলামিনের এটি শ্রেষ্ঠ অবদান। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জাতীয় উৎসব। এই মর্মে রাসুলুল্লা (সা.) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসব দিবস রয়েছে, আর এটি হল আমাদের উৎসব।

মূলত, ঈদ মানুষের জীবনে নিয়ে আসে পরম আনন্দ আর পেছনে থাকে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। ঈদের সীমাহীন আনন্দ উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে পরম করুনাময়ের উদ্দেশে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ত্যাগের, ভ্রাতৃত্বের, ঐক্যের, সম্প্রীতির এবং সৌহার্দ্য-সহমর্মিতার মহান আদর্শ অনুধাবন করতে হবে।

ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে নারী জীবনের ষ্টাফ এবং শিক্ষার্থীরা । নারী জীবন অফিস এবং ব্লগ পোস্টিং ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ১২ অক্টোবর,২০০৭ থেকে ১৬ অক্টোবর,২০০৭ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ঈদ ছুটির পর ১৭ অক্টোবর,২০০৭ থেকে পুনরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে।

নারী জীবন স্টাফ, শিক্ষার্থী, ব্লগ পাঠক এবং সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ড. ক্যাথরিন বি. ওয়ার্ড, ক্যাটি জামান, প্যাট এবং বিল ওয়ার্ড (এই মাসে তাদের পূর্ন হতে যাচ্ছে ৫৫ তম বিবাহ বার্ষিকী), ডেবিড সাসাকী, মাসুদ জামান, জিনাত চৌধুরী, লিন্ডসে গ্রির, স্যান্ডি রোজেনক্রেনস, রিজওয়ান এবং রাইজিং ভয়েসের সকল গ্রাহকদের।

Thursday, October 11, 2007

সেই মেয়ে

Title of this post: That Girl (A short story) written by Zannat Ara Amzad (English & computer student)
Content of this post: In this short story, author has written a story about a family from her imagination.


আজ তিথিদের বাড়ির পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীকারণ আজ শুক্রবারশুক্রবার ছুটির দিনতিথির বাবা আজ বাড়িতেআর ছুটির দিন বলেই তিথিদের বাড়ির পরিস্থিতি খুব একটা ভাল নাতিথির বাবা সরকারি চাকরিজীবিতিনি ভিন মেজাজি লোকআর তিনি যতক্ষন বাড়িতে থাকেন ততক্ষন বাসার সবাই খুব ভয়ে ভয়ে থাকেনকখন যেন চিৎকার চেচাঁমেচি শুরু হয়ে যায়দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে তিথিদের সংসারতার মধ্যে তিথি মেঝো আর তার বড় বোন বিথিএবার অনার্স সেকেন্ড-ইয়ারে পরছে এবং ছোট ভাই অভি ক্লাস থ্রিতেতিথির বাবা যেমন ভিষন মেজাজি, ঠিক তেমনি তিথির মা, যেমনি রাগি তেমনি ভালএকদিন বিথি আপা তার এক বান্ধবির বাড়িতে গেল আপা বাসা থেকে বের হয়েছে সকাল নয়টার দিকেআর বাসায় ফিরেছে সন্ধ্যা সাতটায় আর আপার ভাগ্য ভাল যে সেদিন তখনও বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরেনি নইলে সেদিন আপার খবর ছিলযখন আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল তখন থেকেই আমি আর অভি ভিষন চিন্তা করছিলাম আজ কি যেন কি ঘটে যায়এর আগে এমন কখন ঘটেনিহঠাৎ বেল বেজে উঠলএই বুঝি বাবা এল! কিন্তু না, গেট খুলতেই সুর সুর করে ঘরে ঢুকে পরল আপা তার আচরন স্বাভাবিকযেন কিছুই হয়নি,

