Saturday, September 1, 2007

সেই ছেলেটি

Title of this post: The boy (Shei cheleti) by Mayanur Akter
Content of this post: Sympathetic feelings of the author about a man who sleeps in the hospital (works as the attendant of patient telling them that he has patient in the hospital (but he does not have any patient) at night as he has no house to live at Dhaka. He can not live in rented house as he does not have enough money. In day time he pulls rickshaw and at night he sleeps in hospital. He is earning/saving money for her family (Mother, and sibling).

মনে পরে সেই ১৯/২০ বছরের ছেলেটির কথা
ছেলেটির কথা মনে হলে এখনও আমার দুই চোখ অশ্রু সজল হয়ে যায়কিন্তু আমি পারিনি ওর জন্য কিছু করতে এমনকি পারিনি তাকে একদিনের জন্যও আশ্রয় দিতে

যে ছেলেটির কথা বলছি: আমার শ্বশুর খুবই অসুস্থ, তাকে নিয়ে আমরা সবাই হাসপাতালে ছুটাছুটি করছিলামতারপর বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে শেষ পর্যন্ত এক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলএ্যাম্বুল্যান্স্‌ থেকে আমার শশুরকে নামানোর পর এক যুবক হাতে একটা কাপড়ের ব্যাগ, সে আমাদের পাশে পাশে ছুটছেমনে হয়েছিল সে আমাদের কেউ একজনসবাই তো আব্বাকে নিয়ে ব্যস্তকিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না কে এই ছেলে আমি দেখতে পেলাম সেই ছেলেটি একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমুচ্ছে; পাশে রাখা সেই কাপড়ের ব্যাগটিঅন্যরা দেখলে মনে করবে সে আমাদের সাথে এসেছে আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না আমি বাসায় চলে এলামতার পরদিন যখন আমি আবার হাসপাতালে গেলাম; রাতের বেলা কেবিন থেকে বের হয়ে দেখলাম যে, সেই ছেলেটি আজও ওখানে ঘুমুচ্ছে আমার শব্দ শুনে সে জেগে গেছেআমি ওর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম সে আমাকে কিছু বলতে চায়আমি কাছে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কি কেউ এখানে ভর্তি হয়েছে? ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, নাআমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আপনি এখানে কি করছেন প্রতিদিন ?’ সে বলল, আমার কথা কি আপনার বিশ্বাস হবে ? আমার কথা শুনার মত সময় কি আপনাদের আছে?’ আমি বললাম, হ্যাঁ বলুন আমি আপনার সব কথা শুনব

সে বলতে লাগল, আমার বাবা নেইআমি বাবা মার বড় সন্তানতিন বোন আর মাআমার মা খুব অসুস্থটাকার অভাবে চিকিৎসা চলছে না আমি অনেক কষ্ট করে এইচ.এস.সি পাশ করেছি টাকার অভাবে আর লেখা পড়া হয়নিঅনেক চেষ্টা করেও কোন কাজ পাচ্ছিলামনা মায়ের চিকিৎসার টাকা দিতে বোনদেরকে দু-বেলা দুমুঠো ভাত আমি দিতে পারিনিএসব কষ্ট সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চলে এলাম এই ঢাকা শহরে! এখানে এসে বুঝতে পারলাম আমি কতটা অসহায়, পৃথিবী কত কঠিন! মানুষ কত নির্মম! এখানে সবাই খুব ব্যস্ত নিজেদেরও প্রয়োজনেএক মূহুর্তের জন্যও কেউ কাউকে সময় দিতে চায়না আমি বললাম, আসলেই সবাই খুব ব্যস্ত, তাই সময় দিতে পারছেনা
ছেলেটি আবার বলতে লাগল, একদিকে মায়ের সে অসুস্থ মুখ অন্যদিকে বোনদের ক্ষুর্ধাত মুখ আমার চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ভেসে ওঠেআমি ভাই হয়ে ওদের জন্য কিছুই করতে পারিনি তাই উপায় না পেয়ে অনেক বলে কয়ে এক গ্যারেজ থেকে একটা রিক্সা নিয়েছিলামপ্রতিদিন যা পেতাম তাতে ওদের টাকা জমা দিয়ে আমার থাকত ৭০/৮০ টাকাএই টাকা দিয়ে আমি নিজে চলব নাকি বাড়িতে মা, বোনদের জন্য পাঠাব? ওরা তো আমার আশায় বসে আছে, তাই আমি সারাদিন এক বেলা খাই, অনেক দিন না খেয়েও থাকি কিন্তু রাতে তো কোথাও থাকতে হবে তাই সন্ধ্যার পর রিক্সা গ্যারেজে জমা দিয়ে আমি ছুটতে থাকি বিভিন্ন হাসপাতালে

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হাসপাতালে কেন ?’ উত্তরে সে বলল, বুঝতে পারছেন না, হাসপাতালে কেন ?’ আমি মাথা নেরে বলাম, নাছেলেটি বলল, অবশ্য আপনাদের মত লোকরা আমাদের মত এই গরীবদের দুঃখের কথাগুলো না বুঝার-ই কথাআমি কিছু বুঝতে না পেরে চুপ করে আছিসে আবার বলতে লাগল, একেক দিন একেক হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি, যখন দেখি কোন একটা এ্যাম্বুল্যান্স তখনি পাশে পাশে থাকি এবং রোগীর সাথে যে মানুষ আসে তাদের সাথে ঢুকে যাইহাসপাতালের লোক জন মনে করে আমি সে রোগীর কেউ হইতারপর যতদিন সে রোগী থাকে আমিও ততদিন থাকিসারারাত এই চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকি, সকালের অপেক্ষায়যখনি রাত শেষে ভোর হয় তখনি রিক্সার জন্য গ্যারেজের দিকে ছুটতে থাকিএভাবে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে আমার রাত চলে যায় আর দিন চলে রিক্সায়এভাবে মাসের পর যে টাকা জমে সেগুলো দেশের বাড়িতে আমার মা, আর বোনদের জন্য পাঠিয়ে দেইওরা ভাল থাকলেই আমি ভাল থাকবওরা জানে আমি ঢাকা শহরে খুব ভাল চাকরি করি

