Tuesday, September 18, 2007

মাকে মনে পরে

Title of this post: I remember my mother by Maya Nur Akter
Content of this post: Author expressed her feelings about the lose of her mother and also about how she remembers her mother in her writings

এসএসসি পাস করে যখন কলেজে ভর্তি হই তখনই আমার মা মারা যায়আমরা ৫ ভাই বোন, আমি সবার ছোটখুব আদর-যত্নে বড় হয়েছিতখন কোন দুঃখ, কষ্ট, এবং বাস্তবতা সর্ম্পকে কোন ধারণাই ছিলনাদুচোখ ভরা ছিল স্বপ্ন কিন্তু হঠাৎ একদিন এক ঝড় এসে আমার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিল

সে দিন ছিল ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবারমা আমার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেলকরে গেল আমায় একাসে দিনটির কথা মনে হলে আমি আর কিছু ভাবতে পারিনামনে হয় আমি এখনও বেঁচে আছি কিভাবে? সে রাতের ঝড়ে আমার জীবনটা হয়ে গেল এলোমেলো, আমি হয়ে গেলাম পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষের একজনআমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল সব আনন্দ, সব সুঃখ, ভেঙে গেল সব স্বপ্নআমি হয়ে গেলাম একাআমি বুঝতে পারতাম না বাস্তবতা কত কঠিন,পৃথিবী কত নির্মম, নিষ্ঠুরশুধু একজনকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলামসব কিছু আছে চারদিকে তবু আমার মনে হয় আমার কিছুই নেইসারাক্ষণ আমার মনের মধ্যে শুধু শূণ্যতা আর হাহাকার! আসলে আমি যে অমূল্য সম্পদ হারিয়েছি সে অমূল্য সম্পদ কি আর কোনদিন ফেরত পাব?

সেদিন মনে হচ্ছিল অমি আর বাঁচবনাআমিও চলে যাব মায়ের সাথেযার জন্য এই সুন্দর ধরণীতে আসা, তাকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকব? আমি কিন্তু এখনও বেঁচে আছিকারণ কঠিন বাস্তবতা তো আমাদেরকে মেনে নিতেই হবে

আমি বেঁচে আছি, জীবন চলছে জীবনের গতিতেকিন্তু আমি তো পারিনি এক মুহুর্তের জন্য আমার মাকে ভুলে থাকতেআমার মা আমার শিরা, উপশিরা, প্রতিটি রক্তকণিকায় মিশে আছেআমি প্রতিটি মুর্হুতে আমার মায়ের শূণ্যতা অনুভব করিকারও কাছ থেকে কোন আদর পেতে আমার ভালো লাগে না, কেবলি মনে হয় ওদের আদর পেয়ে আমি যদি আমার মাকে ভুলে যাইআমি অনাদর অবহেলার মাঝে আমার মাকে মনে রাখতে চাইআমার মা আমার সবআমি আমার মাকে মনে রেখেই বেঁচে থাকতে চাই! সারা দিন কেটে যায় ব্যস্ততার মাঝেদিন গিয়ে রাত আসে, সবাই যখন ঘুমে বিভোর কিন্তু আমি কিছুতেই দু চোখের পাতা এক করতে পারিনামনে পরে মায়ের সেই হাসি ভরা মুখ, মনে পরে মায়ের সব স্মৃতিমনে পরে আমি যে এত বড় হয়েছি তখনও মায়ের গলা জরিয়ে না ধরলে ঘুম আসতনা আমারএক দিনের জন্য কোন আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাইনিকারণ মাকে ছাড়া আমি ঘুমুতে পারব না তাই

১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবার আমার মায়ের মৃত্য হয়রমজান ঈদের তিন দিন পরআমার বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকাতে ছিলবোনেরা শ্বশুর বাড়িতে, আর আমার একমাত্র ভাই দেশের বাহিরে থাকেন, ভাবী তাঁর ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলবাড়িতে আমি আর আমার মা ছাড়া আর কোন মানুষ ছিল নামা অসুস্থ ছিলেন তবে এমন কোন অসুস্থ ছিলেন না যে এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেআমরা তা কোন দিন ভাবতেও পারিনিরাত তখন ১১ টারাতে খাওয়ার পর আমি আর মা দুজনে শুয়ে আছিসে রাতে কেন যেন আমার ভয় ভয় লাগছিল! মা আর আমি দুজনেই ঘুমিয়ে আছিরাত যখন ১টা বাজে তখন হঠাৎ কি এক দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়আমি জেগে দেখি আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছিকিন্তু মা কেমন যেন করছেআলো জ্বালানো ছিল, আমি উঠে বসে মায়ের মাথায় হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘কি হয়েছে মা? এমন করছো কেন? তোমার কেমন লাগছে?’ আমার মা আমাকে কখনও নাম ধরে ডাকতেন না, সব সময় মাবলে ডাকতেনমা আমাকে তখনও সানা দিয়ে বলে যে, আমার কিছু হয়নি মা তুমি ভয় পেওনাআমি কিছু ঝুঝে উঠার আগেই আমার মা চিরদিনের জন্য আমার কাছ থেকে চলে গেলআর কোন কথা বলতে পারিনিআমি শুধু কয়েক বার মা মা বলে ডেকেছিলামতারপর আর কিছুই বলতে পারলামনা

পরে দরজা খুলে লোকজন ঘরে ঢুকে দেখে আমি মাকে জরিয়ে ধরে মায়ের বুকের উপর অজ্ঞান হয়ে আছিআমার যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি সকাল হয়ে গেছে সব আত্নীয়-স্বজন এসে গেছে আমাদের বাড়িতে মাকে শেষ বিদায় জানাতেমার চির বিদায়ের আয়োজন করছে সবাইবাবার জন্যও লোক পাঠিয়েছেএত কিছুর পরও আমি মাকে শেষবারের মত গোসল করিয়েছি অন্যদের সাথে থেকেআমার মনে হচ্ছিল মাকে তো আর কোনদিন দেখতে পারবো নাআজ যতকিছু করতে হয় আমি সাথে থেকে করব, যাতে আমার মার কোন অযত্ন না হয়সেদিন আমি আমার মাকে নিজ হাতে সাজিয়েছিলামসে দিনের সেই কথা আমি কোনদিন ভুলে থাকতে পারবো নাআমি আজও ভাবী আমি এত কিছু কি করে পারলামবড় হলাম, বিয়ে হলো, আমি নিজেই মা হয়েছিতারপরও আমি আমার মাকে ভুলতে পারবোনাপ্রায় রাতেই মাকে স্বপ্নে দেখে জেগে উঠিআর তখনি খুব ইচ্ছে করে সেই আগের মত মাকে জড়িয়ে ধরে যদি একটু ঘুমুতে পারতামশান্তির সেই ঘুম !