মা রান্না ঘথেকে জিজ্ঞেস করল, তিথি কে এল?
আমি ভয়ে বললাম, আপা এসেছে
মা এসে বলল , বিথি দুপুরে খেয়েছিস?
আপা বলল, হ্যাঁ মা, খেয়েছিমা- আমি ভিষন ক্লান্তআমি হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমোবো,আমাকে কেউ ডাকবে না
মা বলল , সে কি রাতে খাবিনা!
আমি আর অভি মা-র ব্যাবহার দেখে অবাক হয়ে গেলামঅথচ এর আগেও আপা একবার কলেজ থেকে ফিরতে দেরি করেছে বলে মা আপাকে খুব বকাঝকা করেছিলতখন আপা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়তআমি মার কাছে গেলাম বললাম , মা তুমি আপাকে কিছু বললেনা যে
মা বলল, কি বলব?
আমি বললাম, ওইযে আপা রাত করে বাড়ি ফিরেছে
মা বলল, এতে বলার কি আছে!
আমাদের বাড়ির সবাই শুক্রবার দিনটাকে ভয় করেবাবা সেদিন বাসায় থাকে বলেএতক্ষন আমরা ভিষন ভয়ে ছিলামকিন্তু হঠাৎ বাবা সবার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে
বাবা আপার ঘরে গিয়ে আপার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছে, কি করছিস?
আপা উত্তর দিল, জি বাবা উপন্যাস পছিলাম
বাবা বলল, ভালো উপন্যাস পড়া ভালো এতে করে অনেক কিছু শেখার আছেতা কি উপন্যাস পছিস ?
আপা বলল, উপন্যাসটির নাম- আজ চিত্রার বিয়ে
বাবা বলল, যাই হোক যা বলছিলাম বুঝলি তোদের মত এই বয়সে আমরাও উপন্যাস পতামকত উপন্যাস পড়েছিহাঃ হাঃ হাঃ
আমি বাবাকে কখন এমন প্রাণ খুলে হাসতে দেখিনিবাবা আপার ঘ থেকে হাসতে হাসতে বের হলএই যা এখন বাবা আমাকেউ ডাকছে
বাবা বলল, তিথি আমি বেলকুনিতে গিয়ে বসছিতুই আমার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়ত মা
আমি বলল, জি বাবা আসছি
মা বিরক্ত কন্ঠে বাবাকে বললেন, আজ সকাল থেকে কি হয়েছে! বলি আজ এত ঘন ঘন চা খাওয়া হচ্ছে কেন ?
বাবা মাকে বললেন, রেহানা, তুমিও এসো তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে
মা বললেন, কি কথা তাড়াতাড়ি বলুন! চুলোয় রান্না চড়িয়েছি
বাবা বললেন, আজ সন্ধ্যায় কিছু মেহমান আসবেবিথির জন্য একটা প্রস্তাব এসেছে
মা বললেন, প্রস্তাব! তা ছেলে কি করে, কোথায় থাকে, ছেলে দেখতে কেমন?
বাবা বললেন, আহা রেহানা তুমি এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করলে আমি উত্তর দিব কেমন করেছেলে মেরিকা থাকে ওখানে ওদের বাড়ি আছেবিজনেস আছে, এছাড়াও এদেশেও ওদের তিনটা বাড়ি আছেছেলের বাবা বে বড়লোক ওদের এদেশের একটা বাড়ি ঢাকার গুলশানে আর দুটো বাড়ি উত্তরায় আর এমনিতে ছেলের গ্রামের বাড়ি ........... কোথায় যেন ঠিক মনে করতে পারছিনা
মা বললেন,
দেখো বিথির বাবা ছেলের গ্রাম যেখানেই হোক, ছেলের সম্পর্কে যা যা শুনলাম এতে করে ছেলে আমার পছন্দ হয়েছে

চলবে ................

Saturday, October 6, 2007

গাঁয়ের বধু

Title of this post: "A village wife" written by Bithi Rahman (Tailoring student)
Content of this post: In this poem, author illustrate beauties of a village wife.


ঘুমটা পরা নতুন বধু জল আনতে যায়,
কাজল কাল চোখে যেন পথের পানে চায়।
লাজুক লাজুক ঠোটদুটিতে হাসি রাশি রাশি,
স্বপ্নে দেখা রাজ প্রাসাদটা পেল বুঝি আজি।
মেঘল কাল চুলগুলোতে ফুলটি রাখি গুজি
এমনি মেঠোপথ দিয়ে যায় সোনার পা-টি রাখি।
সোনার কিছু নাইকো গায়ে তবু যেন ঝলকে ওঠে,
শাশুড়ি তার মায়ের সমান, তাই বুঝি সে বলে
সোনার বরণ গায়ে তোমার রোদ যেন না লাগে।
তবুও তাকে যেতেই হবে নাইতে পুকুর ঘাটে,
চলেছে সে যে আপন মনে কলস কাঁখে নিয়ে।
সকল শখের রান্না তাকে করতে হবে নিজেই।

আমার গ্রাম

Title of this post: My village written by Hasina Akter (English student)
Content of this post: In this post author describes about her village.

