Thursday, September 11, 2008

নির্যাতিত অবলা

Title of this post: Woman who faced violence by Sufiya Akter

অনেক দিনের একটা ইচ্ছা ছিল নার্সিং র্কোস শেখার। ইচ্ছা পূরন ও হয়েছে। আমি ছিলাম নারী জীবন প্রজেক্টের একজন নিয়মিত ছাত্রী এবং বাংলা ব্লগের একজন নিয়মিত লেখিকা। সব ছেড়ে চলে এলাম নার্সিং র্কোস শিখতে কুমিল্লার ব্রাম্মনবাড়িয়ায়, একটা অপরিচিত যায়গা। প্রথম প্রথম সমস্যা হচ্ছিল। এখন একটু দ্বিধাবোধ কেটে গেছে। তো যাই হোক। আমি যেখানে থাকি এটা একটা হাসপাতাল। নতুন হাসপাতাল বলে রোগীর সংখ্যা কম। দিনে ১০-১২টা রুগী আসে। আলাদা কোন র্নাস নেই। আমরা এখানে শিখি এবং পাশাপাশি র্নাসিং এর দায়িত্ব পালন করি। বিভিন্ন ধরনের রুগী আসে। তাদের সেবা করি। ভালই লাগে।

কিছু দিন আগে সকালে একটা রুগী এসেছে। দৌড়ে গেলাম রুগীটাকে দেখতে। প্রয়োজন মত সেবা দেয়াও শুরু করলাম। রোগীটি ছিল মহিলা। প্রথমবস্থায় বুঝতে পারিনি যে রোগীটির কি হয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম মহিলাটি স্বামী ও শ্বাশুড়ীর নির্যাতনের স্বীকার। তাকে এত পরিমানে মারধর করেছে যার ফলে তার জীবন নিয়ে টানাটানি। মহিলাটিকে যথেষ্ট পরিমানে চেষ্টা করলাম সুস্থ করে তুলতে। কিন্তু পারলাম না ।আমাদের ডাক্তার তাকে শহরের বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু পাষন্ড স্বামী তা মেনে নিলো না। বলল, “আপনারা যা পারেন তাই করেন। না পারলে বলেন আমি বাড়ি নিয়ে যাই।” ডাক্তার বলল, “আপনার স্ত্রীর অবস্থা খুব খারাপ। এই মুহুর্তে বাড়ি নিয়ে গেলে কিছু একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” লোকটি বলল,”ঘটুক সমস্যা নাই”। স্যার কিছু না বলে আরেকটা রুগী দেখতে চলে গেল। আমি ও আমার সাথে যারা আছে আমরা রুগীটির কাছে থাকলাম। আমি রোগীটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার এঅবস্থা কিভাবে হয়েছে। রোগীটি কথা বলতে পারছে না, শুধু চোখের পানি ফেলছে আর বলছে আমাকে খুব মেরেছে। তার মুখ থেকে কোন কথা বেড়োচ্ছে না । অবলা নির্যাতিত নারীদের জীবনে কোন স্বাধীনতা নেই। আছে শুধু একটি স্বাধীনতা আর তা হল চোখের জল ফেলা। আর কিছু বলতে হল না তাকে আমি বুঝতে পারলাম ইনি একজন স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার। সান্তনা দেয়ার ভাষা ছিল না। তবু ও যেহেতু সেবিকার পোষাক পড়েছি সেহেতু কিছু না কিছু সান্তনা দিতে তো হবেই তাই সান্তনা দিলাম। জরুরি বিভাগে রোগীটির স্যালাইন চলছে। রুম থেকে হাসপাতালের বারান্দায় এসে দেখি মহিলার সেই পাষন্ড স্বামী দাঁড়িয়ে আছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার স্ত্রীর সমস্যাটা কি? লোকটি বলল, “কি আর সমস্যা, ওরে পেত্নিতে পাইছে, অয় সারা জীবন আমারে জালাইছে। খালি খালি কোন কারণ ছাড়াই অজ্ঞান হইয়া যায়।” তখন আমার খুব রাগ হচ্ছিল। আমি তখন নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। বলে ফেললাম এটা কোন কথা? আপনি এখনো পেত্নিতে বিশ্বাস করেন। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম , “এধরনের বাজে কথা রোগীর সামনে বলা ঠিক না। আপনি তার স্বামী, আপনি যদি তাকে সান্তনা না দেন তবে কে দেবে?” আপনি সবসময় তার পাশে থাকবেন এবং স্যার যেটা বলল সেটা করেন, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এই বলে আমি চলে এলাম রিসিপসনের রুমে। ঐ যে আগেই বলেছি এটা নতুন হাসপাতাল তাই রিসিপসনের জন্য আলাদা কোন লোক নেই। অবশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। যাই হোক আমি রিসিপসনে গিয়ে বসলাম। ওখানে আরো ও মেয়েরা ছিল। গিয়ে দেখি মধ্য বয়স্ক একজন পুরুষ ও মহিলা এবং ছোট একটা বাচ্চা ওখানে বসে আছে। তারপর জানতে পারলাম যে তারা অসুস্থ মহিলার বাবা এবং মা। তারা উভয়েই কাদঁছে। আমি ও আমার রুমমেট তাকে সান্তনা দিলাম এবং বললাম, আপনার মেয়েকে কি সবসময় এরকম অত্যাচার করে? তিনি বললেন “হ সব সময়ই করে, বিয়ার পরেততেই এমন করে।” তখন আমার রুমমেট জোরে চেঁচিয়ে বলল, “আপনারা এর পদক্ষেপ নেন না কেন?” তারা বলল, “শুধু মাত্র এই নাতিটার মুখের দিকে তাকাইয়া সহ্য কইরা আছি।” কাথাটা শুনে একবার ইচ্ছে হল আরও কিছু বলি কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না। এর মধ্যেই পাষন্ড সেই লোকটি এসে হয়ত বা আমাদের সব কথা শুনে ফেলেছিল। তাই তার শ্বাশুড়ীকে ধমক দিয়ে বলল, “এই বেটি এহেনে কি?” মেয়ে জামাইয়ের কথায় মহিলাটি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে ওঠে চলে গেলো। লোকটি আরও অনেক কটু কথা বলল তার শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ীকে। আমাদের বলার কিছু ছিল না। শুধু পাষন্ড লোকের পাষন্ডতম ব্যবহারগুলো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলাম। ঐ এলাকার কিছু মেয়ে আছে আমাদের সাথে নার্সিং শেখে। ওরা বলল লোকটি নাকি খুব খারাপ। বড় ছোট মানে না প্রচন্ড বেয়াদপ।

৩০-মিনিট সময় যেতে না যেতেই দেখলাম মহিলাটিকে রিক্সায় তুলছে। দেখে খুশি হলাম ভাবলাম সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভাগ্য যখন খারাপ হয় তখন ভাগ্যকে ভাল করার কোন রাস্তা থাকে না। কিছুক্ষণ পর জানলাম ওনাকে সদর হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে গেছে। বুঝতে পারলাম মহিলাটির ভাগ্যে শুধু নির্যাতন জুটলো কিন্তু সু-চিকিৎসা জুটলো না। একেই কি বলে নারীর অধিকার? এ কেমন অধিকার যার ফলাফল শুধু নির্যাতন অন্যায়, অত্যাচার, অবজ্ঞা আর অবহেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কথা আমার মনে পড়ে গেল-

“অবহেলিত অসহায় নারীদের
বিচারের বানি নিরবে নিভৃতে কাঁদে”