আমি বললাম, তাহলে আপনার খাওয়া, গোসল এগুলো? ’ সে আমাকে বলল, যদি কখনও সম্ভব হয় তাহলে হাসপাতালেই গোসল করিসে আরও বলল, আমি এখানে মাঝে মাঝে ডিউটিও করিআমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম সে একটু হেসে বলল ডিউটি বুঝতে পারছেন না তো? অনেক রোগী আসে যাদের সাথে কেউ থাকে না, যদি কখনও এরকম দেখি তখন ওদের জন্য আমার খুব মায়া হয়, সে রোগীর জন্য আমি কিছু করার চেষ্টা করিআমি যদি বলি যে আমি এভাবে এখানে থাকি তখন হয়ত কেউ আমাকে সন্দেহ করবে, বা রোগীটিও আমাকে ভুল বুঝতে পারে তাই বলি যে আমার ও এখানে রোগী আছে, সে কথা বলে সেবা যত্ন করি

আমি ছেলেটির সব কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম, মনে মনে ভাবলাম যার সময় শেষ আমরা তাকে জোর করে আটকাতে চাইআর যার বেঁচে থাকা খুব দরকার, বাঁচার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছে তাকে আমরা একটু সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসি নাআমি কিন্তু ছেলেটির জন্য কিছুই করতে পারিনি! আমি পারতাম অন্তত একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতে কিন্তু আমি তা করিনিকারণ আমার সংসার, আমার সমাজ; পাছে লোকে কিছু বলে, দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ,ভয় এসব ভেবে আমি আর কিছু করতে পারিনি সেই ছেলেটির জন্যআমি তাকে তার মায়ের জন্য কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে নেয়নিসেলেছিল, আমার মাকে আল্লাহ্‌ দেখবে কোন মানুষের সাহায্য আমি চাই না

আমি তাকে আর কিছুই বলতে পারিনিসেই ছেলেটির কথা আমার প্রতি মূহুর্তে মনে পরেমনে হয় গ্রামের এই সহজ সরল ছেলেটি নিজের সাথে সংগ্রাম করতে করতে হয়ত একদিন উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারবেআবার এমনও হতে পারে যে টাকার জন্য সে নিজের আত্ম বিশ্বাস হারিয়ে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারেহয়তবা হয়ে যাবে বখাটে মাস্তানএর জন্য তো আমরা সবাই দায়ীআমাদের সমাজের এই বৈষম্য থেকেই তো সমাজে সর্বপ্রকার অরাজকতা এবং বিশৃংখলার সৃষ্টি

আমিতো আর কিছু করতে পারিনিদোয়া করি, এই রকম সব ছেলেরা যেন, জীবনের সাথে সংগ্রাম করে একদিন উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারেআমি একজনকে জেনেছি, কিন্তু এরকম আরও কতশত ছেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেআমরা কি কেউ তাদের খবর রাখি?

ট্রাফিক জামে ফুল বিক্রি করা সেই মেয়েগুলো

Title of this post: Girls who used to sell flower in the traffic Jam in Dhaka city by M.G. Rabbany


বিথি আক্তার






"আমার বয়স ১৩ বছরের মতো হবেআমি বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান, আমার আরো তিন বোন আছে কিন্তু আমাদের কোন ভাই নাইআমার বড় বোন বয়স ১৬ বছরের মতো গার্মেন্টস-এ কাজ করতো, প্রায় এক বছরের বেশী হলো তার বিয়ে হয়ে গেছেআমার বাবার নাম দুলাল বয়স ৪০ বছরবর্তমানে সে কোন কাজ করতে পারে না কারন সে অসুস্থ। পূর্বে সে রিক্সা চালাত কিন্তু ৪বছর আগে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েকোমরের ব্যাথার কারণে কোন কাজ করতে পারে না

আমার মা গৃহপরিচারিকার (বুয়া) কাজ করেন এবং বলতে গেলে তিনিই একমাত্র উপর্জনকারীনতুন বাজার থেকে পূর্বদিকে নূরের চালা মুড়ি ফ্যাক্টরির পাশে আমাদের বাসাটিনসেট একটি ঘরের ছোট একটি রুম

ে আমরা সবাই থাকি - প্রতিমাসে ভাড়া দিতে হয় ১১০০ টাকা

আমি দু বছরের মতো লেখা-পড়া করেছিআমাদের এলাকায় একটি এন.জি.ও ছিল কিন্তু দু-বছর পড়ানোর পর গত জানুয়ারীতে বন্ধ হয়ে যায়বর্তমানে আমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারি এবং অংক ও ইংরেজী অল্প অল্প পারিখুব ইচ্ছে ছিল লেখা-পড়া করার কিন্তু কোথাও আর পড়া হলো নাবর্তমানে আমি প্রায় সারাদিন বাসায় থাকি এবং ঘরের কাজ করিরান্না বান্না থেকে প্রায় সবই নিজেই করিকাউকে না জানিয়ে আমি গার্মেন্টস চাকরীর জন্য গিয়েছিলামও কিন্তু ছোট বলে আমাকে কাজ দেয়নিপূর্বে আমি গুলশানে ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতামআমি এবং আমার আরো তিনজন বান্ধবী মিলে ফুল বিক্রি করতামকিন্তু এখন একটু বড় হয়েছি বলে বাবা-মা ফুল বিক্রি করতে দেয় নাবাবা-মা এখন আমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেতারা কয়েক বার আমাকে বিয়ের কথা বলেছেআমি কেঁদেছি এবং বলেছি তারা যদি আমাকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চায় তাহলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব যেদিকে দু চোখ যায়।"