আমার বাড়ী নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানায়। গ্রামের নাম বগাদিয়া। আমাদের গ্রামটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এইগ্রামে দুইটি প্রাইমারী স্কুল এবং একটি মাদ্রাসা আছে, যার নাম বগাদিয়া বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা। দুইটি নূরানী মাদ্রাসা ও একটি হাফেজী মাদ্রাসা আছে। আমাদের গ্রামে তিনটি মসজিদ আছে এইগুলোর নাম হল দক্ষিন বগাদিয়া জামে মসজিদ এবং অন্যটি হচ্ছে উত্তর বগাদিয়া জামে মসজিদ নামে পরিচিত। গ্রামটা তেমন বড় না, এর পরেও এই গ্রামের মধ্যে অনেক কিছু বিদ্যমান। যা দেখতে খুব ভালো লাগে, নিজেকে এই গ্রামের অধিবাসী বলে ধন্য মনে হয়। আমাদের গ্রামে একটি হাসপাতাল ও রয়েছে সেখানে অনেক অভিজ্ঞ ডাঃ দ্বারা রোগীদেরকে সেবা দেওয়া হয়। এই গ্রামের রাস্তা গুলো অনেক উন্নত। মেইন রোডের পাশেই এই গ্রাম, এই গ্রামের ভিতরের রাস্তা গুলো খুবই চওড়া যে সবার বাড়িতেই মাইক্রো বাস এবং সবধরনের গাড়িগুলো সহজেই বাড়ির ভিতরে ঢুকবে। গ্রামের ভিতরে কোন রাস্তাই কাঁচা মাটির নয় সব রাস্তাগুলোই পাকা করা যার কারনে এই গ্রামবাসীদের চলাফেরার কোন রকম সমস্যার সম্মুখীন হয় না। ছেলে মেয়েরা স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে যাতায়ত করতে সুবিধা হয়। সবকিছু মিলিয়ে এই গ্রামে এত কিছু যে, অনেক সময় ভাবতে অবাক লাগে। আমাদের গ্রামে বলতে গেলে কোন সমস্যা নাই। যেমন পানির কোন সমস্যা নাই, বিদ্যুৎ এর কোন সমস্যা নাই। গ্রাম হলেও আমাদের গ্রামে গ্যাস আছে। তাও নিয়মিত সাপ্লাই হচ্ছে কোন ধরনের সমস্যা হয় না। আমার কাছে আমার গ্রাম অনেক অনেক ভাল লাগে। আমি আমার গ্রামকে খুব ভালবাসি।

খুকির পাখি

Title of this post: The bird of Khuki written by Bithi Rahman (Tailoring student)
Content of this post: Khuki loves her pet bird but bird loves flying independently.


খুকী কহে - রাখাল ছেলে বাজাও বাশিঁ
একাকী বটের তলে
দেখেছ কিগো মোর পাখিটিরে
গিয়াছে সে কোথা উড়ে?

রাখাল কহে নিরোজনে বসে, একাকী বাজায় বাশিঁ,
দেখেনি তোমার পাখিটি কোথায়
গিয়াছে ছিকল ছিড়ি।

খুকী কহে- সারাটি দুপুর খুঁজিনু আমি
ঘুরিনু সারা বন।
মোর পাখি কি গো দিশে হারা বল
আসিবেনা ফিরে কখনও?

রখাল কহে সে যে বনের পাখি
খাঁচায় কি শোভা পাবে?
বনের পাখি গিয়াছে বনে
যেতে দাও তারে উড়ে।

খুকী কহে - তাই কি হয়?
সে যদি না থাকে কার সাথে তবে
কাটাব আমার বেলা?
আমি যে তাহারে ভালবেসেছিনু
দিয়েছিনু চিড়ে কলা
খাঁচায় পুশিয়া শেখাতে চেয়েছিনু
মানুষের সব কথা
সব ফেলে সে যে উড়ে গেল কোথা?
খুঁজিতেছি একা একা।

রাখাল কহে- মানুষ মানুষের মাঝে বাস করিবে মনে,
পাখি সে যে তায় ডানা আছে তার
উড়ে যাবে বহু দুরে
ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে যাও
তার ছেড়ে দাও বনে।

Saturday, September 29, 2007

স্বপ্নের সোনার গাঁ

Title of this post: Swapne Sonargaon (Sonar gaon in dream) by Taufiqa Farjana
Content of this post: Author describe of a historical place of Bangladesh.