একথাটা কি আজ সত্যি হয়ে গেল? মনে হচ্ছে তাই। একটা মেয়ে বাবার আদর মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ভুলতে চায় শুধু তার স্বামীর ভালোবাসা পাবার জন্য। অথচ সেই ভালোবাসাই যদি না পায় তবে একটা মেয়ের জীবনে আর কি থাকতে পারে? বাবা, মায়ের ভালোবাসার আঁচল ছেড়ে শ্বশুর, শ্বাশুড়ীর আঁচলে আশ্রয় নেয়। অথচ সেই শ্বশুর শ্বাশুড়ী যদি তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই অসহায় মেয়েটি কোথায় যাবে? র্নিযাতিত অসহায় নারীর আর্তনাদ চিৎকার আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে,গাছের পাতা ঝড়ে পড়ছে। তবুও পাষন্ড স্বামীর মন গলে না। জানিনা মহিলাটি বেঁচে আছে কি না? নাকি পাষন্ডের নির্যাতন সহ্য করছে। সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরেও নারী নির্যাতন বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। অবলা নারীদের বর্তমান জীবনটা ধাপে ধাপে চলছে। প্রথম ধাপ বাবা মায়ের সংসারে দুঃখে কষ্টে মানুষ হওয়া। তার পর বিয়ে। শ্বশুর বাড়ি যাওয়া। শ্বাশুড়ীর ও স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হওয়া। অবশেষে ফলাফল মৃত্যু। এটাই কি বর্তমান নারীদের পরিচয়? এর কি কোন প্রতিকার নেই? আমরা নারী এটাই কি আমাদের অপরাধ? না তা কিছুতেই হতে পারে না। আমাদের অগ্রাধিকার চাই। আমরা সুন্দর ভাবে বাচঁতে চাই। আমরা ভালোবাসা দিতে চাই। ভালোবাসা পেতে চাই। আমরা স্বাধীনতা চাই। এটা আমাদের চাওয়া, এটা আমাদের আকাঙ্খা।

অসীম ইচ্ছা

Title of this post: Unlimited wills by Afiya Akter

জানিনা কি চাও তুমি
তবে মনে মনে ভাবি আমি
তুমি কাছে আসলে
আমার পাশে বসলে
আমার পৃথিবী থমকে যায়
নিজেকে সে প্রকাশ করতে পারে না
আমার পৃথিবীর স্বপ্নরা স্বপ্ন
দেখতে ভীষম ভয় পায়।
অনুভবে অভিমানে সে
নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চায়
আপন অক্ষমতায় সে নিরবে
নিরব হয়ে থাকে।

গ্রামের নারী ও শহরের নারী

Title of this post: Women from rural and urban area by Jainub Khanam

নারী-গ্রামের হোক
, শহরের হোক, আধুনিক কিংবা সাধারন হোক, চালাক হোক কিংবা আনাড়ী- তার পরিচয় কিন্তু একটাই, সে নারী। কিন্তু আমি যা নিয়ে ভাবছি তা হলো - নারীতে নারীতে কত তফাৎ? আমার জন্ম গ্রামে। তাই খুব কাছ থেকে গ্রামের মেয়েদের জীবন যাত্রা আমি দেখেছি। বিয়ের পরে আমার স্বামী আমাকে ঢাকা নিয়ে আসে। আমি এখন ঢাকা শহরে থাকি। তাই শহরের মেয়েদের জীবন যাত্রা ও আমি কাছ থেকে দেখেছি। শহর আর গ্রামের নারীদের জীবনে কত পার্থক্য ? গ্রামে বেশির ভাগ নারী লেখাপড়ায় খুব একটা জোর দেয় না। কোন রকম এস.এস.সি পাশ করতে পারলেই অনেক কিছু। কয়েক জন ব্যতীক্রম অবশ্যই আছে। আমি আমাদের এলাকার কথাই বলছি। ৯ম বা ১০ম শ্রেণীতে পড়লেই বাবা মায়েরা বিয়ের কথা ভাবেন। এরপর কোন একটা পাত্র বিদেশী হলে ভাল হয়। বয়স বাবার বয়সের হোক, সমস্যা নেই, প্রচুর টাকা আছে। লেখা পড়া কম, সমস্যা নেই, মোহরানা দেবে ৫লাখ। আমার মনে হয়, বাবা-মার জ্ঞানহীন ধ্যান ধারণার জন্যই মেয়েদের এই অবস্থা। মায়েরা ছোটবেলা থেকেই মেয়ের মনে একটা ধারণা তৈরী করে দেন যে, “তোমরা নারী”। মক্তবে কোরান শরীফ শেষ করবে, বাংলা শিখে চিঠি পত্র লিখতে পারলেই হবে, তার পর বিয়ে দেব, বাচ্চা পালন, সংসার গুছানো ব্যাস তোমার দায়িত্ব শেষ।