কুলসুমা








"আমার বয়স ১২ বছর
আমি বাবা-মার সবচেয়ে ছোট সন্তানআমার বড় দুজন ভাই আছেআমার বাবা নেই আমি যখন খুব ছোট তখন আমার বাবা মারা গেছেনআমার মা আগে গৃহপরিচারিকার (বুয়া) কাজ করত কিন্তু বর্তমানে সে বৃদ্ধ এবং অসুস্থ কোন কাজ করতে পারেনাআমার মেঝ ভাই একটি স্কুলে কাজ করে কিন্তু সে বিয়ে করে আলাদা থাকেআমাদের কোন খোঁজ নেয় নাআমার বড় ভাই কোন কাজ করে না - সে মাদকাশক্ত এবং জুয়া খেলেসে গাঁজা এবং হিরোইন খায়সে আমাদের সাথে খায় না - গভীর রাত্রে ঘরে এসে ঘুমায় এবং দিনের বেলায় চলে যায়সে আমাদের কোন টাকা দেয়না কিন্তু মা এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে বলতে গেলে আমাকে সব খরচ বহন করিতে হয়আমি আগে গুলশান-২ ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতাম কিন্তু বেশী আয় করার জন্য আমি এখন টোকাইয়ের কাজ করিরাস্তার পাশের ডাস্টবিনের ভিতর থেকে ময়লার কাগজ, পলিথিন ব্যাগ, বোতল, ক্যান ইত্যাদি সংগ্রহ করি এবং ভাঙ্গারী দোকানে বিক্রি করিসপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কাজ করি- এতে প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মতো আয় হয়আমাকে প্রতিদিনের খাবার এবং অন্যান্য খরচ ছাড়াও প্রতিমাসে ১২০০ টাকা ঘর ভাড়া দিতে হয়আমাদের বাসায় বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও বাড়ীওয়ালা রাত্রের বেলাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে

আমি একটি এন.জি.ও স্কুলে দু-বছর লেখা-পড়া করেছিআমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারিঅংক এবং ইংরেজী কিছু কিছু পারিআমি স্কুলে ভালো ছাত্রী ছিলামদু - বছর পর গত জানুয়ারী মাসে স্কুল বন্ধ হলে আমার লেখা পড়াও বন্ধ হয়ে যায়।"

লাভলী আক্তার






"আমার নাম লাভলী আক্তার, বয়স ১৩ বছর
আমি বাবা-মার সবচেয়ে বড় সন্তান আমার একজন ছোট ভাই এবং একজন ছোট বোন আছেআমার বাবা নিয়মিত রিক্সা চালাত কিন্তু দু-বছর আগে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এখন পর্যন্ত সে কোনো কাজ করতে পারেনাআমার বাবার নাম বাবু এবং তার বয়স ৪০ বছরের মতো হবেআমার মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে এবং বর্তমানে তিনিই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। আমাদের গ্রামের বাড়ী ঢাকার ডেমরা কিন্তু সেখানে আমাদের কিছুই নেইআমি আগে গুলশান-২ ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করতাম কিন্তু এখন বাবা-মা ফুল বিক্রি করতে যেতে দেয় না কারন তারা বলে আমি এখন বড় হয়ে গিয়াছিতারা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেকিছুদিন ছেলে পক্ষ এসে দেখে গেছে শুনেছি ছেলে কোন এক গার্মেন্টসে চাকুরী করেআমি এ বিয়েতে রাজি ছিলাম না, আমি অনেক কেঁদেছি এবং বলেছি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবএখনো বাবা-মা আমাকে বিয়ের কথা প্রায়ই বলে যাতে আমি রাজি হইআমার ইচ্ছে ছিল লেখা-পড়া করব এবং কমপক্ষে গার্মেন্টসে চাকুরী করবএকদিন আমার বান্ধবী বিথির সাথে একটি গার্মেন্টসে গিয়েছিলাম চাকুরী নেওয়ার জন্য কিন্তু আমাদের অল্প বয়স বলে চাকুরী দেয়নি। আমি কোন স্কুলে লেখাপড়া করিনি কিন্তু দু-বছর একটি এন.জি.ও স্কুলে পড়েছিগত জানুয়ারী মাসে আমাদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছেআমি বাংলা এবং অংক লিখতে ও পড়তে পারি।"

রুবি আক্তার






"আমার নাম রুবি আক্তার বয়স ১৩ বছর
আমি বাবা-মার ছোট সন্তান, আমার বড় দুই ভাই এবং দুবোন আছেআমার বড় দু-বোনের বিয়ে হয়েছে এবং তারা তাদের স্বামীর সাথে থাকেআমার বড় ভাই রিক্সা চালায়, সেও বিয়ে করেছে এবং তার পরিবার নিয়ে আলাদা থাকে আমার দ্বিতীয় বড় ভাই কোন কাজ করেনা সে নেশাখোর, জুয়াখেলেসে গাঁজা, হিরোইন খায় এবং জুয়াখেলেসে প্রায়ই আমাদের ঘর থেকে টাকা অথবা কোন জিনিস চুরি করে বিক্রি করে নেশা করেমা এবং আমাকে মাঝে মাঝেই মারেআমার বাবা অন্য আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র থাকেমাঝে মাঝে বেড়াতে এলেও কোন খরচ দেয় নাআমার মা একজন ভিক্ষুক সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায়আগে আমার মা বুয়ার কাজ করিত কিন্তু এখন সে খুব দুর্বল কাজ করতে পারেনাসে ভিক্ষাও ঠিকমত করতে পারেনা

আমি আগে ট্রাফিক সিগনালে ফুল বিক্রি করিতাম কিন্তু কয়েকটি কারনে এখন করিনা ফুল সন্ধ্যার পরে বিক্রি করা যায় বেশি, কিন্তু আমার বান্ধবীরা কেউ আসেনা এবং এ কাজে বেশী আয় করা যায় নাকিন্তু আমাকে পরিবারের প্রায় সব খরচই বহন করতে হয়আমাকে বাসা ভাড়া হিসাবে প্রতি মাসে ১১০০ টাকা দিতে হয়মা বেশী বেশী ভিক্ষা করিতে পারেনা বলে আমাকেই প্রায় সব খরচই দিতে হয়তাই আমি ফুল বিক্রি বাদ দিয়ে টোকাইয়ের কাজ করছিগুলশান মার্কেটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং ডাস্টবিনের ময়লা থেকে কাগজ, পলিথিন, ক্যান, বোতল ইত্যাদি সংগ্রহ করি এবং ভাঙ্গারী দোকানদারদের কাছে বিক্রি করিপ্রতিদিন কাজ করলে সপ্তাহে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মতো আয় করা যায়

