আজি মনে পরে শুধু তাহারে
মনে পরে সেই দিনগুলি,
মনে পরে তাহার সাথে
হাতে হাত রেখে,
চোখে চোখ রেখে
অস্ফুট সেই দিনগুলি
মনেপরে তাঁর হৃদয় নিংরানো
প্রগাঢ় ভালোবাসার কথা
মনে পরে খেয়া বনে দুজনের
হাত ধরে পথ চলা ।
Monday, November 5, 2007
স্মৃতি কথা
Saturday, November 3, 2007
একজন রাস্তার ভিক্ষুক
"পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান,
পা-ই দিয়া যান....................।"
এটা কোন কবিতা নয়। এই পা-ই শব্দের অর্থ হলো কয়েন বা পয়সা। এটা একজন ভিক্ষুকের ডায়ালগ। সে একজন ধবল কুষ্ঠ ও অন্ধ লোক। তার চুল সাদা। সে ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধ। আমি এই লোক সম্বন্ধে ১৫ বছর পূর্বে থেকে জানি। কিন্তু তার কোন পরিবর্তন নেই। সে সবসময় একটি সাদা টি-শার্ঠ ও সাদা- নীল গ্রামীন চেক লুঙ্গী পরিধান করে। সে হাতে ধরে রাখে এ্যালুমিনিয়ামের একটি বোল এবং ভর করে দাড়াঁবার জন্য একটি লাঠি। আর সব সময় সে তার ডায়ালগ বলতে থাকে- পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান.......।
একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেসা করলাম – এই পা-ই দিয়া যান এর মানে কি? সে কোন উত্তর দিল না বরং সে পুনরায় বলল- পা-ই দিয়া যান। সব সময় তাকে ভিক্ষা করতে দেখা যেত গোঁড়ান মোড়, বাসাবো মোড়, শান্তিবাগ মোড়। কিন্তু তার “পা-ই দিয়া যান ” শব্দের “পা-ই” ব্যবসা জমজমাট হত সদরঘাটের ফেরি ঘাটে। এই কারন সে বলে, সেখানে ও আমার মত ‘পা-ই’ লেনা-দেনা হয়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি আপনার পরিবারে কয়জন সদস্য আছে? সে বলে আমার কোন পরিবার নেই। আমি একা। আমি তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করি আপনি যেহেতু একা সেহেতু ভিক্ষের টাকা আপনি কিভাবে খরচ করেন? সে তার প্রতিউত্তরে বলে আমি সকালে দু’মুঠো পান্তা খেয়ে ভিক্ষে করতে বেড় হই, দুপুরে বনরুটি কিনে খাই আর রাতে গরম ভাত। বেশ কিছু পয়সা জমা হলে তিনি মাঝে মাঝে ঘুরে আসেন নির্জন, কোলাহলমুক্ত নীল আকাশ ও সবুজের সমারোহে। কেন এই নির্জনতা সবুজের মাঝে হারিয়ে যান? সে বলল- আমিতো চোখে দেখতে পাই না। তাই আমি নির্জন খোলা আকাশ, মুক্ত বাতাস ও সবুজের গন্ধ উপভোগ করতে আসি। আমার মনে হয় এই ছোট্ট নির্জনভুবনটা বিধাতা আমার জন্যই গড়েছেন। কেননা যারা চোখে দেখতে পায় তারা এই নির্জনতা, মুক্তবাতাস, সবুজের গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে না। তারা চায় হ-য-ব-র-ল পৃথিবীটাকে আরও হ-য-ব-র-ল করে ঝাক্কাস আর জোস করে তুলতে।
প্রায় দু’বছর যাবৎ আমি সেই ভিক্ষুককে দেখি না আমি জানি না সে আজও বেঁচে আছেন কিনা। হয়তো আবারও কোন একদিন গলির ধারে কোন এক মোড়ে ধ্বনিত হবে।
"পা-ই দিয়া যান, পা-ই দিয়া যান,
পা-ই দিয়া যান....................।
Wednesday, October 31, 2007
ব্লগার প্রোফাইল- সালমা আক্তার
সালমা আক্তার
"আমি সালমা আকতার কাজল। মধ্যবৃত্ত পরিবারে আমার জন্ম। আমরা ৪ বোন ২ ভাই। আমার বাবা একজন গরীব কৃষক এবং আমার মা একজন গৃহিনী। আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার আগরপুর ইউনিয়ন এর দক্ষিন ব্রম্মনদিয়া গ্রামে। আমার বাবা-মা দুজন অনেক কষ্ট করে আমাদের ছয় ভাই বোনকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। আমি এস.এস.সি পাশ করি আমাদের গ্রামের স্কুল থেকে। পরে ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হলাম এবং পাশাপাশি ৪ জন বাচ্চাকে পড়াতাম।
ছোটবেলায় আমার স্বপ্ন ছিলো একজন সেবিকা হব। তাই এইচ.এস.সি পরীক্ষার পরপরই একটি জেনারেল হাসপাতালে জুনিয়ার ট্রেনিং নার্স হিসাবে কাজ নিই। কিন্তু দুর্ভাগ্য হল সেখানে ৪ মাস কাজ করার পর মালিক হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে আমেরিকা চলে যায়। এর পরে আমি একটি গামের্ন্ট ফ্যাক্টরিতে কোয়ালিটি ইন্সপেকটর হিসাবে কাজ নেই। কিন্তু সেখানে কাজ করার কোন স্বধীনতা ছিল না এবং আমার সহকর্মীরা কারনে অকারনে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করত। তাই অবশেষে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে একটি ক্রেডিট প্রগ্রামে ঋন প্রকল্পে কাজ নিলাম। সেখানেও বেশিদিন কাজ করতে পারিনি কারন মালিক অফিস বন্ধ করে দেয়। পরে আবার বাচ্চা পড়াতে শুরু করি। তারপর ২০০৪ সালে আমি বিয়ে করি। আমার স্বামী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকে। বিয়ের পরে আমি আবার নাসিং ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয়েছি।
Saturday, October 20, 2007
সেই মেয়ে
Content of this post: In this short story, author has written a story about a family from her imagination.
