Tuesday, August 7, 2007

আমার অনেক স্বপ্ন….........

প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন দেখে আর মানুষের স্বপ্ন দেখার নেই কোন শেষমানুষের সব স্বপ্ন পূরণ হয়না কখনো কখনো সেগুলো রূপনেয় দুঃস্বপ্নেমানুষ সেই দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন পূরণের আশায়নাছিমা, অর্ধবয়সী এক মহিলার স্বপ্নের দুঃস্বপ্নের কথা বাস্তবের মত বনর্ণা করা হল -

ছোটবেলার কথা খুব একটা মনে নেইআমার বয়স যখন ৯ তখন আমাদের তিন ভাই বোনকে নিয়ে আমার মা গ্রামে থাকতেন আর বাবা থাকতেন ঢাকায়, দিনমজুরের কাজ করতেনতখন মাত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তখন আমাদের সংসারে খুব অভাবএক বেলা খেলে আরেক বেলা উপোস থাকতে হতসংসারে একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন শুধু আমার বাবাতার উপার্জনও ছিল খুব কম আমাদেরকে তেমন খরচ দিতে পারেনিতখন স্বপ্ন দেখতাম একদিন আসবে যখন প্রত্যেকবেলা পেটভরে খেতে পাব

আমি ছিলাম বড় মেয়ে তাই সংসারের জন্য আমাকে অনেক কাজ করতে হয়েছে, মাছ ধরা এবং অন্যের জমিতে কাজও করতে হয়েছেতখন দুইবেলা আমরা খেতে পেতাম আর স্বপ্ন দেখতাম আমাদের সংসারে কোন অভাব থাকবে নাকিন্তু সেই স্বপ্ন হয়ে গেল দুঃস্বপ্ন যখন আমার বয়স ১৪তখন আমার জীবনে নেমে এল অন্ধকারের ঘনঘটা, আমাদের গ্রামের কেউ আর আমাকে কাজ দিতে চায় না আমাদের গ্রামে একটা নিয়ম ছিল যে, মেয়েরা একটু বড় হলে তাদেরকে কাজ দেয় না যখন কাজ পেলাম না তখন আবার শুরু হল অনাহারের দিন

তার ঠিক ৬ মাস পর আমার এক খালা আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং একটা বাসায় কাজ করতে দেন যাদের বাসায় কাজ করা শুরু করলাম তারা বিভিন্ন সময়ে কারনে অকারনে খারাপ ব্যবহার এমনকি মারধর করতআবার বাড়ির পুরুষ কর্তার চরিত্র ভাল ছিলনাএকদিন খালা আমাকে দেখতে যায়, আমি খালাকে সব খুলে বলি এবং এটাও বলি আমি এখানে আর থাকব না তখন খালা আমাকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন

বাড়ি ফিরে আসার পর আমার বাবা-মা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন ৩৫ বছর বয়সী এক লোকের সাথেবিয়ের পর আমার জীবনে শুরু হল নতুন আরেক কষ্টআমার স্বামী ও তার বাবা মা সবাই ঢাকার কেরানী গঞ্জে থাকতসেখানেই আমার সংসার জীবন শুরু আমার বিয়েতে যৌতুক হিসাবে গরু দেওয়ার কথা থাকলেও বাবা মা দিতে পারেন নি এজন্য আমার স্বামী ও শাশুরী অনেক অত্যাচার করেছেবিয়ের এক বছর এর মাথায় আমাকে আবার কাজে নামতে হয় কারন আমার স্বামীর আয় তেমন ভাল ছিলনা তখন ছোট ব্যবসা করতে শুরু করলাম কখনও পিঠা বিক্রির কাজ, কখনও তরকারী বিক্রি পড়ে একবার কাপড় বিক্রি করতে শুরু করলামকাপড় বিক্রির কাজে ভাল আয় করেত পারিনি কারণ লেখাপড়া না জানার ফলে হিসাব করতে পারতাম নাসেকারনে আমাকে অনেকে ঠকতে হয়েছেতখন খুব ইচ্ছে করত লেখাপড়া করতে

এখন আমার চার ছেলে এক মেয়েছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারিনিতবে তাদেরকে বিভিন্ন কাজে দিয়েছি ভবিষ্যতে কিছু একটা করে চলার জন্যকারণ কাজ না করলে তাদেরকেও না খেয়ে থাকতে হবে আর সেজন্য তাদের লেখাপড়া করতে দিতে পারছি না জীবনে অনেক কষ্ট করেছিলেখাপড়া জানার ইচ্ছে আমার অনেক দিনেরএকদিন নারী জীবনের কথা জানতে পারি এবং ভর্তি হই নারী জীবনের বাংলা ক্লাসে

এখন প্রতিদিন নারী জীবনে ক্লাসে আসি আর রাতে আমার ছেলে মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করি যাতে তারা আমার মত না ঠকেএখন আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাড়াঁবে আমার মত কষ্ট করবে না আর আমার ছেলেরা ভাল উপার্জ্জন করবে কারও কাছ থেকে ঠকবে না