Monday, March 10, 2008

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০০৮ – নারী জীবন শিক্ষার্থীদের লিখা কবিতা

Title of this post: International Women's Day 2008--Poems from Nari Jibon Students

আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সম্মান জানিয়ে নারী জীবনের ছয় জন শিক্ষাথীর লিখা কবিতা নিচে দেওয়া হল।এর মধ্য থেকে
সুফিয়ার লিখা বাংলা কবিতাটির ইংরেজী অনুবাদ রাইজিং ভয়েসের পয়েট্রি জ্যামে তিন জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী ব্লগারের কবিতা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে।

--------------------------------------------
অগ্রাধিকার

সুফিয়া
- ৭৩৪

সময় হয়েছে আজ আমাদের
মাথা তুলে দাঁড়াবার
আমরা চাই হৃদয় খুলে
মনের কথা বলবার।
আর এর জন্য পেতে হবে
সম নয় অগ্রাধিকার।
বাবারা যদিও পারেন নিষ্ঠুরতা
মায়েরা পারে না।
মায়েরা যা পারেন ত্যাগ করতে
বাবারা তা পারেন না।
একেই বলে নারী
আমরা সবই পারি
দুঃখের সাথে যুদ্ধ করে
সুখটাকে জয় করি।
নিচ্ছিনা আর অন্যায় মেনে
থাকছি না আর ঘরের কোনে
সময় হয়েছে চোখ কান খুলে
অন্যায়ের প্রতিবাদ করার।
আর এর জন্য পেতে হবে
সম নয় অগ্রাধিকার
।


--------------------------------------------

তুমি একজন নারী
সোনিয়া -৭৮২

একজন নারী তুমি
একজন নারী আমার মা।
সকল সৌর্ন্দয্যে উপমা একজন নারী।
নারী তুমি সকল কাজের প্রথমা,
সকল কাজের শেষ।
তোমার মাঝে সাজে সকাল, রাত্রি
তুমি আধারকে কর আলো
তুমি যে সেবিকার রুপে
বিধাতার পরম আর্শিবাদ।
তোমারি রয়েছে সকল কাজে সম অধিকার
তুমি যে স্নেহময়ী ভালবাসার প্রতিমা।
সবাইকে ভালবেসে কর অনন্যা,
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে
তোমাকেই জানাই সম্মান আজ।


--------------------------------------------

নারী
রোজি আলম- ৫৫৫

জীবনের প্রতিটি সাফল্যের সাথে যার অবদান
সে আর কেউ নয় নারী তার নাম ।
সকলের জানা আছে সবিতা,
নারী হলো বিজয়ের কবিতা।
তাইতো হাজার বেদনা আর কষ্ট
তোমায় করতে পারেনা স্পর্শ।
পুরুষ শাসিত সমাজের মধ্য দিয়ে
তুমি উজ্জল হয়ে আছ চেয়ে
তোমায় ছাড়া পৃথিবী কদাকার
তুমি আছ বলে জগৎ এত চমৎকার।
তুমি পবিত্র, তুমি নিষ্পাপ
সব অর্জন, কৃতিত্ত্বের তুমি সমমান
তাইতো আজকের এই দিন
শুধু তোমায় করছি স্মরন
সমস্ত ভালবাসা দিয়ে করছি তোমায় বরণ।
ধন্য ধন্য নারী তুমি ধন্য
আজ সমস্ত সম্মান তোমার জন্য ।


--------------------------------------------

আজও বেঁচে আছি
হুসনুল আওরাদ-৭৬৯

চোখের পানি ফেলো না মা
কষ্ট আমি পাই।
কে বলেছে মাগো তোমায়
আমি বেঁচে নাই।
আমার কথা যখন মাগো
পড়বে তোমার মনে।
তখন আমি ফুল হয়ে ফুটব বনে বনে।
আদর করে সোহাগ করে
ফুলটাকে মাগো খোঁপায় গুঁজে নিও।
শোবার আগে ফুলটাকে মা
ফুলদানীতে সাজিয়ে রেখ দিও।
স্বপ্নে দেখবে সে ফুল তোমার সাথে কথা বলবে।
ফুল হয়ে আজও আমি
বেঁচে আছি তোমারই কোলে
হাজার ও ফুল হয়ে
।