প্রথম অংশের পর
মা বললেন, ‘কিন্তু যত যাই থাকুক ছেলে হতে হবে সুন্দর বেশভুষা স্মার্ট, যেন রাজপুত্র। আমাদের বিথীওতো আল্লাহর রহমতে দেখতে শুনতে সুন্দর স্মাট। যে কেউ আমাদের মেয়েকে দেখলে পছন্দ করবে।’
বাবা বললেন, ‘হ্যাঁ বিথির মা, আমাদের দুটো মেয়েই মাশা-আল্লাহ্ রুপে গুনে সবদিক থেকেই সুন্দর। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছ বিথির মা, দেখতে দেখতে আমাদের সন্তানেরা কত বড় হয়েগেছে। আজ বাদে কাল বিয়ে দিতে হবে বিথিকে তারপর তিথিকে। এমনি করে দুটো মেয়েই চলে যাবে পরের বাড়িতে। ভাবতে ভিষন খারাপ লাগে। বাকি থাকবে শুধু আমাদের একমাত্র পুত্র অভি। ওতো সবে মাত্র পরছে ক্লাস থ্রিতে, দেখতে চোখের পাতা পলকেই আমাদের আজকের এই ছোট্ট কেদিন পর বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার করবে। তখন শুধু তুমি আর আমি দুই বুড়ো-বুড়ি কি নিয়ে থাকবো?’
আমি বললাম, ‘বাবা, এই নাও তোমার চা।’
বাবা বললেন, ‘আয় মা আয়, আমার পাশে একটু বস।’
ভয়ে আমার গা সিউরে উঠল। ধীরে ধীরে বাবার পাশের চেয়ারটাতে বসলাম। বাবা একের পর এক কথা বলতে শুরু করলো।
আমি বাবাকে বললাম, ‘বাবা এখন আমি উঠবো।’
বাবা বলল, ‘উঠবি ঠিক আছে।’
পেছন থেকে বাবা আবার ডেকে উঠল। আবারও ভয়ে আমার গা সিউরে উঠল।
বাবা বলল, ‘তিথি তোর আপাকে আজ দেখতে আসবে। আর বিথির পছন্দ হলেই এই ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিব। এর পর তোর পালা।’
আমি লজ্জা পেয়ে বাবাকে কিছু না বলেই চলে এলাম। আমাদের বাড়িতে কিছু মেহমান এসেছে আপাকে দেখতে।
অভি আপার রুমে গিয়ে আপার কানে কানে ফিসফিস করে বলল, ‘আপা তোমার বর এসেছে।’
আপা কষে একটা চর দিল অভিকে। অভি সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে শুরু করল। আমি আপাকে নিয়ে বসার ঘরে গেলাম। আপা আর আমি দুজনে সবাইকে একসঙ্গে সালাম দিলাম।
হঠাৎ একটা মোটা মহিলা তার মোটা কন্ঠে বলল, ‘তা মেয়ে কোনটা?’
বাবা আপাকে দেখিয়ে বলল, ‘এটা আমার বড় মেয়ে বিথি। আর এটা ছোট মেয়ে তিথি।’
কিন্তু বাবার জায়গায় আমি হলে বলতাম আমার আপাও একটা মেয়ে আমিও একটা মেয়ে। আমার একটাই ভাই। ওর নাম অভি। আমার মেজাজ হঠাৎ চটে গেল। কি করব বুঝতে পারছি না। কারণ ওঘর থেকে অভির বিচ্ছির কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মোটা মহিলাটা বিথিকে বলল, ‘এসো মা তুমি আমার পাশে বসো।’
আমি ভাবছি উনি যেই সোফাটায় বসেছেন তার এক তৃতীয়াংশ অংশতো তিনিই দখল করে আছেন। বিথি আপা ওখানে কেমন করে বসবে। বিথি আর চোখে আমার দিকে খানিক তাকিয়ে রইল। আমি কিছু বলার আগেই ও বসে পড়ল। হঠাৎ আমার দৃষ্টি গেল একটা মধ্য বয়সী লোকের দিকে। লোকটার চাহনি একটু রহস্যময়। একটু অন্যরকম ভাবে আপার দিকে তাকাচ্ছে। আর মিট মিট করে হাসছে। মা, মেহমানদের জন্য নাস্তা এনেছে। মার পেছন পেছন অভিও এল। কিছুক্ষন আগে যে মিট মিট করে হাসছিল সে আমাকে ডেকে ভলল,এখানে বসো। আমার সঙ্গে বস। তার ভাব দেখে আমি বুঝলাম ইনিই আপার হবু বর।
সে তার পরিচয় দিয়ে বলল, ‘আমি আরিফ, আমেরিকায় থাকি।’
একা একা নিজেই সব বলে যাচ্ছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি করেন ?’