Saturday, September 15, 2007

"সোনিয়া" - কর্মজীবী একজন শিশুর কথা

Title of this post: "Sonia" – a tale of a young worker (Girl) by Shamima Akter.
Content of this post: Author expressed hard life of a working girl in her writing.


সংসারের আভাবের কারনে আমাদের বাংলাদেশের অনেক শিশুকেই অল্প বয়সে কাজে যোগ দিতে হয়। আর জীবিকার তাগিদে সেই কর্মজীবী শিশুরা অনেক ঝুঁকি পূর্ন কাজেও অংশগ্রহন করছে। তারা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে। যেইসময়টা তাদের পাড় করার কথা পড়াশুনা, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে, কর্মজীবী শিশুরা সেই সময়টা পাড় করছে তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। হাজারো কর্মজীবী শিশুর মধ্যে এমনই একজন এর কথা তুলে ধরা হল:

সোনিয়া,বয়স ১২বাবা-মার সাথে ঢাকার মগবাজারে থাকেএকটি বাসায় বুয়ার কাজ করেতার বাবা একজন আচার বিক্রেতামাও ঘরের কাজের পাশাপাশি অন্যোর বাসায় কাজ করে২ ভাই ২ বোনের মধ্যে সোনিয়া দ্বিতীয়। তাদের এই ছোট পরিবারে অভাব যেন সবসময় লেগেই থাকে। তাই ১২ বয়সেই সোনিয়াক নিজের বাসার কাজের পাশাপাশি অন্যের বাসায় কাজ করতে হচ্ছেমাসিক বেতন ৩০০ টাকায় তাকে সেখানে বেলা ১১ টা থেকে ১ টা পযর্ন্ত কাজ করতে হয় তাকে নিজের বাসার সাংসারিক কাজের পাশাপাশি তার বাবার কাজেও ( আচার বানানোর ) সাহায্য করেতে হয়সোনিয়ার ভাল লাগে তার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে, লেখাপড়া করতে

তার পড়াশুনার প্রতি প্রবল ইচ্ছে থাকায়, সে স্থানীয় একটি স্কুলে দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৪ টা পযর্ন্ত পড়া লেখা করে সে সময়টা তার খুব ভাল লাগে। সোনিয়া যে বাসায় কাজ করে সে বাসায় একটি (প্রতিবন্ধী) বোবা মেয়ে আছে, সোনিয়ার কাজ করতে দেরি হলে বোবা মেয়েটি সোনিয়াকে মার দেখায়, এতে সোনিয়ার খুব মন খারাপ হয়। তার স্বপ্ন, সে পড়ালেখা করে একদিন ডাক্তার হবে, গরীব অসহায় রোগীদের সেবা করবে।

আমরা কেউ জানিনা সোনিয়ার স্বপ্ন আদোও পূর্ন হবে কি, হবে না। আমারা কি পারিনা তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে????

নারীর জাগরণ

Title of this post: Awareness of women by Afroza Akter Kajol
Content of this post: In this poem author expressed that, in our society women always lost their rights. She is requesting women to wake up from dark life and to aware about their rights.



জাগো নারী জাগো তুমি

রাগো নারী রাগো তুমি

জাগলেই তুমি দেখবে সব

রাগলেই তুমি পাবে সব

নরম হয়ে থেকনা তুমি আর

হতে হবে শক্ত তোমাকে এবার

বলে গেছেন কিছু মানুষ সারাংশ একটি

শক্তের ভক্ত নরমের জম

কিন্তু তোমরা ভেবে নাও হবে না তা আর এখন

তাই তোমাদের জাগতে হবে

লড়াই করেই বাঁচতে হবে

তাহলেই পাবে সম্মান পুরুষদের এ পৃথিবীতে

জানো কি হে নারী তুমিও একটি রক্তে মাংসে গড়া মানুষ

তবে কেন হয়ে আছো তুমি কাঠের পুতুলের মত

তোমাকেও বাঁচতে হবে চলতে হবে মন খুলে হাসতে হবে

ভেবনা নিজেকে কোন দিনও ছোট

ভেব তুমিও পার করতে সব কিছু

তাহলেই পারবে নিজের জীবনটাকে ভালো ভাবে গড়তে

Saturday, September 8, 2007

জীবনের কথা - নিলা সুলতানা

Title of this post: My life- Nila Sultana by M.G Rabbany

আমার নাম নিলা সুলতানা, বয়স ২২ বছরের মতআমার বাবা খুলনার একটি পাট কলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত এবং ১৯৮৪ সালের দিকে আমি সেখানে জন্মগ্রহন করি। তিনি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কাজ করতআমার দাদার বাড়ি হচ্ছে ফরিদপুর জেলায়আমার দাদার বাড়ি এবং নানার বাড়ি কাছাকাছি কিন্তু সেখানে সামান্য বাড়ী ভিটা ছাড়া কোন সম্পতি নেই ছোট সময় দাদার বাড়ী, নানার বাড়ীতে বছরে দুএকবার সাধারনত ঈদের ছুটিতে যাওয়া হতোআমার মা শুধু গৃহিণী হিসেবেই কাজ করতআমি খুলনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর লেখাপড়া করেছিআর্থিক অস্বচ্ছলতা,অজ্ঞতা ইত্যাদি কারনে লেখপড়াকরা হয়নিকিন্তু এখন ঝুঝতে পাড়ি লেখাপড়ার মূল্য কত কিন্তু আফসোস ছাড়া কিছুই করার নেইআমরা তিন ভাই, দুই বোনদুই ভাই এক বোন বড় তারা ইতিমধ্যে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেবড় দুই ভাইই ঢাকায় রিক্সা চালায়তাদের আর্থিক অবস্থা এত ভাল নয় যে বাবা-মা কে সাহায্য করবে