কিছুদিন আগে বাবা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য একটি ছেলে ঠিক করেছিলো তখন আমার বড় ভাই বিয়ে দিতে দেয়নিআমার বড় ভাই বাবাকে বলেছে এত ছোট বয়সে বিয়ে দেওয়া ঠিক নাআমিও এখন বিয়ে করতে চাই নাআমি লেখা-পড়া শিখে গার্মেন্টস বা কোন অফিসে চাকুরী করিতে চাইআমি প্রায় দু-বছর একটি এন.জি.ও স্কুলে লেখাপড়া করেছিআমি বাংলা এবং অংক লিখতে ও পড়তে পারি এবং কিছু কিছু ইংরেজী পড়তে পারি।"


এই চারজন মেয়েই একই বাসায় আলাদা আলাদা রুম ভাড়া নিয়ে তাদের পরিবারের সাথে থাকেপ্রতিটি কক্ষের ভাড়া ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকাতাদের ঘরের চাল টিনের, বেড়া বাশেঁর এবং মেঝে কাচা মাটির১২ থেকে ১৪ টি পরিবারের জন্য রয়েছে দুটি অরক্ষিত টয়লেট, গোসলের জন্য খোলা জায়গা তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ সংযোগ দিনের বেলা মাঝে মাঝে পেলে রাত্রে বিচ্ছিন্ন থাকেমশা, দুর্গন্ধ এবং অসহ্য গরমে তাদের ঘুমানো খুবই কঠিনবিদ্যুতের জন্য বাড়ীওয়ালাকে বললে বাড়ী থেকে চলে যেতে বলেতাদের টয়লেটটি খোলা বলে খুব দুর্গন্ধ ছড়ায়

এই চারজন ছোট বালিকা গুলশান-২ গোলচক্করে ফুল বিক্রি করত এবং ২০০৩ সালের দিকে আমাদের সাথে পরিচয় হয়েছিলআমাদের নারী জীবনের চেয়ারম্যান ডঃ ক্যাথরিন বি-ওয়ার্ড যখনই বাংলাদেশে আসেন তখনই তাদের খোঁজ নেনতাদেরকে সাহায্যও করে থাকেন এবং তাদের খুবই ভালবাসেন

যেমন- এই চারজন বালিকাকে তাদের জীবনের স্বরনীয় কোন ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করিলে চারজনই একই একই দুটি ঘটনার কথা বর্ননা করেন

প্রথমটি হলো: প্রথম যেদিন তাদের মধ্যে দু-জন ডঃ ক্যাথরিনের কাছে ফুল বিক্রি করিতে গেলে ফুল না নিয়ে প্রত্যেককে ১০০টাকা করে দেন
দ্বিতীয়টি হলো: যেদিন তারা ডঃ ক্যাথরিনের অফিসে গিয়েছিল এবং তাদের সবাইকে খুবই ব্যায় বহুল রেষ্টুরেন্টে নিয়ে সুস্বাদু খাবার খাওয়াল
তাদের ভাষায় ম্যাডাম তাদের বাবা-মার চেয়েও বেশী আদর করেন এবং তারাও তাকে খুব ভালবাসেন

Tuesday, August 28, 2007

নারী

Title of this poem: “Women” by Tahmina Akter
Content of this poem: “In Bangladesh women are always despised and deprived from their rights in the male dominated society. However women have increased their self estimate and stepping ahead. Women always make confidence to acquire accomplishment for men but men don’t evaluate it” author exemplify her thought from beginning to end in her poem.


নারীই মাতা, নারীই দাতা, নারীই সুখের ধারা,
নারীর কারণে হয়েছে সৃষ্টি, ধরনীর তরুলতা
যুগে যুগে নারী রয়েছে যত অবহেলা অনাদরে,
তবুও নারী হারায় নিকো তার বিশ্বাসকে চিরতরে
নরশাসিত সমাজে নারী তুচ্ছ, বঞ্চিত,
নারী বিনা নর থাকিতো পশ্চাতে সে কথা যদি সে বুঝিত
নারীর কারণে করেছে নর এই বিশ্ব জয়,
নারী বিনা নর নাহি পৌঁছিত উন্নতির দরজায়
নারীই তার আপন মহিমায় গড়েছে এই ভূবন,
নারী বিনা কভু না পাইতাম আমাদের এ জীবন
নারীর কারণে পেয়েছি মোরা সম্মান মর্যাদা
নারীই আজীবন রাখিয়াছে ধরি বিশ্ববাসীর মান
নারীর কারণে হয়েছে ধরনী চির কল্যানকর
নারীকে মোরা বলিতে পারি কল্যানময়ী মাতা
নারীই কল্যানী, নারীই বিশ্বাসী, নারীই প্রেরনাময়ী,
তাই আজীবন মোরা করিবো স্মরন নারীকে শ্রদ্ধাভরে

Saturday, August 25, 2007

একটি বর্ষনমুখর সন্ধ্যা

Title of this post: A rainy evening by Sumaya Marzana.
Content of this post: Author described her feelings in her writings. Author like drop of rain and rainy evening but she dislike when it makes hazard for human.