--------------------------------------------

বৃথা
সুরমা আক্তার- ৬৯১

নারীরই জীবন কথা
শুধু যে বৃথা বৃথা।
কেউ শুনতে চায়না কোন কথা।
নারীরই জীবন কথা
হাসি কান্না দুঃখ ব্যাথা,
এটাই শুধু চলে প্রথা।
নারীরই জীবন কথা
একাকী চলার পথে
শুধু যে অবাধ বাধাঁ।
নারীরই জীবন কথা
কাহিনী কল্পনায়
ছড়িয়ে গাঁথা।
দিন যায় বছর যায়
যায় শেষ হয়ে যুগ
কিন্তু অগোচরে রয়ে যায়
নারীদের জীবনের দুর্ভোগ
।

--------------------------------------------

আত্নবিশ্বাসী নারী
শিল্পি আক্তার- ৭৭২

নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি কি বিশাল -আকাশ নই?
নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি কি সমুদ্রের -সৈকত নই?
নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি কি পাহাড় - পর্বত নই?
নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি কি আগ্নেয়গিরি - বিস্ফরন নই?
নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি অক্সিজেন হতে পারি না?
নারী বলে আমি বলতে পারি কি
আমি কি পুরুষের মত কর্মঠ নই?
নারী বলে আমি সব হতে পারি
শক্ত মনে, আত্নবিশ্বাস গড়তে পারি।

Saturday, March 8, 2008

নারী

Title of this post: Nari - Dedicated on the International Women's Day by Shahida Islam Mony

নারী তুমি কখনো মা
কখনো কারো স্ত্রী, তুমি বোন
আবার কারো প্রেয়সী।
কতই না
স্নিগ্ধতা দিয়ে ভরিয়ে
তোল তুমি বিস্মময় ভুবন।
তার পর কি পেয়েছ তুমি,
নিজেকে উজার করে দিয়ে?
নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখো
উত্তর তোমার নিজের কাছেই।
তুমি শূন্য, তুমি রিক্ত, তুমি অপরিপূর্ণ।
কেননা তুমি বাঙ্গালী নারী।
তোমার চোখের কোনে জল
তোমার অন্তরের অন্তরস্থলে দুচোখ
বন্ধ করে অনুভব করো,
শুধুই হাহাকার, শুধুই হাহাকার, হাহাকার আর হাহাকার।
তারপর ও তুমি নারী,
সইতে হবে তোমাকে সব নীরবে নিস্তব্ধে।
তবে কেন এই নারী দিবস উদযাপন?
ভেঙ্গে ফেল নারী, বুক ফুলিয়ে রুখে দাড়াঁও।
এবার সময় আসছে তোমার প্রতিবাদ করবার।
আর তুমি হবেনা কারো দাসত্বের স্বীকার।
তোমার চোখের কোনে জমবেনা জল,
থাকবেনা কোন হাহাকার
তুমি রুখে দাড়াঁও নারী
আর চুপ থেকোনা
আমরা অসহায় নই, আমরা হবোনা কারো দাসত্বের স্বীকার।
শ্লো
গানে শ্লোগানে ভরিয়ে তোল নারী দিবস।

নারীর কথা

Title of this post: A tale of a woman by Rosy Alam
Content of this post: Here writer, demonstrate a tale of woman Komola, who had a dream to continue study, establish her life and be an educated mother. But Komola’s dream was broken and now she is a cake seller in footpath of Dhaka city.


নারী শব্দটি শুনলেই মনে হয় এক অবলা, সহজ সরল আর কমল হৃদয়ের কোন এক রমনী। যার মাঝে রয়েছে অনেক স্বপ্ন অনেক আশা আর ভালবাসা তেমনি এক নারীর কথা শুনব।

