Saturday, March 8, 2008

স্যারের সই

Title of this post: Signature of my teacher by Poli Akter

আমাদের দেশের শিক্ষকরাই হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগড়। তাদেরকে আমাদের পিতা -মাতার মত সম্মান করি। কারণ পিতা-মাতার পরে তারাই আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত বা উপযুক্ত শিক্ষিত হতে সাহায্য করেন। তাই পথে কোথাও কোন ভাবে আমাদের শিক্ষক বা শিক্ষিকার সাথে দেখা হলে সালাম দেই। আমি এইচ. এস.সি পাশ করে অর্নাস এ র্ভতি পরীক্ষার জন্য ভর্তির ফরম কিনেছিলাম। ফরমটি কেনার দুই দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার শর্ত ছিল। তাই র্শত অনুযায়ী সব কিছু জোগাড় করার চিন্তায় ছিলাম। ফরম কেনার পরেরদিন কলেজে গেলাম নম্বরপত্রের ফটোকপি ও ছবি সত্যায়িত করার জন্য। কলেজ অফিসে যাওয়ার পর সেখানে দেখলাম সবাই অনেক ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। আমার সাথে কেউ কোন কথা বলতে চাইলো না। আমি যখন অপেক্ষা করছিলাম সেই সময় আমাদের এক শিক্ষিকা রুমে আসলেন। কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন না। তবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব এই শিক্ষার হাতের দিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাডামকে নম্বরপত্রের ফটোকপিগুলো দিতেই তিনি বললেন দুইঘন্টা অপেক্ষা কর আমি আসছি,সই করে দিব, নইলে স্যার করে দিবেন।

স্যার তখন কলেজে ছিলেন না। সেই স্যারের বাসা আমাদের বাসার সাথে ছিল। তাই ভাবলাম দুই ঘন্টা অপেক্ষা না করে স্যারের বাসায় যাই। তাই কলেজ থেকে স্যারের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। চিন্তা করছিলাম যে কখনও স্যারের বাসায় যাইনি, স্যার কি মনে করবেন এই ভেবে অনেক ভয় করছিল। স্যারের রুম ছিল পাঁচ তালায়। তখন প্রায় সন্ধ্যা। একা একা পাঁচ তালাসিঁড়ি বেয়ে উঠার পর দেখলাম একটা রুমের দরজা খোলা। সেই রুমে স্যারের ছাত্ররা বসে ছিল। আমিও সেই রুমে গিয়ে বসলাম। স্যার তখন ভিতরের রুমে ছিলেন। আমি স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তখন আমার মনে ভয় ও চিন্তা এক সাথে কাজ করছিল। তিনি অনেকক্ষণ পর ছাত্রদের পড়ানোর জন্য রুমে ডুকলেন। আমি তাকে সালাম ছিলাম। স্যারকে বললাম, এই ভর্তি ফরম জমা দেবার জন্য আপনার সই লাগবে। আমার কথা শেষ হতে না হতেই তিনি আমার উপর প্রচন্ড রেগে গেলেন। একটা সইয়ের জন্য তার মুখে যা আসল সেই ছাত্রদের সামনে সে তাই বলল। আমাকে অনেক গালাগালি করল সেই ছাত্রদের সামনে। তিনি শুধু তার কথা বলে গেলেন। আমার কথা শুনতে চাইলেন না আমি যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা সইয়ের জন্য ছুটাছুটি করলাম সেই কথা শুনতে চাইলেন না। তিনি শুধু তার কথা বলে গেলেন। প্রচন্ড রকম কষ্ট নিয়ে তার বাসা আসলাম। প্রত্যেকটা সিঁড়িতে পা দিচ্ছিলাম আর আমার আমি কিছুতেই কান্না থামাতে পারছিলাম না। হ্যাঁ তিনি অবশ্যই সই করে দিয়েছিলেন।

মশা

Title of this post: Mosquito by Ruma Akter

ছোট একটি প্রাণী
নাম তার মশা।
তার জ্বালায় কোন জায়গায়
যায়না একটু বসা।
ছেলে মেয়ে মনযোগ দিয়ে পড়তে যখন বসে
মশা তখন উড়ে এসে
কাঁমড় দেয় ঠেঁসে।
দুষ্ট মশার জ্বালায় তো সুখে থাকা দায়
দুষ্ট মশা রক্ত চুষে
বেজায় সুখ পায়।

Tuesday, March 4, 2008

বাজার দর

Title of this post : Market Price by Sufiya Khatun

আজব শহর এই ঢাকা
কচুটাও ২০টাকা।
এটা শুনেই হাউমাউ
৩০টাকায় একটি লাউ।
সস্তা শুধু একটু নুন
কুড়ি টাকায় কালো বেগুন।
মজা কিছু আছে ঢের
৩৫ টাকা সিমের সেড়।
কি হল ভাই লাগছে তাক?
২০টাকায় পালং শাক।
ভানু মতির দেখছো খেল?
১০০ টাকা সয়াবিন তেল।
আর কত ভাই দেখবে খেলা?
দেড়শ টাকায় একটি চেলা।
এসব শুনে রক্ত হিম
২০টাকায় চারটি ডিম।
থাকতে ক’দিন গায়ের ছাল
৩৫টাকা সেড়ের চাল।
শুনবে কি আর বাজার দর
ছাড় এবার ঢাকার শহর।

