Saturday, February 9, 2008
ভাসানী নভোথিয়েটার
বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নির্মিত “ভাসানী নভোথিয়েটার” উদ্বোধন করা হয় ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। রাজধানীর বিজয় স্মরনীর মোড়ে অবস্থিত ভাসানী নভোথিয়েটার প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। সম্পূর্ন দেশীয় অর্থায়নে ঐটি নির্মান করেছে সরকারের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির স্থপতি আলী ইমাম। ৫,৪ একর জমির উপর ভাসানী নভোথিয়েটারের অবস্থান। এ প্রকল্পে রয়েছে তিন তলাবিশিষ্ট মূল নভোথিয়েটার ভবন, ভবনের কেন্দ্রভাগে দৃষ্টি নন্দন অ্যালুমিনিয়াম মেটালি ডোম, ভেতরে ২৭৫ টি বিশেষ ধরনের আসনবিশিষ্ট প্লানেটরিয়াম, ১৭০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, ভবনের সম্মুখভাগে ও দুই পাশে তিনটি জলাধর, পেছনের অংশে তিন তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, জ্যোতিবিজ্ঞানে জ্ঞান লাভের জন্য নানা রকমের প্রদর্শনী, ল্যান্ডস্কেপসহ ফুলের বাগান, ফোয়ারা গার্ডেন লাইট প্রভৃতি। ভবনটির ডোমের আয়তনের ব্যাস ৯৬ ফুট। কেন্দ্রে রয়েছে ৭০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি মেটালিক ডোম। নভোথিয়েটারের কেন্দ্রে অবস্থিত ২৩ মিটার ইনার ডোমের উপর নিচ থেকে প্রায় ১৫০ টি প্রজেক্টের ব্যবহার করে মাল্টিপল ইমেজের সমন্বয়ে একটি কৃত্রিম মহাকাশ তৈরি করা হয়েছে। নভোথিয়েটারের পাঁচটি লেভেল। মাটির উপরের দুইটি লেভেল হচ্ছে +৫১০০ এবং +০০ লেভেল। এই গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রদর্শনী বস্তু, টিভি স্ক্রিন, সিসি টিভি প্রভৃতি। মাটির নিচের তিনটি লেভেল হচ্ছে ৩৭০০, ৫৮৫৮, ৯৭৫০ লেভেল। এই তিনটি লেভেল যথাক্রমে রয়েছে জনসাধারনের জন্য ১৫০টি কার পার্কিংয়ের সুবিধা, পূর্ব আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য সিঁড়ি, পাশেই রয়েছে বিজ্ঞান মেলা বা প্রদর্শনীর জন্য বিশাল জায়গা, টিকেট কাটার জন্য আলাদা কাউন্টার। ভবনটির দুটি ভূগর্ভস্থ, ফ্লোরে দেশ বিদেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ছবি ও জীবন বৃত্তান্ত রয়েছে। এখানে ২০০০ কিলো ভোল্টা অ্যাম্পিয়ার (কেভিত্র) বৈদুৎতিক উপকেন্দ্র এবং ৫০০ কেভিত্র ইমারজেন্সি প্যানারোমা লিফট স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ১২ টি ক্যামেরা সম্বলিত সি সি টিভি।
১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এ নভোথিয়েটার প্রকল্পের দলিল তৈরি হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নাম করন করে দরপত্র আহবান সহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে দু-বার ও ১৯৯৯ সালে একবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে প্রক্ষেপন যন্ত্রপাতি সর্বরাহের কাজ দেয়া হয়। জাপানের গোটো অপটিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে। মেটালিক ডোম