কমলা তার নাম, বিয়ে হয়েছে অনেক ছোট বেলায়। দু-চোখ ভরা অনেক স্বপ্ন ছিল কমলার। সে তার গ্রামের সাথীদের সাথে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া শিখবে একদিন অনেক বড় হবে। লেখাপড়া শিখে চেয়েছিল কমলা জীবনটাকে অনেক সুন্দর করে গড়তে। কিন্তু কমলার সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল বাস্তবে আর পরিণত হতে পারল না। এখানে কমলার দোষ ছিল যে সে গরীব বাবা-মার সন্তান, তার বাবা-মায়ের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর মত কোন সামর্থ্য ছিল না। হঠাৎ করে কমলার বিয়ে হয়ে গেল। স্কুলের সব সাথীদের ছেড়ে কমলা চলে গেল স্বামীর বাড়িতে। কমলার স্বপ্নভরা সে দুটি চোখ দিয়ে এখন শুধু জল পরছে। একদিন-দুইদিন, একমাস-দুইমাস, একবছর-দুইবছর এমন করতে করতে পার হয়ে গেল ২০টি বছর। এই বিশ বছরে কমলার যে স্বপ্ন ছিল তা যদি বাস্তবায়িত হত তাহলে কমলা হয়তো এখন একজন ডাক্তার অথবা অন্য কিছু হতে পারত বা একজন শিক্ষিত মা কিন্তু এখানেই কষ্টভরা মনে বলতে হচ্ছে যে, সেই ছোট কমলা আজ একজন পিঠা বিক্রেতা শুধু তাই নয় কমলা মাও হয়েছেন কিন্তু শিক্ষিত মা নন একজন কর্মঠ দরিদ্র মা। সারাদিন রাস্তায় এককোনে বসে কমলা পিঠা বিক্রি করে। প্রতিদিন চার কেজি চাল গুড়ি করে কমলা চিতই পিঠা আর ভাপা পিঠা বানায়। কমলা পিঠা বানায় আর অপেক্ষা করে কাস্টমারের জন্য। এই পিঠা বিক্রি করে কমলা তার সংসার চালায়। চারটি মেয়ে ও দুটি ছেলে নিয়ে কমলার সংসার। স্বামী বেকার আর ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে কমলার হতাসার কোন শেষ নেই সারাক্ষন শুধু চিন্তা কিভাবে কমলা ঘড় ভাড়া যোগাড় করবে কিভাবে কমলা স্বামী ও সন্তানদের খাবার যোগাড় করবে। কমলার চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা যায়, মনে হয় বৃদ্ধ হযে গেছে কিন্তু যদি কমলার ছোট বেলায় বিয়ে না হয়ে লেখাপড়া শিখত তাহলে এত তাড়াতাড়ি কমলার চোখে মুখে বৃদ্ধার ছাপ আসত না। এভাবেই কাটছে কমলার দৈনন্দিন জীবন। প্রতিদিন যখন আমি নারী জীবন থেকে ফেরার পথে কমলাকে দেখি মনে খুব কস্ট হয় এবং আমি এটাই ভাবি যে, আজ এই কমলার জীবন বৃত্তান্ত আমি তার মুখ থেকে শুনেছি বলে লিখতে পেরেছি, কমলাকে নিয়ে ভাবতে পারছি কিন্তু কমলার মত হাজার জমেলা,জরিনা,আমিনা, আলেয়া আরও হাজার নারী আজ বঞ্চিত হয়ে আছে যাদের আমি দেখিনি।

নারীরা যখন পুরুষের চেয়ে ভাল কোন কাজ করে তখন তা দেখে আমরা মুগ্ধ হই কিন্তু যখন কোন ছোট মেয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়,যখন তার থেকে বই কেঁড়ে নিয়ে হাতে বিয়ের মেহেদী পড়ানো হয় তখন আমরা ও অবাক হই কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারি না, কিন্তু কেন? আমরা কি পারি না আমাদের নারীদের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে স্বপ্ন পূরনে সাহায্য করতে আমরা কি এতটাই অক্ষম? কিন্তু অস্বীকার করব না এখনও সেই ভাল মানুষগুলো আছে যারা নারীকে সম্মান করে বিপদে নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে শুধু নারীদের জন্য যেমন নারী জীবন একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং বিশেষ করে যিনি নারী জীবনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাথি ম্যাডামকে আজ নারী দিবস উপলক্ষে নারী জীবনের প্রতিটি নারীর পক্ষ থেকে বিশেষ করে আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের বাংলাদেশে এরকম সুযোগ- সুবিধা পেলে আমার মত অনেক নারীরাই প্রতিবাদী হবে জীবন সম্পর্কে জানবে। ঘরে বসে আর অন্যায়কে মেনে নিবে না। আমাদের নারীদেরও কিছু বলার আছে, জানার আছে, দেখার আছে, আমরা বলব, দেখব এবং জানব..........