সম্ভবত ১৯৯৩ সালে খুলনার জুটমিলটি হঠা বন্ধ হয়ে যায়তখন বাবা আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি বেকার হয়ে পড়েগ্রামে ফিরে যাওয়ার উপায়ও নেইতাই নিরূপায় হয়ে তখন বাবা সবাইকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেঢাকায় আসার পর বাবা প্রথম দিকে নির্মান শ্রমিক হিসেবে কাজ করিলেও পরে একটি বাসার দারোয়ান হিসেবে কাজ করেনঢাকায় আসার পর মাও বাবাকে আর্থিক ভাবে সাহায্যে করার জন্য একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করেনপ্রায় এক বছর চাকুরী করার পর আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েনবর্তমানে বাবা কাজ করিতে পারে না এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছে

এখন আমি বাবা-মা এবং ছোট ভাইয়ের সাথে থাকিছোট ভাই আয় করিতে পারে না, বর্তমানে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আমি আমার বাচ্ছাসহ অনেক দিন ধরেই তাদের সাথে থাকছি

আমার ২০০১ সালের দিকে আলাল নামের একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর তার বাড়ী পাবনা জেলায়, সেখানেই তার পরিবারের সবাই থাকেসে আমাদের এই এলাকায় থাকত এবং রিক্সা চালাতোআলাল নবম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে এবং দেখতেও বেশ সুশ্রী ছিলসে অন্য কোন কাজ পায়নি বলেই রিক্সা চালাতকিন্তু নিয়মিত রিক্সা চালাতে চাইত নাবিয়ে করার পর সে আমাকে নিয়ে একটি এক রুমের বাসা ভাড়া করেকিন্তু অলসতা এবং নিয়মিত রিক্সা চালাতনা বলে সে সংসার চালাতে পারত নামাঝে মাঝে আমার বাবা-মা আর্থিক ভাবে সাহায্য করতটাকার অভাবে মাঝে মাঝেই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতোএরই মধ্যে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়িআমাদের আরো খরচ বেড়ে গেলোএক পর্যায়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে আমি তার বাসা থেকে চলে আসি বাবা-মায়ের কাছেবাবা-মায়ের কাছে থাকা অবস্থায়ই আমার পুত্র সন্তান হয় ২০০৩ সালের শেষের দিকেএদিকে স্বামী রাগ করে তার গ্রামের বাড়ী চলে যায়তখন বাবা-মা ই আমাকে এবং সন্তানকে দেখাশুনা করতবাবা-মার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল ছিল নাভাইয়েরাও কেউ সাহায্য করিত নাবাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েআমাকে নানা রকম কথা শুনতে হতোটাকা পয়সার অভাবে আমাকে অনেক সমস্যায় ভূগতে হতোপরিবারের সবার কাছেই অতিরিক্ত হয়ে গেলামতখন আমি টাকা পয়সা আয় করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম যদিও তখনও আমি পুরোপুরি সুস্থ ছিলাম নাতখন আমি কয়েকটি বাসায় খন্ড কালীন বুয়া হিসাবে কাজ করা শুরু করলামআমি খুব পরিশ্রম করিতে শুরু করিলাম আয় করার জন্যগৃহভৃত্য হিসাবে খুব পরিশ্রম করেও খুব বেশী আয় করা যেত নাতিন/চারটি বাসায় ১৩/১৪ ঘন্টা কাজ করে মাত্র ৯০০ টাকা পেতামতখন আমি কিছু বেশী আয় করার জন্য কত পরিশ্রম এবং কত সমস্যায় যে পড়েছিলাম তা ভাষায় ব্যাখ্যা করিতে পারিব নাআমাদের একই এলাকার কহিনুর নামে মাঝবয়সী একজন মহিলা থাকতো - সে আমাকে চিনত এবং আমার সমস্যা সম্পর্কেও অবহিত ছিলতার কাছেই আমি নারী জীবন সম্পর্কে এবং এর চেয়ারম্যানের মহানুভবতা সম্পর্কে জানতে পারলামকোহিনুর নারী জীবনের ছাত্রী ছিলআমি কোহিনুর আপাকে নারী জীবনে নিতে এবং এর চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করানোর জন্য অনুরোধ করলামআমি কোহিনুরের সাথেই নারী জীবন সংস্থায় গেলাম এবং এর কার্যক্রম দেখে খুবই আশ্চার্য হলামমনে হলো এখনো পৃথিবীতে কিছু সংস্থা এবং মানুষ সত্যি মানুষের জন্যই কাজ করেনারী জীবনে গিয়ে বাংলায় লেখাপড়া এবং দর্জির কাজ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হলো কারণ বাসায় দর্জির কাজ করে আয় করা যায় যা অন্য মানুষের বাসায় কাজ করার চেয়ে অনেক ভালো এবং সম্মানেরকিন্তু কিভাবে এবং কখন শিখবো টাকা আয় না করিতে পারলে তো আমাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হবেঅসুস্থ বাবা-মা বাচ্চা সবাইকে নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হবেকোহিনুর আপা যেহেতু আমার সব সমস্যার কথা জানে সেই নারী জীবনের চেয়ারম্যানকে আমার সব সমস্যার কথা বললোসব কিছু শুনার পর তিনি আমাকে এমন সুবিধা দিলেন যে আমি নারী জীবন থেকে সব কিছু শিক্ষার সুযোগ পেলামকাজ শেখার পাশাপাশি আমার বেতনের ব্যবস্থা করিলেন যা সারাদিনের বুয়ার কাজের বেতনের চেয়ে অনেক বেশীএ রকম মহান মানুষ আমার জীবনে আসেনি

