Friday, May 2, 2008

মে দিবস

Title of this post: May Day by Aysha Khatun

সারা বিশ্বে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সংগ্রামী এতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের এক স্মরনীয় ও আন্তর্জাতিক এবং সংহতির উদযাপনের এক অনন্য দিন পহেলা মে , মহান মে দিবস ন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, এই দিবসটি শ্রেনী বৈষম্যে অবসানের লক্ষ্যে সংকল্পবদ্ধ ও সংগঠিত হয় মে শুধু একটি দিবসই নয়, একটি ইতিহাস, একটি ঘটনা, পথপ্রর্দশক এবং দিকর্নিদেশক ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর শহরে ৮ ঘন্টা শ্রমদিবস, মজুরি বৃদ্ধিও, তথা ন্যায্য মজুরি, কাজের উন্নত পরিবেশ ইত্যাদি দাবিতে ১লা মে একটি শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেয়এই ধর্মঘটে প্রায় ৩লাখ শ্রমিক যোগ দেয়র্বর ন্থায় সে ধর্মঘট দমন করা হয়শ্রমিকদে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ গুলি চালায় এর ফল স্বরূপ পরের দিন সে মার্কেটে শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হলে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরন ঘটায়, ফলে এই সর্বাত্নক আন্দোলনে আলবার্ট পারনস, জর্জ এঞ্জেল স্পাইজ এডলফ ফীশার প্রমুখ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা প্রান উৎসর্গ করেছিলেনধর্মঘট সংঘটিত করার দায়ে আগষ্ট স্পাইস নামে এক শ্রমিক নেতাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়উক্ত সংঘটিত ঘটনা ও পরবর্তী ঘটনাবলী থেকে এই দিবসের উৎপত্তি।

শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের উক্ত গৌরবময় অধ্যায়ের স্বরণীয় ও অনুপ্রেরনার উৎস হিসাবে ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় করে রাখার জন্য ১৮৯০সাল হতে প্রতি বছর মে দিবস পালিত হয়ে আসছে বিশ্বব্যাপীপ্রতি বছরই মে দিবসবিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের নুতন করে সকল ধরনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে শপথ নেয়পহেলা মে সেই আন্দোলনের কথাই আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয়১৮৯০ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিষ্ঠ কংগ্রেসে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে অনেক দেশে দিনটি শ্রমিক শ্রেনী কতৃক উদযাপিত হয়ে আসছেরাশিয়ায় এবং পরবর্তীকালে রো কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হবার পর মে দিবস এক বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করেজাতিসংঘে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শাখা হিসাবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা(অরগানাইজেশন বা আই .ত্রল.ও) প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদে অধিকার সমূহ স্বীকৃতি লাভ করে বং সকল দেশে শিল্প মালিক ও শ্রমিকদে তা মেনে চলার আহবান জানায় বং এভাবে শ্রমিক ও মালিকদে অধিকার সংরক্ষণ করেবাংলাদেশ আই.ত্রল.ও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার স্বাক্ষরকারী একটি দেশসমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেনীর প্রাধান্যে কারনে অধিকাংশ সমাজতান্ত্রিক দেশে বেশ গুরুত্বও সংকল্প সহকারে মে দিবস পালন করা হয় বাংলাদেশে মে দিবসে সরকারি ছুটি পালিত হয় এখানে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মে দিবস পালিত হয়

দেশে অতীতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত শ্রমিক নিযার্তন চলছেস্থা, কাল,পাত্র ভেদে এই নিযার্তন আমরা দেখি তা হলো শ্রমিককে গালাগাল করা, মানসিক টেনশনে রাখা, হুমকি দেয়া কোনো কোনো পযায়ে শারারিক নির্যাতন করতেও দেখা যায়গার্মেন্টসসহ অনেক ক্ষেত্রে ৮ ঘন্টার পরিবর্তে বিনা ওভারটাইমে ১২-১৪ ঘন্টা কাজ করানো হয় ১২ ঘন্টা কাজ করিয়ে বেতন দেয় ৮ঘন্টারশ্রমিক আইনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে১২ ঘন্টা কাজ করার কোন বিধান নেই কোন কোন শিল্প-কারখানার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করায়, এমনকি মে দিবসের প্রচলিত ছুটি থেকেও তারা বঞ্চিত

বিশ্বে দেশে দেশে নির্বাচিত শোষিত শ্রমিকশ্রেনী নতুন শতাব্দীর প্রথম দশকে এখনো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থা, চিকিৎসা ও শিক্ষার ন্যুনতম অধিকার থেকে বঞ্চিতবাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেনীর অজস্র সমস্যাবাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ উন্নত বিশ্বে শ্রমিকদের মতো সুযোগ-নিরাপত্তা কাজে পরিবেশ এখনো পায়নি, এদেশের শ্রমিকদে অথনৈতিক অবস্থা ভালো নয়মহিলা শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য একটি বড় সামাজিক সমস্যানারী ও শিশু শ্রমিকরা শোষণের শিকার হচ্ছে কর্মস্থলে নির্যাতন ক্রমশ বেড়ে চলেছেসেখানকার নারী নিযার্তনের ধরন প্রকৃতি সামাজিক নারী নির্যতন থেকে একেবারে আলাদাপুরুষ সহকমীদের দ্বারা তারা খুব সহজে নির্যানের স্বীকার হয়

আমরা আজকের এই স্মৃতিময় দিনে দুনিয়ার মেহনতি মানুষের সঙ্গে এ হয়ে শিকাগোর সেই আত্নত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণ করি, নিবেদন করি তাদে প্রতি গভীর শ্রদ্ধা