স্থাপনের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাণে মেসার্স গ্যাসমিনসহ বিগত সরকারের আমলে এই নভোথিয়েটার নির্মানে স্থবিরতা এর নির্মান ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নভোথিয়েটারের অর্ধ গোলআকৃতির ডোম আছে বিমোহিত করার মত প্রক্ষেপন পদ্ধতির যন্ত্রপাতি। অ্যাস্ট্রোটেকের পারফোরেটেড এলুমিনিয়াম পদা গোটোর জিএসএস হেলিয়স স্পেস সিমুলেটের বিভিন্ন ধরনের স্পেশাল প্রজেক্টর এবং অ্যাষ্ট্রোভিশন ৭০।
বিজ্ঞান সহায়ক এ নভোথিয়েটারে সম্পূর্ণ বিনোদনের মাধ্যমে মানুষকে বিজ্ঞান মনষ্ক করে তোলার জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে বিস্ময়কর ছবি। মনে রাখার মত প্যানো-হেমিসকারিক প্রক্ষেপন যন্ত্রের সাহায্যে দেখানোর হচ্ছে প্ল্যানেট শো জার্নি টু ইনফিনিটি। ডাঃ বিল গুস এর অসাধারন সৃষ্টি জানি টু ইনফিনিট ছবিতে জি এস এস হেলিয়স অ্যাষ্ট্রোভিশন ৭০ যৌথভাবে দর্শকদের নিয়ে যায় এক ভিন্ন জগতে। অনন্য সে যাত্রাপথে বিস্ময়কর শব্দ ও ছবির সম্মিলন ঘটে। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রক্ষেপন যন্ত্রের অনিন্দ্য সুন্দর বর্ণিল আলোকচ্ছটা অ্যাষ্ট্রোভিশন ছবি এবং স্কাইক্যান ভিডিও পৌঁছে দেয় সৌরমন্ডলে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীতে। সেখান থেকে দেখা যায় মহাকাশের বিস্তৃত সীমা। সেখান থেকে দেখা যায় মহাকাশের বিস্তৃত সীমা। খুব কাছ থেকে দেখা যায় তাহার মৃত্যু এবং এগুলোর কোন কোনটির কৃঞ্চ গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। সূর্যের বুকে আগুনের সাগর। সূর্যের প্রচন্ড তাপে দগ্ধক্ষত বিক্ষত বুধ গ্রহের অবয়ব। দেখা যায় শনির বলয় কিংবা গ্রহরাজ বৃহষ্পতি। অবিশ্বাস্য সে আলো ও শব্দের কারসাজি না দেখালে বিশ্বাস করার মত নয়। শূন্যে ভেসে ভেসে দেখা যায় আমাদের সৌরজগতের সকল গ্রহ ছায়াপথ সহ বিস্ময়কর সৃষ্টি প্রক্রিয়া। অন্যান্য স্পেস থিয়েটারের মত ভাসানী নভোথিয়েটার জ্যোতিবিজ্ঞানকে তুলে ধরার পাশাপাশি জীববিজ্ঞান ইতিহাস, শিল্প ভূগোলে নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকের সাথে এর যোগসূত্র স্থাপন করবে।
গাছ
গাছ হল বড় বন্ধু,
যার মাঝে নেই দ্বন্ধ।
নেই তার কোন স্বার্থ,
মানুষের কল্যানে করে নিজেকে নিয়োজিত।
গাছের জন্যই বেচেঁ আছি,
পৃথিবী আজও টিকে আছে।
যত বেশি পার গাছ লাগাও,
পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাচাঁও।
গাছের বেশি করে যত্ন নাও,
একটি কাঁটলে দুইটি লাগাও।
তাহলেই পৃথিবী হবে সবুজ শ্যামল,
এবং মানুষের বাসযোগ্য।
ব্লগার প্রোফাইল- (শিক্ষার্থী)
নিনা সুলতানা মীম

আমার নাম নিনা সুলতানা মীম। ২৯শে অক্টোবর,১৯৮৯ সালে আমি ঢাকায় জন্মগ্রহন করি। আমার বাবার নাম আবদুল কাসেম, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। আমার মায়ের নাম নাসিমা আক্তার সীমা, তিনি একজন আদর্শ গৃহিনী।
আমার শখ হল গান শোনা এবং গল্পের বই পড়া।
আমি আমার এক বান্ধবীর কাছ থেকে নারী জীবনের কথা জেনেছি এবং তার সাথে এখানে আসি। এখন আমি এখান থেকে ইংলিশ স্পোকেন এবং কম্পিউটার কোর্স করছি।