আমি ১০ই জুলাই ২০০৬ সালে নারী জীবনে এল.পি.সি ( লেখা-পড়া-চাকুরী ) হিসাবে ভর্তি হলামআমি বাংলা সেকশনে বাংলা এবং অংক শিখতে শুরু করলামযেহেতু আমি বাংলা কিছু কিছু জানতামই তাই শিখতে বেশী দিন লাগলো নাঅল্প দিনেই বাংলা-অংক-এবং কিছু ইংরেজী শব্দও শিখে ফেললামসুবিধা ছিল এই যে সারাদিন (অফিস সময়) আমার শেখার সুযোগ ছিলঅন্যদিকে চিন্তা মুক্ত ছিলাম পরিবারের ব্যয় নিয়েযা পেতাম তা দিয়ে ভালো মতোই চলে যেতবাংলা সেকশনের কোর্স শেষ করার পর পরই দর্জির কাজ শেখা শুরু করলাম এবং অল্প দিনেই সাফল্যের সাথে সব আইটেম তৈরী করা শিখে ফেললামসারাদিন অফিসে থাকতে হতো বলে পর্যাপ্ত অনুশীলন করার সুযোগ পেতামনারী জীবন থেকে প্রতি মাসে লেখাপড়ার পাশাপাশি আমি ৩৭০০ টাকা পেতামতখন বাবা-মা সহ অন্যরাও আমার সাথে ভালো ব্যবহার করতো এবং তারা আমার উপর খুশি ছিলঅন্যদিকে আমার স্বামী আবার ঢাকায় এলোএবং সে মাঝে মাঝেই আমার ছেলেকে দেখতো আসতো নানা রকম জিনিস নিয়েকিন্তু আমি তাকে পাত্তা দিতাম নাআমার স্বামী একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে বিক্রয় কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছেতাকে আর রিক্সা চালাতে হয়নাদীর্ঘ ছয় মাস আমি নারী জীবনে শেখার সুযোগ পেয়েছিএই সময়ের মধ্যে বাংলা এবং টেইলরিং কোর্স সমাপ্ত করেছিতাছাড়াও আমি অফিস ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষন নিয়েছিআমার স্বপ্ন ছিল গৃহে বসে দর্জির কাজ করাকিন্তু সেলাই মেশিন ও ব্যবসা শুরু করার জন্য বেশ কিছু টাকার প্রয়োজনকিন্তু আমার কাছে তা ছিলনাতাই আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নারী জীবনের চেয়ারম্যানকে সহযোগীতা করার জন্য অনুরোধ করিআমার তৈরী ব্যবসার পরিকল্পনার বাজেট অনুযায়ী তিনি আমাকে একটি নতুন সেলাই মেশিন এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার জন্য কিছু নগদ টাকা দেনইতিমধ্যে আমার স্বামী আমার কাছে ফিরে এসেছেএখনো আমরা আমার বাবা-মার সাথেই থাকছিআমার স্বামী চাকুরী করছে এবং আমি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করছিএভাবে যা আয় হয় তা দিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিলে আমাদের চলতে অসুবিধা হবেস্বামীর সাথে আলোচনা করে গত আগষ্ট,২০০৭ সালে আমি একটি গার্মেন্টসে চাকুরী নেইসেলাই কাজ এবং লেখাপড়া জানি বলে চাকুরী নিতে পেরেছি সহজেইকিন্তু অভিজ্ঞতা নেই বলে তিন মাস আমাকে হেলপার হিসাবে চাকুরী করিতে হবেগার্মেন্টেসের নিয়োগ কর্তা আমাকে কথা দিয়েছেন তিন মাস কাজ করার পরে আমার বেতন বৃদ্ধি করিবেনবর্তমানে আমার বেতন ধরা হয়েছে ১২৫০ টাকাগার্মেন্টেস থেকে বাসায় ফিরে আমি সেলাইয়ের কাজ করিআমি মনে করি নারী জীবন থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি অনেক কিছু জানতে পেরেছিআমি নারী জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ

Saturday, September 1, 2007

সেই ছেলেটি

Title of this post: The boy (Shei cheleti) by Mayanur Akter
Content of this post: Sympathetic feelings of the author about a man who sleeps in the hospital (works as the attendant of patient telling them that he has patient in the hospital (but he does not have any patient) at night as he has no house to live at Dhaka. He can not live in rented house as he does not have enough money. In day time he pulls rickshaw and at night he sleeps in hospital. He is earning/saving money for her family (Mother, and sibling).

মনে পরে সেই ১৯/২০ বছরের ছেলেটির কথা
ছেলেটির কথা মনে হলে এখনও আমার দুই চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়কিন্তু আমি পারিনি ওর জন্য কিছু করতে এমনকি পারিনি তাকে একদিনের জন্যও আশ্রয় দিতে

যে ছেলেটির কথা বলছি: আমার শ্বশুর খুবই অসুস্থ, তাকে নিয়ে আমরা সবাই হাসপাতালে ছুটাছুটি করছিলামতারপর বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে শেষ পর্যন্ত এক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলএ্যাম্বুল্যান্স্‌ থেকে আমার শশুরকে নামানোর পর এক যুবক হাতে একটা কাপড়ের ব্যাগ, সে আমাদের পাশে পাশে ছুটছেমনে হয়েছিল সে আমাদের কেউ একজনসবাই তো আব্বাকে নিয়ে ব্যস্তকিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না কে এই ছেলে আমি দেখতে পেলাম সেই ছেলেটি একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমুচ্ছে; পাশে রাখা সেই কাপড়ের ব্যাগটিঅন্যরা দেখলে মনে করবে সে আমাদের সাথে এসেছে আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না আমি বাসায় চলে এলামতার পরদিন যখন আমি আবার হাসপাতালে গেলাম; রাতের বেলা কেবিন থেকে বের হয়ে দেখলাম যে, সেই ছেলেটি আজও ওখানে ঘুমুচ্ছে আমার শব্দ শুনে সে জেগে গেছেআমি ওর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম সে আমাকে কিছু বলতে চায়আমি কাছে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কি কেউ এখানে ভর্তি হয়েছে? ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, নাআমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আপনি এখানে কি করছেন প্রতিদিন ?’ সে বলল, আমার কথা কি আপনার বিশ্বাস হবে ? আমার কথা শুনার মত সময় কি আপনাদের আছে?’ আমি বললাম, হ্যাঁ বলুন আমি আপনার সব কথা শুনব