সোনার গাঁ হচ্ছে থানার নাম, জেলা নারায়নগঞ্জ। বাংলার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বা সোনার গাঁ যাদুঘর আমিনপুর গ্রামে অবস্থিত। এর পূর্ব নাম ছিল সুর্বণ গ্রাম। এক সময় সোনার গাঁ ছিল ইশা খাঁ এর সময় এদেশের রাজধানী। ইশা খাঁ ছিলেন কার ভূইয়া বংশধর।

সোনা বিবির নাম অনুসারে এর নাম করণ করা হয় সোনার গাঁ। চোখ জুড়ানো সবুজ প্রকৃতি, পুকুর এবং লেক দেখলেই মন-প্রাণ ভাল লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। নানা রকম ফুলের গাছ ও ফলের গাছ আছে। চিত্র শিল্পী জয়নুল আবেদীনের মালবাহী গরুর গাড়ির প্রতিকৃতি আছে। লেকের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এবং নৌকা ভ্রমনের ব্যবস্থা আছে। গরুর গাড়ির প্রতিকৃতির বাম পাশে দুটি পুকুর পুকুর আছে। একট পুকুর পাড়ে দুটি ভাস্কর্য আছে। ভাস্কর্যে দুটি ঘোড়ার উপর দুজন রাজা বসে আছেন। এ ভবনটি নিয়ে অনেক গল্প আছে।

অনেকে মনে করতেন এর ভিতর একবার প্রবেশ করলে আর বাহির হতে পারবে না। ভবনটির বিভিন্ন কক্ষে কাসার বিভিন্ন তৈজসপত্র, মাটির ও কাসার তৈরি জিনিস পত্র ঢাল তলোয়ার, ছুরি সহ বিভিন্ন যুদ্ধা অস্ত্র কাঠের পালন্ক ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে। বিভিন্ন মূর্তীর মাধ্যমে তখন কার যুগের গ্রামীন জীবন চিত্র ফুটিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। সামনে লাল রং এর ভবন। এই ভবনটি দুভাগে বিভক্ত। একদিকে প্রশাসানিক কাজ কর্ম ও অন্য দিকটি যাদুঘর হিসাবে ব্যবহার করা হয়। নিচ তলায় রয়েছে মাটি ও কাঠের প্রতিকৃতি চিত্র। ২য় তলায় রয়েছে জামদানি শাড়িসহ বিভিন্ন কাপড়ের কারুকার্য এবং সাথে নকসী কাঁথা ও রয়েছে।

বর্তমানে জায়গাটিতে আরও ভবন তৈরি করা হচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে বিদেশীদের গবেষনার জন্য একটি ভবন। এবং ভ্রমনকারিদের জন্য রয়েছে বিক্রয়কেন্দ্র এবং খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট। সেখানে নৌকা ভ্রমনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পুকুরের উপর সেঁতু রয়েছে। সেখানে বসার জন্য ছাউনিসহ বেঞ্চ রয়েছে। আরও ভিতরের দিকে গেলে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর চোখে পড়বে। তৎকালিন গ্রাম্য সমাজ তার মধ্যে ফুটিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

অপূর্ব সুন্দর এই সোনার গাঁ। এখানে চারদিক শুধু সবুজ আর সবুজ। চোখ জুড়ানো সবুজ প্রকৃতি, পুকুর এবং নানা রকম ফুল ও ফলের গাছ । বাংলার লোক ও কারুশিল্প ঐতিহ্য বহন করে আসছে এই সোনার গাঁ।

Friday, September 21, 2007

সাগর কন্যা হাতিয়া

Title of this post: Sagor konna Hatia (Hatia the Sea girl) by Nurunnahar Islam Munni
Content of this post: Author described about people and culture of a village that is situated in a island of Bay of Bengal.

সাগর কন্যা হাতিয়া এ আবার কেমন নাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন গ্রাম হল নোয়াখালী জেলার হাতিয়া গ্রাম। অতি প্রচীন কালে বঙ্গোপসাগর থেকে এই হাতিয়া জেলার উৎপত্তি হয়। বেশ কিছু দিন আগে মেঘনার আঘাতে এ দ্বীপটি বিলুপ্ত হতে বসে ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ গ্রামে প্রায় ৮ হাজার লোকের বসবাস।