সে বয়সে কম করে হলেও আমার চাইতে পাচঁ, ছয় বছরের বড় হবে। তবুও আমাকে আপনি করে বলছে। আমার ভাল লাগছে না। কেউ আমাকে আপনি করে বললে আমার প্রচন্ড রাগ হয়।
তার প্রশ্নের উত্তরেআমি বললাম, খাই-দাই, ঘুরি-ফিরি, ঘুমাই।
তিনি মাথাটা একটু নিচে নামিয়ে বলল, ‘না মানে আমি বলছিলাম আপনি কিসে পড়েন?’
আমি বললাম, ‘আমি এবার অনার্স সেকেন্ড-ইয়ারে পড়ছি।
বড়রা সবাই কথা বলছে আমি আর অভি চুপচাপ আরিফ সাহেবের পাশে বসে আছি। ওর হাতে একটা কাগজ দেখা যাচ্ছে। অভি কাগজটা আরিফ সাহেবের হাতে দিল। আমি সেই দৃশ্য দেখে অভি আর আরিফ সাহেবের কথার মাঝে কান পেতে রেখেছি।
আরিফ, অভিকে জিজ্ঞেস করছে, ‘এটা কে দিয়েছে।’
অভি ফিসফিস করে বলল, ‘বড় আপা আপনাকে এটা দিতে বলেছে।’ আরিফ একটু লাজুক হাসল
অভি ওনাকে বলল, ‘এটা এখনই পড়ার জন্য আর আপা বলেছে আপনাকেও কিছু লিখে দেবার জন্য।’
সবার চোখের আরালে তিনি কি যেন লিখছে, এবং কাগজটা অভিকে দিয়ে বলল, ‘এটা তোমার আপাকে দিও।’
আমি অভিকে পাশের ঘরে ইশারা দিয়ে নিয়ে এলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ঐ কাগজে কি লেখা ছিল?’
অভি হাসতে হাসতে বলল, ‘বিথি আপা আমাকে মেরেছে, তাই শোধ নিলাম। ঐ কাগজে আমি মিথ্যে কথা বানিয়ে বানিয়ে লিখে আপার নাম বলে ওনাকে দিয়েছি। আমি লিখেছি- আমার সোনার বাংলা এর পরের লাইনটা যেন উনি আপাকে লিখে দেয়, আমি তোমাকে ভালবাসি। আর সেই সঙ্গে ওনার ফোন নাম্বারও চেয়েছি ওনাকে ফোন করে বলব, আপা বলেছে, আপনার সঙ্গে আপা সরাসরি কথা বলবে, তারপর আপার কাছে উনি যেন আমার মত চর খায়।
আমি একটু হেসে বললাম তার আগে আমার হাতে একটা চর খেয়ে নে। দিলাম কষে একটা চর। এতটুকু ছেলে এখনই পেকে গেছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘সোনার বাংলার এই কথাটা কে শিখিয়েছে?’
অভি বলল, ‘কেন! আমাদের স্কুলের শরীর চর্চা বিভাগের শিক্ষক। উনি কাল আমাদের জিজ্ঞেস করল, আমার সোনার বাংলার পরের লাইন কি?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ আর ওখান থেকে এই পাকামো না?’
আমি ওর হাত থেকে আরিফ সাহেবের দেয়া কাগজটা নিয়ে রেখে দেই। আরিফ সাহেবরা চলে গেছেন, আপা ওর ঘরে ঢুকতেই অভি আপাকে গিয়ে বলল, ‘আপা কত টাকা দিয়েছে?’
অভি একথা বলতেই আমি ছো মেরে আপার হাত থেকে টাকাটা নিয়ে বললাম , ‘কত টাকা দিয়েছে তা জেনে তোর কি দরকার?’
এই বলে টাকা ভাগ করতে লাগলাম। ওরা আপাকে ১০০১ টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে অভিকে দিলাম ১০০ টাকা, আমি নিলাম ৪০০ টাকা আর বাকি ৫০১ টাকা আপাকে ফেরৎ দিলাম।
আমি অভিকে বললাম, ‘যা তুই তোর ঘরে যা।’
ক্ষুদে মাছ বিক্রেতা
Content of this post: Author expressed hard life of a working girl in her writing.