উপহাস

Title of this post: Ridicule by Sufiya Khatun

আমি তো নজরুল নই, নই কবি রবীন্দ্র বা জীবনানন্দ
এই ভাষার কাব্য লিখে তোমাদের দেব আনন্দ
সুকান্ত হতে পারিনি বা কবি শরৎচন্দ্র
যদিও মানুষ আমি তবে অতিক্ষুদ্র।
উপন্যাসিক ফাল্গুনী নই, নই আমি বঙ্গিমচন্দ্র
শত চেষ্টায় ও করতে পারিনি জ্ঞানেন্দ্র।
সুফিয়া কামাল ও নই আমি বা পল্লিকবি জসিম
মনে আছে দৃঢ়বল, বুকে আছে সাহস মোর অসীম।
সাহিত্য সম্রাট লেখকের কাব্য পড়েছি প্রথম অধ্যায়
লিখেছেন যাহা চির অমর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
নজরুল রচিত সঞ্চিচা রিক্তের বেদন পড়িতে করিনি ভুল
স্মরণ যদি না থাকে তাহা কে দিবে মাশুল?
বিদ্রোহী নই বা নবেল বিজয়ী লেখক রবীন্দ্রনাথ
সাধ্যমত আগ্রহ নিয়ে এগিয়েঁছি খুঁজতে তাদের পথ।
সাধনায় যখন মানুষ পৌঁছিয়েছে সেই চাঁদে
কেন আমি হতে পারব না কবি হৃদয় যে মোর কাঁদে।
এখনো হতে পারিনি কবি, বলে করিও না উপহাস
ক্ষুদ্রহতে রূপনের বৃহত্তে সাক্ষ্য যে ইতিহাস।
জোনাকির আলো যদিও জ্বলে নিভিয়ে দিওনা তারে
শষ্য কুড়াতে কুড়াতে উহা একদিন বেলে রূপ নিতে পারে
এখানে হতে পারিনি কবি বলে করিওনা অবহেলা
কবি যদি হতে পারি একদিন তবে দেখে নিও মোর খেলা
।

স্যারের সই

Title of this post: Signature of my teacher by Poli Akter

আমাদের দেশের শিক্ষকরাই হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগড়। তাদেরকে আমাদের পিতা -মাতার মত সম্মান করি। কারণ পিতা-মাতার পরে তারাই আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত বা উপযুক্ত শিক্ষিত হতে সাহায্য করেন। তাই পথে কোথাও কোন ভাবে আমাদের শিক্ষক বা শিক্ষিকার সাথে দেখা হলে সালাম দেই। আমি এইচ. এস.সি পাশ করে অর্নাস এ র্ভতি পরীক্ষার জন্য ভর্তির ফরম কিনেছিলাম। ফরমটি কেনার দুই দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার শর্ত ছিল। তাই র্শত অনুযায়ী সব কিছু জোগাড় করার চিন্তায় ছিলাম। ফরম কেনার পরেরদিন কলেজে গেলাম নম্বরপত্রের ফটোকপি ও ছবি সত্যায়িত করার জন্য। কলেজ অফিসে যাওয়ার পর সেখানে দেখলাম সবাই অনেক ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। আমার সাথে কেউ কোন কথা বলতে চাইলো না। আমি যখন অপেক্ষা করছিলাম সেই সময় আমাদের এক শিক্ষিকা রুমে আসলেন। কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন না। তবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব এই শিক্ষার হাতের দিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাডামকে নম্বরপত্রের ফটোকপিগুলো দিতেই তিনি বললেন দুইঘন্টা অপেক্ষা কর আমি আসছি,সই করে দিব, নইলে স্যার করে দিবেন।