সে বলতে লাগল, আমার বাবা নেইআমি বাবা মার বড় সন্তানতিন বোন আর মাআমার মা খুব অসুস্থটাকার অভাবে চিকিৎসা চলছে না আমি অনেক কষ্ট করে এইচ.এস.সি পাশ করেছি টাকার অভাবে আর লেখা পড়া হয়নিঅনেক চেষ্টা করেও কোন কাজ পাচ্ছিলামনা মায়ের চিকিৎসার টাকা দিতে বোনদেরকে দু-বেলা দুমুঠো ভাত আমি দিতে পারিনিএসব কষ্ট সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চলে এলাম এই ঢাকা শহরে! এখানে এসে বুঝতে পারলাম আমি কতটা অসহায়, পৃথিবী কত কঠিন! মানুষ কত নির্মম! এখানে সবাই খুব ব্যস্ত নিজেদেরও প্রয়োজনেএক মূহুর্তের জন্যও কেউ কাউকে সময় দিতে চায়না আমি বললাম, আসলেই সবাই খুব ব্যস্ত, তাই সময় দিতে পারছেনা
ছেলেটি আবার বলতে লাগল, একদিকে মায়ের সে অসুস্থ মুখ অন্যদিকে বোনদের ক্ষুর্ধাত মুখ আমার চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ভেসে ওঠেআমি ভাই হয়ে ওদের জন্য কিছুই করতে পারিনি তাই উপায় না পেয়ে অনেক বলে কয়ে এক গ্যারেজ থেকে একটা রিক্সা নিয়েছিলামপ্রতিদিন যা পেতাম তাতে ওদের টাকা জমা দিয়ে আমার থাকত ৭০/৮০ টাকাএই টাকা দিয়ে আমি নিজে চলব নাকি বাড়িতে মা, বোনদের জন্য পাঠাব? ওরা তো আমার আশায় বসে আছে, তাই আমি সারাদিন এক বেলা খাই, অনেক দিন না খেয়েও থাকি কিন্তু রাতে তো কোথাও থাকতে হবে তাই সন্ধ্যার পর রিক্সা গ্যারেজে জমা দিয়ে আমি ছুটতে থাকি বিভিন্ন হাসপাতালে

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হাসপাতালে কেন ?’ উত্তরে সে বলল, বুঝতে পারছেন না, হাসপাতালে কেন ?’ আমি মাথা নেরে বলাম, নাছেলেটি বলল, অবশ্য আপনাদের মত লোকরা আমাদের মত এই গরীবদের দুঃখের কথাগুলো না বুঝার-ই কথাআমি কিছু বুঝতে না পেরে চুপ করে আছিসে আবার বলতে লাগল, একেক দিন একেক হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি, যখন দেখি কোন একটা এ্যাম্বুল্যান্স তখনি পাশে পাশে থাকি এবং রোগীর সাথে যে মানুষ আসে তাদের সাথে ঢুকে যাইহাসপাতালের লোক জন মনে করে আমি সে রোগীর কেউ হইতারপর যতদিন সে রোগী থাকে আমিও ততদিন থাকিসারারাত এই চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকি, সকালের অপেক্ষায়যখনি রাত শেষে ভোর হয় তখনি রিক্সার জন্য গ্যারেজের দিকে ছুটতে থাকিএভাবে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে আমার রাত চলে যায় আর দিন চলে রিক্সায়এভাবে মাসের পর যে টাকা জমে সেগুলো দেশের বাড়িতে আমার মা, আর বোনদের জন্য পাঠিয়ে দেইওরা ভাল থাকলেই আমি ভাল থাকবওরা জানে আমি ঢাকা শহরে খুব ভাল চাকরি করি

আমি বললাম, তাহলে আপনার খাওয়া, গোসল এগুলো? ’ সে আমাকে বলল, যদি কখনও সম্ভব হয় তাহলে হাসপাতালেই গোসল করিসে আরও বলল, আমি এখানে মাঝে মাঝে ডিউটিও করিআমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম সে একটু হেসে বলল ডিউটি বুঝতে পারছেন না তো? অনেক রোগী আসে যাদের সাথে কেউ থাকে না, যদি কখনও এরকম দেখি তখন ওদের জন্য আমার খুব মায়া হয়, সে রোগীর জন্য আমি কিছু করার চেষ্টা করিআমি যদি বলি যে আমি এভাবে এখানে থাকি তখন হয়ত কেউ আমাকে সন্দেহ করবে, বা রোগীটিও আমাকে ভুল বুঝতে পারে তাই বলি যে আমার ও এখানে রোগী আছে, সে কথা বলে সেবা যত্ন করি

আমি ছেলেটির সব কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম, মনে মনে ভাবলাম যার সময় শেষ আমরা তাকে জোর করে আটকাতে চাইআর যার বেঁচে থাকা খুব দরকার, বাঁচার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছে তাকে আমরা একটু সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসি নাআমি কিন্তু ছেলেটির জন্য কিছুই করতে পারিনি! আমি পারতাম অন্তত একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতে কিন্তু আমি তা করিনিকারণ আমার সংসার, আমার সমাজ; পাছে লোকে কিছু বলে, দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ,ভয় এসব ভেবে আমি আর কিছু করতে পারিনি সেই ছেলেটির জন্যআমি তাকে তার মায়ের জন্য কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে নেয়নিসেলেছিল, আমার মাকে আল্লাহ্‌ দেখবে কোন মানুষের সাহায্য আমি চাই না

আমি তাকে আর কিছুই বলতে পারিনিসেই ছেলেটির কথা আমার প্রতি মূহুর্তে মনে পরেমনে হয় গ্রামের এই সহজ সরল ছেলেটি নিজের সাথে সংগ্রাম করতে করতে হয়ত একদিন উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারবেআবার এমনও হতে পারে যে টাকার জন্য সে নিজের আত্ম বিশ্বাস হারিয়ে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারেহয়তবা হয়ে যাবে বখাটে মাস্তানএর জন্য তো আমরা সবাই দায়ীআমাদের সমাজের এই বৈষম্য থেকেই তো সমাজে সর্বপ্রকার অরাজকতা এবং বিশৃংখলার সৃষ্টি

আমিতো আর কিছু করতে পারিনিদোয়া করি, এই রকম সব ছেলেরা যেন, জীবনের সাথে সংগ্রাম করে একদিন উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারেআমি একজনকে জেনেছি, কিন্তু এরকম আরও কতশত ছেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেআমরা কি কেউ তাদের খবর রাখি?