Saturday, February 23, 2008

২১-শের প্রভাত

Title of this post: The morning of 21st February by Sufiya Khatun

আর কেঁদনা মাগো
হাজার ছেলে আসছে তোমার
বরতে তাদের জাগো।
এপ্রভাতে গাথঁছে সবাই
হৃদয় ফুলের মালা
তাই দেখে মা শান্ত কর
হারানো ছেলের জ্বালা।
ফুলের ডালি দাও সাজিয়ে
প্রভাত তারা জাগে
স্বর্গ হতে আসছে ভাইয়েরা
বরতে হবে যে আগে।
রক্ত পলাশ ফোঁটে থোকা থোকা
শিমুল ফুঁটেছে শাখে
দেখ দেখ মা ভাইয়েরা আমার
হাতছানি দিয়ে ডাকে।
রফিকের হাতে ফুলের ডালা
শফিকের মুখে হাসি
সালাম জব্বার পুলকিতভাবে
আসিতেছে পাশাপাশি।
বরকত ভাইয়া অগ্রে ছুঠেছে
“
মাগো” ডাক তার মুখে
সবাই এসেছে তোমার কোলে মা
তুমি কাঁদ কোন দুঃখে।

Tuesday, February 19, 2008

দাদী

Title of this post: “Grandmother” by Nafisa Mubasira.

দাদী বলে উঠল ”পুতের ছোয়াল লাথি দিয়া কোমর ভাইঙ্গা দিমু”
“
কেন দাদী কি করেছি আমি” নাদিয়া বলল।
দাদী বলে উঠল, “আবার কথা কস একটা লাথি দেব মুখের উপর।”
নাদিয়া বাবাকে বলে, “দেখ আব্বু দাদী কি বলে।”
বাবা বললেন, “দাদী হয় একটু সহ্য কর নাদিয়া”
আমি বললাম দাদী কি এমন হয় আব্বু। রাত্রে খাবার সময়, হঠাৎ দাদী বলে উঠল “আমাকে খাবার দিবি নাকি না খাওয়ায় মারবি।”

আম্মু সবাইকে রাত্রের খাবার খেতে টেবিলে ডাকল। খেতে বসে দাদী তার মত তার প্লেটে খাবার তুলে নিল। এক গাল ভাত মুখে তুলে মাকে বলে উঠল “বড় লোকের ঝি রানতে জানিস না” বলে মাছের বাটিতে হাক থু করে থুতু দিয়ে দিয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিয়ে রুমে চলে গেল। রাত্রে এক বিছানায় আমার, মেজ ভাইয়ার ও দাদীর শোয়ার কথা। রুমে ডুকে দেখি মেজ ভাইয়া বিছানার কিনারায় শুয়ে আছে আর দাদী তাকে সমানে বকা ঝকা করছে। আমাকে দেখে বলল “হারাম যাদারে সরাবি নাকি এক লাথি দেব” বলেই ভাইয়াকে এক লাথি দিয়ে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দিল। ভাইয়ার কপাল ফেঁটে রক্ত বের হচ্ছে আমি চিৎকার করে মাকে ডাকার জন্য দৌঁরে গেলাম ফিরে এসে দেখি দাদী পিছন ঘুরে খাটে শুয়ে আছে। ভাইয়াকে আমরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি দেখে দাদী বলে উঠল, “আহলাদের শরীর পাদলেই ডাক্তার লাগে” কেউ কোন উত্তর না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ভাইয়ার কপালে দুটি সেলাই লেগেছিল।

দাদী জেদ ধরল গ্রামে যাবে, এদিকে আমাদের ও বার্ষিক পরীক্ষা শেষ আমরা সবাই গ্রামে গেলাম। যাওয়ার পথে আমি বড় আপুর পাশে বসলাম,
দাদী বলল
, “এত পিরিত কিসের ফকিন্নির ঝি সর আমারে বসতে দে।”
দাদী আমার আর বড় আপুর মাঝে বসল। আমার যখন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছালাম তখন বিকাল। আমার বড় চাচার ছেলে তের চৌদ্দ বয়সের সুমন ভাইয়া পেয়ারা গাছে ছিল।

দাদী বাড়িতে পা দিয়েই বলে উঠল, “পুতের ছোয়াল আমি বাড়িতে নাই আর তুই আমার সম্পত্তি খাস। পুতের ছোয়াল খাড়া মজা বুঝাই” বলেই দৌড়ে গিয়ে কতগুলো ইটের টুকরা ছুরে মারল, তার মধ্যে একটা ইট যেয়ে চোখে লাগল। সুমনের চিৎকার শুনে বড় চাচা ছুটে এল, আমরা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

দাদীকে চাচা বলতে লাগল, “মা তুমি বাড়ি আসতে না আসতেই শুরু করে দিলে।”
দাদীও চুপ থাকল না বলল, “ক্যা রে তোর পোলা যে আমার সম্পত্তি খায় তা কি চোখে দেখিস না।”
আমার বাবা বলল, “থাক না অনেক হয়েছে এখন চুপ কর। ওর চোখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।”