স্যার তখন কলেজে ছিলেন না। সেই স্যারের বাসা আমাদের বাসার সাথে ছিল। তাই ভাবলাম দুই ঘন্টা অপেক্ষা না করে স্যারের বাসায় যাই। তাই কলেজ থেকে স্যারের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। চিন্তা করছিলাম যে কখনও স্যারের বাসায় যাইনি, স্যার কি মনে করবেন এই ভেবে অনেক ভয় করছিল। স্যারের রুম ছিল পাঁচ তালায়। তখন প্রায় সন্ধ্যা। একা একা পাঁচ তালাসিঁড়ি বেয়ে উঠার পর দেখলাম একটা রুমের দরজা খোলা। সেই রুমে স্যারের ছাত্ররা বসে ছিল। আমিও সেই রুমে গিয়ে বসলাম। স্যার তখন ভিতরের রুমে ছিলেন। আমি স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তখন আমার মনে ভয় ও চিন্তা এক সাথে কাজ করছিল। তিনি অনেকক্ষণ পর ছাত্রদের পড়ানোর জন্য রুমে ডুকলেন। আমি তাকে সালাম ছিলাম। স্যারকে বললাম, এই ভর্তি ফরম জমা দেবার জন্য আপনার সই লাগবে। আমার কথা শেষ হতে না হতেই তিনি আমার উপর প্রচন্ড রেগে গেলেন। একটা সইয়ের জন্য তার মুখে যা আসল সেই ছাত্রদের সামনে সে তাই বলল। আমাকে অনেক গালাগালি করল সেই ছাত্রদের সামনে। তিনি শুধু তার কথা বলে গেলেন। আমার কথা শুনতে চাইলেন না আমি যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা সইয়ের জন্য ছুটাছুটি করলাম সেই কথা শুনতে চাইলেন না। তিনি শুধু তার কথা বলে গেলেন। প্রচন্ড রকম কষ্ট নিয়ে তার বাসা আসলাম। প্রত্যেকটা সিঁড়িতে পা দিচ্ছিলাম আর আমার আমি কিছুতেই কান্না থামাতে পারছিলাম না। হ্যাঁ তিনি অবশ্যই সই করে দিয়েছিলেন।

মশা

Title of this post: Mosquito by Ruma Akter

ছোট একটি প্রাণী
নাম তার মশা।
তার জ্বালায় কোন জায়গায়
যায়না একটু বসা।
ছেলে মেয়ে মনযোগ দিয়ে পড়তে যখন বসে
মশা তখন উড়ে এসে
কাঁমড় দেয় ঠেঁসে।
দুষ্ট মশার জ্বালায় তো সুখে থাকা দায়
দুষ্ট মশা রক্ত চুষে
বেজায় সুখ পায়।

Tuesday, March 4, 2008

বাজার দর

Title of this post : Market Price by Sufiya Khatun

আজব শহর এই ঢাকা
কচুটাও ২০টাকা।
এটা শুনেই হাউমাউ
৩০টাকায় একটি লাউ।
সস্তা শুধু একটু নুন
কুড়ি টাকায় কালো বেগুন।
মজা কিছু আছে ঢের
৩৫ টাকা সিমের সেড়।
কি হল ভাই লাগছে তাক?
২০টাকায় পালং শাক।
ভানু মতির দেখছো খেল?
১০০ টাকা সয়াবিন তেল।
আর কত ভাই দেখবে খেলা?
দেড়শ টাকায় একটি চেলা।
এসব শুনে রক্ত হিম
২০টাকায় চারটি ডিম।
থাকতে ক’দিন গায়ের ছাল
৩৫টাকা সেড়ের চাল।
শুনবে কি আর বাজার দর
ছাড় এবার ঢাকার শহর।

Saturday, February 23, 2008

২১-শের প্রভাত

Title of this post: The morning of 21st February by Sufiya Khatun

আর কেঁদনা মাগো
হাজার ছেলে আসছে তোমার
বরতে তাদের জাগো।
এপ্রভাতে গাথঁছে সবাই
হৃদয় ফুলের মালা
তাই দেখে মা শান্ত কর
হারানো ছেলের জ্বালা।
ফুলের ডালি দাও সাজিয়ে
প্রভাত তারা জাগে
স্বর্গ হতে আসছে ভাইয়েরা
বরতে হবে যে আগে।
রক্ত পলাশ ফোঁটে থোকা থোকা
শিমুল ফুঁটেছে শাখে
দেখ দেখ মা ভাইয়েরা আমার
হাতছানি দিয়ে ডাকে।
রফিকের হাতে ফুলের ডালা
শফিকের মুখে হাসি
সালাম জব্বার পুলকিতভাবে
আসিতেছে পাশাপাশি।
বরকত ভাইয়া অগ্রে ছুঠেছে
“
মাগো” ডাক তার মুখে
সবাই এসেছে তোমার কোলে মা
তুমি কাঁদ কোন দুঃখে।