অথচ সংসার সুন্দর করে গুছানোর জন্য
, সংসার কে সুখী করার জন্য, স্বামীর সঠিক মূল্যায়ন, বাচ্চার সঠিক যত্ন, পরিবারের অন্যদের সাথে ভালব্যবহার, সবার প্রতি দায়িত্ববোধ, সচেতনতা এসব গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোর জন্য উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক অর্থাৎ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে, সব কাজে পারর্দশী হতে হবে। গ্রামের মায়েরা এসব কখনোই ভাবেন না। এতো গেলো অবিবাহিতা মেয়েদের কথা, এবার বউদের কথায় আসি। তারাতো স্বামীর বাড়ীতে এসে রাজরানী। সংসারের চাবী তার শাড়ীর আঁচলে, স্বামীর টাকা তার ড্রয়ারে। ইচ্ছে মত, খেয়াল মত সংসারে কর্তৃত্ব খাটায় তারা। আমাদের বাড়ির বউরা এত সুখি। সকালে উঠে নাস্তা খেয়ে উঠানে বসে সবাই আড্ডা দেয়। ১০ টায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়। ১১টায় বা ১২ টায় রান্না করে হিটার বা সিলিন্ডার গ্যাসে । দুপুরে খেয়ে ঘুম দেয়, বিকালে নাস্তা খেয়ে আবার আড্ডা দেয়। সন্ধ্যায় ঘরে যায়। বাচ্চাদের পড়ালে পড়ায় না পড়ালে নাই। ৮টা বাজলে টিভি ছাড়ে ১০/১১ টা পর্যন্ত দেখা হয়। এরপর ঘুম। বউদের চিন্তা বা কোন টেনসন নেই বাজারের। স্বামীরা সবকিছু এনে হাজির করে। তাদের গল্প, হাসি তামাশায় কেটে যায়। ঘড়ির দিকে তাকানোর প্রয়োজন যেন নেই। অথচ শহরের নারীর জীবন গ্রামের নারীর জীবন থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন। শহরের নারীরা একরকম সংগ্রামী জীবন কাটায়। তাদের সময় চলে ঘড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, আনা, ঘর গুছানো, বাজার করা, রান্না করা, বাচ্চাকে কোচিং এ নেওয়া, গান, ড্রয়িং শিখাতে নেওয়া, সময় মত ঘুম পাড়ানো, রাত্রে রান্না সেরে আবার বাচ্চাকে পড়ানো, নিজের পড়া, ব্যক্তিগত কাজ, সবই তারা করছে দক্ষতার সাথে। আমি দেখেছি আমার চতুর্পাশের বেশির ভাগ মেয়ে অনেক পরিশ্রমী। অবিবাহিতা মেয়েরা ও অলস সময় কাটায় না। তারা উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সেলাই, অত্যাধুনিক রান্না সহ আরো বিভিন্ন কোর্স শিখে নিজেকে দক্ষ, কর্মঠ ও সাবলম্বী করছে। সারাদিন তারা কাজের মধ্যেই সময় কাটায়। অবশ্য গ্রামে সুযোগ সুবিধা ও কম। চাইলেই তারা কম্পিউটারে বসতে পারে না। ইন্টারনেটে বিচরন করতে পারে না।