“আমার নাম আসমা, বয়স ১১। আমরা ৫ বোন ৩ ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে আমি ৭ম। আমার ৩ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা চার ভাইবোন বাবা–মার সাথে থাকি। আমার বাবা মাছ বিক্রি করে। আমার বাবার আয় খুব অল্প, এ দিয়ে আমাদের সংসার অনেক কষ্ট করে চালাতে হয়। আমার বড় ভাই গার্মেন্টেসে কাজ করে কিন্তু সে আমাদের কোন খরচ দেয় না। আমার এক ভাই তরকারি বিক্রি করে। মাঝে মাঝে ঐ ভাইকে তরকারি বিক্রি করতে সাহায্যে করি। আমিও আমাদের সংসারে কিছু সাহায্য করার জন্য ফুটপাতে মাছ বিক্রি করি। মাঝে মইধ্যে একা আবার কখনো আমার বাবার সাথে মাছ বিক্রি করি। ফুটপাতে বসে মাছ বিক্রি করতে খুব কষ্ট হয় তারপরও সংসারের প্রয়োজন মিটানোর জন্য কাজ করতে হয়।
আসমা ফুটপাতে মাছ বিক্রি করছে - ছবি: শামীমা আক্তার
কাজ করার পাশাপাশি আমি একটা কর্মজীবী শিশুদের স্কুলে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ি। ভোর বেলা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করে ২টা থেকে স্কুলে পড়তে যাই। লেখাপড়া করতে খুব ভাল লাগে। স্কুলের পড়া শেষে ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করতে হয়। তাই মাঝে মধ্যে ইচ্ছে থাকলেও বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে পারি না।”
Friday, October 12, 2007
ঈদ মোবারক

ঈদ আরবী শব্দ। এর অর্থ খুশি, আনন্দ-উৎসব। রমজান মাসে একমাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনই হচ্ছে মুসলমানদের এই খুশীর দিন যা সারা মুসলিম উম্মাহ্দের কাছে ঈদ-উল-ফিত্র নামে পরিচিত রমজান মাসে দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর সকল মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সরূপ সকলের মাঝে আনন্দ বিলিয়ে দিতে আসে ঈদ। রোজা আরম্ভ হয় সুবহে সাদিক থেকে এবং শেষ হয় সূর্যাস্তের সময়ে। রমজান আরবী বৎসরের অষ্টম মাস। রোজা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে হীন, দরিদ্রের কষ্ট উপলদ্ধি করা এবং একটি গুরত্বপূর্ণ জীবন গঠনের প্রতিজ্ঞা করা।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। অনন্য এক ভাবধারা ও পৃথক জৌলুস নিয়ে আসে মুসলমানদের এক আনন্দময় দিবস। পরিপূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম উম্মাহর ঈদ। তাই অপরিসীম খুশির মাহাত্ম্য রয়েছে এই ঈদুল ফিতরে। ঈদ মহাখুশি ও চরম আনন্দের একটি মহিমান্বিত দিন। নিঃসন্দেহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আল্লহ রাব্বুল আলামিনের এটি শ্রেষ্ঠ অবদান। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জাতীয় উৎসব। এই মর্মে রাসুলুল্লা (সা.) ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসব দিবস রয়েছে, আর এটি হল আমাদের উৎসব।”
মূলত, ঈদ মানুষের জীবনে নিয়ে আসে পরম আনন্দ আর পেছনে থাকে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। ঈদের সীমাহীন আনন্দ উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে পরম করুনাময়ের উদ্দেশে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ত্যাগের, ভ্রাতৃত্বের, ঐক্যের, সম্প্রীতির এবং সৌহার্দ্য-সহমর্মিতার মহান আদর্শ অনুধাবন করতে হবে।
ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে নারী জীবনের ষ্টাফ এবং শিক্ষার্থীরা । নারী জীবন অফিস এবং ব্লগ পোস্টিং ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ১২ অক্টোবর,২০০৭ থেকে ১৬ অক্টোবর,২০০৭ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ঈদ ছুটির পর ১৭ অক্টোবর,২০০৭ থেকে পুনরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে।
নারী জীবন স্টাফ, শিক্ষার্থী, ব্লগ পাঠক এবং সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ড. ক্যাথরিন বি. ওয়ার্ড, ক্যাটি জামান, প্যাট এবং বিল ওয়ার্ড (এই মাসে তাদের পূর্ন হতে যাচ্ছে ৫৫ তম বিবাহ বার্ষিকী), ডেবিড সাসাকী, মাসুদ জামান, জিনাত চৌধুরী, লিন্ডসে গ্রির, স্যান্ডি রোজেনক্রেনস, রিজওয়ান এবং রাইজিং ভয়েসের সকল গ্রাহকদের।
Thursday, October 11, 2007
সেই মেয়ে
Content of this post: In this short story, author has written a story about a family from her imagination.