Tuesday, February 19, 2008

দাদী

Title of this post: “Grandmother” by Nafisa Mubasira.

দাদী বলে উঠল ”পুতের ছোয়াল লাথি দিয়া কোমর ভাইঙ্গা দিমু”
“
কেন দাদী কি করেছি আমি” নাদিয়া বলল।
দাদী বলে উঠল, “আবার কথা কস একটা লাথি দেব মুখের উপর।”
নাদিয়া বাবাকে বলে, “দেখ আব্বু দাদী কি বলে।”
বাবা বললেন, “দাদী হয় একটু সহ্য কর নাদিয়া”
আমি বললাম দাদী কি এমন হয় আব্বু। রাত্রে খাবার সময়, হঠাৎ দাদী বলে উঠল “আমাকে খাবার দিবি নাকি না খাওয়ায় মারবি।”

আম্মু সবাইকে রাত্রের খাবার খেতে টেবিলে ডাকল। খেতে বসে দাদী তার মত তার প্লেটে খাবার তুলে নিল। এক গাল ভাত মুখে তুলে মাকে বলে উঠল “বড় লোকের ঝি রানতে জানিস না” বলে মাছের বাটিতে হাক থু করে থুতু দিয়ে দিয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিয়ে রুমে চলে গেল। রাত্রে এক বিছানায় আমার, মেজ ভাইয়ার ও দাদীর শোয়ার কথা। রুমে ডুকে দেখি মেজ ভাইয়া বিছানার কিনারায় শুয়ে আছে আর দাদী তাকে সমানে বকা ঝকা করছে। আমাকে দেখে বলল “হারাম যাদারে সরাবি নাকি এক লাথি দেব” বলেই ভাইয়াকে এক লাথি দিয়ে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দিল। ভাইয়ার কপাল ফেঁটে রক্ত বের হচ্ছে আমি চিৎকার করে মাকে ডাকার জন্য দৌঁরে গেলাম ফিরে এসে দেখি দাদী পিছন ঘুরে খাটে শুয়ে আছে। ভাইয়াকে আমরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি দেখে দাদী বলে উঠল, “আহলাদের শরীর পাদলেই ডাক্তার লাগে” কেউ কোন উত্তর না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ভাইয়ার কপালে দুটি সেলাই লেগেছিল।

দাদী জেদ ধরল গ্রামে যাবে, এদিকে আমাদের ও বার্ষিক পরীক্ষা শেষ আমরা সবাই গ্রামে গেলাম। যাওয়ার পথে আমি বড় আপুর পাশে বসলাম,
দাদী বলল
, “এত পিরিত কিসের ফকিন্নির ঝি সর আমারে বসতে দে।”
দাদী আমার আর বড় আপুর মাঝে বসল। আমার যখন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালাম তখন বিকাল। আমার বড় চাচার ছেলে তের চৌদ্দ বয়সের সুমন ভাইয়া পেয়ারা গাছে ছিল।

দাদী বাড়িতে পা দিয়েই বলে উঠল, “পুতের ছোয়াল আমি বাড়িতে নাই আর তুই আমার সম্পত্তি খাস। পুতের ছোয়াল খাড়া মজা বুঝাই” বলেই দৌড়ে গিয়ে কতগুলো ইটের টুকরা ছুরে মারল, তার মধ্যে একটা ইট যেয়ে চোখে লাগল। সুমনের চিৎকার শুনে বড় চাচা ছুটে এল, আমরা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