নীল আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। সকাল থেকে শুরু করে সারাদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। বিকালের এক ঝলক রোদের পরে আবার জমাট বাধঁতে শুরু করছে মেঘ। মেঘের গুরু গর্জনে ও আকাশের বিদ্যুৎ চমকানির মধ্য দিয়ে লজ্জায় লাল হচ্ছে অস্তায়মান সূর্যটা, বর্ষণমুখর মুহুর্ত এ এক দুর্লভ রূপ। আমি অনেক বর্ষণমুখর দিন দেখেছি কিন্তু আজকের মত এত দূর্লভ এত প্রাণবন্ত মুহুর্ত আমার জীবনে আগে কখনো আসেনি। এ দুর্লভ মুহুর্তে আমিই যেন একক অধিপতি। প্রকৃতির এই বিষন্নতাই হয়তো আমার ভাবনাগুলোকে এলোমেলো করে দিল। অন্ধকার নেমে আসছে। বৃষ্টির প্রতিটা ফোটার শুদ্ধতা ভোগের লোভ সামলানো গেল না। বসে পড়লাম জানালার পাশে। অন্ধকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেন বেড়ে চলছে বৃষ্টি। ভাষাহীন অন্ধকারে বৃষ্টিপাতের অবিরাম শব্দ যেন হঠাৎ নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গের পর অবিরাম নূপূরের ছন্দ তুলে বয়ে চলা। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি পতনের এ ধ্বনি কার না হৃদয়ে সংগীতের সুর মুর্চ্ছনা জাগায়,কার না হৃদয়ে কাব্যের অনুভূতি দোলা দেয়। বিশ্ব কবির কবিতায় এ মুহুর্তটির অনুভবে, আমার হৃদয়ে বেজে উঠলো-

"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
...........................
সে কথা শুনিবে না কেহ আর
নিভৃত নির্জন চারিধারে।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অর্নিবার
জগতে কেহ যেন নাহি আর।"

বিষন্ন প্রকৃতির বুকে এ রকম কাব্য সংগীতের সুরলহরী আমাকে রোমান্টিক করে দেয়। কাকে কী বলা যায় তা কবিগুরু জানান নি; কিন্তু এমন উদাস করা মুহুর্তোই যেন আমাকে সব জানিয়ে দিল। এ যেন এক অদ্ভুদ অনুভুতি। এই রকম এক সুন্দর মুহুর্তে নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভীষন ভাল লাগে। আর আমি এখন তাই করছি। হঠাৎ করে আমার ফোনটি বেজে উঠল। দেখলাম আমার এক প্রতিবেশী ফোন করেছে। সে আমাকে তার করুন কন্ঠে বললো- এই দীর্ঘ বৃষ্টির ফলে তার বাসার সামনে পানি জমে যায় এবং তার বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়।

এই কথা শোনার পর আমার সব ভাল লাগাটুকু নিমিষেই শেষ হয়ে গেল জল ধারা প্রবাহের মতো। এই বৃষ্টি যেন মানুষের মনকে যেভাবে আবেগ প্রবন করে তোলে ঠিক তেমনি যেন পরিণত করতে পারে বেদনা বিদুরে। কিন্তু আমি তা চাই না যা মানুষের ক্ষতি করে। ভাল লাগার প্রতিটি মুহুর্তই যেন কোন না কোন কারনে শেষ হয়ে যায় হারিয়ে যায়। আমি ঠিক আমার জীবনে ঐ ক্ষণিক সময়ের ভাল লাগাটুকু হারিয়ে ফেলেছি যা কিছুক্ষনের জন্য আমাকে আনন্দ দিয়েছিল। আমি এই দিনটির কথা আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে লিখে রেখেছি।

Tuesday, August 21, 2007

নারীর অধিকার

Title of this post: women rights written by Afroza Akter kazol
Contents of this post: In this poem writer expressed her thoughts on women rights and dignity.

আমরা নারী আমরাও পারি

করতে সবকিছু

নারীরা আর থাকবে না বসে

অসহায় ও নীপিরণের বেসে।

নারী কেন থাকবে শিক্ষা বঞ্চিত

নারী পুরুষের জন্য শিক্ষা অন্তরহীত

নারীরা সমাজের অর্ধ অঙ্গ

ওরা না থাকলে সমাজ পঙ্গু

নারীর জাগরনে জাগতে হবে

নিজেদের স্বাধীন ভাবতে হবে

ওরা চায়না আর অবহেলা

চায় শুধু একটু মর্যাদা

পুরুষ ও নারী উভয় মানুষ

বুঝেনা কেন সমাজের পুরুষ

আজকের এ সমাজ সংসারে

দাসী হয়ে আছে কেন নারীরা

নারীরাও পারে ধরতে হাল

পুরুষের সমপায়

নারীর যদি থাকে বসে ঘরে

চলবে না এ সমাজ

তাই নারীদের কেও দিতে হবে

পুরুষের মত সম অধিকার

নারীরা পারে গড়তে

বিশ্ব জয় করতে

নারীদের এই মত

নারীরাই হল সব।

Thursday, August 16, 2007

বন্যা কবলীত বাংলাদেশ

লিখেছেন: নিনা সুলতানা মীম

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া প্রাণী জগৎ অসম্ভব। কিন্তু এ পানি যদি প্রয়োজনের অধিক হয়ে যায় তখন সে ধারণ করে এক ভয়ানক রূপ। পৃথিবীর তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ মাটি। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। কিন্তু বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি এবং হিমালয়ের বরফ গলে যাওয়ার কারণে নদ-নদীগুলো পানিতে ভরে গিয়ে সেই পানি চলে আসে মানুষের বসবাস করার স্থানে। আর একেই বলে বন্যা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে বন্যা। এই কারনে মানুষের জন জীবন হয়ে উঠেছে কষ্টকর এবং দুর্বিসহ। বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। চলমান বন্যায় এই পর্যন্ত দেশের প্রায় ১ কোটি লোক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭ লাখ ১১ হাজার একর জমির ফসল সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন।