রুমি আক্তার
আমার নাম রুমি আক্তার। আমার জন্ম নারায়নগঞ্জে। আমার ছেলেবেলা কেটেছে নারায়নগঞ্জে। আমার জন্ম তারিখ ৩য় নভেম্বর,১৯৯০। আমার বাবার নাম রহমান আলী। তিনি মারা গেছেন। আমার মায়ের নাম রহিমা বেগম। তিনি একজন গৃহিনী। আমরা দুই বোন এবং এক ভাই। আমি এস.এস.সি পরিক্ষার্থী। আমার গ্রাম আমার প্রিয় স্থান। বিভিন্ন ধরনের সিনেমা দেখা আমার শখ। আমি লেখাপড়া শেষ করে কোন ব্যাংকে কাজ করতে চাই।
আমি আমার বোনের কাছ থেকে নারী জীবনের সম্পর্কে জেনেছি। আমি নারী জীবনকে ভালবাসি কারণ আগে আমি কিছুই জানতাম না কিন্তু এখন আমি কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি, ইংরেজী বলতে পারি, ব্লগ সম্পর্কে জেনেছি এবং এছাড়া আরোও অনেক কিছু নারী জীবনে এসে জেনেছি। প্রথমে আমি নারী জীবনের ইংরেজী-১ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আমি ইংরেজী-২ এবং কম্পিউটার ক্লাসের একজন শিক্ষার্থী।
আমি নারী জীবনে আসার পর ব্লগ সম্পর্কে জেনেছি আগে আমার এটার উপর কোন ধারনা ছিল না। এটি খুব আনন্দদায়ক। আমি আমার লেখার মাধ্যমে আমাদের দেশের সংস্কৃতি এবং এদেশের লোকজনদের চালচিত্র অন্যদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
ব্লগার প্রোফাইল- (শিক্ষার্থী)
সালমা আক্তার
আমি সালমা আক্তার। আমার বয়স ২৬ বছর। আমি ৩০শে জুন ১৯৮০ সালে ঢাকায় জন্ম গ্রহন করি। আমি বিবাহিত। আমার শাশুরি, শশুর, দেবর, আমার স্বামী এবং আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমার সংসার। আমি ১৯৯৫ সালে এস.এস.সি, ১৯৯৮ সালে এইচ.এস.সি এবং ২০০০ সালে ডিগ্রি পাশ করি। কক্সবাজার আমার প্রিয় স্থান। আমার সখ গান শোনা।
আমি আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে নারী জীবন সম্পর্কে জানতে পারি। বর্তমানে আমি নারী জীবনের ইংলিশ ও কম্পিউটার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। নারী জীবনে এসে আমি প্রথমে ব্লগ সাইটের কথা জেনেছি। এটা আমার জীবনের নতুন একটা অংশ এবং এটি খুব আনন্দদায়ক। ব্লগসাইটের মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের দেশের মানুষের জীবনচিত্র অন্যদেরকে জানাতে পারি। একজন নতুন লেখিকা হিসাবে আমি কিছু লিখতে চেষ্টা করব। এই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ হল নারী সাইবার ক্যাফে। এটা শুধুমাত্র নারীদের জন্য। এখানে আমরা সবাই ক্লাসের টপিকস অনুশীলণ করতে পারি এবং ব্রাউজ করতে পারি। আমি নারী জীবন থেকে শিখতে পেরে আনন্দিত।
নুরুন নাহার ইসলাম মুন্নি
আমার নাম নুরুন নাহার ইসলাম মুন্নি। আমার ভাই, বোন, এবং আমার বাবা-মা কে নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় জন্ম গ্রহন করি। ২০০৭ সালে আমি এস.এস.সি পাশ করি। এখন আমি এইচ.এস.সি তে পড়ছি। পাশাপাশি আমি নারী জীবনে ইংরেজী এবং কম্পিউটার শিখছি। আমাদের গ্রাম আমার প্রিয় জায়গা। আমার শখ হল বিভিন্ন রকমের বই পড়া এবং ঐতিহাসিক জায়গা ভ্রমন করা। ভবিষ্যৎতে আমি ব্যবসা করতে চাই।