আমার বাবা ভাই বোনদের সবার ছোট, দাদী এমন হলেও বাবাকে অনেক ভালোবাসে যার কারনে বাবার কথাতেই চুপ করে গেল। আমরা সবাই দাদীর ঘরে বসলাম হঠাৎ এক জার্মানি মহিলা এসে দাদীর পা ধরে সালাম করল।
দাদী আশ্চার্য হয়ে বলল, “কে তুই?”
বড় চাচা বলল, “জার্মান থেকে বিয়ে করে নিয়ে আসছি এটা তোমার নতুন বৌ মা।”
এরই মধ্যে আমার বড় চাচী কাঁদতে কাঁদাতে দাদীর কাছে এসে বিচার দিল, “মা দেখেন আপনার ছেলে কি করেছে।”
দাদী বলল, “যা করেছে ভাল করেছে তোর ইচ্ছা হইলে তুই থাক তা না হলে চইলা যা। কি রে আমার বড় লোকের ঝি ছেলেরা দুই একটা বেশি বিয়ে করেই থাকে তাতে কি একেবারে মহাভারত অসুদ্ধ হইছে ঢং করিস না, যা।”

আমার মা, মেজ চাচী তাকে বুঝ দেওয়ার কোন ভাষা খুঁজে পেল না। রাত্রে তাকে খাওয়াতেও পারল না। সে রাত্রে বড় চাচী বারান্দায় বসে কেদেঁ রাত কাটাল।

সকাল হতেই চাচীর ৩ বছরের মেয়ে মিনুকে সাথে নিয়ে যাওয়ার সময় দাদী ঝড়ের বেগে এসে বলল, “ফকিন্নির ঝি তুই মিনুকে কই নিয়ে যাস মরলে তুই একাই মর।”
মিনু দৌড়ে গিয়ে বলল, “দাদী মা যাচ্ছে।”
দাদী মিনুকে বুঝ দিয়ে বলল, “ওটা তো তোর পুরানো মা কালা, দেখ তোর জন্য তোর বাপে কেমন সুন্দর বিদেশী মা নিয়ে আইছে।”
মিনু বলে, “না দাদী আমার সুন্দর মা দরকার নাই, আমার ঐ মাই ভাল।”
দাদী বলল, “চল তোরে গোসল করায় নিয়ে আসি তোর মাথা গরম হয়ে গেছে।”
দাদী মিনুকে পুকুরে গোসল করাতে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর দাদী গোসল করে একাই ফিরে এসে উঠানে শাড়ি নাঁড়ছে
মা দাদীকে একা দেখে বলল, “আপনি একা মিনু কোথায় মা? আপনি না ওকে গোসল করাতে নিয়ে গেলেন?
দাদী ঘামটা দিয়ে বলল, “ফকিন্নির ঝি ফকিন্নির মতই হইছে আমার সাথে জেদ দেখায় কয় আরো গোসল করমু ঘাঁটে থুইয়া আইছি।”
মা বলল, “মা একি করেছেন ছোট বাচ্চা.....” কথা শেষ না করেই পুকুর ঘাঁটে ছুটে গেল। মায়ের চিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে যাওয়া দেখে আমরা দৌঁড়ে গেলাম। মিনুকে ঘাঁটে দেখতে পেলাম না। পানিতে নীল রং এর কাপড় একটু দেখতে পেয়ে মিনু বলে চিৎকার করে সুমন ভাইয়া পানিতে ঝাপ দিল। পানিতে মিনুর লাশ জরিয়ে ধরে পানিতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল, সে যে মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে এতুটুকু শক্তি তার শরীরে নাই। সবাই বলতে লাগল সুমন মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে আস ও কি বেঁচে আছে। সুমন ভাইয়ার বাক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে একে তো মা বাড়ি ছাড়া তার উপর একমাত্র বোন মারা গেছে। সুমন ভাইয়া অনেকক্ষন পরে ঘাটে মিনুকে উঠিয়ে নিয়ে এসে দাদীকে প্রসঙ্গ করে বলে উঠল, “এই বুড়ির বাচ্চা বুড়ি আমার ছোট বোনকে মাইরা ফেলছে।”

আমি এই প্রথম দাদীকে নীরব ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।
মেজ চাচা বলে উঠল, “সুমন বেয়াদবী করে কথা বল না।”

মিনুর লাশ দাফন দেওয়া হল কদম গাছের তলে যেখানে মিনু পুতুল নিয়ে খেলত। ঐ দিনের পর থেকে সুমন ভাইয়াকে আর পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর বড় চাচা বউ নিয়ে জার্মানে ফিরে গেল। প্রায় অনেক দিন হল গ্রামে এসেছি। এবার আমাদের যাওয়ার পালা। দাদী আমাদের সাথে শহড়ে আসতে চাইল না।
বাবা দাদীর হাতে এক মাসের খরচ দিয়ে বলল, “মা আপনার জন্য প্রতি মাসে আমি টাকা পাঠাব।”

