Saturday, March 8, 2008

নারীর কথা

Title of this post: A tale of a woman by Rosy Alam
Content of this post: Here writer, demonstrate a tale of woman Komola, who had a dream to continue study, establish her life and be an educated mother. But Komola’s dream was broken and now she is a cake seller in footpath of Dhaka city.


নারী শব্দটি শুনলেই মনে হয় এক অবলা, সহজ সরল আর কমল হৃদয়ের কোন এক রমনীযার মাঝে রয়েছে অনেক স্বপ্ন অনেক আশা আর ভালবাসা তেমনি এক নারীর কথা শুনব।

কমলা তার নাম, বিয়ে হয়েছে অনেক ছোট বেলায়দু-চোখ ভরা অনেক স্বপ্ন ছিল কমলারসে তার গ্রামের সাথীদের সাথে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া শিখবে একদিন অনেক বড় হবেলেখাপড়া শিখে চেয়েছিল কমলা জীবনটাকে অনেক সুন্দর করে গড়তেকিন্তু কমলার সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল বাস্তবে আর পরিণত হতে পারল নাএখানে কমলার দোষ ছিল যে সে গরীব বাবা-মার সন্তা, তার বাবা-মায়ের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর মত কোন সামর্থ্য ছিল নাহঠাৎ করে কমলার বিয়ে হয়ে গেলস্কুলের সব সাথীদের ছেড়ে কমলা চলে গেল স্বামীর বাড়িতেকমলার স্বপ্নভরা সে দুটি চোখ দিয়ে এখন শুধু জল পরছেএকদিন-দুইদিন, একমাস-দুইমাস, একবছর-দুইবছর এমন করতে করতে পার হয়ে গেল ২০টি বছরএই বিশ বছরে কমলার যে স্বপ্ন ছিল তা যদি বাস্তবায়িত হত তাহলে কমলা হয়তো এখন একজন ডাক্তার অথবা অন্য কিছু হতে পারত বা একজন শিক্ষিত মা কিন্তু এখানেই কষ্টভরা মনে বলতে হচ্ছে যে, সেই ছোট কমলা আজ একজন পিঠা বিক্রেতা শুধু তাই নয় কমলা মাও হয়েছেন কিন্তু শিক্ষিত মা নন একজন কর্মঠ দরিদ্র মাসারাদিন রাস্তায় এককোনে বসে কমলা পিঠা বিক্রি করেপ্রতিদিন চার কেজি চাল গুড়ি করে কমলা চিতই পিঠা আর ভাপা পিঠা বানায়কমলা পিঠা বানায় আর অপেক্ষা করে কাস্টমারের জন্যএই পিঠা বিক্রি করে কমলা তার সংসার চালায়চারটি মেয়ে ও দুটি ছেলে নিয়ে কমলার সংসারস্বামী বেকার আর ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে কমলার হতাসার কোন শেষ নেই সারাক্ষন শুধু চিন্তা কিভাবে কমলা ঘড় ভাড়া যোগা করবে কিভাবে কমলা স্বামী ও সন্তানদের খাবার যোগা করবেকমলার চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা যায়, মনে হয় বৃদ্ধ হযে গেছে কিন্তু যদি কমলার ছোট বেলায় বিয়ে না হয়ে লেখাপড়া শিখত তাহলে এত তাড়াতাড়ি কমলার চোখে মুখে বৃদ্ধার ছাপ আসত নাএভাবেই কাটছে কমলার দৈনন্দিন জীবনপ্রতিদিন যখন আমি নারী জীবন থেকে ফেরার পথে কমলাকে দেখি মনে খুব কস্ট হয় এবং আমি এটাই ভাবি যে, আজ এই কমলার জীবন বৃত্তান্ত আমি তার মুখ থেকে শুনেছি বলে লিখতে পেরেছি, কমলাকে নিয়ে ভাবতে পারছি কিন্তু কমলার মত হাজার জমেলা,জরিনা,আমিনা, আলেয়া আরও হাজার নারী আজ বঞ্চিত হয়ে আছে যাদের আমি দেখিনি

নারীরা যখন পুরুষের চেয়ে ভাল কোন কাজ করে তখন তা দেখে আমরা মুগ্ধ হই কিন্তু যখন কোন ছোট মেয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়,যখন তার থেকে বই কেঁড়ে নিয়ে হাতে বিয়ের মেহেদী পড়ানো হয় তখন আমরা ও অবাক হই কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারি না, কিন্তু কেন? আমরা কি পারি না আমাদের নারীদের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে স্বপ্ন পূরনে সাহায্য করতে আমরা কি এতটাই অক্ষ? কিন্তু স্বীকার করব না এখনও সেই ভাল মানুষগুলো আছে যারা নারীকে সম্মান করে বিপদে নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে শুধু নারীদের জন্য যেমন নারী জীবন একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং বিশেষ করে যিনি নারী জীবনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাথি ম্যাডামকে আজ নারী দিবস উপলক্ষে নারী জীবনের প্রতিটি নারীর পক্ষ থেকে বিশেষ করে আমি তাকে ধন্যবাদ জানাইআমাদের বাংলাদেশে এরকম সুযোগ- সুবিধা পেলে আমার মত অনেক নারীরাই প্রতিবাদী হবে জীবন সম্পর্কে জানবেঘরে বসে আর অন্যায়কে মেনে নিবে নাআমাদের নারীদেরও কিছু বলার আছে, জানার আছে, দেখার আছে, আমরা বলব, দেখব এবং জানব..........