দাদীকে চাচা বলতে লাগল, “মা তুমি বাড়ি আসতে না আসতেই শুরু করে দিলে।”
দাদীও চুপ থাকল না বলল, “ক্যা রে তোর পোলা যে আমার সম্পত্তি খায় তা কি চোখে দেখিস না।”
আমার বাবা বলল, “থাক না অনেক হয়েছে এখন চুপ কর। ওর চোখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।”

আমার বাবা ভাই বোনদের সবার ছোট, দাদী এমন হলেও বাবাকে অনেক ভালোবাসে যার কারনে বাবার কথাতেই চুপ করে গেল। আমরা সবাই দাদীর ঘরে বসলাম হঠাৎ এক জার্মানি মহিলা এসে দাদীর পা ধরে সালাম করল।
দাদী আশ্চার্য হয়ে বলল, “কে তুই?”
বড় চাচা বলল, “জার্মান থেকে বিয়ে করে নিয়ে আসছি এটা তোমার নতুন বৌ মা।”
এরই মধ্যে আমার বড় চাচী কাঁদতে কাঁদাতে দাদীর কাছে এসে বিচার দিল, “মা দেখেন আপনার ছেলে কি করেছে।”
দাদী বলল, “যা করেছে ভাল করেছে তোর ইচ্ছা হইলে তুই থাক তা না হলে চইলা যা। কি রে আমার বড় লোকের ঝি ছেলেরা দুই একটা বেশি বিয়ে করেই থাকে তাতে কি একেবারে মহাভারত অসুদ্ধ হইছে ঢং করিস না, যা।”

আমার মা, মেজ চাচী তাকে বুঝ দেওয়ার কোন ভাষা খুঁজে পেল না। রাত্রে তাকে খাওয়াতেও পারল না। সে রাত্রে বড় চাচী বারান্দায় বসে কেদেঁ রাত কাটাল।

সকাল হতেই চাচীর ৩ বছরের মেয়ে মিনুকে সাথে নিয়ে যাওয়ার সময় দাদী ঝড়ের বেগে এসে বলল, “ফকিন্নির ঝি তুই মিনুকে কই নিয়ে যাস মরলে তুই একাই মর।”
মিনু দৌড়ে গিয়ে বলল, “দাদী মা যাচ্ছে।”
দাদী মিনুকে বুঝ দিয়ে বলল, “ওটা তো তোর পুরানো মা কালা, দেখ তোর জন্য তোর বাপে কেমন সুন্দর বিদেশী মা নিয়ে আইছে।”
মিনু বলে, “না দাদী আমার সুন্দর মা দরকার নাই, আমার ঐ মাই ভাল।”
দাদী বলল, “চল তোরে গোসল করায় নিয়ে আসি তোর মাথা গরম হয়ে গেছে।”
দাদী মিনুকে পুকুরে গোসল করাতে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর দাদী গোসল করে একাই ফিরে এসে উঠানে শাড়ি নাঁড়ছে
মা দাদীকে একা দেখে বলল, “আপনি একা মিনু কোথায় মা? আপনি না ওকে গোসল করাতে নিয়ে গেলেন?
দাদী ঘামটা দিয়ে বলল, “ফকিন্নির ঝি ফকিন্নির মতই হইছে আমার সাথে জেদ দেখায় কয় আরো গোসল করমু ঘাঁটে থুইয়া আইছি।”
মা বলল, “মা একি করেছেন ছোট বাচ্চা.....” কথা শেষ না করেই পুকুর ঘাঁটে ছুটে গেল। মায়ের চিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে যাওয়া দেখে আমরা দৌঁড়ে গেলাম। মিনুকে ঘাঁটে দেখতে পেলাম না। পানিতে নীল রং এর কাপড় একটু দেখতে পেয়ে মিনু বলে চিৎকার করে সুমন ভাইয়া পানিতে ঝাপ দিল। পানিতে মিনুর লাশ জরিয়ে ধরে পানিতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল, সে যে মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে এতুটুকু শক্তি তার শরীরে নাই। সবাই বলতে লাগল সুমন মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে আস ও কি বেঁচে আছে। সুমন ভাইয়ার বাক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে একে তো মা বাড়ি ছাড়া তার উপর একমাত্র বোন মারা গেছে। সুমন ভাইয়া অনেকক্ষন পরে ঘাটে মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে এসে দাদীকে প্রসঙ্গ করে বলে উঠল, “এই বুড়ির বাচ্চা বুড়ি আমার ছোট বোনকে মাইরা ফেলছে।”