দাদী কোন উক্তি করল না চুপ করে কথা শুনে মাথা নাড়াঁলো। দাদী ইদানিং কেমন যেন ভেঙ্গে পড়েছে, আগের মত অতবেশি গালি গালাজ, দাপা-দাপী এখন আর করে না। আমার মনে হয় মিনুর মৃত্যু দাদীর মনে লেগেছে। কারণ মিনুর মৃত্যুর দোষ সম্পূর্ন দাদীর উপরই চাপিয়ে দিয়েছেন সবাই।

আমরা গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে এলাম। প্রায় দুই মাস পর খবর পাই দাদী মারা গেছে। আমরা ভাই বোনরা কিছুতেই তার হঠাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারিনি। আমরা গ্রামে গিয়ে শুনি আব্বু ঢাকায় এসে দাদীর জন্য যে টাকা পাঠাত মেজ চাচা সেই টাকা দাদীকে দিত না। এমনকি দাদীকে তারা খেতেও দিত না, না খেতে পেয়ে একদিন দাদীর প্রচন্ড জ্বর আসে।
দাদী চাচাকে হাত পেতে বলে, “আমারে অল্প কয়টা ভাত খাইতে দে, আমার অনেক জ্বর।”
চাচা তাকে খেতে দেয় না এমনকি আশেপাশের মানুষরাও তাকে সামান্য ভাত দেয় নি, এমনকি তার এই মুমূর্ষ অবস্থা দেখেও।

দাদী কার কাছ থেকে যেন ৮-৯ টা প্যারাসিট্যামল ঔষধ নিয়ে একসাথে সবগুলো খালি পেটে খেয়ে নেয়। তখন প্রায় সন্ধ্যা দাদী বিছানায় শুয়ে জ্বরে কাতরাচ্ছে। মেজ চাচা বলে চল তোমারে গায়ে পানি ডালি জ্বর নেমে যাবে।
দাদী বলল, “না বাবা আমারে গোসল করালে আমি মারা যাব যদি পারিস চারডা বাসি ভাতই দে।”
চাচা বললেন, “চলতো বক বক কইরো না” বলে দাদীকে যখন গায়ে পানি ডালে কিছুক্ষনের মধ্যেই দাদী মাটিতে পড়ে মারা যায়।

ফাল্গুনের আগমনে

Title of this post: “When Falgum comes” by Jannatul Fardoush

আহা ফাল্গুনের এই আগমনে
মনের হরসে গুন গুনে,
গাইছি যে গান তাই
তোমারই স্মরনে।

হরুদের সমারোহ বনে
আগুনেরই ছটা।
সবুজের মাঝে মাঝে
শিমুল ফুল ফোটা।

প্রকৃতির চারদিক সেজেছে
এযন নব বধুর সাজ।
তাই ফাল্গুনের দুয়ির খুলে
শুভেচ্ছা জানতে এলাম আজ।

বিমর্ষতা কাঁটিয়ে চল কিছু সময় ধরে।
কষ্টের দুয়ার ছুরে ফেলে সুখের ওপারে।
নিভে যাএয়া প্রদিপের সুতোয় জ্বালায় আগুন।
দু-হাত বাড়িয়ে কাটে টেনে নাও এই ফাল্গুন।

Saturday, February 9, 2008

ভাসানী নভোথিয়েটার

Title of this post: Bhasani Novo theatre by Hasina Akter

বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নির্মিত “ভাসানী নভোথিয়েটার” উদ্বোধন করা হয় ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। রাজধানীর বিজয় স্মরনীর মোড়ে অবস্থিত ভাসানী নভোথিয়েটার প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। সম্পূর্ন দেশীয় অর্থায়নে ঐটি নির্মান করেছে সরকারের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির স্থপতি আলী ইমাম। ৫,৪ একর জমির উপর ভাসানী নভোথিয়েটারের অবস্থান। এ প্রকল্পে রয়েছে তিন তলাবিশিষ্ট মূল নভোথিয়েটার ভবন, ভবনের কেন্দ্রভাগে দৃষ্টি নন্দন অ্যালুমিনিয়াম মেটালি ডোম, ভেতরে ২৭৫ টি বিশেষ ধরনের আসনবিশিষ্ট প্লানেটরিয়াম, ১৭০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, ভবনের সম্মুখভাগে ও দুই পাশে তিনটি জলাধর, পেছনের অংশে তিন তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, জ্যোতিবিজ্ঞানে জ্ঞান লাভের জন্য নানা রকমের প্রদর্শনী, ল্যান্ডস্কেপসহ ফুলের বাগান, ফোয়ারা গার্ডেন লাইট প্রভৃতি। ভবনটির ডোমের আয়তনের ব্যাস ৯৬ ফুট। কেন্দ্রে রয়েছে ৭০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একটি মেটালিক ডোম। নভোথিয়েটারের কেন্দ্রে অবস্থিত ২৩ মিটার ইনার ডোমের উপর নিচ থেকে প্রায় ১৫০ টি প্রজেক্টের ব্যবহার করে মাল্টিপল ইমেজের সমন্বয়ে একটি কৃত্রিম মহাকাশ তৈরি করা হয়েছে। নভোথিয়েটারের পাঁচটি লেভেল। মাটির উপরের দুইটি লেভেল হচ্ছে +৫১০০ এবং +০০ লেভেল। এই গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রদর্শনী বস্তু, টিভি স্ক্রিন, সিসি টিভি প্রভৃতি। মাটির নিচের তিনটি লেভেল হচ্ছে ৩৭০০, ৫৮৫৮, ৯৭৫০ লেভেল। এই তিনটি লেভেল যথাক্রমে রয়েছে জনসাধারনের জন্য ১৫০টি কার পার্কিংয়ের সুবিধা, পূর্ব আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য সিঁড়ি, পাশেই রয়েছে বিজ্ঞান মেলা বা প্রদর্শনীর জন্য বিশাল জায়গা, টিকেট কাটার জন্য আলাদা কাউন্টার। ভবনটির দুটি ভূগর্ভস্থ, ফ্লোরে দেশ বিদেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ছবি ও জীবন বৃত্তান্ত রয়েছে। এখানে ২০০০ কিলো ভোল্টা অ্যাম্পিয়ার (কেভিত্র) বৈদুৎতিক উপকেন্দ্র এবং ৫০০ কেভিত্র ইমারজেন্সি প্যানারোমা লিফট স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ১২ টি ক্যামেরা সম্বলিত সি সি টিভি।