এ দ্বীপটি অন্য সব দ্বীপ থেকে বিছিন্ন হলেও এ দ্বীপের মানুষের মধ্যে রয়েছে অসম্ভব মায়া মমতা। তাদের জীবিকার প্রধান অংশ আসে কৃষি কাজ ও মাছ ধরা থেকে। দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর আর উত্তরে মেঘনা নদী মাঝ অংশ দিয়ে বয়ে গেছে অসীম রাস্তা, রাস্তার দুধারে অসংখ্য ফুলের গাছ। মেঘনা নদীর আঘাতে প্রায় প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ক্ষয় ক্ষতি হয়। প্রতিনিয়ত ভেসে যায় হাজার হাজার ঘর বাড়ি। বছরে এরা দুবার তাদের বাসস্থান গড়ে তোলে। হাতিয়া দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হলেও শিক্ষা চিকিৎসার কোন অভাব নেই।

বিয়েতে এরা রং ছিঠিয়ে আনন্দ করে। মাঝে মাঝে এদরে মধ্যে নিচুতার পরিচয় মেলে। এ গ্রামের একটি ঐতিহ্য হল পালকি। এ পালকিকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন ঐতহ্যিবাহী ইতিহাস। পালকিকে ঘিরে গ্রামের বেহারা বৃদ্ধ, ছোট, বড় সকলের কন্ঠে একযোগ গেয়ে উঠে গান, গ্রামের কারো বাড়িতে একটি পালকি থাকলে তারা মনে করে তাদের অনেককিছু আছে। পালকি কাঁধে নিয়ে বেহারা গেয়ে উঠে,

"রং এর ঢোল হারকির ঢোল,
ঢুলি বাজায় ঢুলির ঢোল।

বাপের ঘর ছাড়ি কন্যায় যায় স্বামীর ঘর।"

হাতিয়া জেলাটি ফেনী জেলার দ্বিগুন। প্রতি বছর মেঘনার আঘাতে এ দ্বীপটির প্রায় ১ কিঃ মিঃ করে ভাঙ্গে, প্রায় প্রতিটি পরিবার বছরে ২ বার তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করে। হাতিয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর। এদের কৃষি শস্য বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার চাইতে অনেক বেশি। বাংলাদেশ সরকার এ অঞ্চলের আশু প্রতিকারের ব্যবস্থা করলে এ দ্বিপটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

Tuesday, September 18, 2007

মাকে মনে পরে

Title of this post: I remember my mother by Maya Nur Akter
Content of this post: Author expressed her feelings about the lose of her mother and also about how she remembers her mother in her writings

এসএসসি পাস করে যখন কলেজে ভর্তি হই তখনই আমার মা মারা যায়আমরা ৫ ভাই বোন, আমি সবার ছোটখুব আদর-যত্নে বড় হয়েছিতখন কোন দুঃখ, কষ্ট, এবং বাস্তবতা সর্ম্পকে কোন ধারণাই ছিলনাদুচোখ ভরা ছিল স্বপ্ন কিন্তু হঠাৎ একদিন এক ঝড় এসে আমার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিল

সে দিন ছিল ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবারমা আমার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেলকরে গেল আমায় একাসে দিনটির কথা মনে হলে আমি আর কিছু ভাবতে পারিনামনে হয় আমি এখনও বেঁচে আছি কিভাবে? সে রাতের ঝড়ে আমার জীবনটা হয়ে গেল এলোমেলো, আমি হয়ে গেলাম পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষের একজনআমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল সব আনন্দ, সব সুঃখ, ভেঙে গেল সব স্বপ্নআমি হয়ে গেলাম একাআমি বুঝতে পারতাম না বাস্তবতা কত কঠিন,পৃথিবী কত নির্মম, নিষ্ঠুরশুধু একজনকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলামসব কিছু আছে চারদিকে তবু আমার মনে হয় আমার কিছুই নেইসারাক্ষণ আমার মনের মধ্যে শুধু শূণ্যতা আর হাহাকার! আসলে আমি যে অমূল্য সম্পদ হারিয়েছি সে অমূল্য সম্পদ কি আর কোনদিন ফেরত পাব?