নারী জীবন একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এখানে নারীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবনকে গঠন করতে পারে। ব্লগ সাইট আমার জন্য নতুন এবং আনন্দদায়ক। আমি আমার চিন্তা, সংস্কৃতি এবং আমাদের দেশের প্রকৃতিক সৌন্দয্য ব্লগে লিখার মাধ্যমে অন্যদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
Friday, February 8, 2008
প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনে কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে ভোট দিন, শীর্ষস্থান ধরে রাখতে নিজ সহযোগিতা করুন এবং অন্যদেরকে উৎসাহিত করুন
এতদিন আমরা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের নাম শুনিয়াছি। মানুষের তৈরি এই সপ্তাশ্চর্যের পরিবর্তন হয়নি দীর্ঘদিন। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চার্য নির্বাচন করার পর “নিউ সেভেন ওয়াল্ডাস ফাউন্ডেশন’’ সাত প্রাকৃতিক আশ্চার্য নির্বাচন শুরু করে।
প্রাকৃর্তিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের সুচনা পরেই চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সুন্দরবন। সারা পৃথিবী থেকে প্রাথমিক মনোয়ন প্রাপ্ত ১৫৮ টি প্রাকৃতিক স্থানের মধ্যে ২৭ ডিসেম্বর ২০০৭ সালের বিকেলে এক নম্বর স্থানে উঠে আসে। পৃথিবীর র্দীঘতম নিরবচ্ছিন্ন প্রকৃতিক সমূদ্র সৈকত কক্সবাজার আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন হল দ্বিতীয় স্থানে।
প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ভাবে মনোয়ন পেয়েছে ১৫৮ টি স্থান। এই তালিকায় আমেরিকার ৫১ টি স্থান, ইউরোপ ৩১- টি স্থান, উত্তর আমেরিকা ২৭টি, এশিয়া ৩০টি স্থান,আফ্রিকা ১৯টি এবং ওসেনিয়া ১০টি স্থান রয়েছে।
একটি মেয়ের নীরব কান্না
একবিংশ শতাব্দির যুগেও বাংলাদেশ এখনও দারিদ্র এবং অশিক্ষার কড়াল গ্রাশে নিমজ্জীত। এখানে নিম্নবিত্ত পরিবারে স্কুল বয়সী ছেলে মেয়েরা স্কুল যাওয়ার পরিবর্তে কাজে বের হয়। তাদের পরিবার তাদের উপর নির্ভরশীল হয়। আমাদের চারপাশে এখনও অনেক দুঃখী মেয়ে রয়েছে। যাদের জীবন অনেক কষ্টে কেটেছে। আমি এখন একজন মেয়ের কথা বলব যার জীবনে নেমে এসে ছিল দুঃখের কালো ছায়া। মেয়েটির নাম ঝর্ণা।
তার জীবনের প্রতিটা ঘটনাই কান্নার। সুখের কোন ছায়া নেই সেখানে। পাহাড় তার কষ্টের কথা অন্যকে বুঝানোর জন্য কান্না দ্বারা প্রকাশ করে । কিন্তু এই কান্নাকে আমরা ঝর্ণা বলে থাকি। ঠিক তেমনি ঝর্ণা মেয়েটির প্রতিটা ঘটনার সাথে তার নামের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পাহাড় তার কষ্টের কথা প্রকাশ করলেও ঝর্ণা তার কষ্ট এবং কান্নার কথা কারও কাছে প্রকাশ করতে পারেনি । সে তার কষ্টগুলো তার বুকে পাথর দিয়ে চেপে রেখেছে। সে তার সংগ্রামী জীবনে ধৈর্য্যের সাথে এগিয়েছে।