১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এ নভোথিয়েটার প্রকল্পের দলিল তৈরি হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নাম করন করে দরপত্র আহবান সহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে দু-বার ও ১৯৯৯ সালে একবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে প্রক্ষেপন যন্ত্রপাতি সর্বরাহের কাজ দেয়া হয়। জাপানের গোটো অপটিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে। মেটালিক ডোম স্থাপনের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠাণে মেসার্স গ্যাসমিনসহ বিগত সরকারের আমলে এই নভোথিয়েটার নির্মানে স্থবিরতা এর নির্মান ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নভোথিয়েটারের অর্ধ গোলআকৃতির ডোম আছে বিমোহিত করার মত প্রক্ষেপন পদ্ধতির যন্ত্রপাতি। অ্যাস্ট্রোটেকের পারফোরেটেড এলুমিনিয়াম পদা গোটোর জিএসএস হেলিয়স স্পেস সিমুলেটের বিভিন্ন ধরনের স্পেশাল প্রজেক্টর এবং অ্যাষ্ট্রোভিশন ৭০।

বিজ্ঞান সহায়ক এ নভোথিয়েটারে সম্পূর্ণ বিনোদনের মাধ্যমে মানুষকে বিজ্ঞান মনষ্ক করে তোলার জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে বিস্ময়কর ছবি। মনে রাখার মত প্যানো-হেমিসকারিক প্রক্ষেপন যন্ত্রের সাহায্যে দেখানোর হচ্ছে প্ল্যানেট শো জার্নি টু ইনফিনিটি। ডাঃ বিল গুস এর অসাধারন সৃষ্টি জানি টু ইনফিনিট ছবিতে জি এস এস হেলিয়স অ্যাষ্ট্রোভিশন ৭০ যৌথভাবে দর্শকদের নিয়ে যায় এক ভিন্ন জগতে। অনন্য সে যাত্রাপথে বিস্ময়কর শব্দ ও ছবির সম্মিলন ঘটে। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রক্ষেপন যন্ত্রের অনিন্দ্য সুন্দর বর্ণিল আলোকচ্ছটা অ্যাষ্ট্রোভিশন ছবি এবং স্কাইক্যান ভিডিও পৌঁছে দেয় সৌরমন্ডলে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীতে। সেখান থেকে দেখা যায় মহাকাশের বিস্তৃত সীমা। সেখান থেকে দেখা যায় মহাকাশের বিস্তৃত সীমা। খুব কাছ থেকে দেখা যায় তাহার মৃত্যু এবং এগুলোর কোন কোনটির কৃঞ্চ গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। সূর্যের বুকে আগুনের সাগর। সূর্যের প্রচন্ড তাপে দগ্ধক্ষত বিক্ষত বুধ গ্রহের অবয়ব। দেখা যায় শনির বলয় কিংবা গ্রহরাজ বৃহষ্পতি। অবিশ্বাস্য সে আলো ও শব্দের কারসাজি না দেখালে বিশ্বাস করার মত নয়। শূন্যে ভেসে ভেসে দেখা যায় আমাদের সৌরজগতের সকল গ্রহ ছায়াপথ সহ বিস্ময়কর সৃষ্টি প্রক্রিয়া। অন্যান্য স্পেস থিয়েটারের মত ভাসানী নভোথিয়েটার জ্যোতিবিজ্ঞানকে তুলে ধরার পাশাপাশি জীববিজ্ঞান ইতিহাস, শিল্প ভূগোলে নৃবিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকের সাথে এর যোগসূত্র স্থাপন করবে।

গাছ

Title of this post: "Tree" by Hazera Akter Sherin Shela

গাছ হল বড় বন্ধু,
যার মাঝে নেই দ্বন্ধ।
নেই তার কোন স্বার্থ,
মানুষের কল্যানে করে নিজেকে নিয়োজিত।
গাছের জন্যই বেচেঁ আছি,
পৃথিবী আজও টিকে আছে।
যত বেশি পার গাছ লাগাও,
পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাচাঁও।
গাছের বেশি করে যত্ন নাও,
একটি কাঁটলে দুইটি লাগাও।
তাহলেই পৃথিবী হবে সবুজ শ্যামল,