রায়গঞ্জে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায় পৌঁছেছে । বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও জরুরি ঔষুধের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গবাদি পশু ও মানুষ সংর্কীণ জায়গার মধ্যে ঠাসাঠাসি করে একস্থানে অবস্থান করছে। আর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নারীরা। মলমুত্র ত্যাগে অর্বননীয় দুর্দশা। ভেড়িবাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক ও অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুহারা বানবাসি অসংখ্য মানুষ। ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে ১২ হাজার লোক। আশ্রয়হীন রয়েছে আরো প্রায় ২০ হাজার বন্যার্ত মানুষ। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে উপজেলার প্রায় ২,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য বসতবাড়ি। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বন্যাদুর্গত পানিবন্দি দরিদ্র মানুষের অধিকাংশই আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের অবস্থা আরো সংকটাপন্ন। কর্মহীন শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষ অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে।

রায়গঞ্জে ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেমন- বগুড়া, সিরাজগঞ্জে, শেরপুর, রংপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, মানিকগঞ্জ এর সাটুরিয়া ও শিবালয়। লক্ষীপুর এর রামগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধা, নারায়নগঞ্জ এর গোপালদী বাজার এবং ব্রাম্মনবাড়িয়ার সরাইল। এই সকল অঞ্চলের মানুষসহ গবাদি পশুর জন্য প্রান নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ঢাকার বন্যা কবলীত একটি এলাকা, ছবি: অনিমেষ

এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলও বন্যায় কবলীত। ঢাকার যে সকল অঞ্চলে বন্যার পানি এসেছে সেই সকল অঞ্চলে বন্যার পানি ও সগয়ারেজ লাইন একসাথে মিশে গিয়েছে। সেই কারনে দেখা দিয়েছে নানা রোগ ব্যাধি। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অব্যহত রাখার জন্য মানুষকে এই দুর্গন্ধ যুক্ত ময়লা ড্রেনের পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে মশার প্রদুর্ভাব যা সহ্য করা দুর্বিসহ। তাছাড়া বন্যার সুযোগে দাম বেড়েছে খাবার স্যালাইনসহ ঔষদ ও চাল, ডালের এবং অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের।

এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে সেখানে দেখা দিয়েছে পানি বাহিত রোগের। যেই কারনে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন ভয়ানক রোগের। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হচ্ছে এবং নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। কিন্তু তারা পাচ্ছে না সুচিকিৎসা এবং ঔষুধ।

এসকল বন্যার্ত মানুষদের জন্য প্রয়োজন আশ্রয়, সাহায্য এবং সু-চিকিৎসা। দেশে সরকারী এবং বে-সরকারী ভাবে বিভিন্ন সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। নারী জীবন ও তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বন্যাকবলীত মানুষের দিকে। নারী জীবন ও বানার্ত শিক্ষার্থী, ষ্টাফ এবং অন্যান্য বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন করছে। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। বিত্তবান ধনী ব্যাক্তিদের সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত।

প্রাকৃতিক দুযোর্গ থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে প্রচুর পরিমান বৃক্ষ রোপন। যদি আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাস করতে চাই তাহলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে তাই প্রয়োজন অধিক বনাঞ্চল। গাছপালার পরিমান ঠিক থাকলে পৃথিবীর ভারসাম্য সঠিক থাকবে। তাহলে হবে না অতিবৃষ্টি। তাই স্লোগান হচ্ছে:গাছ লাগাই পৃথিবী বাঁচাই

Wednesday, August 15, 2007

অনেক প্রতিকুলতা পেরিয়ে অবশেষে আমার মা

লিখেছেন:হেলেন সরকার

এই ছোট্ট পৃথিবীতে একটাই শব্দ আছে যা বললেই প্রাণ জুড়িয়ে যায় তা হলো মাযদি বলি আমার মা পৃথিবীর সেরা মা তা হলে ভুল হবে না আমি যখন খুব ছোট তখন থেকেই দেখে আসছি আমার মমতাময়ী মার পরিশ্রমী জীবনযাত্রা কত কষ্ট করে সে আমাদের লালন পালন করেছে

তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল এরকম: তাঁর স্কুল জীবন কেটেছে হোস্টেলেএস.এস.সি এর পর তার বিয়ে হয়ে যায় অবশ্য তার আগেই গ্রমের একটা ছোট্ট স্কুলে তাঁর চাকুরী হয় আর এভাবেই শুরু হয় আমার মায়ের জীবনের কষ্টকর পথ চলা

এরপর মায়ের কোল জুড়ে আসে আমার দাদা এবং তারও কয়েক বছর পর আমি, সময় থেমে থাকেনি সেই সাথে থেমে থাকেনি আমাদের দুই ভাই বোনের বড় হয়ে বেড়ে ওঠা এবং মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম

মা জানতো এবং বিশ্বাস করতো লেখাপড়া ছাড়া জীবনের অমসৃণ পথে চলা অনেক কষ্টের তাই তার কাজের পাশাপাশি চলে সংসার এবং পড়াশুনা আমি যখন সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী তখন মা আই.এ এবং যখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি তখন সে অনেক কষ্ট করে বি.এ পরীক্ষা দেয় এবং যথারীতি পাশ করেএরপর সে একটা ভালো অফিসে কাজ করার সুযোগ পায়নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, এখনও করছে

আমাদের ছোট পরিবারে বাবার ও অনেক ভূমিকা ছিল, ছিল বলছি এই কারণে আমার বাবা এই পৃথিবীতে আর নেই কিন্তু মা ই এখন বাবা হয়ে আমাদের বুকে জড়িয়ে রাখে আমার দাদা এখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আর আমি বি.এস.এস ২য় বর্ষের ছাত্রী

আমার মায়ের জীবন থেকে আমি একটা বিষয় খুব ভালো ভাবে শিখেছি তা হলো কোন অবস্থাতেই হাল ছেড়ে না দিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে চলা, জীবনকে সাজিয়ে তোলা নতুন রং-এ, নতুন গতিতে আমার জীবনের আদর্শ আমার মা, পৃথিবীর সব ভালবাসা দিয়ে আমি আমার মাকে ভরিয়ে দিতে চাই