ঝর্ণার জন্মস্থান ফরিদপুরে। সেখানে সে মা এবং ভাই বোনের সাথে বসবাস করে। তারা ৬ বোন ১ ভাই। ভাই বোনের মধ্যে ঝর্ণার অবস্থান ৩য়। ঝর্ণা তার বাবাকে হারিয়েছে তিন বছর বয়সে। তাই তাদের সংসারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ঝর্ণার অন্যান্য ভাই বোনেরা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত তাদের সংসারে ব্যয় বহন করত। কিন্তু বিয়ের পর তারা নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই বাধ্য হয়ে ঝর্ণাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। এই কষ্টের মাঝে ঝর্ণা ভালবেসেছে একজনকে এবং তাকে বিয়েও করেছে। সে তার দুটি মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে সুখী জীবন যাপন করত। ঝর্ণা ভেবেছিল তার কষ্টের জীবন শেষ হয়েছে। কিন্তু সংসার জীবনে ও ঝর্ণা সুখী হতে পারে নি। কারন স্বামী তাদের ফেলে চলে যায়। ঝর্ণার কষ্টের পরিমান বেরে যেতে থাকে। সে তার মা এবং মেয়েদের মুখে খাবার দেয়ার জন্য বের হয় কাজের সন্ধানে। সে বাসা বাড়িতে প্রথমে কাজ নেয়। এবং সে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। কিন্তু সে যে কাজ করে তাতে তার সংসার চলে না। তাই সে আরেকটা কাজের খুঁজ করে। এবং সে একটা কাজ পেয়ে যায়। সে আমাদের কলেজের ক্যান্টিনে কাজ করে। সে সব সময় হাসি মুখ করে থাকে। এত কষ্টের মাঝেও সে হাসতে পারে। এখানে সে ছয় মাস ধরে কাজ করছে। সে এই কাজের টাকা দিয়ে বাসা বাড়িতে থাকে এবং মেয়ে দুটকে লেখাপড়া শিখায়। সে বুঝতে পেরেছে জীবনে, লেখাপড়া ছাড়া কোন মূল্য নেই। সে তার এই ছোট জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে। জীবনে কারও কাছে মাথা নত করেনি। সে জীবনের কাছে সংগ্রাম করে টিকে আছে। তার মেয়েদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। তাই সে তার মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেয়। তার বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে ক্লাশ ওয়ান পড়ে। তার মনে অনেক আশা মেয়েদের সে লেখাপড়া শিখাবে মানুষের মত মানুষ করবে। তার জীবনের মতো যেন না হয় তাদের জীবন।
আমার মনে হয় জীবনে ভালবাসাই সব না। জীবনে বেচেঁ থাকার জন্য চাই প্রতিষ্ঠা। আমাদের সমাজে নারীরা এমনিতেই অবহেলিত ও বঞ্চিত। নানা ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তারা। তাই আমাদের সবার উচিৎ আমাদের পায়ের নিচের মাটিকে শক্ত করে তোলা। আমাদের এগিয়ে চলা উচিৎ নতুন এক আলোর পথে.............
Friday, February 1, 2008
স্বাধীনতার পাখি
পাখি তোর নাম, কি? বলবি একবার,
তোর নাম শুনতে ভাল লাগে যে বারবার।
পাখি তুই দেখতে কেমনরে ?
নীল লাল ছায়ায় ঢাকারে,
পাখি তোর কন্ঠ কেমনরে?
নীল কণ্ঠ পাখির চেয়েও বেশিরে,
তুই কেমন পাখি কেমন তোর আকার আকৃতি
তুই কি? স্বাধীনতরি পাখি
হ্যাঁ! হ্যাঁ!! হ্যাঁ!!! তুই তাই তুই তাই
লাখো লাখো ভাইয়ের, মায়ের, বোনের
রক্ত দিয়ে তুই তৈরি
তৈরি তোর ধরন।
তোর জন্য বসে ছিলাম নয় নয়টি মাস
তুই সে সুখের কারন।
Saturday, January 26, 2008
ছোট মনের আনন্দ বেদনা !!!