আজ তিথিদের বাড়ির পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। কারণ আজ শুক্রবার। শুক্রবার ছুটির দিন। তিথির বাবা আজ বাড়িতে। আর ছুটির দিন বলেই তিথিদের বাড়ির পরিস্থিতি খুব একটা ভাল না। তিথির বাবা সরকারি চাকরিজীবি। তিনি ভিষন মেজাজি লোক। আর তিনি যতক্ষন বাড়িতে থাকেন ততক্ষন বাসার সবাই খুব ভয়ে ভয়ে থাকেন। কখন যেন চিৎকার চেচাঁমেচি শুরু হয়ে যায়। দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে তিথিদের সংসার। তার মধ্যে তিথি মেঝো আর তার বড় বোন বিথি। এবার অনার্স সেকেন্ড-ইয়ারে পরছে এবং ছোট ভাই অভি ক্লাস থ্রিতে। তিথির বাবা যেমন ভিষন মেজাজি, ঠিক তেমনি তিথির মা, যেমনি রাগি তেমনি ভাল। একদিন বিথি আপা তার এক বান্ধবির বাড়িতে গেল আপা বাসা থেকে বের হয়েছে সকাল নয়টার দিকে। আর বাসায় ফিরেছে সন্ধ্যা সাতটায় আর আপার ভাগ্য ভাল যে সেদিন তখনও বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরেনি । নইলে সেদিন আপার খবর ছিল। যখন আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল তখন থেকেই আমি আর অভি ভিষন চিন্তা করছিলাম আজ কি যেন কি ঘটে যায়। এর আগে এমন কখন ঘটেনি। হঠাৎ বেল বেজে উঠল। এই বুঝি বাবা এল! কিন্তু না, গেট খুলতেই সুর সুর করে ঘরে ঢুকে পরল আপা তার আচরন স্বাভাবিক। যেন কিছুই হয়নি,
মা রান্না ঘর থেকে জিজ্ঞেস করল, ‘তিথি কে এল?’
আমি ভয়ে বললাম, ‘আপা এসেছে।’
মা এসে বলল , ‘বিথি দুপুরে খেয়েছিস?’
আপা বলল, ‘হ্যাঁ মা, খেয়েছি। মা- আমি ভিষন ক্লান্ত। আমি হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমোবো,আমাকে কেউ ডাকবে না।’
মা বলল , ‘সে কি রাতে খাবিনা!’
আমি আর অভি মা-র ব্যাবহার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। অথচ এর আগেও আপা একবার কলেজ থেকে ফিরতে দেরি করেছে বলে মা আপাকে খুব বকাঝকা করেছিল। তখন আপা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ত। আমি মার কাছে গেলাম বললাম , ‘মা তুমি আপাকে কিছু বললেনা যে।’
মা বলল, ‘কি বলব?’
আমি বললাম, ‘ওইযে আপা রাত করে বাড়ি ফিরেছে।’
মা বলল, ‘এতে বলার কি আছে!’
আমাদের বাড়ির সবাই শুক্রবার দিনটাকে ভয় করে। বাবা সেদিন বাসায় থাকে বলে। এতক্ষন আমরা ভিষন ভয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বাবা সবার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে।
বাবা আপার ঘরে গিয়ে আপার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছে, ‘কি করছিস?’
আপা উত্তর দিল, ‘জি বাবা উপন্যাস পড়ছিলাম।’
বাবা বলল, ‘ভালো উপন্যাস পড়া ভালো এতে করে অনেক কিছু শেখার আছে। তা কি উপন্যাস পড়ছিস ?’
আপা বলল, ‘উপন্যাসটির নাম- আজ চিত্রার বিয়ে’
বাবা বলল, ‘যাই হোক যা বলছিলাম বুঝলি তোদের মত এই বয়সে আমরাও উপন্যাস পড়তাম। কত উপন্যাস পড়েছি। হাঃ হাঃ হাঃ।’
আমি বাবাকে কখনও এমন প্রাণ খুলে হাসতে দেখিনি। বাবা আপার ঘর থেকে হাসতে হাসতে বের হল। এই যা এখন বাবা আমাকেউ ডাকছে।
বাবা বলল, ‘তিথি আমি বেলকুনিতে গিয়ে বসছি। তুই আমার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়ত মা।
আমি বলল, ‘জি বাবা আসছি।’
মা বিরক্ত কন্ঠে বাবাকে বললেন, ‘আজ সকাল থেকে কি হয়েছে! বলি আজ এত ঘন ঘন চা খাওয়া হচ্ছে কেন ?
বাবা মাকে বললেন, ‘রেহানা, তুমিও এসো তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।’
মা বললেন, ‘কি কথা তাড়াতাড়ি বলুন! চুলোয় রান্না চড়িয়েছি।
বাবা বললেন, ‘আজ সন্ধ্যায় কিছু মেহমান আসবে। বিথির জন্য একটা প্রস্তাব এসেছে।’
মা বললেন, ‘প্রস্তাব! তা ছেলে কি করে, কোথায় থাকে, ছেলে দেখতে কেমন?’
বাবা বললেন, ‘আহা রেহানা তুমি এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করলে আমি উত্তর দিব কেমন করে। ছেলে আমেরিকা থাকে ওখানে ওদের বাড়ি আছে। বিজনেস আছে, এছাড়াও এদেশেও ওদের তিনটা বাড়ি আছে। ছেলের বাবা বেশ বড়লোক। ওদের এদেশের একটা বাড়ি ঢাকার গুলশানে আর দুটো বাড়ি উত্তরায় আর এমনিতে ছেলের গ্রামের বাড়ি ........... কোথায় যেন ঠিক মনে করতে পারছিনা।’
মা বললেন, ‘দেখো বিথির বাবা ছেলের গ্রাম যেখানেই হোক, ছেলের সম্পর্কে যা যা শুনলাম এতে করে ছেলে আমার পছন্দ হয়েছে।’
Saturday, October 6, 2007
গাঁয়ের বধু
Content of this post: In this poem, author illustrate beauties of a village wife.
