Wednesday, January 23, 2008

জরিনা বেগম: পিঠা বিক্রেতা

Title of this post: "Jarina Begum: Who Makes & Sells Cake" By Nina Sultana Mim

পিঠা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খাদ্যএদেশের মানুষের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য হচ্ছে পিঠাগ্রাম অঞ্চ ও শহর উভয় স্থানেই পিঠা সমান ভাবে জনপ্রিয়শীতের সকালে গরম পিঠা অতুলনীয় আমাদের দেশের শহর অঞ্চলে এই পিঠা বিক্রি করা হয়যারা এই পিঠা বিক্রি করেন তাদের বেশির ভাগই নারীবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে পিঠা নারীগন রাস্তার পাশে ফুটপাতে পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে থাকে এবং বেশির ভাগ ক্রেতাই রিক্সাচালক, সি.এন.জি চালক প্রভৃতি

সাম্প্রতি, আমি একজন পিঠা নারীর সাথে কথা বলেছিতার নাম জরিনা বেগমসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পিঠা তৈরি করেএকটি মাটির চুলা, একটি মাটির হাড়ির মাধ্যমে পিঠা তৈরি করে থাকেপিঠা তৈরির জন্য চালের গুড়া, গুড় ও হাড়ির উপরে দেয়ার জন্য একটি পাতলা কাপড় লাগেখুবই কম মূল্যে এই পিঠা বিক্রি হয়ে থাকে জরিনা বেগম বলেছে পিঠা বিক্রির অর্থ দিয়ে তার সংসার চালানোর চেষ্টা করেতার স্বামী একজন রিক্সা চালকজরিনা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে অর্থে অভাবে তারা স্কুলে যেতে পারে নাদুঃ -কষ্ট ও অভাব-অনটনের মধ্যে জরিনা তার জীবন নিবার্হ করছেজরিনা বেগম তার পরিবার নিয়ে একটি দূষিত পরিবেশে বাস করেতারা গরিব হওয়ার কারনে বঞ্চিত হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার, পানি এবং ভাল আশ্রয় থেকে এবং তার শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে সুশিক্ষা থেকেকিন্তু শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ডকোন জাতি শিক্ষা ছাড়া উন্নতি করতে পারে না আমি দেখেছি, জরিনা এবং তার শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছেতারা বন্যা, অতিবৃষ্টি, মশা এবং দূর্গন্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক কষ্ট করেআমার মনে হয় তাদের অবস্থা খুবই দুঃখজনকএই অবস্থায় জীবন খুবই কষ্টকর এবং অভিশাপের মত সে বলেছে পিঠা তৈরির জন্য চাল ও গুড় কিনতে প্রচুর রচ হয় যা তার জন্য কষ্টসে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা ইত্যাদি নানা ধরনের সুস্বাদু পিঠা তৈরি করে থাকে

আমি তার সাথে কথা বলার সময় তার তৈরি দুঠো পিঠা খেয়েছিসে খুব খুশি হয়েছে এবং তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে দুফোঁটা পানি নেমে গিয়েছিল সে আরও বলেছে, বুজি আমাগো অনেক দুঃখ, মোগো দেখার কেউ নেই কিন্তু হাজার দুঃখ ও অভাবের মধ্যেও জরিনা বেগমের তৈরি পিঠা প্রচন্ড মিষ্টি ও সুস্বাদু এবং অতুলনীয়