এবং মানুষের বাসযোগ্য।

ব্লগার প্রোফাইল- (শিক্ষার্থী)

Title of this post: Bloggers profile (Students)

নিনা সুলতানা মীম









আমার নাম নিনা সুলতানা মীম। ২৯শে অক্টোবর,১৯৮৯ সালে আমি ঢাকায় জন্মগ্রহন করি। আমার বাবার নাম আবদুল কাসেম, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। আমার মায়ের নাম নাসিমা আক্তার সীমা, তিনি একজন আদর্শ গৃহিনী। আমি ২০০৫ সালে মগবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ২০০৭ সালে ইস্পাহানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করি। এখন আমি বি.বি.এ ভতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

লক্ষিপুর আমার প্রিয় জায়গা এটা খুব সুন্দর একটা জায়গা। রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী আমার প্রিয় বই। পদ্মা নদীর মাঝি আমার প্রিয় সিনেমা।
আমার শখ হল গান শোনা এবং গল্পের বই পড়া।

আমি আমার এক বান্ধবীর কাছ থেকে নারী জীবনের কথা জেনেছি এবং তার সাথে এখানে আসি। এখন আমি এখান থেকে ইংলিশ স্পোকেন এবং কম্পিউটার কোর্স করছি। যখন আমি এখানে এসেছিলাম তখনও আমি ব্লগ সম্পর্কে জানতাম না। এটা আমার কাছে নতুন এবং আনন্দদায়ক। এখন আমি ব্লগে বাংলা এবং ইংরেজী কবিতা, গল্প ইত্যাদি ব্লগে লিখি। একজন নতুন লেখিকা হিসাবে আমি আরও বেশি কিছু লিখার চেষ্টা করছি।


রুমি আক্তার





আমার নাম রুমি আক্তার। আমার জন্ম নারায়নগঞ্জে। আমার ছেলেবেলা কেটেছে নারায়নগঞ্জে। আমার জন্ম তারিখ ৩য় নভেম্বর,১৯৯০। আমার বাবার নাম রহমান আলী। তিনি মারা গেছেন। আমার মায়ের নাম রহিমা বেগম। তিনি একজন গৃহিনী। আমরা দুই বোন এবং এক ভাই। আমি এস.এস.সি পরিক্ষার্থী। আমার গ্রাম আমার প্রিয় স্থান। বিভিন্ন ধরনের সিনেমা দেখা আমার শখ। আমি লেখাপড়া শেষ করে কোন ব্যাংকে কাজ করতে চাই।

আমি আমার বোনের কাছ থেকে নারী জীবনের সম্পর্কে জেনেছি। আমি নারী জীবনকে ভালবাসি কারণ আগে আমি কিছুই জানতাম না কিন্তু এখন আমি কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি, ইংরেজী বলতে পারি, ব্লগ সম্পর্কে জেনেছি এবং এছাড়া আরোও অনেক কিছু নারী জীবনে এসে জেনেছি। প্রথমে আমি নারী জীবনের ইংরেজী-১ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আমি ইংরেজী-২ এবং কম্পিউটার ক্লাসের একজন শিক্ষার্থী।
আমি নারী জীবনে আসার পর ব্লগ সম্পর্কে জেনেছি আগে আমার এটার উপর কোন ধারনা ছিল না। এটি খুব আনন্দদায়ক। আমি আমার লেখার মাধ্যমে আমাদের দেশের সংস্কৃতি এবং এদেশের লোকজনদের চালচিত্র অন্যদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

ব্লগার প্রোফাইল- (শিক্ষার্থী)

Title of this post: Bloggers profile (Students)

সালমা আক্তার







আমি সালমা আক্তার। আমার বয়স ২৬ বছর। আমি ৩০শে জুন ১৯৮০ সালে ঢাকায় জন্ম গ্রহন করি। আমি বিবাহিত। আমার শাশুরি, শশুর, দেবর, আমার স্বামী এবং আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমার সংসার। আমি ১৯৯৫ সালে এস.এস.সি, ১৯৯৮ সালে এইচ.এস.সি এবং ২০০০ সালে ডিগ্রি পাশ করি। কক্সবাজার আমার প্রিয় স্থান। আমার সখ গান শোনা।

আমি আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে নারী জীবন সম্পর্কে জানতে পারি। বর্তমানে আমি নারী জীবনের ইংলিশ ও কম্পিউটার বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। নারী জীবনে এসে আমি প্রথমে ব্লগ সাইটের কথা জেনেছি। এটা আমার জীবনের নতুন একটা অংশ এবং এটি খুব আনন্দদায়ক। ব্লগসাইটের মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের দেশের মানুষের জীবনচিত্র অন্যদেরকে জানাতে পারি। একজন নতুন লেখিকা হিসাবে আমি কিছু লিখতে চেষ্টা করব। এই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ হল নারী সাইবার ক্যাফে। এটা শুধুমাত্র নারীদের জন্য। এখানে আমরা সবাই ক্লাসের টপিকস অনুশীলণ করতে পারি এবং ব্রাউজ করতে পারি। আমি নারী জীবন থেকে শিখতে পেরে আনন্দিত।