ট্রাফিক জামে ফুল বিক্রি করা সেই মেয়েগুলো

Title of this post: Girls who used to sell flower in the traffic Jam in Dhaka city by M.G. Rabbany


বিথি আক্তার






"আমার বয়স ১৩ বছরের মতো হবেআমি বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান, আমার আরো তিন বোন আছে কিন্তু আমাদের কোন ভাই নাইআমার বড় বোন বয়স ১৬ বছরের মতো গার্মেন্টস-এ কাজ করতো, প্রায় এক বছরের বেশী হলো তার বিয়ে হয়ে গেছেআমার বাবার নাম দুলাল বয়স ৪০ বছরবর্তমানে সে কোন কাজ করতে পারে না কারন সে অসুস্থ। পূর্বে সে রিক্সা চালাত কিন্তু ৪বছর আগে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েকোমরের ব্যাথার কারণে কোন কাজ করতে পারে না

আমার মা গৃহপরিচারিকার (বুয়া) কাজ করেন এবং বলতে গেলে তিনিই একমাত্র উপর্জনকারীনতুন বাজার থেকে পূর্বদিকে নূরের চালা মুড়ি ফ্যাক্টরির পাশে আমাদের বাসাটিনসেট একটি ঘরের ছোট একটি রুম

ে আমরা সবাই থাকি - প্রতিমাসে ভাড়া দিতে হয় ১১০০ টাকা

আমি দু বছরের মতো লেখা-পড়া করেছিআমাদের এলাকায় একটি এন.জি.ও ছিল কিন্তু দু-বছর পড়ানোর পর গত জানুয়ারীতে বন্ধ হয়ে যায়বর্তমানে আমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারি এবং অংক ও ইংরেজী অল্প অল্প পারিখুব ইচ্ছে ছিল লেখা-পড়া করার কিন্তু কোথাও আর পড়া হলো নাবর্তমানে আমি প্রায় সারাদিন বাসায় থাকি এবং ঘরের কাজ করিরান্না বান্না থেকে প্রায় সবই নিজেই করিকাউকে না জানিয়ে আমি গার্মেন্টস চাকরীর জন্য গিয়েছিলামও কিন্তু ছোট বলে আমাকে কাজ দেয়নিপূর্বে আমি গুলশানে ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতামআমি এবং আমার আরো তিনজন বান্ধবী মিলে ফুল বিক্রি করতামকিন্তু এখন একটু বড় হয়েছি বলে বাবা-মা ফুল বিক্রি করতে দেয় নাবাবা-মা এখন আমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেতারা কয়েক বার আমাকে বিয়ের কথা বলেছেআমি কেঁদেছি এবং বলেছি তারা যদি আমাকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চায় তাহলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব যেদিকে দু চোখ যায়।"

কুলসুমা








"আমার বয়স ১২ বছর
আমি বাবা-মার সবচেয়ে ছোট সন্তানআমার বড় দুজন ভাই আছেআমার বাবা নেই আমি যখন খুব ছোট তখন আমার বাবা মারা গেছেনআমার মা আগে গৃহপরিচারিকার (বুয়া) কাজ করত কিন্তু বর্তমানে সে বৃদ্ধ এবং অসুস্থ কোন কাজ করতে পারেনাআমার মেঝ ভাই একটি স্কুলে কাজ করে কিন্তু সে বিয়ে করে আলাদা থাকেআমাদের কোন খোঁজ নেয় নাআমার বড় ভাই কোন কাজ করে না - সে মাদকাশক্ত এবং জুয়া খেলেসে গাঁজা এবং হিরোইন খায়সে আমাদের সাথে খায় না - গভীর রাত্রে ঘরে এসে ঘুমায় এবং দিনের বেলায় চলে যায়সে আমাদের কোন টাকা দেয়না কিন্তু মা এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে বলতে গেলে আমাকে সব খরচ বহন করিতে হয়আমি আগে গুলশান-২ ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতাম কিন্তু বেশী আয় করার জন্য আমি এখন টোকাইয়ের কাজ করিরাস্তার পাশের ডাস্টবিনের ভিতর থেকে ময়লার কাগজ, পলিথিন ব্যাগ, বোতল, ক্যান ইত্যাদি সংগ্রহ করি এবং ভাঙ্গারী দোকানে বিক্রি করিসপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কাজ করি- এতে প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মতো আয় হয়আমাকে প্রতিদিনের খাবার এবং অন্যান্য খরচ ছাড়াও প্রতিমাসে ১২০০ টাকা ঘর ভাড়া দিতে হয়আমাদের বাসায় বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও বাড়ীওয়ালা রাত্রের বেলাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে

আমি একটি এন.জি.ও স্কুলে দু-বছর লেখা-পড়া করেছিআমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারিঅংক এবং ইংরেজী কিছু কিছু পারিআমি স্কুলে ভালো ছাত্রী ছিলামদু - বছর পর গত জানুয়ারী মাসে স্কুল বন্ধ হলে আমার লেখা পড়াও বন্ধ হয়ে যায়।"

লাভলী আক্তার






"আমার নাম লাভলী আক্তার, বয়স ১৩ বছর
আমি বাবা-মার সবচেয়ে বড় সন্তান আমার একজন ছোট ভাই এবং একজন ছোট বোন আছেআমার বাবা নিয়মিত রিক্সা চালাত কিন্তু দু-বছর আগে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এখন পর্যন্ত সে কোনো কাজ করতে পারেনাআমার বাবার নাম বাবু এবং তার বয়স ৪০ বছরের মতো হবেআমার মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে এবং বর্তমানে তিনিই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। আমাদের গ্রামের বাড়ী ঢাকার ডেমরা কিন্তু সেখানে আমাদের কিছুই নেইআমি আগে গুলশান-২ ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতাম কিন্তু এখন বাবা-মা ফুল বিক্রি করতে যেতে দেয় না কারন তারা বলে আমি এখন বড় হয়ে গিয়াছিতারা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেকিছুদিন ছেলে পক্ষ এসে দেখে গেছে শুনেছি ছেলে কোন এক গার্মেন্টসে চাকুরী করেআমি এ বিয়েতে রাজি ছিলাম না, আমি অনেক কেঁদেছি এবং বলেছি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবএখনো বাবা-মা আমাকে বিয়ের কথা প্রায়ই বলে যাতে আমি রাজি হইআমার ইচ্ছে ছিল লেখা-পড়া করব এবং কমপক্ষে গার্মেন্টসে চাকুরী করবএকদিন আমার বান্ধবী বিথির সাথে একটি গার্মেন্টসে গিয়েছিলাম চাকুরী নেওয়ার জন্য কিন্তু আমাদের অল্প বয়স বলে চাকুরী দেয়নি। আমি কোন স্কুলে লেখাপড়া করিনি কিন্তু দু-বছর একটি এন.জি.ও স্কুলে পড়েছিগত জানুয়ারী মাসে আমাদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছেআমি বাংলা এবং অংক লিখতে ও পড়তে পারি।"