ঘুমটা পরা নতুন বধু জল আনতে যায়,
কাজল কাল চোখে যেন পথের পানে চায়।
লাজুক লাজুক ঠোটদুটিতে হাসি রাশি রাশি,
স্বপ্নে দেখা রাজ প্রাসাদটা পেল বুঝি আজি।
মেঘল কাল চুলগুলোতে ফুলটি রাখি গুজি
এমনি মেঠোপথ দিয়ে যায় সোনার পা-টি রাখি।
সোনার কিছু নাইকো গায়ে তবু যেন ঝলকে ওঠে,
শাশুড়ি তার মায়ের সমান, তাই বুঝি সে বলে
সোনার বরণ গায়ে তোমার রোদ যেন না লাগে।
তবুও তাকে যেতেই হবে নাইতে পুকুর ঘাটে,
চলেছে সে যে আপন মনে কলস কাঁখে নিয়ে।
সকল শখের রান্না তাকে করতে হবে নিজেই।
আমার গ্রাম
Content of this post: In this post author describes about her village.
আমার বাড়ী নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানায়। গ্রামের নাম বগাদিয়া। আমাদের গ্রামটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এইগ্রামে দুইটি প্রাইমারী স্কুল এবং একটি মাদ্রাসা আছে, যার নাম বগাদিয়া বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা। দুইটি নূরানী মাদ্রাসা ও একটি হাফেজী মাদ্রাসা আছে। আমাদের গ্রামে তিনটি মসজিদ আছে এইগুলোর নাম হল দক্ষিন বগাদিয়া জামে মসজিদ এবং অন্যটি হচ্ছে উত্তর বগাদিয়া জামে মসজিদ নামে পরিচিত। গ্রামটা তেমন বড় না, এর পরেও এই গ্রামের মধ্যে অনেক কিছু বিদ্যমান। যা দেখতে খুব ভালো লাগে, নিজেকে এই গ্রামের অধিবাসী বলে ধন্য মনে হয়। আমাদের গ্রামে একটি হাসপাতাল ও রয়েছে সেখানে অনেক অভিজ্ঞ ডাঃ দ্বারা রোগীদেরকে সেবা দেওয়া হয়। এই গ্রামের রাস্তা গুলো অনেক উন্নত। মেইন রোডের পাশেই এই গ্রাম, এই গ্রামের ভিতরের রাস্তা গুলো খুবই চওড়া যে সবার বাড়িতেই মাইক্রো বাস এবং সবধরনের গাড়িগুলো সহজেই বাড়ির ভিতরে ঢুকবে। গ্রামের ভিতরে কোন রাস্তাই কাঁচা মাটির নয় সব রাস্তাগুলোই পাকা করা যার কারনে এই গ্রামবাসীদের চলাফেরার কোন রকম সমস্যার সম্মুখীন হয় না। ছেলে মেয়েরা স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে যাতায়ত করতে সুবিধা হয়। সবকিছু মিলিয়ে এই গ্রামে এত কিছু যে, অনেক সময় ভাবতে অবাক লাগে। আমাদের গ্রামে বলতে গেলে কোন সমস্যা নাই। যেমন পানির কোন সমস্যা নাই, বিদ্যুৎ এর কোন সমস্যা নাই। গ্রাম হলেও আমাদের গ্রামে গ্যাস আছে। তাও নিয়মিত সাপ্লাই হচ্ছে কোন ধরনের সমস্যা হয় না। আমার কাছে আমার গ্রাম অনেক অনেক ভাল লাগে। আমি আমার গ্রামকে খুব ভালবাসি।
খুকির পাখি
Content of this post: Khuki loves her pet bird but bird loves flying independently.
খুকী কহে - রাখাল ছেলে বাজাও বাশিঁ
একাকী বটের তলে
দেখেছ কিগো মোর পাখিটিরে
গিয়াছে সে কোথা উড়ে?
রাখাল কহে – নিরোজনে বসে, একাকী বাজায় বাশিঁ,
দেখেনি তোমার পাখিটি কোথায়
গিয়াছে ছিকল ছিড়ি।
খুকী কহে- সারাটি দুপুর খুঁজিনু আমি
ঘুরিনু সারা বন।
মোর পাখি কি গো দিশে হারা বল
আসিবেনা ফিরে কখনও?
রখাল কহে – সে যে বনের পাখি
খাঁচায় কি শোভা পাবে?
বনের পাখি গিয়াছে বনে
যেতে দাও তারে উড়ে।
খুকী কহে - তাই কি হয়?
সে যদি না থাকে কার সাথে তবে
কাটাব আমার বেলা?
আমি যে তাহারে ভালবেসেছিনু
দিয়েছিনু চিড়ে কলা
খাঁচায় পুশিয়া শেখাতে চেয়েছিনু
মানুষের সব কথা
সব ফেলে সে যে উড়ে গেল কোথা?
খুঁজিতেছি একা একা।
রাখাল কহে- মানুষ মানুষের মাঝে বাস করিবে মনে,
পাখি সে যে তায় ডানা আছে তার
উড়ে যাবে বহু দুরে
ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে যাও
তার ছেড়ে দাও বনে।
Saturday, September 29, 2007
স্বপ্নের সোনার গাঁ
Content of this post: Author describe of a historical place of Bangladesh.