নুরুন নাহার ইসলাম মুন্নি





আমার নাম নুরুন নাহার ইসলাম মুন্নি। আমার ভাই, বোন, এবং আমার বাবা-মা কে নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় জন্ম গ্রহন করি। ২০০৭ সালে আমি এস.এস.সি পাশ করি। এখন আমি এইচ.এস.সি তে পড়ছি। পাশাপাশি আমি নারী জীবনে ইংরেজী এবং কম্পিউটার শিখছি। আমাদের গ্রাম আমার প্রিয় জায়গা। আমার শখ হল বিভিন্ন রকমের বই পড়া এবং ঐতিহাসিক জায়গা ভ্রমন করা। ভবিষ্যৎতে আমি ব্যবসা করতে চাই।

নারী জীবন একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এখানে নারীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবনকে গঠন করতে পারে। ব্লগ সাইট আমার জন্য নতুন এবং আনন্দদায়ক। আমি আমার চিন্তা, সংস্কৃতি এবং আমাদের দেশের প্রকৃতিক সৌন্দয্য ব্লগে লিখার মাধ্যমে অন্যদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এখানে আমাদের জন্য আছে নারী জীবন সাইবার ক্যাফে। শুধুমাত্র মেয়েরা এটা ব্যবহার করতে পারে। শিক্ষার্থীরা তাদের অবসর সময়ে ক্লাসের পড়াগুলো অনুশীলণ করতে পারে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। আমি এটা খুব পছন্দ করি এবং অবসর সময়ে ইন্টানের ব্রাউজ করি।

Friday, February 8, 2008

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনে কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে ভোট দিন, শীর্ষস্থান ধরে রাখতে নিজ সহযোগিতা করুন এবং অন্যদেরকে উৎসাহিত করুন

Title of this post: "Need your vote for electing Cox’z Bazar and Sundar ban as Natural New Seven Wonders in the world" by M. G. Rabbany Sujan

এতদিন আমরা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের নাম শুনিয়াছি। মানুষের তৈরি এই সপ্তাশ্চর্যের পরিবর্তন হয়নি দীর্ঘদিন। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চার্য নির্বাচন করার পর “নিউ সেভেন ওয়াল্ডাস ফাউন্ডেশন’’ সাত প্রাকৃতিক আশ্চার্য নির্বাচন শুরু করে।

প্রাকৃর্তিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের সুচনা পরেই চমক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সুন্দরবন। সারা পৃথিবী থেকে প্রাথমিক মনোয়ন প্রাপ্ত ১৫৮ টি প্রাকৃতিক স্থানের মধ্যে ২৭ ডিসেম্বর ২০০৭ সালের বিকেলে এক নম্বর স্থানে উঠে আসে। পৃথিবীর র্দীঘতম নিরবচ্ছিন্ন প্রকৃতিক সমূদ্র সৈকত কক্সবাজার আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন হল দ্বিতীয় স্থানে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

সুন্দরবন

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ভাবে মনোয়ন পেয়েছে ১৫৮ টি স্থান। এই তালিকায় আমেরিকার ৫১ টি স্থান, ইউরোপ ৩১- টি স্থান, উত্তর আমেরিকা ২৭টি, এশিয়া ৩০টি স্থান,আফ্রিকা ১৯টি এবং ওসেনিয়া ১০টি স্থান রয়েছে।

এখন এসব স্থানের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোটাভোটি চলছে। ২০০৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এজন্য ভোট নেওয়া হবে। গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তর মনোরম প্রকৃতিক সমুদ্র সৈকত শীর্ষস্থান এবং বিশ্বের বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বন “সুন্দরবন” ইন্ডিয়ার অংশ সহ দ্বিতীয় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমাদের প্রত্যেকের র্নিবাচনে অংশ নিতে হবে এবং কক্সবাজার ও সুন্দরবন ভোট দিতে হবে। অন্যকে ও ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করিতে হবে। র্নিবাচনে অংশ গ্রহণ এবং ভোট দেওয়ার জন্য আপনাদের কে যা করতে হবে ---প্রথমে আপনার নিজের একটা ই-মেইলের ঠিকানা থাকতে হবে। http://www.new7wonders.com/nature/ ঠিকানায়: ওয়েব সাইটে সুন্দরবন ও কক্সবাজারকে ভোট দিতে হবে। ঐ পৃষ্ঠার মাঝামাঝিতে সবুজ রঙ্গের একটি পৃথিবীর মানচিত্র আছে। এখানে কয়েকটি অঞ্চলের নাম আছে। প্রথমে ক্লিক করুন এশিয়াতে। এশিয়া থেকে মনোয়ন পাওয়া ৩০টি স্থানের নাম এখানে পাওয়া যাবে। কক্সবাজারের ক্লিক করলে কক্সবাজারের ছবিসহ এর বর্তমান অবস্থান নিচে লিখা আছে। একই ভাবে সুন্দরবন এ ক্লিক করলে সুন্দরবনের ছবি বর্ননা তালিকা ও বর্তমান অবস্থান জানা যাবে। নিচে দেখুন ইংরেজীতে লিখা আছে “ভোট নাও ফর” ওখানে কিক্ল করলে তাৎক্ষনিকভাবে ঐ স্থানটির পক্ষে ভোট দেওয়া যাবে।