রুবি আক্তার






"আমার নাম রুবি আক্তার বয়স ১৩ বছর
আমি বাবা-মার ছোট সন্তান, আমার বড় দুই ভাই এবং দুবোন আছেআমার বড় দু-বোনের বিয়ে হয়েছে এবং তারা তাদের স্বামীর সাথে থাকেআমার বড় ভাই রিক্সা চালায়, সেও বিয়ে করেছে এবং তার পরিবার নিয়ে আলাদা থাকে আমার দ্বিতীয় বড় ভাই কোন কাজ করেনা সে নেশাখোর, জুয়াখেলেসে গাঁজা, হিরোইন খায় এবং জুয়াখেলেসে প্রায়ই আমাদের ঘর থেকে টাকা অথবা কোন জিনিস চুরি করে বিক্রি করে নেশা করেমা এবং আমাকে মাঝে মাঝেই মারেআমার বাবা অন্য আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র থাকেমাঝে মাঝে বেড়াতে এলেও কোন খরচ দেয় নাআমার মা একজন ভিক্ষুক সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায়আগে আমার মা বুয়ার কাজ করিত কিন্তু এখন সে খুব দুর্বল কাজ করতে পারেনাসে ভিক্ষাও ঠিকমত করতে পারেনা

আমি আগে ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করিতাম কিন্তু কয়েকটি কারনে এখন করিনা ফুল সন্ধ্যার পরে বিক্রি করা যায় বেশি, কিন্তু আমার বান্ধবীরা কেউ আসেনা এবং এ কাজে বেশী আয় করা যায় নাকিন্তু আমাকে পরিবারের প্রায় সব খরচই বহন করতে হয়আমাকে বাসা ভাড়া হিসাবে প্রতি মাসে ১১০০ টাকা দিতে হয়মা বেশী বেশী ভিক্ষা করিতে পারেনা বলে আমাকেই প্রায় সব খরচই দিতে হয়তাই আমি ফুল বিক্রি বাদ দিয়ে টোকাইয়ের কাজ করছিগুলশান মার্কেটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং ডাস্টবিনের ময়লা থেকে কাগজ, পলিথিন, ক্যান, বোতল ইত্যাদি সংগ্রহ করি এবং ভাঙ্গারী দোকানদারদের কাছে বিক্রি করিপ্রতিদিন কাজ করলে সপ্তাহে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মতো আয় করা যায়

কিছুদিন আগে বাবা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য একটি ছেলে ঠিক করেছিলো তখন আমার বড় ভাই বিয়ে দিতে দেয়নিআমার বড় ভাই বাবাকে বলেছে এত ছোট বয়সে বিয়ে দেওয়া ঠিক নাআমিও এখন বিয়ে করতে চাই নাআমি লেখা-পড়া শিখে গার্মেন্টস বা কোন অফিসে চাকুরী করিতে চাইআমি প্রায় দু-বছর একটি এন.জি.ও স্কুলে লেখাপড়া করেছিআমি বাংলা এবং অংক লিখতে ও পড়তে পারি এবং কিছু কিছু ইংরেজী পড়তে পারি।"


এই চারজন মেয়েই একই বাসায় আলাদা আলাদা রুম ভাড়া নিয়ে তাদের পরিবারের সাথে থাকেপ্রতিটি কক্ষের ভাড়া ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকাতাদের ঘরের চাল টিনের, বেড়া বাশেঁর এবং মেঝে কাচা মাটির১২ থেকে ১৪ টি পরিবারের জন্য রয়েছে দুটি অরক্ষিত টয়লেট, গোসলের জন্য খোলা জায়গা তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ সংযোগ দিনের বেলা মাঝে মাঝে পেলে রাত্রে বিচ্ছিন্ন থাকেমশা, দুর্গন্ধ এবং অসহ্য গরমে তাদের ঘুমানো খুবই কঠিনবিদ্যুতের জন্য বাড়ীওয়ালাকে বললে বাড়ী থেকে চলে যেতে বলেতাদের টয়লেটটি খোলা বলে খুব দুর্গন্ধ ছড়ায়

এই চারজন ছোট বালিকা গুলশান-২ গোলচক্করে ফুল বিক্রি করত এবং ২০০৩ সালের দিকে আমাদের সাথে পরিচয় হয়েছিলআমাদের নারী জীবনের চেয়ারম্যান ডঃ ক্যাথরিন বি-ওয়ার্ড যখনই বাংলাদেশে আসেন তখনই তাদের খোঁজ নেনতাদেরকে সাহায্যও করে থাকেন এবং তাদের খুবই ভালবাসেন

যেমন- এই চারজন বালিকাকে তাদের জীবনের স্বরনীয় কোন ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করিলে চারজনই একই একই দুটি ঘটনার কথা বর্ননা করেন

প্রথমটি হলো: প্রথম যেদিন তাদের মধ্যে দু-জন ডঃ ক্যাথরিনের কাছে ফুল বিক্রি করিতে গেলে ফুল না নিয়ে প্রত্যেককে ১০০টাকা করে দেন
দ্বিতীয়টি হলো: যেদিন তারা ডঃ ক্যাথরিনের অফিসে গিয়েছিল এবং তাদের সবাইকে খুবই ব্যায় বহুল রেষ্টুরেন্টে নিয়ে সুস্বাদু খাবার খাওয়াল
তাদের ভাষায় ম্যাডাম তাদের বাবা-মার চেয়েও বেশী আদর করেন এবং তারাও তাকে খুব ভালবাসেন

Tuesday, August 28, 2007

নারী

Title of this poem: “Women” by Tahmina Akter
Content of this poem: “In Bangladesh women are always despised and deprived from their rights in the male dominated society. However women have increased their self estimate and stepping ahead. Women always make confidence to acquire accomplishment for men but men don’t evaluate it” author exemplify her thought from beginning to end in her poem.