Content of this post: A mother wrote on her child’s thinking and emotion.
আমার সেই ছোট সোনামণির কথা বলছি। যাকে ঘিরে আমার সমস্ত সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা । যাকে ঘিরে আমার সকল আশা। সে হচ্ছে আমার একমাত্র মেয়ে, কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস (মীম)।
শুধু আমি কেন? প্রত্যেক মা-ই তার সন্তানদেরকে নিয়ে এরকম করে স্বপ্ন দেখে। আমিও দেখি। আমার সমস্ত মন প্রাণ জুড়ে তার অস্তিত্ব। সেদিনের কথা বলছি। তারিখটা ছিল ২৮/১২/০৭। সেদিন ছিল মীমের ফুপাতো বোন ইয়াসমিন দোলন (বৃন্তি)-র জন্ম দিন। মীম বৃন্তির চেয়ে বয়সে বড়। বৃন্তির জন্ম দিন পালন করা হবে ফ্যান্টাসী কিংডমে। আমরা সবাই সেখানে গেলাম। মীম তো খুব খুশি। যাওয়ার আগে প্রতিমুহুর্তে আমাকে জিজ্ঞেস করে বলত, “আম্মু আর কতদিন পর ২৮ তারিখ আসবে?” আমার অনেক সময় অনেক জায়গায় যেতে ইচ্ছে করে না। তারপরও নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্বেও যেতে বাধ্য হই। কারণ আমার মনে হয় আমার ইচ্ছের চেয়ে বেশী বড় হচ্ছে আমার মেয়ের আনন্দটা।
নতুন নতুন জায়গায় যাবে, নতুন কিছু দেখবে, অজানা কে জানবে। আমি সেজন্য একটু সময় পেলেই আমার সোনামণিকে কোথাও না কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। সেই দিন ফ্যান্টাসী কিংডমে আমার মেয়ের আনন্দ দেখে সত্যি আমি অনন্দিত হয়েছি।
ছোট্ট মনের যে শুধু আনন্দ তা নয়, ছোট মনে যত তাড়াতাড়ি আনন্দ পায়, সে রকম আবার দুঃখও পায় অনেক। যা সহজে বুঝানো যায় না। সবাই মিলে যে যার ইচ্ছে মত বিভিন্ন রাইডারে চড়ে সন্ধ্যা ৭ টায় কেক কাটার জন্য একসাথে জড়ো হলাম। কেক কাটার আগে সারাক্ষণ শুধু আমাকে বলতে লাগল, “কখন কেক কাটা হবে আম্মু?” যখনি কেক কাটা শুরু হল সবাই “হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ বৃন্তি” ...... বলতে লাগল তখনি মীমের মন খারাপ হয়ে গেল। আমার কাছে এসে মন খারাপ করে বলতে লাগল, “আম্মু সবাই শুধু বৃন্তি বলে! কেউই আমার নাম বলেনা কেন?” তাকে আবার বলতে হল, “তুমি কি বুঝতে পারছ না আজ তো বৃন্তির জন্ম দিন, তাই বৃন্তিকে বলছে।”এই কথাটা ওকে অনেক বার বুঝাতে হচ্ছিল আমাকে। শিশু মনে সাধারণ কথাই লেগে যায়। আবার সহজে তা ভুলেও যায়। এ যে ছোট্ট মনের চিন্তা চেতনা সত্যি খুব আনন্দময়। এই কথাগুলো অন্য লোকদের কাছে ভাল না লাগলেও বাবা মা’র কাছে স্মৃতিময় হয়ে থাকে আজীবন ।