একটি মেয়ের নীরব কান্না

Title of this post: "Silence tears of a woman" by Taufika Farzana

একবিংশ শতাব্দির যুগেও বাংলাদেশ এখনও দারিদ্র এবং অশিক্ষার কড়াল গ্রাশে নিমজ্জীত। এখানে নিম্নবিত্ত পরিবারে স্কুল বয়সী ছেলে মেয়েরা স্কুল যাওয়ার পরিবর্তে কাজে বের হয়। তাদের পরিবার তাদের উপর নির্ভরশীল হয়। আমাদের চারপাশে এখনও অনেক দুঃখী মেয়ে রয়েছে। যাদের জীবন অনেক কষ্টে কেটেছে। আমি এখন একজন মেয়ের কথা বলব যার জীবনে নেমে এসে ছিল দুঃখের কালো ছায়া। মেয়েটির নাম ঝর্ণা।

তার জীবনের প্রতিটা ঘটনাই কান্নার। সুখের কোন ছায়া নেই সেখানে। পাহাড় তার কষ্টের কথা অন্যকে বুঝানোর জন্য কান্না দ্বারা প্রকাশ করে । কিন্তু এই কান্নাকে আমরা ঝর্ণা বলে থাকি। ঠিক তেমনি ঝর্ণা মেয়েটির প্রতিটা ঘটনার সাথে তার নামের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পাহাড় তার কষ্টের কথা প্রকাশ করলেও ঝর্ণা তার কষ্ট এবং কান্নার কথা কারও কাছে প্রকাশ করতে পারেনি । সে তার কষ্টগুলো তার বুকে পাথর দিয়ে চেপে রেখেছে। সে তার সংগ্রামী জীবনে ধৈর্য্যের সাথে এগিয়েছে।

ঝর্ণার জন্মস্থান ফরিদপুরে। সেখানে সে মা এবং ভাই বোনের সাথে বসবাস করে। তারা ৬ বোন ১ ভাই। ভাই বোনের মধ্যে ঝর্ণার অবস্থান ৩য়। ঝর্ণা তার বাবাকে হারিয়েছে তিন বছর বয়সে। তাই তাদের সংসারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ঝর্ণার অন্যান্য ভাই বোনেরা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত তাদের সংসারে ব্যয় বহন করত। কিন্তু বিয়ের পর তারা নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই বাধ্য হয়ে ঝর্ণাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। এই কষ্টের মাঝে ঝর্ণা ভালবেসেছে একজনকে এবং তাকে বিয়েও করেছে। সে তার দুটি মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে সুখী জীবন যাপন করত। ঝর্ণা ভেবেছিল তার কষ্টের জীবন শেষ হয়েছে। কিন্তু সংসার জীবনে ও ঝর্ণা সুখী হতে পারে নি। কারন স্বামী তাদের ফেলে চলে যায়। ঝর্ণার কষ্টের পরিমান বেরে যেতে থাকে। সে তার মা এবং মেয়েদের মুখে খাবার দেয়ার জন্য বের হয় কাজের সন্ধানে। সে বাসা বাড়িতে প্রথমে কাজ নেয়। এবং সে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। কিন্তু সে যে কাজ করে তাতে তার সংসার চলে না। তাই সে আরেকটা কাজের খুঁজ করে। এবং সে একটা কাজ পেয়ে যায়। সে আমাদের কলেজের ক্যান্টিনে কাজ করে। সে সব সময় হাসি মুখ করে থাকে। এত কষ্টের মাঝেও সে হাসতে পারে। এখানে সে ছয় মাস ধরে কাজ করছে। সে এই কাজের টাকা দিয়ে বাসা বাড়িতে থাকে এবং মেয়ে দুটকে লেখাপড়া শিখায়। সে বুঝতে পেরেছে জীবনে, লেখাপড়া ছাড়া কোন মূল্য নেই। সে তার এই ছোট জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে। জীবনে কারও কাছে মাথা নত করেনি। সে জীবনের কাছে সংগ্রাম করে টিকে আছে। তার মেয়েদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। তাই সে তার মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেয়। তার বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে ক্লাশ ওয়ান পড়ে। তার মনে অনেক আশা মেয়েদের সে লেখাপড়া শিখাবে মানুষের মত মানুষ করবে। তার জীবনের মতো যেন না হয় তাদের জীবন।

আমার মনে হয় জীবনে ভালবাসাই সব না। জীবনে বেচেঁ থাকার জন্য চাই প্রতিষ্ঠা। আমাদের সমাজে নারীরা এ‌মনিতেই অবহেলিত ও বঞ্চিত। নানা ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তারা। তাই আমাদের সবার উচিৎ আমাদের পায়ের নিচের মাটিকে শক্ত করে তোলা। আমাদের এগিয়ে চলা উচিৎ নতুন এক আলোর পথে.............