Saturday, September 6, 2008

সড়ক কন্যা

Title of this post: Road Girl by Surma Akter

বা
স্তবটা যে বড় কঠিন তা বুঝা যায় না। তা বুঝা যায় শুধু এই গৃহহারা শিশুদের দিকে তাকালেই। তাদের নিদিষ্ট কোন গৃহ নেই তারা পথের ধারে ফুটপাতে জীবন কাটায়। পান্থপথ মোড়ের ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামলে একদল ছেলেমেয়ে পপকার্নের প্যাকেট হাতে দৌঁড়ে আসে। এদের একজন স্মৃতি। নয়-দশ বছর বয়সী স্মৃতি প্রায় এক বছর ধরে পপকর্ন বিক্রি করছে। সোনারগাঁ হোটেলের পেছনের বস্তিতে ওদের বাস ছিল। সেই বস্তি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওরা এখন থাকে তেজগাঁওয়ে। স্মৃতির বাবা নেই। বাবার নাম সে জানেও না। মাও নেই। মা স্মৃতিকে ছোট রেখে মারা যায়। সে মায়ের কথা একটু একটু বলতে পারে। সে জানে তার মা মারা গেছে । কিন্তু বাবার কথা সে জানে না। এক ভাই আর ছোট বোন এই নিয়ে তাদের সংসার । সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ভাই কাওরানবাজারে কুলির কাজ করে। স্মৃতি দিনে প্রায় ৩০-৩৫প্যাকেট পপকর্ন বিক্রি করতে পারে। প্যাকেট প্রতি ২-৩ টাকা লাভ হয় তার। সে কোনদিন স্কুলে যায়নি। তার স্কুলে যাওয়ার বড় শখ ছিল। কিন্তু কে দিবে তার লেখাপড়ার খরচ। তিন বেলা তিন মুঠো ভাত জোগাড় করতে তারা হাঁপিয়ে উঠে। তাও তারা জোগাড় করতে পারে না। কোন রকমে দিন কাটে রাত হয়। এই ভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায় সে চরম ভাবে অপুষ্টির শিকার। সে বলে অনেক কিছু খাইতে ইচ্ছা করে কিন্তু টাকা পাইনা। বেডিরা কত রকম জামা পরে। আমার ও পড়তে ইচ্ছা করে। কিন্তু কে কিনে দেবে? মা বাবা তো নাই। দুই ভাই বোন অনেক কষ্টে বাঁইচা আছি।

স্মৃতির মতো অসংখ্য শিশুরা এই কঠিন বাস্তবতার শিকার হচ্ছে। তবে তাদের নিদিষ্ট কোন ঠিকানা নেই। ঢাকায় এবং অন্যান্য শহরে “কাজের মেয়ে” পিচ্চি ইত্যাদি নামে অনেক মেয়ে শিশু কর্মরত আছে। তারা নানা রকম নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। পথ শিশু হিসেবে যে মেয়েরা চকলেট, ফুল, পপকর্ন, পানি ইত্যাদি বিক্রি করে তারা ও নানা ধরনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়। বাসাবাড়িতে যে মেয়ে শিশুরা শ্রম দিচ্ছে তাদের অবস্থাও অতি শোচিনীয়। মেয়ে পথ শিশুদের অনেকেরই মা নেই যাদের মা আছে তারাও শিশুকে নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। অনেক শিশু নারী পাচার কারীর খপ্পরে পরে বিক্রি হচ্ছে।এই শিশুরা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন অধিকার থেকে চরম ভাবে বঞ্চিত। কয়েকটি সরকারী ও বেসরকারী সংগঠন পথ শিশুদের নিয়ে এবং শ্রমজীবি শিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা ও পূর্ণবাসনের লক্ষে কাজে করছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পথশিশু ও শিশুশ্রমিকদের মধ্যে মেয়ে শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার। আমি মনে করি সরকারি বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই সড়ক কন্যাদের প্রতি সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