Saturday, August 11, 2007

বিউটি : জীবন সংগ্রামী এক নারীর গল্প

বিউটি (ছদ্মনাম) ২১ বছর বয়সী এক তরুনী, সুন্দরী এবং উজ্জল তার হাসি যে কারই নজর কাড়েতার জন্ম মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে এবং সপ্তম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেদামী পোশাক পড়ে, কখনো দামী গাড়িতে চড়েও সে সুখী নয়তার কোন আত্মীয় তাকে পছন্দ করে না এমনকি তার সাথে কোনরকম যোগাযোগ রাখে নাসে আমাদের সমাজে একজন অপরাধীর মত বসবাস করেযদিও সে কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং বর্তমানে সে একজন যৌনকর্মী(বাসাবাড়ি ভিত্তিক)

১৯৮৬ সালে ঢাকার রায়ের বাজারে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করে বিউটিপাঁচ বোন ও দুই ভাই এর মধ্যে বিউটি ছিল তার বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তানতার বাবা একজন ছোট মুদির দোকানদার ছিলেন আর তার মা ছিলেন একজন গৃহিনীতার বাবা ফরিদপুর জেলার এবং তার মা ছিলেন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দাতার মায়ের অনেক আত্মীয় ঢাকায় বাস করতবিউটি এবং তার পরিবারের কোন সদস্যেরই গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত ছিল নাকিন্তু তার দাদা-দাদী গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন বলেই তার বাবা মাঝে মাঝে যেখানে যেতেন

তার ছোটবেলায় সে এবং তার প্রতিবেশীর মেয়ে ভর্তি হয় বাড়ির কাছের একটা স্কুলেদুজনে একসাথে স্কুলে যেতবিউটি তখন প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী, স্কুল শেষে একদিন সে এবং তার বান্ধবী বাসষ্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে উঠে পড়ে কিন্তু দুজনের কেউই জানেনা কোথায় যাচ্ছেবাসের হেলপার তাদেরকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়তারপর তারা বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল কিন্তু তারা পথ হারিয়ে ফেললঅনেক পথ হাঁটতে হাঁটতে তারা দুর্বল হয়ে পড়লে কাঁদতে শুরু করেঅনেক লোক তাদেরকে জিজ্ঞেস করল তারা কোথা থেকে এসেছে এবং ঠিকানা কি ? কিন্তু দুজনে কেউই তাদের ঠিকানা বলতে পারেনিঅবশেষে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরের দিন মিরপুর ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়পুলিশ তাদের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে তারা শুধুমাত্র পরিবারে সদস্যদের নামই বলে কিন্তু বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেনিতার কিছুদিন পরে তাদেরকে গাজীপুর ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিল

মুলতঃ এটা ছিল ১৯৯৫ সালের কথাপাঁচবছর এর মত বিউটি ভবঘুরে কেন্দ্রে ছিলসে ভবঘুরে কেন্দ্রে এন.জি.ও স্কুলে ক্লাস-৬ পর্যন্ত পড়েছেতার স্কুল শিক্ষকের তার ভাল সম্পর্ক হয় এবং তারপর তাকে প্রথম সে যে স্কুলে পড়াশুনা করেছিল সেই স্কুলের নাম বললতারপর তার স্কুলের শিক্ষক তার ঐস্কুলে যোগাযোগ করে এবং তার বাবা-মার সাথে যোগাযোগ করেখবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে ভবঘুরে স্কুল থেকে নিয়ে আসেপ্রথম দিকে বিউটির বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুঁজি করেছিল কিন্তু তারা কোথাও বিউটির কোন সন্ধান পায়নি এবং পরে বিউটির বাবা-মা এবং আত্মীয় স্বজন ধারনা করেছিল যে সে মারা গেছেতার মা এবং পরিবারের অন্যরা অনেক দিন পর তাকে দেখে খুব খুশি হয়

পরিবারের সাথে বিউটির দিনগুলো আনন্দেই কাটছিলসে পূনরায় ক্লাস-৬ ভর্তি হয় এবং তার শখ ছিল নৃত্য, তাই পড়াশুনার পাশাপাশি বাসার কাছের একটি নাচের স্কুলেও ভর্তি হয়একবছর পর যখন সে ক্লাস-৭ এ পড়ত তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে নাচত এবং ১০০০ টাকা করে পেতধীরে ধীরে লোকজনের কাছে সে একজন নৃত্যশিল্পী হিসাবে পরিচিতি পেতে থাকেআনন্দেই কাটছিল তার দিনগুলো

তার জীবনের পরের কথা আসছে খুব শিগ্রই...................

১. তার জীবনের একটা দুঃঘটনা এবং কিভাবে সে একজন যৌনকর্মী হল?

২. কিভাবে সে দুবাই গিয়েছিল ? কিভাবে কেটেছিল তার একটি বছর?

৩. তার বর্তমান জীবন এবং তার যৌন পেশা?

অনুবাদ: তাসলিমা আক্তার

Tuesday, August 7, 2007

আমার অনেক স্বপ্ন….........

প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন দেখে আর মানুষের স্বপ্ন দেখার নেই কোন শেষমানুষের সব স্বপ্ন পূরণ হয়না কখনো কখনো সেগুলো রূপনেয় দুঃস্বপ্নেমানুষ সেই দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন পূরণের আশায়নাছিমা, অর্ধবয়সী এক মহিলার স্বপ্নের দুঃস্বপ্নের কথা বাস্তবের মত বনর্ণা করা হল -

ছোটবেলার কথা খুব একটা মনে নেইআমার বয়স যখন ৯ তখন আমাদের তিন ভাই বোনকে নিয়ে আমার মা গ্রামে থাকতেন আর বাবা থাকতেন ঢাকায়, দিনমজুরের কাজ করতেনতখন মাত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তখন আমাদের সংসারে খুব অভাবএক বেলা খেলে আরেক বেলা উপোস থাকতে হতসংসারে একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন শুধু আমার বাবাতার উপার্জনও ছিল খুব কম আমাদেরকে তেমন খরচ দিতে পারেনিতখন স্বপ্ন দেখতাম একদিন আসবে যখন প্রত্যেকবেলা পেটভরে খেতে পাব