ছোট্ট মনে কতশত প্রশ্ন জাগে, নতুন কিছু দেখলেই সেটা জানার যে আগ্রহ তা ছোটদেরকে না দেখলে বুঝা যায় না। কেক কাটা শেষ আবার তার বায়না, “আম্মু আমার জন্ম দিন কখন আসবে?” আমি যখন বললাম ১ জুন, মীম বলল, “এত দেরি কেন?” আমি বললাম, “বেশী দিন নেই। এই তো কিছু দিন পরই তোমার জন্ম দিন।” সে বলল, “আম্মু জন্মদিন কিন্তু এখানে করতে হবে।” এই যে, ছোট মনের চাওয়া পাওয়া। চেয়ে যদি কিছু না পায়, তাহলেই ওদের মনের মধ্যে একটা কষ্টের জন্ম হয়। সেই কষ্ট সহজে দূর করা যায় না তাদের মন থেকে। তাই আমি যেটা করতে পারবনা সেটা কখনও বলিনা। মীম আবার বলতে লাগল, “আম্মু আমি জানি তুমি আমার জন্ম দিন এখানে করবে না।” আমি বললাম, “কি ভাবে বুঝলে ?” মীম বলল, “এই যে তুমি কিছু বলছ না। আমি জানি তুমি আমার সাথে মিথ্যে কথা বলনা। তাই চুপ করে আছ।”
এক দিন আমি ওকে মেরেছি, খেতে চায়না তাই। ওর বাবা আমাকে যখন বলল, “মেয়েকে কেন মেরেছ? বাচ্চাদেরকে এরকম করে মারতে হয় না। আর কোন দিন মারবে না।” সে কথা শুনে আমার মেয়ে কান্নার মাঝে বলতে লাগল, “বাবা আমার আম্মুকে কিছু বলবে না। আমার আম্মুর কোন দোষ নাই। আমি দুষ্টমি করেছি তাই আম্মু মেরেছে।” ওর বাবা হাসতে হাসতে আমাকে বলল, “দেখ মেয়ে কি বলে। যার জন্য তোমায় বললাম সেই আমাকে উল্টা বলছে।” ওর বাবা আবার বলল, “তাহলে তো তুমি জান দুষ্টমি করলে মারবে, তাহলে দুষ্টমি কর কেন?” মীম বলল, “বাবা আমি তো ছোট্ট আর ছোটরা তো মাঝে মাঝে দুষ্টমি করেই।” আমার মেয়ের এই কথার পর আমি আর ওকে দুষ্টমি করলেও মার দেই না। কেউ যদি কখন ওকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাস?”মীম সবসময় বলে “বাবা ও মাকে”। সব সময় বলে বাবা মা দুজনকেই। কোন দিনও এক জনের কথা বলে না।
মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ করে বসে থাকে। যদি বলি মা-মণি, “কি করছ এখানে আস।“ মীম বলে, “আমাকে কিছু বলনা আমার মন খারাপ!!” সে বলে চুপ করে বসে থাকে। আমার মেয়ের খুব রাগ। সে যা বলবে সবার তাই শুনতে হবে। যদি তার কথা কেউই না শুনে সেই তাকে আর পছন্দ করে না তার ছায়াটা ও দেখতে পারে না। যা চাইবে তাই দিতে হবে। আমি একদিন মেয়েকে বলি, “মা-মণি তোমার যে রাগ আল্লাহ জানে তুমি বড় হয়ে কি হবে।“ মেয়ে আমাকে বলে, “আম্মু তুমি না কিছু বুঝনা, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব।” আমি যদি কোথায় ওকে না নিয়ে চলে যাই। খুব মন খারাপ হয়। বলে, “আম্মু আমি না বলেছি যে তুমি অফিসে গেলে আমাকে নিয়ে যেতে হবে না। আর অফিস ছাড়া যে কোন জায়গায় যাও আমাকে নিয়ে যাবে।”
সভ্যতা
বাঃ দেখতে তো ভালই লাগছে, কিরে বিয়ে করবি নাকি? এই যে ডার্রলিং কোথায় যাচ্ছ? একা একা হাঁটছো কেন? এই কথাগুলো আমার দিকেই তীরের মতই ছুরে দিচ্ছিল ওরা। ওরা যে কে তা তো বলা হলো না। ওরা আসলে সব সময়ই দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার বাকেঁ বাকেঁ, কখন কাকে বলবে তাদের বিকৃত নোংরা কথা। আর ওদের শিকার তো গোটা সমাজেরই নারীরা।