Tuesday, August 26, 2008

“ওরা মানুষ নয়- পুরুষ”

Title of this post: They are male not human being by Jainub Khanam


আমি পুরুষকে শ্রদ্ধা করি। আবার ঘৃনাও করি। কারণ, সমাজে যেমন আছে ভাল পুরুষ, তেমনি আছে নোংরা, বিকৃত মস্তিস্কের পুরুষ। পথে ঘাটে, যেখানে সেখানে নারীরা লাঞ্চিত হচ্ছে এই পুরুষদের হাতে। কয়েকদিন আগে আসছিলাম আমাদের কলোনির রাস্তা ধরে। সাথে ছিল আমার ১৩ বছর বয়সের ভাগ্নী। সময়টা ছিল শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, বাইরে কোন লোকজনের চলাচল ছিল না। আমাদের সামনে একটি ছেলে জিন্স প্যান্ট শার্ট পড়া ভদ্র বেশী। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেল। সে খারাপ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আমার ভাগ্নির দিকে তাকিয়ে ছিল আর সামনে এগিয়ে আসছিল। আমার শরীর কেপেঁ উঠল। আমি আমাকে নিয়ে ভাবিনি, ভেবেছি ভাগ্নিকে নিয়ে। ছেলেটির যে উন্মাদ, নোংরা ইমোশন কাজ করছিল তা দেখে আমার মনে হচ্ছিল, সে যে কাউকে ধরে বসে পারত। দ্রুত পায়ে বাসায় চলে এলাম এবং পরদিন থেকে কম বয়সী মেয়েটিকে বোরখা পড়তে বাধ্য করলাম। কারণ এই বোরখা তাকে অনেক খারাপ কিছু থেকে নিরাপত্তা দেবে এবং তাকে রক্ষা করবে খারাপ পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে।

এত নোংরা আচরন খোলা রাস্তায় শুধুমাত্র পুরুষকেই মানায়। এই বিশ্রি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমি “ওরা মানুষ নয়- পুরুষ” কবিতাটি লিখার প্রয়াস পেলাম...

পথে ঘাটে হরহামেশা
নারীদের হয়রানি করছে যারা
তারা কি মানুষ?
না, না ওরা পুরুষ।
রাস্তা দিয়ে চলার পথে
ভিড়ের মাঝে হাত চালায়
নারীদের হেতায় সেথায়
তারা কি মানুষ?
কভুও না ওরা পুরুষ।
চলার পথে পাশ দিয়ে যাক
পাগলা কুকুর তবুও না যাক
একটি পুরুষ।
কুকুর তো শুধু কামড়ে দেবে
চিকিৎসাতেই সুস্থ হব।
কিন্তু হলে পুরুষের লালসার স্বীকার
উপায় যে থাকবে না বেচেঁ থাকার।
একটি নারী যখন হয় ঘরের বাহির
মায়ের মন তখন হয়ে যায় অস্থির।
প্রার্থনা করে খোদার কাছে
বাইরে যেন মেয়ের সম্ভ্রব বাচেঁ।
মা তত ভয় পায়না
ঘাতক ট্রাকের আঘাতকে
যতখানি ভয়পায়
পুরুষের লোভের চাহিদাকে।
আমি জানি না ওরা কি ভাবে
লাঞ্চিত নারীগুলো ওদেরই তো
মা বোন ভাগ্নি কিংবা মেয়ে।
বাংলার অলিতে গলিতে
এ কোন হায়েনার দল
মেতে উঠেছে এ কেমন পাপের নেশায়
তিন বছরের মেয়ে শিশু
যুবতী কিংবা গৃহ বধূ
পবিত্র সম্মান হারাচ্ছে সবাই।
যতক্ষন ঘরে থাকি ভাবি নিরাপদ
বাইরে গেলেই বিকৃত মনের পুরুষ
যেখানে সেখানে ঘটায় বিপদ।
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত করে উৎপাত
হে খোদা! তুমি এদের কর নিপাত।
কি ভাবে নারী রাস্তায় যাবে?
কিভাবে নারী শিক্ষিত হবে?
নির্যাতিত নারী দেহের রক্তাক্ত লাশ
নয় টুকরো হয়ে পড়ে থাকে রাস্তার পাশ।
যারা নারীকে ভোগের পন্য ভাবে
এইতো মোদের বাংলার রূপ
করব কি আর পেশ
এই আমাদের হরেক রকম
আইনে ঘেরা সোনার বাংলাদেশ।