সোনার গাঁ হচ্ছে থানার নাম, জেলা নারায়নগঞ্জ। বাংলার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বা সোনার গাঁ যাদুঘর আমিনপুর গ্রামে অবস্থিত। এর পূর্ব নাম ছিল সুর্বণ গ্রাম। এক সময় সোনার গাঁ ছিল ইশা খাঁ এর সময় এদেশের রাজধানী। ইশা খাঁ ছিলেন কার ভূইয়া বংশধর।
Friday, September 21, 2007
সাগর কন্যা হাতিয়া
Content of this post: Author described about people and culture of a village that is situated in a island of Bay of Bengal.
সাগর কন্যা হাতিয়া এ আবার কেমন নাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন গ্রাম হল নোয়াখালী জেলার হাতিয়া গ্রাম। অতি প্রচীন কালে বঙ্গোপসাগর থেকে এই হাতিয়া জেলার উৎপত্তি হয়। বেশ কিছু দিন আগে মেঘনার আঘাতে এ দ্বীপটি বিলুপ্ত হতে বসে ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ গ্রামে প্রায় ৮ হাজার লোকের বসবাস।
"রং এর ঢোল হারকির ঢোল,
ঢুলি বাজায় ঢুলির ঢোল।
বাপের ঘর ছাড়ি কন্যায় যায় স্বামীর ঘর।"
Tuesday, September 18, 2007
মাকে মনে পরে
Content of this post: Author expressed her feelings about the lose of her mother and also about how she remembers her mother in her writings
এসএসসি পাস করে যখন কলেজে ভর্তি হই তখনই আমার মা মারা যায়। আমরা ৫ ভাই বোন, আমি সবার ছোট। খুব আদর-যত্নে বড় হয়েছি। তখন কোন দুঃখ, কষ্ট, এবং বাস্তবতা সর্ম্পকে কোন ধারণাই ছিলনা। দুচোখ ভরা ছিল স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ একদিন এক ঝড় এসে আমার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিল।
সে দিন ছিল ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবার। মা আমার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেল। করে গেল আমায় একা। সে দিনটির কথা মনে হলে আমি আর কিছু ভাবতে পারিনা। মনে হয় আমি এখনও বেঁচে আছি কিভাবে? সে রাতের ঝড়ে আমার জীবনটা হয়ে গেল এলোমেলো, আমি হয়ে গেলাম পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষের একজন। আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল সব আনন্দ, সব সুঃখ, ভেঙে গেল সব স্বপ্ন। আমি হয়ে গেলাম একা। আমি বুঝতে পারতাম না বাস্তবতা কত কঠিন,পৃথিবী কত নির্মম, নিষ্ঠুর। শুধু একজনকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সব কিছু আছে চারদিকে তবু আমার মনে হয় আমার কিছুই নেই। সারাক্ষণ আমার মনের মধ্যে শুধু শূণ্যতা আর হাহাকার! আসলে আমি যে অমূল্য সম্পদ হারিয়েছি সে অমূল্য সম্পদ কি আর কোনদিন ফেরত পাব?
সেদিন মনে হচ্ছিল অমি আর বাঁচবনা। আমিও চলে যাব মায়ের সাথে। যার জন্য এই সুন্দর ধরণীতে আসা, তাকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকব? আমি কিন্তু এখনও বেঁচে আছি। কারণ কঠিন বাস্তবতা তো আমাদেরকে মেনে নিতেই হবে।
আমি বেঁচে আছি, জীবন চলছে জীবনের গতিতে। কিন্তু আমি তো পারিনি এক মুহুর্তের জন্য আমার মাকে ভুলে থাকতে। আমার মা আমার শিরা, উপশিরা, প্রতিটি রক্তকণিকায় মিশে আছে। আমি প্রতিটি মুর্হুতে আমার মায়ের শূণ্যতা অনুভব করি। কারও কাছ থেকে কোন আদর পেতে আমার ভালো লাগে না, কেবলি মনে হয় ওদের আদর পেয়ে আমি যদি আমার মাকে ভুলে যাই। আমি অনাদর অবহেলার মাঝে আমার মাকে মনে রাখতে চাই। আমার মা আমার সব। আমি আমার মাকে মনে রেখেই বেঁচে থাকতে চাই! সারা দিন কেটে যায় ব্যস্ততার মাঝে। দিন গিয়ে রাত আসে, সবাই যখন ঘুমে বিভোর কিন্তু আমি কিছুতেই দু চোখের পাতা এক করতে পারিনা। মনে পরে মায়ের সেই হাসি ভরা মুখ, মনে পরে মায়ের সব স্মৃতি। মনে পরে আমি যে এত বড় হয়েছি তখনও মায়ের গলা জরিয়ে না ধরলে ঘুম আসতনা আমার। এক দিনের জন্য কোন আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাইনি। কারণ মাকে ছাড়া আমি ঘুমুতে পারব না তাই।