নারীই মাতা, নারীই দাতা, নারীই সুখের ধারা,
নারীর কারণে হয়েছে সৃষ্টি, ধরনীর তরুলতা
যুগে যুগে নারী রয়েছে যত অবহেলা অনাদরে,
তবুও নারী হারায় নিকো তার বিশ্বাসকে চিরতরে
নরশাসিত সমাজে নারী তুচ্ছ, বঞ্চিত,
নারী বিনা নর থাকিতো পশ্চাতে সে কথা যদি সে বুঝিত
নারীর কারণে করেছে নর এই বিশ্ব জয়,
নারী বিনা নর নাহি পৌঁছিত উন্নতির দরজায়
নারীই তার আপন মহিমায় গড়েছে এই ভূবন,
নারী বিনা কভু না পাইতাম আমাদের এ জীবন
নারীর কারণে পেয়েছি মোরা সম্মান মর্যাদা
নারীই আজীবন রাখিয়াছে ধরি বিশ্ববাসীর মান
নারীর কারণে হয়েছে ধরনী চির কল্যানকর
নারীকে মোরা বলিতে পারি কল্যানময়ী মাতা
নারীই কল্যানী, নারীই বিশ্বাসী, নারীই প্রেরনাময়ী,
তাই আজীবন মোরা করিবো স্মরন নারীকে শ্রদ্ধাভরে

Saturday, August 25, 2007

একটি বর্ষনমুখর সন্ধ্যা

Title of this post: A rainy evening by Sumaya Marzana.
Content of this post: Author described her feelings in her writings. Author like drop of rain and rainy evening but she dislike when it makes hazard for human.

নীল আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। সকাল থেকে শুরু করে সারাদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। বিকালের এক ঝলক রোদের পরে আবার জমাট বাধঁতে শুরু করছে মেঘ। মেঘের গুরু গর্জনে ও আকাশের বিদ্যুৎ চমকানির মধ্য দিয়ে লজ্জায় লাল হচ্ছে অস্তায়মান সূর্যটা, বর্ষণমুখর মুহুর্ত এ এক দুর্লভ রূপ। আমি অনেক বর্ষণমুখর দিন দেখেছি কিন্তু আজকের মত এত দূর্লভ এত প্রাণবন্ত মুহুর্ত আমার জীবনে আগে কখনো আসেনি। এ দুর্লভ মুহুর্তে আমিই যেন একক অধিপতি। প্রকৃতির এই বিষন্নতাই হয়তো আমার ভাবনাগুলোকে এলোমেলো করে দিল। অন্ধকার নেমে আসছে। বৃষ্টির প্রতিটা ফোটার শুদ্ধতা ভোগের লোভ সামলানো গেল না। বসে পড়লাম জানালার পাশে। অন্ধকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেন বেড়ে চলছে বৃষ্টি। ভাষাহীন অন্ধকারে বৃষ্টিপাতের অবিরাম শব্দ যেন হঠাৎ নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গের পর অবিরাম নূপূরের ছন্দ তুলে বয়ে চলা। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি পতনের এ ধ্বনি কার না হৃদয়ে সংগীতের সুর মুর্চ্ছনা জাগায়,কার না হৃদয়ে কাব্যের অনুভূতি দোলা দেয়। বিশ্ব কবির কবিতায় এ মুহুর্তটির অনুভবে, আমার হৃদয়ে বেজে উঠলো-

"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
...........................
সে কথা শুনিবে না কেহ আর
নিভৃত নির্জন চারিধারে।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অর্নিবার
জগতে কেহ যেন নাহি আর।"

বিষন্ন প্রকৃতির বুকে এ রকম কাব্য সংগীতের সুরলহরী আমাকে রোমান্টিক করে দেয়। কাকে কী বলা যায় তা কবিগুরু জানান নি; কিন্তু এমন উদাস করা মুহুর্তোই যেন আমাকে সব জানিয়ে দিল। এ যেন এক অদ্ভুদ অনুভুতি। এই রকম এক সুন্দর মুহুর্তে নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভীষন ভাল লাগে। আর আমি এখন তাই করছি। হঠাৎ করে আমার ফোনটি বেজে উঠল। দেখলাম আমার এক প্রতিবেশী ফোন করেছে। সে আমাকে তার করুন কন্ঠে বললো- এই দীর্ঘ বৃষ্টির ফলে তার বাসার সামনে পানি জমে যায় এবং তার বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়।

এই কথা শোনার পর আমার সব ভাল লাগাটুকু নিমিষেই শেষ হয়ে গেল জল ধারা প্রবাহের মতো। এই বৃষ্টি যেন মানুষের মনকে যেভাবে আবেগ প্রবন করে তোলে ঠিক তেমনি যেন পরিণত করতে পারে বেদনা বিদুরে। কিন্তু আমি তা চাই না যা মানুষের ক্ষতি করে। ভাল লাগার প্রতিটি মুহুর্তই যেন কোন না কোন কারনে শেষ হয়ে যায় হারিয়ে যায়। আমি ঠিক আমার জীবনে ঐ ক্ষণিক সময়ের ভাল লাগাটুকু হারিয়ে ফেলেছি যা কিছুক্ষনের জন্য আমাকে আনন্দ দিয়েছিল। আমি এই দিনটির কথা আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে লিখে রেখেছি।

Tuesday, August 21, 2007

নারীর অধিকার

Title of this post: women rights written by Afroza Akter kazol
Contents of this post: In this poem writer expressed her thoughts on women rights and dignity.

আমরা নারী আমরাও পারি

করতে সবকিছু

নারীরা আর থাকবে না বসে

অসহায় ও নীপিরণের বেসে।

নারী কেন থাকবে শিক্ষা বঞ্চিত

নারী পুরুষের জন্য শিক্ষা অন্তরহীত

নারীরা সমাজের অর্ধ অঙ্গ

ওরা না থাকলে সমাজ পঙ্গু

নারীর জাগরনে জাগতে হবে

নিজেদের স্বাধীন ভাবতে হবে

ওরা চায়না আর অবহেলা

চায় শুধু একটু মর্যাদা

পুরুষ ও নারী উভয় মানুষ

বুঝেনা কেন সমাজের পুরুষ

আজকের এ সমাজ সংসারে

দাসী হয়ে আছে কেন নারীরা

নারীরাও পারে ধরতে হাল

পুরুষের সমপায়

নারীর যদি থাকে বসে ঘরে

চলবে না এ সমাজ

তাই নারীদের কেও দিতে হবে

পুরুষের মত সম অধিকার

নারীরা পারে গড়তে

বিশ্ব জয় করতে

নারীদের এই মত

নারীরাই হল সব।