স্মৃতি

Title of this post: Memory by Surma Akter


আম কাঠালের বিনাশ হল
ভাবছে খোকা খুকু
উদাস চোখে তাকিয়ে থেকে
দেখছে মরুর ধুধু।

চোখের তারায় ভাসছে শুধু
দাদা বাড়ির স্মৃতি
মেঘনা যে সব কেড়ে নিল
কয়েক বছর আগে ।
নানা বাড়ির বাগানটা যে
দালান কোঠা ভরা
খালার বাড়ির বাগানটা যে
অযত্নে মরা ।

বন্ধুরা সব বসে আছে
হতাস হয়ে ঘরে ।
তাইতো আজ সবাই মিলে
গাইছি শুধু
স্মৃতির ভরা গান ।

কোথায় গেলে পাবো আবার
আম কাঠালের ঘ্রান ।

একটি অসম্পূর্ন জীবনের গল্প

Title of this post: Tale of an incomplete life by Salma Akter.

রবিউল হোসেন নামের একটি ছেলে, সবাই তাকে রবু বলে জানত। বয়স ২৮ হবে। জন্মগত ভাবে তারা ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা। বাড়ি মুগদা পাড়া। তারা দুই ভাই, তিন বোন। সংসারের বড় ছেলে সে। সংসারে দারিদ্রতা সবসময় বিরাজ করত। তাই লেখাপড়া শেখা হয় নাই। কোন কাজও শিখে নাই। অবশ্য এজন্য তার পরিবারই দায়ী। লেখাপড়া করেনা, কাজকর্ম করেনা এমন ছেলেতো আর ভাল হতে পারেনা। কথায় বলে না, অলস মতিষ্ক শয়তানের কারখানা। তার বেলাতেও এমনটি হয়েছে। অসৎ ছেলেদের সাথে মিশে সেও একদিন অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। প্রথমে গাঁজা খেয়ে শুরু হয় তার পথচলা। তার পর ধীরে ধীরে মরণ নেশায় জড়িয়ে যায়। শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনজেকশন নেওয়া। সে টি.টি.জেসিক,ফ্যানার গ্যান, এভিল, ইজিয়াম ইত্যাদি ইনজাকশন নিত। হাতে পায়ে ক্রমাগত ইনজাকশন নিতে নিতে হাত পা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। জীবনীশক্তি ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে গেছে। নেশা করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হতো তা যোগার করার জন্য সে প্রথমে রিক্সা চালাত। পরবর্তী সময়ে যখন তার দেহের শক্তি শেষ হয়ে গেছে তখন সে চুরি করতে শুরু করে।