১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ, সোমবার আমার মায়ের মৃত্য হয়। রমজান ঈদের তিন দিন পর। আমার বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকাতে ছিল। বোনেরা শ্বশুর বাড়িতে, আর আমার একমাত্র ভাই দেশের বাহিরে থাকেন, ভাবী তাঁর ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। বাড়িতে আমি আর আমার মা ছাড়া আর কোন মানুষ ছিল না। মা অসুস্থ ছিলেন তবে এমন কোন অসুস্থ ছিলেন না যে এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন। আমরা তা কোন দিন ভাবতেও পারিনি। রাত তখন ১১ টা। রাতে খাওয়ার পর আমি আর মা দুজনে শুয়ে আছি। সে রাতে কেন যেন আমার ভয় ভয় লাগছিল! মা আর আমি দুজনেই ঘুমিয়ে আছি। রাত যখন ১টা বাজে তখন হঠাৎ কি এক দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি জেগে দেখি আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি। কিন্তু মা কেমন যেন করছে। আলো জ্বালানো ছিল, আমি উঠে বসে মায়ের মাথায় হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘কি হয়েছে মা? এমন করছো কেন? তোমার কেমন লাগছে?’ আমার মা আমাকে কখনও নাম ধরে ডাকতেন না, সব সময় ‘মা’ বলে ডাকতেন। মা আমাকে তখনও সানা দিয়ে বলে যে, আমার কিছু হয়নি মা তুমি ভয় পেওনা। আমি কিছু ঝুঝে উঠার আগেই আমার মা চিরদিনের জন্য আমার কাছ থেকে চলে গেল। আর কোন কথা বলতে পারিনি। আমি শুধু কয়েক বার মা মা বলে ডেকেছিলাম। তারপর আর কিছুই বলতে পারলামনা।
পরে দরজা খুলে লোকজন ঘরে ঢুকে দেখে আমি মাকে জরিয়ে ধরে মায়ের বুকের উপর অজ্ঞান হয়ে আছি। আমার যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি সকাল হয়ে গেছে সব আত্নীয়-স্বজন এসে গেছে আমাদের বাড়িতে মাকে শেষ বিদায় জানাতে। মা’র চির বিদায়ের আয়োজন করছে সবাই। বাবার জন্যও লোক পাঠিয়েছে। এত কিছুর পরও আমি মাকে শেষবারের মত গোসল করিয়েছি অন্যদের সাথে থেকে। আমার মনে হচ্ছিল মাকে তো আর কোনদিন দেখতে পারবো না। আজ যতকিছু করতে হয় আমি সাথে থেকে করব, যাতে আমার মার কোন অযত্ন না হয়। সেদিন আমি আমার মাকে নিজ হাতে সাজিয়েছিলাম। সে দিনের সেই কথা আমি কোনদিন ভুলে থাকতে পারবো না। আমি আজও ভাবী আমি এত কিছু কি করে পারলাম। বড় হলাম, বিয়ে হলো, আমি নিজেই মা হয়েছি। তারপরও আমি আমার মাকে ভুলতে পারবোনা। প্রায় রাতেই মাকে স্বপ্নে দেখে জেগে উঠি। আর তখনি খুব ইচ্ছে করে সেই আগের মত মাকে জড়িয়ে ধরে যদি একটু ঘুমুতে পারতাম। শান্তির সেই ঘুম !
Saturday, September 15, 2007
"সোনিয়া" - কর্মজীবী একজন শিশুর কথা
Content of this post: Author expressed hard life of a working girl in her writing.
সংসারের আভাবের কারনে আমাদের বাংলাদেশের অনেক শিশুকেই অল্প বয়সে কাজে যোগ দিতে হয়। আর জীবিকার তাগিদে সেই কর্মজীবী শিশুরা অনেক ঝুঁকি পূর্ন কাজেও অংশগ্রহন করছে। তারা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে। যেইসময়টা তাদের পাড় করার কথা পড়াশুনা, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে, কর্মজীবী শিশুরা সেই সময়টা পাড় করছে তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। হাজারো কর্মজীবী শিশুর মধ্যে এমনই একজন এর কথা তুলে ধরা হল:
নারীর জাগরণ
Content of this post: In this poem author expressed that, in our society women always lost their rights. She is requesting women to wake up from dark life and to aware about their rights.
জাগো নারী জাগো তুমি
রাগো নারী রাগো তুমি
জাগলেই তুমি দেখবে সব
রাগলেই তুমি পাবে সব
নরম হয়ে থেকনা তুমি আর
হতে হবে শক্ত তোমাকে এবার
বলে গেছেন কিছু মানুষ সারাংশ একটি
শক্তের ভক্ত নরমের জম
কিন্তু তোমরা ভেবে নাও হবে না তা আর এখন
তাই তোমাদের জাগতে হবে
লড়াই করেই বাঁচতে হবে
তাহলেই পাবে সম্মান পুরুষদের এ পৃথিবীতে
জানো কি হে নারী তুমিও একটি রক্তে মাংসে গড়া মানুষ
তবে কেন হয়ে আছো তুমি কাঠের পুতুলের মত
তোমাকেও বাঁচতে হবে চলতে হবে মন খুলে হাসতে হবে
ভেবনা নিজেকে কোন দিনও ছোট
ভেব তুমিও পার করতে সব কিছু