আমিও তো এই নারী সমাজের একজন। আমাকেই বা কেন বাদ দেবে ওরা। প্রতিদিন নানা ধরনের বিকৃত অশালীন কথাশুনে আমার গায়ের চামড়া মনে হয় মোটা হয়ে যাচ্ছে নতুবা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলছি আমি। এই আমার মতই কত হাজারো মেয়ে এই অসভ্য বর্বরদের এই অত্যাচার সহ্য করে নীরবে চলে যায়, আর এভাবেই অত্যাচারিত হয় গোটা এক জীবন। নতুবা সমাধান একটাই আছে আর তা এই পুরুষ শাসিত সমাজ খুব সাদরে গ্রহণও করেছে তা হলো ঠান্ডা মাথায় গায়ের ওড়না অথবা শাড়ী দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়া, নয়তো বিষাক্ত কিছু খেয়ে চিরদিনের মত সব মমতার সম্পর্ক ছিড়ে হারিয়ে যাওয়া মৃত্যুর পথে।
ভাবতে অবাকই লাগে আবার ওদের মুখেই যখন শুনি মেয়েরা মায়ের জাত, ওদের সম্মান করতে হয়। হ্যাঁ, সম্মান তো ওরা ঠিকই জানায় তবে পন্থাটা একটু ভিন্ন প্রকৃতির হয়। আর তাই তো প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখা যায় কোন অসহায় এসিড দগ্ধ নারীর ছবি নতুন কোন ধর্ষিত নারীর আর্তচিৎকার। এভাবেই নারীরা সম্মান পেয়ে আসছে দিনের পর দিন।
কিন্তু আমি ভাবি কেন এগুলো? ওরা তো আমার সাথে কথা ছাড়া আর কিছুই করছে না। কিন্তু এত কুৎসিত ছবি যখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যখন দেখি কোন অসহায় বঞ্চিত নারীর কান্না তখন আমার বুকের ভেতরটাও যে হু-হু করে কেদেঁ ওঠে ওদের জন্য। আমার জীবনেও যে এরকম কিছু ঘটবে না তারই বা নিশ্চয়তা কি?
কিন্তু ভয় পেয়ে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দী হয়ে নিজের ভবিষ্যতটা অন্ধকার করে লাভ কি? অনেক তো মানসিক যন্ত্রনা আর কেদেঁছি, কেউ কি দেখেছে না সাহায্য করেছে কোন অসহায় নারীকে। তাই মাথা নিচু করে নয়, বাঁচতে হবে প্রাণ ভরে। সবাই মিলে ভেঙ্গে দিতে হবে ও অসভ্যতার মেরুদণ্ডকে। কেন পারবে ওরা আমাদের শক্তির কাছে। প্রাপ্য শাস্তি দিতে হবে এক একটা জংলী জানোয়ার কে। ওদের বুঝিয়ে দিতে হবে। আধিকার সবার সমান।
তাই স্বপ্ন আর শক্তি আছে মনে, হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ গড়ে তোলো ওদের বিরুদ্ধে। স্বপ্ন দেখো সুন্দর একটি জীবনের আর বাস্তব করে তোলো নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে। ভয় পেয়ে বন্দী থেকো না- তাহলে এই সুন্দর পৃথিবী হয়তো বঞ্চিত হবে তোমার অমূল্য কোন উপহার থেকে। নিজের ভেতরের শিকড়টাকে ছড়িয়ে দিয়ে সব সুন্দর, ভাললাগার, আনন্দের থেকে রস নিয়ে বেঁচে থাকো অনন্তকাল ধরে। সভ্যতার শেষ স্তরে।