প্রথম প্রথম সে নিজের ঘরে চুরি করত, পরবর্তী সময়ে সে মানুষের বাড়িতে চুরি করতে শুরু করে। চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে প্রচুর মার খেতে হতো তাকে, আবার অনেক সময় পুলিশের কাছেও অনেক বার ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু জেলখানাতেও বেশিদিন আটকে রাখত না তাকে। কারন তার জামিনের জন্য কেউ কখনও টাকা নিয়ে যেত না। এমন কি কেউ দেখতেও যেত না। পুলিশেরাও তাকে বেশি দিন আটকে রাখত না, কিছুদিন পর এমনিতেই ছেড়ে দিত। একদিন সে তার বড় চাচার বাড়িতে যায়, তখন সন্ধ্যা। তার চাচাত বোন ওজু করার জন্য হাত থেকে ঘড়ি খুলে রাখে। সে সময় ঘড়ে রবু ছাড়া আর কেউ ছিলনা, নামায শেষে ঘড়ি পরতে যেয়ে, সে আর খুঁজে পায়না। তার বোনটি ছিল একটু অন্য রকম, সে জানত যে, সবাই তাকে খুব ভালবাসে, এমনকি তার চাচাত ভাইরাও। তাই সে কখনও ভাবতে পারেনি যে, তার ঘড়িটি রবুভাই চুরি করবে। সেদিন ঘড়ি চুরির সাথে সাথে সে তার বিশ্বাসটাও চুরি করেছিল।

ঘড়ি চুরির জন্য তাকে অনেক মার খেতে হয়েছিল, তারপরও সে ঘড়িটি ফেরত দেয়নি। এমন অনেক ঘটনাই তার জীবনের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কখনও কারও বাড়ি থেকে কাপড়-চোপড় নিয়ে যেত, কখনও গ্যাসের চুলা খুলে নিয়ে যেত, কখনও টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল খুলে নিয়ে যেত, আবার কখনও করত জুতা চুরি। আর ধরা পড়লে বেদম মার খেত। এভাবেই চলছিল তার জীবন।

২০০৭ সালের প্রথম দিকে তার ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়েতে তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে তার আর কোন সন্ধান নেই। কেউ বলতে পারেনা যে, সে বেঁচে আছে না মরে গেছে। তার পরিবারের কেউ তার খোঁজ নেয়ার চেষ্টাও করে নাই। সবাই ভেবেছে সে মারা গেছে, তা না হলে এত দিনে সে ফিরে আসত। কে জানে হয়তবা কারও বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে মার খেয়ে মরে গিয়েছে। তা না হলে হয়তো জেলখানাতে পঁচে মরছে। কেউ তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনা। কারণ তার মতো রবুরা সমাজে উপেক্ষিত। আমাদের সমাজে তাদের কোন স্থান নেই। কারন তারা দেশ ও জাতির কোন উপকারে আসেনা। তারা নিজে ধ্বংস হয় এবং সমাজকে ধ্বংস করে। কিন্তু রবুরা কেন এ সমাজে উপেক্ষিত হবে, কেন তারা সমাজের বোঝা হবে? তার পরিবার কি পারতনা তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে? তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সুন্দর সাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে?

আমার মনে হয় তার প্রতি একটু বেশি অবহেলা হয়ে গেছে। যারা মাদকাসক্তির শিকার তাদেরকে অবহেলা বা ঘৃনা না করে বরং ভালবাসা দিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। রবুর মতো অকাল মৃত্যু কারও কাম্য নয়। আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে মাদকাশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Tuesday, August 5, 2008

শ্রাবণের বৃষ্টি

Title of this post: The Rain of Shrabon by Asia Afrin Anni


শ্রাবণ আসেনা একাকী
আকাশ করে মেঘলা,
আসে নিয়ে বৃষ্টি-বর্ষণ
করে মন কারো উতলা।
টিনের উপর বাঁজতে থাকে
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ,
বাতাসে ছাতা উড়তে চাইলে
করা যায় না তাকে জব্দ।

শ্রাবণের হাওয়ায় ঘুরপাক খায়
রাস্তার সকল ধুলো,
বৃষ্টি আসলে হয়ে উঠে সতেজ
বর্ষার কোমল ফুলগুলো।

পূর্ণ করে খালি নর্দমা
উঠায় হাঁটুপানি,
খেলে যখন মেঘ লুকোচুরি
সবাই করে কাণাকাণি।

এলোমেলো করে দেয় সব
শ্রাবণের ঝড়ো বৃষ্টি,
তখন মাথায় প্রশ্ন জাগে
একি অনাসৃষ্টি!