সেদিন মনে হচ্ছিল অমি আর বাঁচবনাআমিও চলে যাব মায়ের সাথেযার জন্য এই সুন্দর ধরণীতে আসা, তাকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকব? আমি কিন্তু এখনও বেঁচে আছিকারণ কঠিন বাস্তবতা তো আমাদেরকে মেনে নিতেই হবে

আমি বেঁচে আছি, জীবন চলছে জীবনের গতিতেকিন্তু আমি তো পারিনি এক মুহুর্তের জন্য আমার মাকে ভুলে থাকতেআমার মা আমার শিরা, উপশিরা, প্রতিটি রক্তকণিকায় মিশে আছেআমি প্রতিটি মুর্হুতে আমার মায়ের শূণ্যতা অনুভব করিকারও কাছ থেকে কোন আদর পেতে আমার ভালো লাগে না, কেবলি মনে হয় ওদের আদর পেয়ে আমি যদি আমার মাকে ভুলে যাইআমি অনাদর অবহেলার মাঝে আমার মাকে মনে রাখতে চাইআমার মা আমার সবআমি আমার মাকে মনে রেখেই বেঁচে থাকতে চাই! সারা দিন কেটে যায় ব্যস্ততার মাঝেদিন গিয়ে রাত আসে, সবাই যখন ঘুমে বিভোর কিন্তু আমি কিছুতেই দু চোখের পাতা এক করতে পারিনামনে পরে মায়ের সেই হাসি ভরা মুখ, মনে পরে মায়ের সব স্মৃতিমনে পরে আমি যে এত বড় হয়েছি তখনও মায়ের গলা জরিয়ে না ধরলে ঘুম আসতনা আমারএক দিনের জন্য কোন আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাইনিকারণ মাকে ছাড়া আমি ঘুমুতে পারব না তাই

১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবার আমার মায়ের মৃত্য হয়রমজান ঈদের তিন দিন পরআমার বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকাতে ছিলবোনেরা শ্বশুর বাড়িতে, আর আমার একমাত্র ভাই দেশের বাহিরে থাকেন, ভাবী তাঁর ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলবাড়িতে আমি আর আমার মা ছাড়া আর কোন মানুষ ছিল নামা অসুস্থ ছিলেন তবে এমন কোন অসুস্থ ছিলেন না যে এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেআমরা তা কোন দিন ভাবতেও পারিনিরাত তখন ১১ টারাতে খাওয়ার পর আমি আর মা দুজনে শুয়ে আছিসে রাতে কেন যেন আমার ভয় ভয় লাগছিল! মা আর আমি দুজনেই ঘুমিয়ে আছিরাত যখন ১টা বাজে তখন হঠাৎ কি এক দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়আমি জেগে দেখি আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছিকিন্তু মা কেমন যেন করছেআলো জ্বালানো ছিল, আমি উঠে বসে মায়ের মাথায় হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘কি হয়েছে মা? এমন করছো কেন? তোমার কেমন লাগছে?’ আমার মা আমাকে কখনও নাম ধরে ডাকতেন না, সব সময় মাবলে ডাকতেনমা আমাকে তখনও সানা দিয়ে বলে যে, আমার কিছু হয়নি মা তুমি ভয় পেওনাআমি কিছু ঝুঝে উঠার আগেই আমার মা চিরদিনের জন্য আমার কাছ থেকে চলে গেলআর কোন কথা বলতে পারিনিআমি শুধু কয়েক বার মা মা বলে ডেকেছিলামতারপর আর কিছুই বলতে পারলামনা

পরে দরজা খুলে লোকজন ঘরে ঢুকে দেখে আমি মাকে জরিয়ে ধরে মায়ের বুকের উপর অজ্ঞান হয়ে আছিআমার যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি সকাল হয়ে গেছে সব আত্নীয়-স্বজন এসে গেছে আমাদের বাড়িতে মাকে শেষ বিদায় জানাতেমার চির বিদায়ের আয়োজন করছে সবাইবাবার জন্যও লোক পাঠিয়েছেএত কিছুর পরও আমি মাকে শেষবারের মত গোসল করিয়েছি অন্যদের সাথে থেকেআমার মনে হচ্ছিল মাকে তো আর কোনদিন দেখতে পারবো নাআজ যতকিছু করতে হয় আমি সাথে থেকে করব, যাতে আমার মার কোন অযত্ন না হয়সেদিন আমি আমার মাকে নিজ হাতে সাজিয়েছিলামসে দিনের সেই কথা আমি কোনদিন ভুলে থাকতে পারবো নাআমি আজও ভাবী আমি এত কিছু কি করে পারলামবড় হলাম, বিয়ে হলো, আমি নিজেই মা হয়েছিতারপরও আমি আমার মাকে ভুলতে পারবোনাপ্রায় রাতেই মাকে স্বপ্নে দেখে জেগে উঠিআর তখনি খুব ইচ্ছে করে সেই আগের মত মাকে জড়িয়ে ধরে যদি একটু ঘুমুতে পারতামশান্তির সেই ঘুম !