আমি এই প্রথম দাদীকে নীরব ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।
মেজ চাচা বলে উঠল, “সুমন বেয়াদবী করে কথা বল না।”

মিনুর লাশ দাফন দেওয়া হল কদম গাছের তলে যেখানে মিনু পুতুল নিয়ে খেলত। ঐ দিনের পর থেকে সুমন ভাইয়াকে আর পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর বড় চাচা বউ নিয়ে জার্মানে ফিরে গেল। প্রায় অনেক দিন হল গ্রামে এসেছি। এবার আমাদের যাওয়ার পালা। দাদী আমাদের সাথে শহড়ে আসতে চাইল না।
বাবা দাদীর হাতে এক মাসের খরচ দিয়ে বলল, “মা আপনার জন্য প্রতি মাসে আমি টাকা পাঠাব।”

দাদী কোন উক্তি করল না চুপ করে কথা শুনে মাথা নাড়াঁলো। দাদী ইদানিং কেমন যেন ভেঙ্গে পড়েছে, আগের মত অতবেশি গালি গালাজ, দাপা-দাপী এখন আর করে না। আমার মনে হয় মিনুর মৃত্যু দাদীর মনে লেগেছে। কারণ মিনুর মৃত্যুর দোষ সম্পূর্ন দাদীর উপরই চাপিয়ে দিয়েছেন সবাই।

আমরা গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে এলাম। প্রায় দুই মাস পর খবর পাই দাদী মারা গেছে। আমরা ভাই বোনরা কিছুতেই তার হঠাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারিনি। আমরা গ্রামে গিয়ে শুনি আব্বু ঢাকায় এসে দাদীর জন্য যে টাকা পাঠাত মেজ চাচা সেই টাকা দাদীকে দিত না। এমনকি দাদীকে তারা খেতেও দিত না, না খেতে পেয়ে একদিন দাদীর প্রচন্ড জ্বর আসে।
দাদী চাচাকে হাত পেতে বলে, “আমারে অল্প কয়টা ভাত খাইতে দে, আমার অনেক জ্বর।”
চাচা তাকে খেতে দেয় না এমনকি আশেপাশের মানুষরাও তাকে সামান্য ভাত দেয় নি, এমনকি তার এই মুমূর্ষ অবস্থা দেখেও।

দাদী কার কাছ থেকে যেন ৮-৯ টা প্যারাসিট্যামল ঔষধ নিয়ে একসাথে সবগুলো খালি পেটে খেয়ে নেয়। তখন প্রায় সন্ধ্যা দাদী বিছানায় শুয়ে জ্বরে কাতরাচ্ছে। মেজ চাচা বলে চল তোমারে গায়ে পানি ডালি জ্বর নেমে যাবে।
দাদী বলল, “না বাবা আমারে গোসল করালে আমি মারা যাব যদি পারিস চারডা বাসি ভাতই দে।”
চাচা বললেন, “চলতো বক বক কইরো না” বলে দাদীকে যখন গায়ে পানি ডালে কিছুক্ষনের মধ্যেই দাদী মাটিতে পড়ে মারা যায়।

ফাল্গুনের আগমনে

Title of this post: “When Falgum comes” by Jannatul Fardoush

আহা ফাল্গুনের এই আগমনে
মনের হরসে গুন গুনে,
গাইছি যে গান তাই
তোমারই স্মরনে।

হরুদের সমারোহ বনে
আগুনেরই ছটা।
সবুজের মাঝে মাঝে
শিমুল ফুল ফোটা।

প্রকৃতির চারদিক সেজেছে
এযন নব বধুর সাজ।
তাই ফাল্গুনের দুয়ির খুলে
শুভেচ্ছা জানতে এলাম আজ।

বিমর্ষতা কাঁটিয়ে চল কিছু সময় ধরে।
কষ্টের দুয়ার ছুরে ফেলে সুখের ওপারে।
নিভে যাএয়া প্রদিপের সুতোয় জ্বালায় আগুন।
দু-হাত বাড়িয়ে কাটে টেনে নাও এই ফাল্গুন।