আমি ছিলাম বড় মেয়ে তাই সংসারের জন্য আমাকে অনেক কাজ করতে হয়েছে, মাছ ধরা এবং অন্যের জমিতে কাজও করতে হয়েছেতখন দুইবেলা আমরা খেতে পেতাম আর স্বপ্ন দেখতাম আমাদের সংসারে কোন অভাব থাকবে নাকিন্তু সেই স্বপ্ন হয়ে গেল দুঃস্বপ্ন যখন আমার বয়স ১৪তখন আমার জীবনে নেমে এল অন্ধকারের ঘনঘটা, আমাদের গ্রামের কেউ আর আমাকে কাজ দিতে চায় না আমাদের গ্রামে একটা নিয়ম ছিল যে, মেয়েরা একটু বড় হলে তাদেরকে কাজ দেয় না যখন কাজ পেলাম না তখন আবার শুরু হল অনাহারের দিন

তার ঠিক ৬ মাস পর আমার এক খালা আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং একটা বাসায় কাজ করতে দেন যাদের বাসায় কাজ করা শুরু করলাম তারা বিভিন্ন সময়ে কারনে অকারনে খারাপ ব্যবহার এমনকি মারধর করতআবার বাড়ির পুরুষ কর্তার চরিত্র ভাল ছিলনাএকদিন খালা আমাকে দেখতে যায়, আমি খালাকে সব খুলে বলি এবং এটাও বলি আমি এখানে আর থাকব না তখন খালা আমাকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন

বাড়ি ফিরে আসার পর আমার বাবা-মা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন ৩৫ বছর বয়সী এক লোকের সাথেবিয়ের পর আমার জীবনে শুরু হল নতুন আরেক কষ্টআমার স্বামী ও তার বাবা মা সবাই ঢাকার কেরানী গঞ্জে থাকতসেখানেই আমার সংসার জীবন শুরু আমার বিয়েতে যৌতুক হিসাবে গরু দেওয়ার কথা থাকলেও বাবা মা দিতে পারেন নি এজন্য আমার স্বামী ও শাশুরী অনেক অত্যাচার করেছেবিয়ের এক বছর এর মাথায় আমাকে আবার কাজে নামতে হয় কারন আমার স্বামীর আয় তেমন ভাল ছিলনা তখন ছোট ব্যবসা করতে শুরু করলাম কখনও পিঠা বিক্রির কাজ, কখনও তরকারী বিক্রি পড়ে একবার কাপড় বিক্রি করতে শুরু করলামকাপড় বিক্রির কাজে ভাল আয় করেত পারিনি কারণ লেখাপড়া না জানার ফলে হিসাব করতে পারতাম নাসেকারনে আমাকে অনেকে ঠকতে হয়েছেতখন খুব ইচ্ছে করত লেখাপড়া করতে

এখন আমার চার ছেলে এক মেয়েছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারিনিতবে তাদেরকে বিভিন্ন কাজে দিয়েছি ভবিষ্যতে কিছু একটা করে চলার জন্যকারণ কাজ না করলে তাদেরকেও না খেয়ে থাকতে হবে আর সেজন্য তাদের লেখাপড়া করতে দিতে পারছি না জীবনে অনেক কষ্ট করেছিলেখাপড়া জানার ইচ্ছে আমার অনেক দিনেরএকদিন নারী জীবনের কথা জানতে পারি এবং ভর্তি হই নারী জীবনের বাংলা ক্লাসে

এখন প্রতিদিন নারী জীবনে ক্লাসে আসি আর রাতে আমার ছেলে মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করি যাতে তারা আমার মত না ঠকেএখন আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাড়াঁবে আমার মত কষ্ট করবে না আর আমার ছেলেরা ভাল উপার্জ্জন করবে কারও কাছ থেকে ঠকবে না

Sunday, August 5, 2007

ঘুম ভাঙ্গা চিন্তাগুলো

লিখেছেন: রাফি হক

একটা শব্দে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলগভীর রাতনিস্তব্ধ চারিদিকভিআইপি রোডকোন ভারী লড়ীর চাকা পাংচার বা হর্ণ হবে হয়তোঘুম সহজে আসবে নাপাশে খোলা জানালাএকটু হেঁটে এগিয়ে জানালার পাশে দাঁড়াতে লক্ষ হাজার তারার ঝিকিমিকি আকাশ চোখে পড়লোনীচে গাছগুলোও যেন গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে আছেপুরোনো জানালায় নিরাপদে আশ্রয় নেয়া চড়ুই পাখি হঠাৎ সতর্ক হয়ে উঠলো

মাঝে মাঝে নিস্তব্ধ রাতটাকে কাঁপিয়ে নিশুতি গাড়ী চলছেকোন আবার আস্তে আস্তে যেন কারো ঘুম না ভাঙ্গেজীবনের হিসেবটা মিলিয়ে নেয়া যাককী পেলাম আর কী না পেলামসমাজের উপরের দিকে তাকালে মনে হয় কিছুই তো পেলাম না আবার নীচে তাকালে দেখি অনেকই তো পেয়েছিঅন্ধকার রহস্যময় গ্রহ-তারার আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা পার্থিব জীবনের উর্ধ্বে উঠে যায়অনেকে বলে জীবনটা অনেক বড়অনেকে বলে জীবনটা ক্ষণিকের! আমার মন শেষেরটা সায় দেয়এর জন্য এতকিছুর কি প্রয়োজন? মানুষ এই ক্ষণস্থয়ী জীবনটাকে বড় বেশী ভালবাসেজন্মের সঙ্গেই তো মানুষ মৃর্ত্যুর সনদ নিয়ে আসেমৃত্যু সৃষ্টি জগতের এক অনিবার্য অবস্যম্ভাবী ঘটনাজীবন কারো কাছে ভিন্ন রকম মনে হলেও মৃত্যুসবার কাছেই কষ্টেরজীবনের জন্যে এতকিছুর প্রয়োজন হয় মৃত্যুর জন্যে তো হয় না